খুঁজুন
সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ২৮ বৈশাখ, ১৪৩৩

ফরিদপুরে গণিতের দুই শিক্ষার্থীর স্বর্ণপদক জয়

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:৪২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে গণিতের দুই শিক্ষার্থীর স্বর্ণপদক জয়

ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী সরকারি রাজেন্দ্র কলেজে গণিতে সর্বোৎকৃষ্ট ফল অর্জনকারী কৃতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৩তম এ. এফ. মুজিবুর রহমান স্বর্ণপদক, সনদপত্র ও নগদ অর্থ পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১ টার দিকে কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে গণিত বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মুহাম্মাদ ফয়জুল হকের সভাপতিত্বে এ পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এস. এম. আব্দুল হালিম। তিনি কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে স্বর্ণপদক তুলে দেন এবং তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে আরও সাফল্য কামনা করেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এ. এফ. মুজিবুর রহমান ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি মিসেস লোনা টি. রহমান, কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল প্রফেসর মো. ওবায়দুর রহমান এবং টিচার্স কাউন্সিলের সেক্রেটারি মো. শাহিনুর ইসলাম। অতিথিরা বিজয়ীদের মাঝে সনদপত্র ও নগদ অর্থ পুরস্কার বিতরণ করেন।

এ বছর বিএসসি (অনার্স) গণিতে সর্বোচ্চ ফল অর্জনের জন্য রোজিনা সুলতানা (সেশন–২০২৩) ১ ভরি ওজনের স্বর্ণপদক ও নগদ ১০ হাজার টাকা পুরস্কার লাভ করেন। একইভাবে এমএসসি পর্যায়ে সর্বোচ্চ ফল অর্জনকারী রিয়াজ শেখ (সেশন–২০২২) ১ ভরি ওজনের স্বর্ণপদক ও নগদ ১৫ হাজার টাকা পুরস্কার পান।

অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনের সমন্বয়ক মাহফুজুল আলম জানান, ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েটসহ দেশের ১০টিরও বেশি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিবছর গণিতে কৃতিত্বপূর্ণ ফল অর্জনকারীদের এ স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়। এছাড়া ২০১৩ সাল থেকে বাংলাদেশ গণিত সোসাইটির জাতীয় স্নাতক-পর্যায়ের গণিত অলিম্পিয়াডের পূর্ণ পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছে ফাউন্ডেশনটি।

উল্লেখ্য, ফরিদপুর সদরের গেরদা গ্রামে ১৮৯৭ সালে জন্মগ্রহণকারী এ. এফ. মুজিবুর রহমান ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের প্রথম বাঙালি মুসলমান আইসিএস কর্মকর্তা। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে ১৯২৩ সালে তিনি ব্রিটিশ-ভারতীয় সিভিল সার্ভিসে যোগদান করেন এবং ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে তাঁর পুত্র রেজাউর রহমান ১৯৮৫ সালে এ. এফ. মুজিবুর রহমান ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন।

ফলের মধ্যে খেজুরের স্থান এত উপরে কেন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ৭:৫৪ পূর্বাহ্ণ
ফলের মধ্যে খেজুরের স্থান এত উপরে কেন?

খেজুর এখন সারা বিশ্বেই জনপ্রিয়। খেজুরের আছে নানা জাত। প্রখ্যাত দার্শনিক প্লিনি দ্য এলডার খেজুরের প্রায় ৪৯টি জাতের কথা বলে গেছেন। পবিত্র কুরআন এবং হাদীসে খেজুরকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে কেবল সাধারণ দৃষ্টিভঙ্গিতেই নয়, আধুনিক পুষ্টিতত্ত্বেও খাদ্যমান অনুযায়ী বিভিন্ন ফলের মধ্যে খেজুরের স্থান সবচেয়ে উপরে।

