খুঁজুন
, ,

তরুণদের স্বপ্ন ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে নিরাপদ অনাথের মোড়: ফরিদপুরে দৃষ্টিনন্দন ট্রাফিক আইল্যান্ড

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:২৭ পূর্বাহ্ণ
তরুণদের স্বপ্ন ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে নিরাপদ অনাথের মোড়: ফরিদপুরে দৃষ্টিনন্দন ট্রাফিক আইল্যান্ড

ফরিদপুর শহরের ব্যস্ততম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর একটি ছিল অনাথের মোড়। প্রতিদিনই এখানে ছোট-বড় সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটত। বিশেষ করে রাতের বেলায় অসংগঠিত যান চলাচল ও স্পষ্ট দিকনির্দেশনার অভাবে পথচারী ও চালকদের ভোগান্তি ছিল নিত্যদিনের চিত্র। সেই ঝুঁকিপূর্ণ মোড়কেই এখন শহরের সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে ‘অনাথের মোড় চত্বর’।

জানা যায়, প্রায় ৪–৫ মাস আগে ফরিদপুরের একদল সচেতন তরুণ অনাথের মোড়ে একটি ট্রাফিক আইল্যান্ড নির্মাণের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও পৌরসভায় আবেদন করেন। উদ্দেশ্য ছিল দুর্ঘটনা কমানো ও যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরানো। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও কাঙ্ক্ষিত সাড়া না পাওয়ায় বিষয়টি নজরে আসে ফরিদপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েলের। তরুণদের এই যৌক্তিক উদ্যোগে সাড়া দিয়ে তিনি নিজ অর্থায়নে এখানে একটি দৃষ্টিনন্দন চত্বর নির্মাণের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকেও উদ্যোগটিকে ইতিবাচকভাবে দেখা হয়। প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার পর ডিসেম্বর ২০২৫ সালে পৌর প্রশাসনের অনুমতিক্রমে ‘অনাথের মোড় চত্বর’ নির্মাণের কাজ শুরু হয় এবং স্বল্প সময়ের মধ্যেই তা সম্পন্ন করা হয়। আধুনিক নকশা, আলোকসজ্জা ও পরিকল্পিত কাঠামোর মাধ্যমে এটি এখন একটি কার্যকর ট্রাফিক আইল্যান্ডের পাশাপাশি নান্দনিক নগর স্থাপনায় রূপ নিয়েছে।

এই চত্বরের নকশা প্রণয়ন করেন ইঞ্জিনিয়ার মাহমুদুল হাসান ওয়ালিদ এবং তার প্রতিষ্ঠান জিমাফ্ল্যাট। তিনি ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘কে বলেন, “এই উদ্যোগের ফলে ওই এলাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমেছে। একই সঙ্গে অনাথের মোড়ের সৌন্দর্য বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এখানে এসে ছবি তুলছেন, ভিডিও করছেন—এটা সত্যিই আনন্দের।”

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েল ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’কে বলেন, “অনাথের মোড়ে মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটত। স্থানীয় তরুণদের দাবির প্রেক্ষিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি একদিকে নিরাপদ ট্রাফিক আইল্যান্ড হিসেবে কাজ করবে, অন্যদিকে শহরের সৌন্দর্য বাড়াবে।”

ইতোমধ্যে ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনাথের মোড় চত্বরের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই এটিকে ফরিদপুর শহরের নতুন ল্যান্ডমার্ক হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন। স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ নগর উন্নয়নে জনসম্পৃক্ততার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এবং ভবিষ্যতে শহরের অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ মোড়েও এমন উদ্যোগ নেওয়া হলে ফরিদপুর আরও সুন্দর ও নিরাপদ নগরে পরিণত হবে।

ফরিদপুরে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পেলেন তিন শতাধিক রোগী

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পেলেন তিন শতাধিক রোগী

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় দিনব্যাপী এক ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে স্থানীয় তিন শতাধিক রোগীকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বুধবা​র (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে উপজেলা​র পবনবেগ মোহাম্মাদিয়া নূরানী ও এতিমখানা মাদ্রাসায় এই কল্যাণমূলক কর্মসূচির আয়োজন করে ‘রাসু ফাউন্ডেশন’ (রাসু জুয়েলার্সের সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান)।

​মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. রিয়াজুল ইসলাম এবং গাইনী ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. শাবনাজ সুলতানা। দিনভর সেবা নিতে আসা বিভিন্ন বয়সের নারী ও পুরুষদের শারীরিক পরীক্ষা, ডায়াবেটিস পরীক্ষা ও রক্তচাপ পরিমাপসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ দিতে সার্বিক সহযোগিতা করে ‘আলফাডাঙ্গা ল্যাবএইড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’।

​ক্যাম্প পরিচালনা ও তদারকিতে উপস্থিত ছিলেন রাসু ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মো. আবদুল্লাহ সুমন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ইসলাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক সেকেন্দার রুমি। এছাড়া মো. হাসান খান, আকিব সিকদার, সিয়াম মোল্যা, রিফাত মোল্যা, রনি মোল্যা, আরাফাত মোল্যা ও ওমর মোল্যাসহ স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকবৃন্দ সেবা কার্যক্রমে সার্বিক সহায়তা করেন।

​সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে আয়োজিত এই উদ্যোগ নিয়ে রাসু ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মো. আবদুল্লাহ সুমন বলেন, ‘অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। এই তাগিদ থেকেই মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে। আগামীতেও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

সালথায় ​সার পাচারের খবর পেয়ে সড়কে ইউএনও, হাতেনাতে আটক ডিলার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০১ অপরাহ্ণ
সালথায় ​সার পাচারের খবর পেয়ে সড়কে ইউএনও, হাতেনাতে আটক ডিলার

ফরিদপুরের সালথায় সার ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম প্রতিরোধে অভিযান চালিয়ে বিসিআইসি’র এক নিবন্ধিত ডিলারকে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

​বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দবির উদ্দিনের নেতৃত্বে এ অভিযান ও আদালত পরিচালিত হয়।

​উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের বিসিআইসি মূল ডিলার সুভাষ দত্ত তাঁর নকুলহাটি বাজারস্থ দোকান থেকে গৌড়দিয়া বাজারের খুচরা বিক্রেতা ওহিদের কাছে ২৪ বস্তা সার হস্তান্তর করেন বলে দাবি করা হয়েছিল। তবে সার নির্ধারিত গন্তব্য গৌড়দিয়ার পরিবর্তে ফরিদপুর সদরের কানাইপুরের দিকে পরিবহন করা হচ্ছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কানাইপুর সড়কে দুপুর ২টার দিকে অভিযান চালিয়ে নসিমনটি সারসহ আটক করা হয়।

​আটক নসিমনের চালক এরশাদ কোনো বৈধ পরিবহন রশিদ দেখাতে পারেননি। পরে সংশ্লিষ্ট ডিলার সুভাষ দত্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তাঁর বক্তব্যে নানা অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হয়।

​সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬-এর ১২(১) ধারা লঙ্ঘনের অপরাধে ডিলার সুভাষ দত্তকে ৩০,০০০ (ত্রিশ হাজার) টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

​অভিযানকালে সালথা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহসানুল হাবীব আল আজাদ জনি উপস্থিত ছিলেন।

​সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে জানান, কৃষকদের জন্য সরকার বরাদ্দকৃত সার সুষ্ঠু ও নির্ধারিত ব্যবস্থাপনায় বিতরণ নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের এই নিয়মিত তদারকি ও আইনানুগ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

ফরিদপুরে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা মামলায় যুবকের ১০ বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা মামলায় যুবকের ১০ বছরের কারাদণ্ড

ফরিদপুরের নগরকান্দায় মাদ্রাসাছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণচেষ্টার মামলায় মিরাজ শেখ (৩৫) নামের এক যুবককে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

​বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামিমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি মিরাজ শেখ আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

​মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে আসামির বাড়ির সামনে খেলা করছিল ভুক্তভোগী মাদ্রাসাছাত্রী। এ সময় অভিযুক্ত মিরাজ শেখ সুকৌশলে তাকে নিজ ঘরে ডেকে নিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টা চালান।

​এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করে আসামি মিরাজ শেখকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন নগরকান্দা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান।

​দীর্ঘ সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আজ এই রায় প্রদান করেন।

​রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, আসামি মিরাজ শেখের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত তাকে উপযুক্ত সাজা দিয়েছেন। এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করছে।