খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে রাজু শেখ হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, ৮ আসামি গ্রেপ্তার; উদ্ধার ৫টি দেশীয় অস্ত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ৩:১২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে রাজু শেখ হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, ৮ আসামি গ্রেপ্তার; উদ্ধার ৫টি দেশীয় অস্ত্র

ফরিদপুর শহরের বহুল আলোচিত রাজু শেখ হত্যা মামলার মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এজাহারনামীয় ও তদন্তে প্রাপ্ত মোট ৮ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পাঁচটি দেশীয় অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ২ মার্চ রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফরিদপুর শহরের গুহলক্ষীপুর এলাকার স্টেশন মাছ বাজারের পশ্চিম পাশে মুরাদের মাংসের দোকানের সামনে রাজু শেখ (৩৬) নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে দুর্বৃত্তরা। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেদিন রাত ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের মা ছবি খাতুন (৫৫) বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়।

পুলিশ জানায়, নিহত রাজু শেখ মূলত মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি স্টেশন বস্তি এলাকার কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মাদক সংগ্রহ করে খুচরা বিক্রি করতেন। এ নিয়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। পরিবার তাকে বারবার নিষেধ করলেও তিনি মাদক ব্যবসা চালিয়ে যান। এ কারণে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার প্রায়ই বিরোধ সৃষ্টি হতো।

তদন্তে আরও জানা যায়, প্রায় ৮-৯ মাস আগে পারিবারিক বিরোধের জেরে তার ছোট ভাই মো. ইব্রাহীম শেখ রাজুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়েছিল। এরপর থেকে দুই ভাইয়ের মধ্যে শত্রুতা চলছিল। ঘটনার তিন দিন আগে রাজু আবার ইব্রাহীমকে হত্যার উদ্দেশ্যে কোপ দেয় এবং গলায় ছুরি চালানোর চেষ্টা করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ইব্রাহীম তার ভাইকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

এ পরিকল্পনায় অংশ নেয় হৃদয়, সাকিব, রবিউল, মারুফ ও স্বপ্নসহ আরও কয়েকজন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন তারা স্টেশন মাছ বাজার এলাকায় গিয়ে রাজুকে ডেকে আনে এবং ইয়াবা চাওয়ার কথা বলে কথাকাটাকাটির সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে হৃদয় রাজুকে পেছন থেকে ধরে ফেলে। তখন ওৎ পেতে থাকা অন্যরা চাপাতি ও ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। রাজু নিস্তেজ হয়ে পড়লে তাকে মৃত ভেবে ঘটনাস্থলেই ফেলে রেখে সবাই পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

পুলিশের অভিযানে এজাহারভুক্ত অমিত রায়, নুর ইসলাম, মেহেরুন নেছা ও হৃদয়সহ মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে পাবনার সাথিয়া থানা এলাকা থেকে এবং একজনকে স্টেশন বস্তি এলাকা থেকে আটক করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের নিয়ে সোমবার (১৬ মার্চ) ভোরে কোতয়ালী থানার ১ নম্বর হাবেলী গোপালপুর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় বায়তুল মামুর জামে মসজিদের পাশে রেললাইনের উত্তর পাশে গাছের পাতার নিচে লুকিয়ে রাখা হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চারটি চাপাতি ও একটি স্টিলের ছোরা উদ্ধার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “রাজু শেখ হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাহিমা ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামছুল আজম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সালথায় জলাশয়ের পানিতে ডুবে প্রাণ গেল দেড় বছরের শিশুর

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২০ অপরাহ্ণ
সালথায় জলাশয়ের পানিতে ডুবে প্রাণ গেল দেড় বছরের শিশুর

ফরিদপুরের সালথায় বাড়ির পাশের জলাশয়ের পানিতে ডুবে নাদিয়া নামে দেড় বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের মধ্যবালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নাদিয়া মধ্যবালিয়া গ্রামের মো. মিন্টু বেপারী ও মোসা. সাজেদা বেগমের মেয়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক মিয়া জানান, সকালে নাদিয়ার মা বাড়ির উঠানে মেয়েকে রেখে পাশে বাঁশের কঞ্চি কাটছিলেন। একপর্যায়ে নাদিয়া সেখান থেকে সরে গিয়ে বাড়ির পাশের একটি নিচু জলাশয়ের পানিতে পড়ে যায়।

পরে স্থানীয়রা শিশুটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

ঘটনার পর শিশুটির পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

মিথ্যা মামলা দায়ের: ফরিদপুরে স্বামী-স্ত্রীর ৩ বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৬ অপরাহ্ণ
মিথ্যা মামলা দায়ের: ফরিদপুরে স্বামী-স্ত্রীর ৩ বছরের কারাদণ্ড

মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা দায়ের করে আদালতের সময় নষ্ট এবং বিবাদীকে হয়রানির অভিযোগে ফরিদপুরে এক নারী ও তার স্বামীকে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আসামিদের কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

​বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এই রায় ঘোষণা করেন।

​দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন—মামলার বাদী রিনা আক্তার এবং তার স্বামী ১ নম্বর সাক্ষী মাসুদ বেপারী। তারা সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী.