ইসলামে খেজুর আল্লাহ প্রদত্ত অলৌকিক ফল। শরীর ও আত্মার সুস্থতায় ভূমিকা রাখে খেজুর। খেজুরবিহীন বাড়িকে দরিদ্র বাড়ি বলে অভিহিত করেছেন রাসুল (সা.)। কোরআনেও খেজুরের কথা বারবার উদ্ধৃত হয়েছে সৃষ্টিকর্তার অনুগ্রহ ও প্রাচুর্যের উদাহরণ হয়ে। বিশ্বাসীদের জন্য জান্নাতে খেজুর গাছ থাকবে। নবি মুহাম্মদ (সা.)-এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে খেজুরের স্মৃতি।

একবার এক খেজুর গাছ রাসুলের সামনে মাথা অবনত করে সম্মান জানায় বলে হাদিসে বর্ণিত রয়েছে। মদিনায় প্রতিষ্ঠিত ইসলামের প্রথম মসজিদ নির্মিত হয়েছিল খেজুর পাতায়। মুয়াজ্জিন বেলাল প্রায়ই খেজুর গাছ বেয়ে উঠে দিনে পাঁচবার আজান দিতেন। মুসলিম চিত্রকলায় খেজুর গাছ পাওয়া যায়। মুসলিম স্থাপত্যের অন্যতম বিশেষ উদাহরণ মিনার, যা প্রভাবিত খেজুর গাছ থেকে। বলা হয়, ‘খেজুর গাছের মতো হও, কেউ যখন ঢিল ছুড়বে, জবাব দেবে একটা মিষ্টি খেজুর ছুড়ে’।

আরব পরিচিতির স্মারক হিসেবে ভূমিকা পালন করেছে খেজুর গাছ। আরবরা যখন বাগদাদ থেকে স্পেনের আন্দালুসিয়ায় গেল, বিস্তার ঘটে খেজুরের। যা পরবর্তী ছড়িয়ে পড়েছে ইতালি ও ইউরোপের অন্যান্য অনুকূল আবহাওয়া অঞ্চলে। খেজুরের সমৃদ্ধ ইতিহাসের সঙ্গে খেজুরকেন্দ্রিক উৎসবের উদাহরণও কম নেই। দক্ষিণ লিবিয়া ও উত্তর শাদের সীমান্তবর্তী গ্রাম টিবেস্টিতে দেখা যায় খেজুরকেন্দ্রিক উৎসব। বর্তমানে খেজুর চাষ তাদের জীবনযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। উৎসবে খেজুর গাছকে কেন্দ্র করে নৃত্য ও খেজুরের মদ পান করা সাধারণ দৃশ্য।

মধ্যপ্রাচ্যে খেজুর সামাজিক উৎসবে প্রবেশ করেছে। বাহরাইনে বিয়ের অনুষ্ঠানে ফটক সাজানো হয় খেজুরের শাখা দিয়ে। খেজুর সেখানে আনন্দ ও আশীর্বাদের প্রতিনিধিত্ব করে। ওমানে এখনো ছেলেসন্তান জন্মের সঙ্গে সঙ্গে একটি খেজুর গাছ রোপণ করা হয় প্রাচীন ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে। উপসাগরীয় অঞ্চলে খেজুর চাষীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হয়। সবচেয়ে ভালো খেজুরচাষী লাভ করেন পুরস্কার। প্রতি বছর ফেব্রুয়ারিতে খোদ ক্যালিফোর্নিয়ায় উদযাপিত হয় খেজুর উৎসব।

মানবসভ্যতায় খেজুর চাষের ইতিহাস হাজার হাজার বছরের। খেজুর গাছের মধ্যে নারী ও পুরুষ রয়েছে। শুধু নারী গাছেই খেজুর জন্মায়। একটি প্রাপ্তবয়স্ক গাছ থেকে প্রতি বছর প্রায় ১০ হাজার খেজুর পাওয়া যায়। এই পরিমাণ খেজুরের ওজন ১০০ কেজিরও বেশি।

