খুঁজুন
, ,

ময়লাস্তুপ থেকে রঙিন সৌন্দর্য—স্বেচ্ছাসেবীদের উদ্যোগে নতুন রূপে ফরিদপুর শহর

হাসান মাতুব্বর (শ্রাবণ), ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:২৩ অপরাহ্ণ
ময়লাস্তুপ থেকে রঙিন সৌন্দর্য—স্বেচ্ছাসেবীদের উদ্যোগে নতুন রূপে ফরিদপুর শহর

ফরিদপুর শহরের সৌন্দর্যবর্ধনে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন একঝাঁক তরুণ স্বেচ্ছাসেবী। দীর্ঘদিনের ময়লাস্তুপ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশকে রঙিন সজ্জা, নিখুঁত ক্যালিগ্রাফি ও সবুজ গাছপালায় রূপান্তর করে নজির গড়েছেন তাঁরা। বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বাংলাদেশ ইয়াংস্টার সোসিয়্যাল অর্গানাইজেশন–এর অক্লান্ত পরিশ্রমে যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে ফরিদপুর শহর। এ কাজে সার্বিক সহযোগিতা করছে ফরিদপুর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ।

বুধবার (০৭ জানুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে এমন ব্যতিক্রমী কর্মকাণ্ডের চিত্র দেখা যায়। হাসপাতালের পাশের সড়ক বিভাগের জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা দোকানগুলোর বর্জ্য, হাসপাতাল ও বেসরকারি ক্লিনিকের মেডিকেল বর্জ্যের কারণে এলাকাটি ভয়াবহ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও ময়লাস্তুপে পরিণত হয়েছিল। তীব্র দুর্গন্ধে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হতো স্থানীয় বাসিন্দা ও চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের। জমে থাকা ময়লাযুক্ত পানিতে জন্ম নিচ্ছিল এডিস মশাও।

স্বেচ্ছাসেবীদের উদ্যোগে গত দুই সপ্তাহ ধরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়ে পুরো এলাকাটি পরিষ্কার করা হয়। এরপর সেখানে খুঁটি স্থাপন করে রঙিন জাল টানানো হয়, যাতে ভবিষ্যতে কেউ ময়লা ফেলতে না পারে। পাশাপাশি সচেতনতামূলক বার্তা ও নান্দনিক ক্যালিগ্রাফি টানানো হয়েছে। সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে বিভিন্ন প্রজাতির গাছও রোপণ করা হয়।

সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বিএডিসি সেচ বিভাগ পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকা দীর্ঘদিন ধরে ময়লাস্তুপে পরিণত ছিল। বিষয়টি ফরিদপুর পৌরসভাকে অবগত করার পর পৌরসভার সহযোগিতায় গত ২১ ডিসেম্বর থেকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়।

বাংলাদেশ ইয়াংস্টার সোসিয়্যাল অর্গানাইজেশনের জ্যেষ্ঠ সদস্য ও ফরিদপুর জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র কাজী জেবা তাহসিন বলেন, “এখানে কিছুদিন আগেও শুধু ময়লা আর দুর্গন্ধ ছিল। পৌরসভার সহযোগিতায় আমরা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করি। এখন নেট ও খুঁটি দিয়ে এলাকা ঘিরে দেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ ময়লা ফেলতে না পারে। পাশাপাশি ক্যালিগ্রাফি ও সতর্কবার্তা টানানো হয়েছে। শহরের অন্যান্য এলাকাতেও সৌন্দর্য ফেরাতে আমরা কাজ করে যাব।”

এ উদ্যোগে যুক্ত জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক কাজী রিয়াজ পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আমরা প্রতিনিয়ত পরিবেশ দূষণ করছি। শুধু প্রযুক্তি দিয়ে পরিবেশ রক্ষা সম্ভব নয়, প্রয়োজন মানুষের সচেতনতা। আজ আমরা একটি জায়গা পরিষ্কার করেছি, কিন্তু অন্য কোথাও আবার দূষণ হচ্ছে। সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন হলে পরিবেশগত উন্নয়নে বাংলাদেশকে অনেক দূর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।”

