খুঁজুন
, ,

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ফরিদপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে বৃক্ষরোপণ

এহসানুল হক মিয়া, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ৩:০৫ অপরাহ্ণ
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ফরিদপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে বৃক্ষরোপণ

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ফরিদপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে বৃক্ষরোপণ, সচেতনতামূলক র‍্যালি ও আলোচনা সভা (সেমিনার) অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) সকালে কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত কর্মসূচিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক প্রতিনিধি ও আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে একটি সচেতনতামূলক র‍্যালি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। পরে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়।

সিনিয়র শিক্ষক শাহাদত হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের সূচনা হয় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে, যা পাঠ করেন সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা দেলোয়ার হোসেন।

আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন সহকারী শিক্ষক প্রবীর গাইন এবং ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক জাহিদুল ইসলাম।

সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল কায়ূম শেখ বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব দিন দিন প্রকট হচ্ছে। এ সংকট মোকাবিলায় আমাদের সবাইকে পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনে অভ্যস্ত হতে হবে। প্রতিটি শিক্ষার্থী যদি অন্তত একটি করে গাছ লাগায় এবং তার পরিচর্যা করে, তাহলে পরিবেশ রক্ষায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

তিনি আরও বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়; বরং প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে এখন থেকেই সম্মিলিত উদ্যোগ নিতে হবে।

সেমিনারে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ, এর ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক ও স্থানীয় ঝুঁকি, বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব অভ্যাস গড়ে তোলার বিভিন্ন দিক নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বক্তারা প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, পানি ও বিদ্যুতের অপচয় রোধ এবং নিয়মিত বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীরা পরিবেশ রক্ষায় সচেতন থাকার এবং নিয়মিত বৃক্ষরোপণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

সদরপুরে নিখোঁজের তিনদিন পর কাশবনে মিলল শিশুর মরদেহ

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ৫:৪০ অপরাহ্ণ
সদরপুরে নিখোঁজের তিনদিন পর কাশবনে মিলল শিশুর মরদেহ

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় মেলায় ঘুরতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া আট বছর বয়সী শিশু শাহাদাত বেপারীর গলিত মরদেহ তিন দিন পর আড়িয়াল খাঁ নদের পাড়ের একটি কাশবন থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২৯ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে সদরপুর উপজেলার চর নাছিরপুর ইউনিয়নের কাশবন থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত শাহাদাত বেপারী উপজেলার মধ্য চন্দ্রপাড়া গ্রামের রশিদ বেপারীর ছেলে।

অভিযোগ উঠেছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজন এক দোলনা কর্মী নিজেই ফোন করে শিশুটির বোনকে মরদেহের অবস্থান জানিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর থেকে ওই যুবক পলাতক রয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২৬ জুন) মহরম উপলক্ষে চন্দ্রপাড়া দরবার সংলগ্ন ট্রলারঘাটে আয়োজিত মেলায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে নিখোঁজ হয় শাহাদাত। এরপর স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পাশাপাশি মাইকিং করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।

সোমবার দুপুরে মেলায় কর্মরত ইয়াছিন (১৮) নামে এক যুবক শাহাদাতের বোন রওশনারার মোবাইল ফোনে কল করে আড়িয়াল খাঁ নদের পাড়ের একটি কাশবনে মরদেহ পড়ে থাকার কথা জানায়। পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে শিশুটির গলিত মরদেহ শনাক্ত করেন। পরে খবর পেয়ে সদরপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এদিকে ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মেলায় থাকা দোলনার মালিকসহ পাঁচ কর্মচারীকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। পরে পুলিশ তাদের হেফাজতে নেয়। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) মো. রেজওয়ান দীপু এবং সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আল মামুন শাহ। ওসি জানান, ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং পলাতক মূল সন্দেহভাজনকে দ্রুত গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তদন্তের স্বার্থে সব দিক গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

সালথায় প্রবাসী স্বামীর পাঠানো অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে নারী গ্রেপ্তার

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ৫:০৯ অপরাহ্ণ
সালথায় প্রবাসী স্বামীর পাঠানো অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে নারী গ্রেপ্তার

ফরিদপুরের সালথায় প্রবাসী স্বামীর পাঠানো অর্থ আত্মসাৎ করে ব্যক্তিগত ভোগ-বিলাসে ব্যয়ের অভিযোগে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া রমিজা সুলতানা আন্না মধুখালী উপজেলার কামালদিয়া ইউনিয়নের কামালদিয়া গ্রামের ইয়াসিন মোল্লার মেয়ে। তিনি দুই সন্তানের জননী।

সোমবার (২৯ জুন) ভোর রাত প্রায় ৩টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের এক প্রবাসী দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে অবস্থান করছেন। পরিবারের ভরণপোষণ ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে তিনি স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নিয়মিত অর্থ পাঠাতেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই অর্থের একটি বড় অংশ ব্যক্তিগত ভোগ-বিলাসে ব্যয় করা হয়। এ ছাড়া অভিযুক্ত নারীর বিরুদ্ধে এক ব্যক্তির সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগও করেছেন বাদী। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া এখনো চলমান।

সম্প্রতি দেশে ফিরে পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পেরে ওই প্রবাসী সালথা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে।

তদন্তে প্রাথমিকভাবে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত পাওয়ার পর রমিজা সুলতানা আন্নাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সালথা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আসাদুজ্জামান তালুকদার বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত পরিচালনা করা হয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের আলোকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য বিষয়ও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান খান বলেন, গ্রেপ্তারকৃত নারীকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ঘুমন্ত স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে দেওয়ার অভিযোগ, স্ত্রী আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ১২:৪১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ঘুমন্ত স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে দেওয়ার অভিযোগ, স্ত্রী আটক

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ঘুমন্ত স্বামীর গোপনাঙ্গ ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত স্বামীকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত স্ত্রীকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার (২৯ জুন) সকালে ভাঙ্গা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হোগলাডাঙ্গী সদরদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আহত হানিফ শেখ (২৪) ভাঙ্গা উপজেলার মানিকদহ ইউনিয়নের পুখুরিয়া গ্রামের রফিক শেখের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী। অভিযুক্ত স্ত্রী সুমাইয়া আক্তারের (২২) বাড়িও একই এলাকায়। তবে কয়েক মাস ধরে তারা হোগলাডাঙ্গী সদরদী গ্রামের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় মাস আগে তারা ওই এলাকায় ভাড়া বাসায় ওঠেন। এরপর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক কলহ চলছিল। রোববার রাতেও তাদের মধ্যে তুমুল ঝগড়া হয়। এরই জেরে সোমবার সকালে হানিফ ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গোপনাঙ্গে আঘাত করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

হানিফের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। প্রথমে তাকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।

এদিকে ঘটনার পর উত্তেজিত এলাকাবাসী অভিযুক্ত সুমাইয়া আক্তারকে আটক করে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নিয়ে থানায় নিয়ে যায়।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। অভিযুক্ত নারীকে আটক করা হয়েছে। আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”