শুকনো বা তাজা উভয় অবস্থাতেই খেজুর গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন, খনিজ উপাদান ও হজমের জন্য সহায়ক আঁশ বা ফাইবারে পূর্ণ। এছাড়া বিভিন্ন রোগ ও অসুখ-বিসুখ থেকে মানবদেহকে রক্ষাকারী যে উপাদান সেই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টেরও একটি বড় উৎস এই খেজুর। পবিত্র মাহে রমজানে উচ্চমাত্রার প্রাকৃতিক চিনি বা ফ্রুকটোজ সমৃদ্ধ এই ফলটি উচ্চমাত্রার শক্তিবর্ধক হওয়ায় বেশ কাজে লাগে।

বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন স্বাদের, আকারের ও রঙের খেজুর পাওয়া যায়। তবে জনপ্রিয়তার বিচারে বৈশ্বিক বাজারে এগিয়ে আছে ৫টি জাতের খেজুর।

১. আজওয়া খেজুর : বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং পছন্দনীয় খেজুর আজওয়া। মদিনাসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে এই খেজুর উৎপাদন হয়। মাঝারি আকারের কালচে বাদামি রঙ্গের এই খেজুর বেশ নরম, গোশতল, রসালো ও খুবই মিষ্টি।

২. মেডজুল খেজুর : এই ধরনের খেজুরগুলো আকারে বড়, স্বাদে বেশ মিষ্টি এবং সুগন্ধী হয়। সাধারণত দু’ধরনের মেজদুল খেজুর পাওয়া যায় বাজারে কিং মেজদুল ও ব্ল্যাক মেজদুল।

৩. মাবরুম খেজুর : দৈর্ঘের তুলনায় কিছুটা বেশি প্রসারিত এই খেজুরের রং হয় লালচে বাদামী। মাবরুম খেজুর আঁশসমৃদ্ধ এবং অন্যান্য জাতের খেজুরের তুলনায় এর স্বাদ খানিকটা কম মিষ্টি।

৪. দেগলেত নূর খেজুর : মাঝারি আকারের বাদামি রঙ এই খেজুরের মিষ্টতা খানিকটা কম। তবে মিষ্টি খাবার রান্না ও কেক-রুটি তৈরির জন্য এই খেজুর আদর্শ।

৫. পিয়ারোম খেজুর : প্রায় কালো রঙের পিয়ারোম অন্যান্য খেজুরের তুলনায় খানিকটা শুকনো এবং অনন্য স্বাদের জন্য বিখ্যাত।

তবে বিশেষ খেজুরের মধ্যে আছে ইরাকের জাইদি। এটি বাগদাদের মূল অর্থনৈতিক ফসল বলা চলে। জাইদি দামে সস্তা এবং যেকোনো আবহাওয়ায় ভালো থাকে। চিনি বেশি থাকার কারণে বাগদাদের বিশেষ অ্যালকোহল ‘আরক’ তৈরিতে জাইদি ব্যবহার করা হয়।

মিসরে সবচেয়ে মূল্যবান খেজুর হায়ানি। হায়ান নামক গ্রামের নামে এর নামকরণ করা হয়েছে। হজযাত্রীরা এককালে এ গ্রামে থেমে বিশ্রাম করতেন। তিউনিসিয়ার মানখির খেজুর বেশ লম্বা আকারের। দেখতে নাকের মতো। খেতে অনেকটা দেগলেত নূর খেজুরের মতো। এ ছাড়া আলজেরিয়ার থুরিও, দক্ষিণ ইরানে মাজাফাতি নামের খেজুর ফলে।

আপস

বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর প্রায় ৯০ লাখ টন খেজুর উৎপাদন হয়। খেজুর উৎপাদনে শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে মিসর, সৌদি আরব, ইরান, আলজেরিয়া ও ইরাক উল্লেখযোগ্য। এর মধ্যে মিসর একাই বছরে প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ টন খেজুর উৎপাদন করে এবং বিশ্ব উৎপাদনের প্রায় ১৮ শতাংশ সরবরাহ করে, অর্থাৎ প্রতি পাঁচটি খেজুরের একটি মিসরে উৎপাদিত হয়। সৌদি আরব ও ইরান যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে শুধু পাকিস্তান এই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।

