খুঁজুন
সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ২১ বৈশাখ, ১৪৩৩

ফরিদপুরে রাজু শেখ হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, ৮ আসামি গ্রেপ্তার; উদ্ধার ৫টি দেশীয় অস্ত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ৩:১২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে রাজু শেখ হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, ৮ আসামি গ্রেপ্তার; উদ্ধার ৫টি দেশীয় অস্ত্র

ফরিদপুর শহরের বহুল আলোচিত রাজু শেখ হত্যা মামলার মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এজাহারনামীয় ও তদন্তে প্রাপ্ত মোট ৮ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পাঁচটি দেশীয় অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ২ মার্চ রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফরিদপুর শহরের গুহলক্ষীপুর এলাকার স্টেশন মাছ বাজারের পশ্চিম পাশে মুরাদের মাংসের দোকানের সামনে রাজু শেখ (৩৬) নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে দুর্বৃত্তরা। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেদিন রাত ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের মা ছবি খাতুন (৫৫) বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়।

পুলিশ জানায়, নিহত রাজু শেখ মূলত মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি স্টেশন বস্তি এলাকার কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মাদক সংগ্রহ করে খুচরা বিক্রি করতেন। এ নিয়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। পরিবার তাকে বারবার নিষেধ করলেও তিনি মাদক ব্যবসা চালিয়ে যান। এ কারণে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার প্রায়ই বিরোধ সৃষ্টি হতো।

তদন্তে আরও জানা যায়, প্রায় ৮-৯ মাস আগে পারিবারিক বিরোধের জেরে তার ছোট ভাই মো. ইব্রাহীম শেখ রাজুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়েছিল। এরপর থেকে দুই ভাইয়ের মধ্যে শত্রুতা চলছিল। ঘটনার তিন দিন আগে রাজু আবার ইব্রাহীমকে হত্যার উদ্দেশ্যে কোপ দেয় এবং গলায় ছুরি চালানোর চেষ্টা করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ইব্রাহীম তার ভাইকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

এ পরিকল্পনায় অংশ নেয় হৃদয়, সাকিব, রবিউল, মারুফ ও স্বপ্নসহ আরও কয়েকজন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন তারা স্টেশন মাছ বাজার এলাকায় গিয়ে রাজুকে ডেকে আনে এবং ইয়াবা চাওয়ার কথা বলে কথাকাটাকাটির সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে হৃদয় রাজুকে পেছন থেকে ধরে ফেলে। তখন ওৎ পেতে থাকা অন্যরা চাপাতি ও ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। রাজু নিস্তেজ হয়ে পড়লে তাকে মৃত ভেবে ঘটনাস্থলেই ফেলে রেখে সবাই পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

পুলিশের অভিযানে এজাহারভুক্ত অমিত রায়, নুর ইসলাম, মেহেরুন নেছা ও হৃদয়সহ মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে পাবনার সাথিয়া থানা এলাকা থেকে এবং একজনকে স্টেশন বস্তি এলাকা থেকে আটক করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের নিয়ে সোমবার (১৬ মার্চ) ভোরে কোতয়ালী থানার ১ নম্বর হাবেলী গোপালপুর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় বায়তুল মামুর জামে মসজিদের পাশে রেললাইনের উত্তর পাশে গাছের পাতার নিচে লুকিয়ে রাখা হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চারটি চাপাতি ও একটি স্টিলের ছোরা উদ্ধার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “রাজু শেখ হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাহিমা ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামছুল আজম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অবিবাহিতদের ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ৮:১২ পূর্বাহ্ণ
অবিবাহিতদের ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি

বিয়ে কেবল একটি সামাজিক বন্ধন বা ধর্মীয় রীতিই নয়, এটি সরাসরি জড়িয়ে আছে মানুষের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের সঙ্গে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিশাল গবেষণায় উঠে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা কখনও বিয়ে করেননি কিংবা একাকী জীবনযাপন করছেন, তাদের মধ্যে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বিবাহিতদের তুলনায় আশঙ্কাজনক হারে বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি অঙ্গরাজ্যের ৪০ লক্ষেরও বেশি মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই ফল পাওয়া গেছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রায় সব ধরনের প্রধান ক্যানসারের ক্ষেত্রেই অবিবাহিতদের ঝুঁকি বেশি দেখা গেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অবিবাহিত পুরুষদের ক্যানসারের ঝুঁকি বিবাহিতদের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি। নারীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি, প্রায় ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত। বিশেষ করে ধূমপান বা সংক্রমণজনিত ক্যানসারের ক্ষেত্রে এই পার্থক্য আরও স্পষ্ট বলে জানানো হয়েছে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, অবিবাহিত পুরুষদের মধ্যে মলদ্বারের ক্যানসারের হার বিবাহিতদের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। অন্যদিকে অবিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে জরায়ুমুখের ক্যানসারের হার প্রায় তিন গুণ বেশি।