​আদালত সূত্রে জানা যায়, অদ্য ০৭/১০/২০২৬ তারিখে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে উল্লেখিত মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে বাদী রিনা আক্তার এবং তার স্বামী মাসুদ বেপারী বিজ্ঞ আদালতে জবানবন্দি ও সাক্ষ্য প্রদান করেন। পরবর্তীতে বিবাদী/আসামিপক্ষের আইনজীবী সাক্ষীদের বিশদ জেরা করেন।

​জেরার একপর্যায়ে বাদী রিনা আক্তার ও ১ নম্বর সাক্ষী মাসুদ বেপারীর প্রদত্ত জবাবে পরস্পরবিরোধী ও অসত্য তথ্যের প্রমাণ মেলে। তাদের জবানবন্দি ও জেরার জবাব বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞ বিচারক শামীমা পারভীন নিশ্চিত হন যে, ব্যক্তিগত আক্রোশ ও বিবাদীকে সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল।

​আদালত সূত্র আরও নিশ্চিত করে, সাক্ষ্যের ভিত্তিতে মামলাটি যে সম্পূর্ণ বানোয়াট তা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ বিচারক ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিবাদীকে অন্যায্য হয়রানি এবং আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট করার অপরাধে বিচারক শামীমা পারভীন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট বিধানে বাদী রিনা আক্তার ও তার স্বামী মাসুদ বেপারীকে ৩ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

​রায় ঘোষণার পরপরই আদালত কক্ষে অবস্থানরত দুই আসামিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয় এবং সাজা পরোয়ানা মূলে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন জানান,মিথ্যা মামলা প্রতিরোধে আদালতের এই কঠোর অবস্থান সমাজে একটি ইতিবাচক বার্তা দেবে।

ফরিদপুরে পাঁচ বছর পর কিশোর ওমর হত্যার রহস্য উন্মোচন, গ্রেপ্তার ১

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে পাঁচ বছর পর কিশোর ওমর হত্যার রহস্য উন্মোচন, গ্রেপ্তার ১

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে কিশোর ওমর আলী হত্যার পাঁচ বছর পর রহস্য উন্মোচন করেছে ফরিদপুরের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে নজরুল ইসলাম (৩৫) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

​বুধবার (০৭ অক্টোবর) সকাল ১১টায় পিবিআই ফরিদপুর জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার (এসপি) মো. রবিউল ইসলাম।

​গ্রেফতার নজরুল ইসলাম রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার জঙ্গল ইউনিয়নের ঢোলজানী গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে।

​পিবিআই জানায়, ২০২১ সালের ৪ জানুয়ারি ঢোলজানী গ্রামের একটি ঘাসক্ষেত থেকে ওমর আলীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজের তিন দিন পর মরদেহ উদ্ধারের পরদিন নিহতের বাবা আহেদ শেখ বাদী হয়ে বালিয়াকান্দি থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরবর্তীতে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই।

​দীর্ঘ তদন্ত ও সুরতহাল প্রতিবেদনে পাওয়া আলামত বিশ্লেষণ করে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকার আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকা থেকে অভিযুক্ত নজরুলকে গ্রেফতার করে পিবিআই। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে তিনি বিভিন্ন এলাকায় ছদ্মবেশে আত্মগোপনে ছিলেন।

​সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম জানান, জিজ্ঞাসাবাদে নজরুল স্বীকার করেছেন, দুই আসামির স্ত্রীর সঙ্গে ওমরের পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে—এমন ক্ষোভ থেকেই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এ কাজের জন্য ৫০ হাজার টাকার চুক্তিও করা হয়।

​তিনি আরও জানান, ঘটনার রাতে বাড়ি ফেরার পথে ওমরকে তুলে নিয়ে একটি ঘরে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন চালানো হয় এবং ধারালো চাকু দিয়ে জখম করা হয়। পরদিন স্বজনরা ওমরের খোঁজে নামলে আসামিরা আতঙ্কিত হয়ে ওই রাতেই তাকে হত্যা করে মরদেহ পাশের একটি ঘাসক্ষেতে ফেলে রেখে যায়।

​এ হত্যাকাণ্ডে মোট পাঁচজন জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে নজরুল আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই। ঘটনায় জড়িত বাকিদের গ্রেফতার ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

​সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।