খেজুর রপ্তানির ক্ষেত্রেও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এগিয়ে। সৌদি আরব বিশ্বের সবচেয়ে বড় খেজুর রপ্তানিকারক দেশ, যা ২০২১ সালে প্রায় ৩২ কোটি ৯০ লাখ ডলারের খেজুর রপ্তানি করেছে। এর পরেই রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তিউনিসিয়া। অন্যদিকে ইসরায়েল খেজুর রপ্তানিতে সবচেয়ে দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, মাত্র এক বছরে তাদের রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

খেজুর আমদানির ক্ষেত্রে ভারত বিশ্বের শীর্ষ দেশ। ২০২১ সালে দেশটি প্রায় ২৩ কোটি ৬০ লাখ ডলারের খেজুর আমদানি করেছে। এর পরের অবস্থানে রয়েছে মরক্কো ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। বাংলাদেশও খেজুর আমদানিতে এগিয়ে যাচ্ছে। মূলত ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, আলজেরিয়া ও পাকিস্তান থেকে বেশি খেজুর আমদানি করে থাকে বাংলাদেশ।

বিশ্বে খেজুর উৎপাদন, রপ্তানি ও আমদানির বাজারে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোর আধিপত্য এখন সবচেয়ে বেশি, আর বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশগুলো এসব দেশের ওপর আমদানির জন্য নির্ভরশীল।

বারবার রাত ৩টায় ঘুম ভেঙে যাচ্ছে? জানুন সমাধানের উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ৭:৪৬ পূর্বাহ্ণ
বারবার রাত ৩টায় ঘুম ভেঙে যাচ্ছে? জানুন সমাধানের উপায়

রাতের গভীর ঘুম হঠাৎ ভেঙে গেলে অনেকেই ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখেন সময়টা রাত ৩টা বা তার কাছাকাছি। এরপর আর সহজে ঘুম আসে না। এপাশ-ওপাশ করতে করতে সকাল হয়ে যায়। পরদিন সারাদিন ক্লান্তি, বিরক্তি আর ঝিমুনিতে কাটে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাঝরাতে বিশেষ করে ভোর ৩টার দিকে ঘুম ভেঙে যাওয়া সবসময় অস্বাভাবিক নয়। তবে এটি যদি নিয়মিত ঘটতে থাকে, তাহলে শরীর ও মনের কিছু সংকেতের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।

ঘুমের স্বাভাবিক চক্রের কারণেও হতে পারে

মানুষের ঘুম সাধারণত ৯০ থেকে ১০০ মিনিটের কয়েকটি চক্রে বিভক্ত। প্রতিটি চক্র শেষে ঘুম কিছুটা হালকা হয়। রাতের দ্বিতীয় ভাগে ঘুম আরও হালকা হয়ে যাওয়ায় তখন জেগে ওঠার সম্ভাবনা বেশি থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেকেই রাতে আরও আগেও জেগে ওঠেন, কিন্তু তখন গভীর ঘুম থাকায় তা মনে থাকে না। ভোরের দিকে ঘুম হালকা থাকায় মানুষ সেই জেগে ওঠার বিষয়টি বেশি টের পান।

স্ট্রেস ও দুশ্চিন্তা বড় কারণ

অতিরিক্ত মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তা মাঝরাতের ঘুম নষ্ট করতে পারে। কাজের চাপ, সম্পর্কের টানাপোড়েন, ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা কিংবা স্বাস্থ্যগত ভয়; এসব কারণে মস্তিষ্ক রাতে পুরোপুরি বিশ্রামে যেতে পারে না। ফলে রাতের হালকা ঘুমের সময়, বিশেষ করে ভোর ৩টার দিকে ঘুম ভেঙে যায়। অনেকের ক্ষেত্রে তখন মাথায় নানা চিন্তা ঘুরতে থাকে এবং পুনরায় ঘুমাতে কষ্ট হয়।

