ময়লাস্তুপ থেকে রঙিন সৌন্দর্য—স্বেচ্ছাসেবীদের উদ্যোগে নতুন রূপে ফরিদপুর শহর
ফরিদপুর শহরের সৌন্দর্যবর্ধনে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন একঝাঁক তরুণ স্বেচ্ছাসেবী। দীর্ঘদিনের ময়লাস্তুপ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশকে রঙিন সজ্জা, নিখুঁত ক্যালিগ্রাফি ও সবুজ গাছপালায় রূপান্তর করে নজির গড়েছেন তাঁরা। বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বাংলাদেশ ইয়াংস্টার সোসিয়্যাল অর্গানাইজেশন–এর অক্লান্ত পরিশ্রমে যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে ফরিদপুর শহর। এ কাজে সার্বিক সহযোগিতা করছে ফরিদপুর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (০৭ জানুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে এমন ব্যতিক্রমী কর্মকাণ্ডের চিত্র দেখা যায়। হাসপাতালের পাশের সড়ক বিভাগের জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা দোকানগুলোর বর্জ্য, হাসপাতাল ও বেসরকারি ক্লিনিকের মেডিকেল বর্জ্যের কারণে এলাকাটি ভয়াবহ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও ময়লাস্তুপে পরিণত হয়েছিল। তীব্র দুর্গন্ধে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হতো স্থানীয় বাসিন্দা ও চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের। জমে থাকা ময়লাযুক্ত পানিতে জন্ম নিচ্ছিল এডিস মশাও।
স্বেচ্ছাসেবীদের উদ্যোগে গত দুই সপ্তাহ ধরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়ে পুরো এলাকাটি পরিষ্কার করা হয়। এরপর সেখানে খুঁটি স্থাপন করে রঙিন জাল টানানো হয়, যাতে ভবিষ্যতে কেউ ময়লা ফেলতে না পারে। পাশাপাশি সচেতনতামূলক বার্তা ও নান্দনিক ক্যালিগ্রাফি টানানো হয়েছে। সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে বিভিন্ন প্রজাতির গাছও রোপণ করা হয়।
সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বিএডিসি সেচ বিভাগ পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকা দীর্ঘদিন ধরে ময়লাস্তুপে পরিণত ছিল। বিষয়টি ফরিদপুর পৌরসভাকে অবগত করার পর পৌরসভার সহযোগিতায় গত ২১ ডিসেম্বর থেকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়।
বাংলাদেশ ইয়াংস্টার সোসিয়্যাল অর্গানাইজেশনের জ্যেষ্ঠ সদস্য ও ফরিদপুর জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র কাজী জেবা তাহসিন বলেন, “এখানে কিছুদিন আগেও শুধু ময়লা আর দুর্গন্ধ ছিল। পৌরসভার সহযোগিতায় আমরা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করি। এখন নেট ও খুঁটি দিয়ে এলাকা ঘিরে দেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ ময়লা ফেলতে না পারে। পাশাপাশি ক্যালিগ্রাফি ও সতর্কবার্তা টানানো হয়েছে। শহরের অন্যান্য এলাকাতেও সৌন্দর্য ফেরাতে আমরা কাজ করে যাব।”
এ উদ্যোগে যুক্ত জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক কাজী রিয়াজ পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আমরা প্রতিনিয়ত পরিবেশ দূষণ করছি। শুধু প্রযুক্তি দিয়ে পরিবেশ রক্ষা সম্ভব নয়, প্রয়োজন মানুষের সচেতনতা। আজ আমরা একটি জায়গা পরিষ্কার করেছি, কিন্তু অন্য কোথাও আবার দূষণ হচ্ছে। সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন হলে পরিবেশগত উন্নয়নে বাংলাদেশকে অনেক দূর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।”
স্বেচ্ছাসেবীদের এই উদ্যোগে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসা ও ইতিবাচক সাড়া পড়েছে। অনেকেই বলছেন, এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে ফরিদপুর শহর আরও পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য হয়ে উঠবে।

আপনার মতামত লিখুন
Array