গবেষকদের মতে, বিয়ে অনেক সময় মানুষের জীবনযাপনকে প্রভাবিত করে। খাদ্যাভ্যাস, স্বাস্থ্যসচেতনতা এবং নিয়মিত চিকিৎসা পরীক্ষার মতো বিষয়গুলো এতে যুক্ত থাকে। ফলে এটি পরোক্ষভাবে স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এর মানে এই নয় যে বিয়ে করলেই ক্যানসার থেকে সুরক্ষা পাওয়া যাবে। বরং এটি একটি সামাজিক ও আচরণগত ইঙ্গিত মাত্র। যারা অবিবাহিত, তাদের উচিত স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে আরও সতর্ক থাকা। নিয়মিত পরীক্ষা করানো এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখা।

সূত্র : সামা টিভি।

 

ইতালির স্বপ্ন দেখিয়ে লিবিয়ায় দুঃস্বপ্ন, ভাঙ্গার যুবকের ২৪ লাখ টাকা লুট

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ৭:৫৪ পূর্বাহ্ণ
ইতালির স্বপ্ন দেখিয়ে লিবিয়ায় দুঃস্বপ্ন, ভাঙ্গার যুবকের ২৪ লাখ টাকা লুট

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে এক যুবককে লিবিয়ায় পাচার করে নির্যাতন চালিয়ে বিপুল অঙ্কের টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একটি মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

অভিযোগে জানা যায়, ভাঙ্গা উপজেলার চান্দ্রা ইউনিয়নের দীঘলকান্দা গ্রামের বাসিন্দা লুৎফর মাতুব্বরের ছেলে সবুজ মাতুব্বরকে বৈধভাবে ইতালি পাঠানোর আশ্বাস দেন একই গ্রামের তাহিদ মাতুব্বর। পরে তাহিদের নেতৃত্বে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে সবুজকে লিবিয়ায় নিয়ে যায়।

অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন চক্রের মূলহোতা তাহিদ মাতুব্বর (৩৫), তার মা কহিনুর বেগম, ভাই সহিদ মাতুব্বর ও বোন লিটা বেগমসহ আরও কয়েকজন। তারা সবাই একই এলাকার বাসিন্দা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, ইতালি পাঠানোর কথা বলে প্রথমে ১৯ লাখ টাকা নেয় চক্রটি। এরপর গত ২০২৫ সালের ২ জুলাই সবুজকে লিবিয়ায় পাঠানো হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর তাকে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনের ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে আরও ৫ লাখ টাকা আদায় করা হয়।

পরিবারের অভিযোগ, প্রায় পাঁচ মাস ধরে লিবিয়ায় অবৈধভাবে আটকে রেখে নির্যাতনের পর গত ৫ ডিসেম্বর সবুজকে স্থানীয় পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে ৩৮ দিন কারাভোগের পর তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।

সবুজের বাবা লুৎফর মাতুব্বর বলেন, “লিবিয়ায় অবস্থানরত তাহিদের নির্দেশে তার পরিবারের সদস্যরা দেশে বসেই পুরো অর্থ লেনদেন ও বিদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করত। আমরা ধার-দেনা করে মোট ২৪ লাখ টাকা দিয়েছি। এখন আমরা নিঃস্ব হয়ে পড়েছি।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, টাকা নেওয়ার পরও চক্রটি পুনরায় ইতালি পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে সময়ক্ষেপণ করে এবং পরে আরও ২০ লাখ টাকা দাবি করে।

লুৎফর মাতুব্বর বলেন, “আমার মতো আরও অনেক পরিবার এই চক্রের প্রতারণার শিকার। কেউ কেউ লিবিয়া হয়ে ইতালি যাওয়ার পথে সাগরে নিখোঁজ হয়েছেন বলেও শুনেছি। আমি আমার টাকার ফেরত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) আল আমিন জানান, বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণার একটি অভিযোগ তারা পেয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সদরপুরে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি, ৩ ফার্মেসিকে জরিমানা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ৭:৩০ পূর্বাহ্ণ
সদরপুরে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি, ৩ ফার্মেসিকে জরিমানা

ফরিদপুরের সদরপুরে মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ বিক্রি, অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্টার হালনাগাদ না করা ও ড্রাগ লাইসেন্স নবায়ন ব্যতিরেকে ফার্মেসি পরিচালনার অপরাধে তিনটি ফার্মেসিকে মোট ৯ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে জব্দ করা অবৈধ ওষুধ ধ্বংস করা হয়েছে।

রবিবার (৩ মে) বিকালে উপজেলার হাসপাতাল মোড় ও বাবুরচর বাজার এলাকায় সদরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত আনজুম পিয়ার নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, অভিযানকালে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্টার হালনাগাদ না করা, ড্রাগ লাইসেন্স নবায়ন ব্যতিরেকে ফার্মেসি পরিচালনা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ রাখা ও বিক্রির অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৫১ ধারা অনুসারে তিন ফার্মেসি মালিক গোপালকৃষ্ণ সাহাকে (৪০) ৩ হাজার, মো. শরিফুল ইসলামকে (৩৬) ৩ হাজার ও আ. মোতালিবকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযান চলাকালীন শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সদরপুর থানা পুলিশ সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।

অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত আনজুম পিয়া বলেন, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এবার সতর্কতামূলকভাবে তুলনামূলক কম জরিমানা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে একই অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে অর্থদণ্ডের পাশাপাশি কারাদণ্ড দেওয়া হবে।