কর্টিসল হরমোনের প্রভাব

শরীরের ‘স্ট্রেস হরমোন’ হিসেবে পরিচিত কর্টিসল ভোরের দিকে স্বাভাবিকভাবেই বাড়তে শুরু করে, যাতে মানুষ ঘুম থেকে জাগতে পারে। কিন্তু যাদের মানসিক চাপ বেশি বা স্নায়বিক অস্থিরতা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই হরমোন আগেভাগেই বেড়ে যেতে পারে। ফলাফল—রাত ৩টা বা তার কাছাকাছি সময়ে হঠাৎ ঘুম ভেঙে যাওয়া।

খাবারের অভ্যাসও দায়ী হতে পারে

রাতে ভারী খাবার খাওয়া, অতিরিক্ত পানি পান, চা-কফি কিংবা অ্যালকোহল জাতীয় পানীয় গ্রহণ ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাতের খাবার খুব তাড়াতাড়ি খেলে বা দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলেও রক্তে শর্করার মাত্রা কমে গিয়ে মাঝরাতে ঘুম ভাঙতে পারে।

কিছু শারীরিক সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে।

বারবার রাতে ঘুম ভাঙার পেছনে কিছু স্বাস্থ্যগত কারণও থাকতে পারে। যেমন—

শ্বাসকষ্ট বা স্লিপ অ্যাপনিয়া

দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা

হৃদরোগজনিত সমস্যা

স্নায়বিক জটিলতা

মেনোপজ বা হরমোনজনিত পরিবর্তন

বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে মেনোপজের সময় হট ফ্ল্যাশ ও রাতের ঘাম ঘুম ভাঙার কারণ হতে পারে।

ঘুম ভাঙলে কী করবেন?

ভোররাতে ঘুম ভেঙে গেলে অনেকেই মোবাইল হাতে নিয়ে স্ক্রলিং শুরু করেন। কিন্তু এতে ঘুম আরও দূরে সরে যায়।

বরং বিশেষজ্ঞরা কিছু সহজ কৌশল অনুসরণের পরামর্শ দেন—

গভীর শ্বাস নিন

শরীরকে বিছানায় শিথিলভাবে ছেড়ে দিন

চোখ বন্ধ করে শান্ত কোনো দৃশ্য কল্পনা করুন

শরীরের বিভিন্ন অংশ ধীরে ধীরে শিথিল করার চেষ্টা করুন

সময় দেখার জন্য বারবার ঘড়ির দিকে তাকাবেন না

যদি ১৫-২০ মিনিটেও ঘুম না আসে, তাহলে কিছু সময়ের জন্য বিছানা ছেড়ে শান্ত পরিবেশে বই পড়া বা হালকা রিল্যাক্সেশন করতে পারেন।

ভালো ঘুমের জন্য যেসব অভ্যাস জরুরি

প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ওঠা

শোবার ঘর ঠান্ডা, অন্ধকার ও শান্ত রাখা

রাতে ক্যাফেইন ও ভারী খাবার এড়িয়ে চলা

দিনের বেলা স্ট্রেস কমাতে মেডিটেশন বা ব্যায়াম করা

ঘুমানোর আগে মোবাইল ও স্ক্রিন টাইম কমানো

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

যদি দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত ভোররাতে ঘুম ভেঙে যায়, দিনের কাজে ক্লান্তি দেখা দেয় বা মানসিক অস্থিরতা বাড়তে থাকে, তাহলে চিকিৎসক বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ অনেক সময় ঘুমের এই সমস্যাই শরীর বা মনের গভীর কোনো সমস্যার প্রাথমিক সংকেত হতে পারে।

তথ্যসূত্রভেরি ওয়েল মাইন্ড

ক্যানসারকে দূরে রাখতে চান? এই সহজ ৫ টিপস মানুন আজ থেকেই

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ৭:৩৭ পূর্বাহ্ণ
ক্যানসারকে দূরে রাখতে চান? এই সহজ ৫ টিপস মানুন আজ থেকেই