স্বেচ্ছাসেবীদের এই উদ্যোগে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসা ও ইতিবাচক সাড়া পড়েছে। অনেকেই বলছেন, এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে ফরিদপুর শহর আরও পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য হয়ে উঠবে।

টেকনাফে গুলিতে নিহত তিতাসের জানাজা সম্পন্ন, ফরিদপুরে নানীর কবরের পাশে দাফন

নুর ইসলাম, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৫ অপরাহ্ণ
টেকনাফে গুলিতে নিহত তিতাসের জানাজা সম্পন্ন, ফরিদপুরে নানীর কবরের পাশে দাফন

‘কাল বিকেলে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানে যাব, দোয়া কইরো মা।’ মুঠোফোনে মাকে বলা ছেলের শেষ কথাগুলো এখন বারবার মনে পড়ছে রেখা বেগমের। অভিযানে যাওয়ার আগে মায়ের কাছে দোয়া চেয়েছিলেন সেনাসদস্য তিতাস শেখ (২৮)। তবে সেই অভিযান থেকে আর ফেরা হয়নি তাঁর। 

কক্সবাজারের টেকনাফে পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত তিতাসের মরদেহ আজ শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেল ৪.৪০ মিনিটের দিকে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে ফরিদপুরের নগরকান্দায় আনা হয়। সন্ধ্যায় লস্করদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বাদ মাগরিব জানাজা শেষে গ্রামের স্থানীয় গোরস্থানে নানীর কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়েছে।

তিতাসের মরদেহ বহনকারী সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারটি শুক্রবার বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে নগরকান্দা সরকারি মহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমি মাঠে অবতরণ করে। সেখানে পদ্মা সেনানিবাসের ১৫ আর-ই রিভারাইন ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নের মেজর সোহেলের নেতৃত্বে সেনাসদস্যরা মরদেহ গ্রহণ করেন। পরে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামের বাড়িতে। মরদেহ পৌঁছানোর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় বাসিন্দারা বাড়িতে ভিড় করেন। এ সময় মা রেখা বেগম, বাবা আফজাল শেখ ও স্ত্রী সুমাইয়া আক্তারসহ স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

শুক্রবার (০৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় লস্করদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বাদ মাগরিব তিতাসের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার আগে সেখানে উপস্থিত হয়ে নিহতের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান সেনাবাহিনীর সদস্যরা। এ সময় তিতাসের ইউনিটের কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন সাজিদসহ সেনাবাহিনীর সদস্য, পরিবারের লোকজন, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।

জানাজা শেষে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় লস্করদিয়া স্থানীয় গোরস্থানে। সেখানে নানীর কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়। সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর ক্যাপ্টেন সাজিদের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর সদস্যরা তিতাসের কবরে সামরিক মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করেন। এ সময় কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। সামরিক আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে সেনাসদস্যরা কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি আকাশের দিকে ছোড়েন। এভাবেই রাষ্ট্রীয় ও সামরিক মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হয় টেকনাফে দায়িত্ব পালনকালে নিহত এই সেনাসদস্য তিতাস শেখকে।

তিতাসের মৃত্যুর পর থেকে শোকে ভেঙে পড়েছেন তাঁর মা রেখা বেগম। গত বুধবার রাতে মুঠোফোনে মাকে অভিযানে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন তিতাস। বলেছিলেন, ‘আগামীকাল বিকেলে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানে যাব, দোয়া কইরো মা।’ ছেলের এমন কথায় দোয়া করেছিলেন মা। কিন্তু সেটিই যে তাঁদের শেষ কথা হবে, তা বুঝতে পারেননি তিনি। বৃহস্পতিবার রাতে ছেলের মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পর থেকে কান্নায় থামছে না তাঁর।

অন্যদিকে স্বামীকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার। চার বছর আগে পাশের গ্রামের সুমাইয়ার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল তিতাসের। তাঁদের সংসারে কোনো সন্তান এখনো আসেনি। আগামী ডিসেম্বর মাসে স্ত্রীকে নিজের কর্মস্থলে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। সেই অপেক্ষায় ছিলেন সুমাইয়া। কিন্তু ডিসেম্বর আসার আগেই স্বামীকে হারাতে হলো। আর সন্তান হারানোর শোকে নির্বাক হয়ে পড়েছেন বাবা আফজাল শেখ।

তিতাসের পরিবারে সেনাবাহিনীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর বাবা আফজাল শেখ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য। বাবার পথ অনুসরণ করে ২০১৭ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে যোগ দেন তিতাস। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। তাঁর ছোট ভাই আকরাম হোসেনও বর্তমানে সেনাবাহিনীতে কর্মরত। পরিবারের তিন সদস্যের সেনাবাহিনীতে যুক্ত থাকার মধ্যে তিতাসের এমন মৃত্যুতে স্বজনদের শোকের পাশাপাশি এলাকায়ও শোকের মাতম তৈরি হয়েছে।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথবাহিনীর অভিযান চলছিল। এ সময় পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলি তিতাসের বুকের বাঁ পাশের ওপরের অংশে লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে লেদা আইআরসি রোহিঙ্গা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বেসামরিক অ্যাম্বুলেন্সে রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) পাঠানো হয়। সেখানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টা ৪৮ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিতাস সেনাবাহিনীর ১ বীর ইউনিটের সদস্য ছিলেন। তিনি টেকনাফের রঙ্গীখালী আর্মি ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন। দায়িত্ব পালনকালে অভিযানে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। পরে তাঁর মরদেহ রামু সিএমএইচে রাখা হয়। সামরিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুক্রবার হেলিকপ্টারে করে নিজ এলাকায় পাঠানো হয় তাঁকে।

নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন জানান, সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুক্রবার বিকেলে হেলিকপ্টারে করে তিতাসের মরদেহ নগরকান্দায় পৌঁছায়। পরে গ্রামের বাড়িতে নেওয়ার পর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সামরিক মর্যাদায় গার্ড অব অনার ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্থানীয় গোরস্থানে নানীর কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়েছে।

সন্ত্রাসীদের বুলেটে নিহত সেনা সদস্য তিতাস: একসঙ্গে বাঁচার স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ
সন্ত্রাসীদের বুলেটে নিহত সেনা সদস্য তিতাস: একসঙ্গে বাঁচার স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল

আগামী ডিসেম্বরে স্ত্রীকে নিজের কর্মস্থলে নিয়ে গিয়ে নতুন করে সংসার সাজানোর পরিকল্পনা করেছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক মো. তিতাস শেখ (২৮)। চার বছরের দাম্পত্য জীবনে একসঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটানোর অদম্য স্বপ্ন ছিল তাঁর চোখে। কিন্তু সন্ত্রাসীদের একটি মাত্র বুলেট তাঁর সেই সাজানো স্বপ্নের দুনিয়া নিমিষেই গুঁড়িয়ে দিয়েছে। ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামের বাড়িতে ঠিকই ফিরছেন তিতাস, তবে তা কোনো আনন্দ নিয়ে নয়—বরং একটি নিথর, প্রাণহীন মরদেহে।

​প্রিয় স্বজনের এমন নির্মম বিদায়ের অপেক্ষায় থাকা তিতাসের স্ত্রী সুমাইয়া ও মা রেখা বেগমের আহাজারিতে লস্করদিয়ার আকাশ-বাতাস এখন ভারী হয়ে উঠেছে।

​শেষ মায়ের দোয়া ও মর্মান্তিক পরিণতি

​স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার রাতে মায়ের সঙ্গে মুঠোফোনে শেষবারের মতো কথা হয় তিতাসের। পরদিন বৃহস্পতিবার বিকেলে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে একটি ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে অংশ নিতে হবে জানিয়ে তিনি মায়ের কাছে দোয়া চান। কে জানত, এটাই হবে মায়ের সঙ্গে তাঁর জীবনের শেষ কথোপকথন! বৃহস্পতিবার রাতেই তিতাসের মৃত্যুর সংবাদ এসে সব ওলটপালট করে দেয়।

​নিহত তিতাস শেখ ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামের আফজাল শেখের ছেলে। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। সেনাপরিবারের সন্তান তিতাসের বাবা আফজাল শেখ সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত সদস্য এবং তাঁর ছোট ভাই আকরাম হোসেনও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত। ২০১৭ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া তিতাস ১ বীর ইউনিটের সদস্য হিসেবে কক্সবাজারের টেকনাফের রঙ্গীখালী আর্মি ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন।

​স্বামী ও সন্তানকে হারিয়ে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন তিতাসের স্ত্রী সুমাইয়া ও মা রেখা বেগম। পরিবারের এই অপূরণীয় ক্ষতি এবং তিতাসের এমন করুণ মৃত্যু যেন কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না এলাকাবাসীও।

​রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে শোক প্রকাশ

​সেনা সদস্য তিতাস শেখের এই মর্মান্তিক ও অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

​এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে এবং নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিতাস শেখ নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাঁর এই মহান আত্মত্যাগ জাতি সবসময় শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

​প্রতিমন্ত্রী মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, দেশসেবায় নিয়োজিত থেকে সেনা সদস্য তিতাসের এই আত্মত্যাগ অত্যন্ত বেদনাদায়ক হলেও তাঁর সাহসিকতা ও কর্তব্যনিষ্ঠা দেশবাসীর হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

ফরিদপুরের পদ্মা নদীর ২০টি অবৈধ বাঁধ উচ্ছেদ করলেন ইউএনও, সরঞ্জাম পুড়িয়ে ধ্বংস

শিশির খাঁন
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের পদ্মা নদীর ২০টি অবৈধ বাঁধ উচ্ছেদ করলেন ইউএনও, সরঞ্জাম পুড়িয়ে ধ্বংস

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে পদ্মা নদীর মধ্যে নির্মিত ২০টি অবৈধ বাঁধ উচ্ছেদ করেছে উপজেলা প্রশাসন।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জুলহাস হোসেন সৌরভ অভিযান চালিয়ে এসব বাঁধ উচ্ছেদ করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে আনসার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পদ্মা নদীর চর শালিপুর ও সিট মির্জাপুরের খাঁ এলাকার পদ্মা নদীতে অবৈধভাবে বাঁধ নির্মাণ করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছিল। এতে মাছের স্বাভাবিক বিচরণ ও উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ জেলেরা মাছ শিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে পদ্মা নদীতে এই অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার করে আসছিলো। এ পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী জেলেরা অবৈধ বাঁধ অপসারণের দাবিতে ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম খাঁন বাবুলের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ সদস্য বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুলহাস হোসেন সৌরভকে তদন্ত করে এই অবৈধ বাঁধের বিষয় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দ্রুত উচ্ছেদ করার নির্দেশ দেন। সংসদ সদস্যের নির্দেশনার পর আজ শুক্রবার (৬ নভেম্বর) উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে পদ্মা নদীর ২০টি অবৈধ বাঁধ উচ্ছেদ করে। এতে নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার পথ সুগম হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় জেলেরা।

স্থানীয় জেলেরা বলেন, ভবিষ্যতে যেন কেউ আবার পদ্মা নদীতে অবৈধ বাঁধ নির্মাণ করে মাছের অবাধ বিচরণ ও সাধারণ জেলেদের জীবিকার পথে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জুলহাস হোসেন সৌরভ বলেন, প্রবাহমান জলাশয়ে আড়াআড়ি বাঁধ দেওয়া মৎস্য আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ। এসব বাঁধ মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও চলাচল ব্যাহত করার পাশাপাশি জলজ পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে। বাঁধ উচ্ছেদে জব্দকৃত সকল অবৈধ কারেন্ট জাল এবং চায়না দুয়ারী নদীর পারে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।
নদী ও জলাশয়ের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে এবং মৎস্যসম্পদ রক্ষায় জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।