খুঁজুন
সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৩০ চৈত্র, ১৪৩২

অসত্য প্রত্যয়নপত্রে বিচার ব্যাহত! গণপূর্তের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:৩০ অপরাহ্ণ
অসত্য প্রত্যয়নপত্রে বিচার ব্যাহত! গণপূর্তের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ

সরকারি দপ্তরের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে অসত্য প্রত্যয়নপত্র দাখিল করে বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগ তুলে আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাসিন্দা মো. রকি হাসান। একই সঙ্গে প্রাণনাশের হুমকি ও হয়রানির অভিযোগে ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তিনি।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ উপ-সহকারী প্রকৌশলী (ই/এম) মো. আ. রহমান (বর্তমানে ঢাকা গণপূর্ত ই/এম বিভাগ-১০) এবং উপ-সহকারী প্রকৌশলী শিরিনা পারভীন (বর্তমানে ফরিদপুরে কর্মরত) তার দায়ের করা একাধিক মামলায় আদালতে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করেছেন।

তিনি দাবি করেন, যশোরের আমলী আদালতে দায়ের করা পি-৫৭১/২৩ এবং পি-৯২৭/২৪ নম্বর মামলায় উক্ত দুই কর্মকর্তা ফরিদপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর স্বাক্ষরযুক্ত প্রত্যয়নপত্র জমা দেন, যেখানে উল্লেখ ছিল যে, ঘটনার দিন ২৯ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে তারা কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু বাস্তবে তারা ওইদিন কর্মস্থলে ছিলেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রকি হাসানের ভাষ্য, “সরকারি কর্মকর্তা হয়েও তারা আদালতে অসত্য প্রত্যয়নপত্র দিয়ে বিচারপ্রক্রিয়াকে বিভ্রান্ত করেছেন। এতে আমি ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি।”

তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে তিনি প্রথমে গণপূর্ত অধিদপ্তর এবং পরে মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। পরবর্তীতে সরকারি অভিযোগ ব্যবস্থাপনা (GRS) প্ল্যাটফর্মে ট্র্যাকিং নম্বরসহ অভিযোগ করলেও সেখানে “ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি” বলে জানানো হয়।

তবে অভিযোগকারী দাবি করেন, পরবর্তীতে একই ঘটনায় দায়ের করা সি আর মামলা নং CR-১৪৭২/২৫ তদন্তের জন্য যশোর সিআইডি দপ্তরে পাঠানো হলে তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন বলে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। ইতোমধ্যে মামলায় সমন জারি হয়েছে এবং শুনানির তারিখও নির্ধারিত হয়েছে।

এ অবস্থায় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পুনরায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন তাকে অবহিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানান।

এদিকে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকেও বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গত ২১ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে জারি করা এক পত্রে অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিন তদন্ত করে বিস্তারিত প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, একই ব্যক্তি গত ১২ আগস্ট ২০২৫ তারিখে ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন, যেখানে তিনি হুমকি ও শারীরিক হয়রানির অভিযোগ তোলেন।

জিডি সূত্রে জানা যায়, ওইদিন সকালে ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে ফরিদপুরগামী একটি বাসে করে আদালতে হাজিরা দিতে আসেন তিনি। আদালতের কার্যক্রম শেষে দুপুরে ফেরার সময় ফরিদপুর গোল্ডেন লাইন বাস কাউন্টারে অবস্থানকালে নামাজের সময় একাধিক অজ্ঞাত নম্বর থেকে তাকে কল দেওয়া হয়। পরে নিজেকে বাসের সহকারী পরিচয় দিয়ে একজন ফোন করে দ্রুত বাসে উঠতে বলেন।

নামাজ শেষে বের হলে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক একটি অফিস কক্ষে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় তারা তার বিরুদ্ধে প্রাক্তন স্ত্রীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলে একটি অডিও রেকর্ডিং শোনায়, যা তিনি ‘সাজানো’ বলে দাবি করেন।

রকি হাসান অভিযোগ করেন, “পূর্বেও আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে। বিভিন্ন নম্বর থেকে আমাকে ও আমার পরিবারকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, ঘটনার সময় বাস কাউন্টার ও আশপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল, যেখানে পুরো ঘটনা রেকর্ড থাকার কথা। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ডিউটি অফিসার জিডিটি গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানা গেছে। জিডি নম্বর ৮৬৩ এবং ট্র্যাকিং নম্বর DMAF87 হিসেবে এটি নথিভুক্ত করা হয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মিথ্যা তথ্য প্রদান গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তির পাশাপাশি ফৌজদারি ব্যবস্থাও নেওয়া যেতে পারে।

এদিকে ভুক্তভোগী রকি হাসান সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের প্রতি দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সালথায় সম্পত্তি নিয়ে বিরোধে মাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করল সন্তানরা

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:০৮ অপরাহ্ণ
সালথায় সম্পত্তি নিয়ে বিরোধে মাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করল সন্তানরা

ফরিদপুরের সালথায় সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে সালিশ বৈঠকের মধ্যে মনোয়ারা বেগম (৬০) নামে এক বৃদ্ধ সৎ মাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে তারই সন্তানদের বিরুদ্ধে। হামলার পর গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রবিবার (১২ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের কাঠালবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় হামলা ঠেকাতে গিয়ে মনোয়ারার আপন ছেলেও আহত হয়েছেন।

আহত মনোয়ারা বেগম (৬০) কাঠালবাড়িয়া গ্রামের সিদ্দিকুর রহমানের স্ত্রী। অপর আহত ব্যক্তি আব্দুর রাজ্জাক (২৯) মনোয়ারা বেগমের গর্ভজাত ছেলে।

আহত মনোয়ারার পরিবার ও স্থানীয়রা সুত্রে জানা গেছে, পারিবারিক সম্পত্তি ও বসতভিটা নিয়ে মনোয়ারা বেগমের সঙ্গে তার সৎ সন্তান হিরু মাতুব্বর (৩৫), রিপন মাতুব্বর (৪৩) ও ফিরোজ মাতুব্বরের (৪০) বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জেরে গত শনিবার সৎ সন্তানরা মনোয়ারাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।

পরদিন রবিবার রাতে বিষয়টি সালিশের মাধ্যমে মিমাংসার জন্য উদ্যোগ নেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। পরে গ্রামবাসী ও গন্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ওই সালিশ বৈঠক বসে। কিন্তু সালিশের একপর্যায়ে মনোয়ারাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে তার সৎ ছেলে হিরু, রিপন ও ফিরোজ। এতে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

এ সময় হামলা থেকে মাকে রক্ষা করতে গেলে তার ছেলে আব্দুর রাজ্জাকও আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন।

এ বিষয় হামলাকারী সন্তানদের বক্তব্য নেওয়ার জন্য যোগাযোগ করা হলেও পলাতক থাকায় তাদেরকে পাওয়ার যায়নি।

সোমবার সকালে ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল-নগরকান্দা) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, হামলার খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। আহত ওই নারী বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তবে তার পরিবারকে থানায় একটি এজাহার দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

ফরিদপুরে চিকিৎসা খাতে নতুন দিগন্ত: হ্যাপি হসপিটালে সফল টোটাল হিপ রিপ্লেসমেন্ট সার্জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৩৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে চিকিৎসা খাতে নতুন দিগন্ত: হ্যাপি হসপিটালে সফল টোটাল হিপ রিপ্লেসমেন্ট সার্জারি

ফরিদপুরে আধুনিক চিকিৎসাসেবার অগ্রযাত্রায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্থাপিত হলো। শহরের হ্যাপি হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে টোটাল হিপ রিপ্লেসমেন্ট (THR) সার্জারি, যা জেলার স্বাস্থ্যসেবায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

রবিবার (১২ এপ্রিল) দিবাগত রাতে প্রখ্যাত অর্থোপেডিক্স ও আর্থ্রোস্কোপিক সার্জন ডা. মুহাম্মদ এ হাসানের নেতৃত্বে দক্ষ মেডিকেল টিমের মাধ্যমে জটিল এই অপারেশনটি সম্পন্ন হয়। রোগীর দীর্ঘদিনের হিপ জয়েন্টের সমস্যার সমাধানে এই সার্জারিটি অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, টোটাল হিপ রিপ্লেসমেন্ট একটি উচ্চমাত্রার জটিল ও প্রযুক্তিনির্ভর অপারেশন, যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত হিপ জয়েন্ট অপসারণ করে কৃত্রিম জয়েন্ট প্রতিস্থাপন করা হয়। এ ধরনের সার্জারির জন্য উন্নত সরঞ্জাম, অভিজ্ঞ সার্জন এবং দক্ষ টিমওয়ার্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—যা হ্যাপি হসপিটাল সফলভাবে নিশ্চিত করতে পেরেছে।

এর আগে ডা. মুহাম্মদ এ হাসান ফরিদপুরে প্রথমবারের মতো ‘নী আর্থ্রোস্কোপি’ (Knee Arthroscopy) সার্জারি চালু করে আধুনিক অর্থোপেডিক চিকিৎসায় নতুন যুগের সূচনা করেছিলেন। সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং রোগীবান্ধব চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে তিনি ইতোমধ্যেই আস্থা অর্জন করেছেন রোগীদের মধ্যে। এবার টোটাল হিপ রিপ্লেসমেন্ট সার্জারির সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে তিনি তার দক্ষতা ও অগ্রসর চিন্তাধারার আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন।

হ্যাপি হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্তৃপক্ষের পক্ষে ড. সৈয়দ হাসানুল কবীর মিশু এ সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “এটি শুধু আমাদের হাসপাতালের জন্য নয়, বরং সমগ্র ফরিদপুরবাসীর জন্য একটি গর্বের বিষয়। এখন উন্নত চিকিৎসার জন্য আর রাজধানী ঢাকা বা বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। এখানেই রোগীরা বিশ্বমানের সেবা পাচ্ছেন।”

তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতেও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসা সেবা সম্প্রসারণে হ্যাপি হসপিটাল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও আধুনিক যন্ত্রপাতির সমন্বয়ে তারা ফরিদপুরসহ আশেপাশের জেলার রোগীদের জন্য নির্ভরযোগ্য চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।

এই সফল অপারেশন ফরিদপুরে উন্নত চিকিৎসাসেবার প্রসারে নতুন আশার সঞ্চার করেছে এবং স্থানীয়ভাবে জটিল অস্ত্রোপচারের সুযোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও অনেকাংশে কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ফরিদপুরে যাত্রীবাহী বাস-পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে বাস উল্টে খাদে: নিহত-২, আহত-৩০

ভাঙ্গা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৪২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে যাত্রীবাহী বাস-পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে বাস উল্টে খাদে: নিহত-২, আহত-৩০

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস ও বাঙ্গি বোঝাই একটি পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে বাস খাদে পড়ে উল্টে গিয়ে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ৩০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে ফরিদপুর-ভাঙ্গা-বরিশাল মহাসড়কের বাবলাতলা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষের পরপরই যাত্রীবাহী বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক থেকে ছিটকে প্রায় ৩০ ফুট গভীর খাদে পড়ে উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই এক যাত্রীর মৃত্যু হয় এবং গুরুতর আহত আরও একজনকে ঢাকায় নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়।

নিহতরা হলেন—ভাঙ্গা পৌরসভার কৈডুবী সদরদী গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর মোল্লা (৪০), পিতা সেকেন মোল্লা এবং একই এলাকার আলমগীর শেখ (৪২), পিতা নেছার উদ্দিন শেখ।

দুর্ঘটনার পরপরই ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। তারা বাসের ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান। গুরুতর আহত প্রায় ১৫ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত যাত্রীরা জানান, তারা ফরিদপুর থেকে বরিশালের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। বাবলাতলা এলাকায় পৌঁছানোর পর হঠাৎ বিকট শব্দে বাসটি কেঁপে উঠে এবং মুহূর্তেই খাদে পড়ে যায়। অনেকেই বাসের ভেতর অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে জ্ঞান ফিরলে নিজেকে হাসপাতালে দেখতে পান।

আহত এক দম্পতি জানান, দুর্ঘটনায় তারা মাথা ও পায়ে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। এছাড়া দুর্ঘটনার সময় অনেক যাত্রীর নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন হারিয়ে গেছে, যা তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ মামুন মিয়া জানান, ফরিদপুর থেকে ছেড়ে আসা শাহ ফরিদ পরিবহনের একটি বাস বাবলাতলা ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা বাঙ্গি বোঝাই পিকআপের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়।

তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে আহতদের হাসপাতালে পাঠায় এবং পিকআপটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ম্যানেজার আবু জাফর জানান, খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অন্তত ২৫ জন আহত যাত্রীকে উদ্ধার করেন। উদ্ধার কার্যক্রম কিছু সময় ধরে চলতে থাকে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।