ক্যানসার— শব্দটি শুনলেই অনেকের মনে ভয় কাজ করে। সাম্প্রতিক সময়ে রোগটি যেভাবে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, তাতে উদ্বেগ বাড়াই স্বাভাবিক। তবে সুখবর হলো, ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

কারণ গবেষণা বলছে, আমাদের জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস এবং দৈনন্দিন অভ্যাসই এই রোগের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এগুলোতে পরিবর্তন আনতে পারলে ক্যানসারের সম্ভাবনাও কমে যায়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস বিখ্যাত চিকিৎসক ড. এরিক বার্গের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ প্রকাশ করেছে, যা নিয়মিত মেনে চললে ক্যানসারের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

পরামর্শগুলো দেখার আগে চলুন জেনে নিই, ক্যানসার আসলে হয় কীভাবে?

এ বিষয়ে ড. এরিক বলেন, ক্যানসার বুঝতে হলে প্রথমে জানতে হবে কীভাবে এটি তৈরি হয়। আমাদের শরীরের কোষে থাকা মাইটোকন্ড্রিয়া যখন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন কোষের স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। এই নিয়ন্ত্রণহীন কোষগুলো অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে— এটাই ক্যানসার। তাই ক্যানসার প্রতিরোধের জন্য মাইটোকন্ড্রিয়াকে সুস্থ রাখা সবচেয়ে জরুরি।

কী করলে ক্যানসার দূরে থাকবে?

১) পরিশোধিত খাবার বাদ দিন

ড. এরিকের মতে, ক্যানসার প্রতিরোধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো খাদ্যতালিকা থেকে পরিশোধিত খাবার বাদ দেওয়া। যেমন-পরিশোধিত চিনি, পরিশোধিত তেল, স্টার্চযুক্ত খাবার ইত্যাদি। এসব খাবার শরীরে প্রদাহ বাড়ায় এবং কোষের ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।

২) নিয়মিত রোদ পোহান

ডাক্তাররা পরামর্শ দেন, যত বেশি সম্ভব রোদ পোহানো উচিত। কারণ, আপনার শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি থাকলে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হবে, ফলে ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে। শীতকালে যদি রোদ না পাওয়া যায়, তবে ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট নিতে পারেন। মনে রাখবেন, ক্যানসার প্রতিরোধের জন্য এটি একটি অত্যন্ত জরুরি ভিটামিন।

৩) উপবাস বা ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং

আপনার রুটিনে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং অন্তর্ভুক্ত করা উচিত, যেখানে আপনি আপনার শরীরকে দীর্ঘ সময় ধরে উপবাসের অবস্থায় রাখেন। এ ছাড়া আপনি দীর্ঘমেয়াদী উপবাসও করতে পারেন। উপবাস মাইটোকন্ড্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে রক্ষা করে। এ ক্ষেত্রে ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী সিয়াম পালন একটি শ্রেষ্ঠ উপায়।

৪) নিয়মিত ব্যায়াম করুন

নিয়মিত ব্যায়াম করলে আপনার মাইটোকন্ড্রিয়া সুস্থ থাকে। শুধু তাই নয়, ব্যায়াম ক্ষতিগ্রস্ত মাইটোকন্ড্রিয়াকেও শরীর থেকে বের করে দিতে সাহায্য করে।

৫) মানসিক চাপ থেকে দূরে থাকুন

ড. এরিক বলেন, যতটা সম্ভব মানসিক চাপ থেকে দূরে থাকুন। এর জন্য আপনি দীর্ঘক্ষণ হাঁটতে যেতে পারেন, পর্যাপ্ত ঘুমোতে পারেন। এ ছাড়াও আপনার আশেপাশে যারা বিষাক্ত মানুষ আছেন, তাদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে পারেন।

তথ্যসূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস