খুঁজুন
, ,

নাব্যতা সংকটে তিন মাস ধরে বন্ধ ফরিদপুরের নৌ বন্দর, বেকার কয়েক হাজার শ্রমিক

সঞ্জিব দাস, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:৫৯ পূর্বাহ্ণ
নাব্যতা সংকটে তিন মাস ধরে বন্ধ ফরিদপুরের নৌ বন্দর, বেকার কয়েক হাজার শ্রমিক

ফরিদপুরের পদ্মা পাড়ের মানুষ এমন পদ্মা নদীর চিত্র এর আগে কোনদিন দেখতে হয়েছে বলে তারা মনে করতে পারছেন না। এবার তাদের দেখতে হচ্ছে পদ্মা নদীর পানি শূন্যতায় পুরো পদ্মা যেন হাহাকারের এক প্রতিধ্বনি। ফরিদপুরের পদ্মায় চর তাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে এ যেন এক ধূসর মরুভূমির ছবি। অবলীলায় পায়ে হেঁটেই পদ্মা পার হয়ে যাওয়ার দৃশ্য এ অঞ্চলে যেন নতুন কোন গল্প।

কবিতার ভাষায় বলতে হয়, “চিক্ চিক্ করে বালি, কোথা নাই কাদা, একধারে কাশবন ফুলে ফুলে সাদা। কিচিমিচি করে সেথা শালিকের ঝাঁক, রাতে ওঠে থেকে থেকে শেয়ালের হাঁক।” কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি কবিতার এই চারটি লাইনের সাথে ফরিদপুরের পদ্মা নদীর মিল এখন অনেকটাই।

শীতের শুরুতেই ফরিদপুরের পদ্মা নদীতে নাব্যতা সংকট দেখা দেয়। এরপর থেকে গত প্রায় তিন মাস যাবত বন্ধ রয়েছে নৌবন্দরের প্রায় সফল কার্যক্রম। ‌অচল হয়ে রয়েছে দক্ষিণ অঞ্চল সহ ফরিদপুর অঞ্চলের একমাত্র সিএন্ডবি ঘাট নৌবন্দরটি। নদীর মাঝে জেগে ওঠা ছোট-বড় অসংখ্য ডুবোচর ও পানি শূন্যতার কারণে পণ্যবাহী জাহাজ, কার্গো ও বড় ট্রলার চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। দূরদূরান্ত থেকে পণ্য নিয়ে আসা এসব পণ্যবাহী জাহাজ পদ্মা নদীর বিভিন্ন স্থানে আটকা পড়ে যাচ্ছে। চরে আটকা পড়ে থাকার কারণে নৌবন্দরে ভিড়তে পারছে না। এতে অচল হয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের একমাত্র নৌবন্দর হিসেবে পরিচিত ঘাটটি। আর এ কারণে হাজারের বেশি কুলি শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের জীবন-জীবিকা থমকে গেছে।

নৌ ঘাট সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী সিঅ্যান্ডবি (C&B) ঘাট নৌবন্দরটি শত বছরের পুরোনো হলেও, এটি পূর্ণাঙ্গ নৌবন্দর হিসেবে ২০১৫ সালে সরকারিভাবে আত্মপ্রকাশ ও ঘোষিত হয়। পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত এই বন্দরটি দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম ব্যবসায়িক কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। পরে দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীত হয় বন্দরটি। চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্রবন্দর এবং সিলেট, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলার সাথে সরাসরি বাণিজ্যিক সংযোগ স্থাপনের বন্দরটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

বর্ষা মৌসুমে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪ থেকে ৫ কোটি টাকার পণ্য আমদানি রপ্তানি হলেও শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানি কমে যাওয়ায় বছরের একটি বড় সময় ধরে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এই সংকট শুধু বন্দরের কর্মী ও ব্যবসায়ীদের জীবনেই প্রভাব ফেলছে না বরং জাতীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ফরিদপুরের বিখ্যাত সোনালী আঁশ খ্যাত পাট এই বন্দর হয়েই চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রপ্তানি হয়। সিলেট থেকে কয়লা ও বালু, নারায়ণগঞ্জ থেকে সিমেন্টবাহী জাহাজ এই বন্দর থেকে খালাস করা হয়।

গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই নৌবন্দর থেকে ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। কিন্তু ডুবো চর ও নদীর নাব্যতা সংকটের কারণে, চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বাড়ছে না রাজস্ব। এরপর থেকে বিআইডব্লিউটি নিজেই রাজস্ব আদায় করে থাকে ঘাট থেকে। এই অর্থবছরের ২০২৫ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত নৌ বন্দরটি ইজারা দেয়া হয় দুই কোটি ৮৫ লক্ষ টাকায়।‌ বর্তমানে মো. মজিবুর রহমান নামে ইজারাদার প্রতিদিন ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা ক্ষতিগ্রস্তের শিকার হচ্ছেন। ‌তিনি গত তিন মাসে বিভিন্নভাবে ২৫টি চিঠি বিআইডব্লিউটিএ এর কাছে লিখলেও তার কোন ব্যবস্থা গ্রহণ তারা করেননি। উল্টো একটি ড্রেজার মেশিন নদীর ভিতর রেখে নদীতে আসা-যাওয়ার সমস্যা করে রেখেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেছেন সাংবাদিকদের কাছে।

পণ্যবাহী নৌযান ভিড়তে না পারায় নৌবন্দরের শুল্ক আদায়ও নেই। পণ্যবাহী নৌযানের মালিকরা ও পণ্য আমদানিকারকরাও পড়েছেন চরম বিপাকে। নৌবন্দরের শ্রমিকরাও বেকার হয়ে পড়েছেন। এছাড়া দিনের পর দিন নৌ বন্দর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে মাঝ পদ্মা নদীতে অরক্ষিত স্থানে জাহাজ, কার্গোগুলো থাকায় পড়তে হচ্ছে বিবিধ সমস্যায়। ঘাটে জাহাজ এবং কার্গো গুলো না আসতে পারায় বর্তমানে দূরবস্থা চরমে পৌঁছেছে। নাব্যতা সংকট সমাধানে কয়েকটি স্থানে বিআইডব্লিউটিএ ড্রেজার মেশিন বসিয়ে খনন কাজ না করলে নৌবন্দরটি ব্যবসায়িকভাবে চরম ক্ষতির মুখে পড়ে যাবে। ‌

ফরিদপুরের সোনালি আঁশ খ্যাত পাট এই বন্দর হয়েই চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে বহির্বিশ্বে রফতানি হয়। এছাড়াও সিলেট থেকে কয়লা ও বালু, ভারতের গরু ও চালসহ চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, মিরকাদিম থেকে এই নৌপথেই চাল আমদানি হয়। নারায়ণগঞ্জ বন্দর থেকে প্রচুর সিমেন্টবাহী জাহাজ ও কার্গো এই বন্দর থেকে খালাস করা হয়।

এদিকে নৌবন্দরে ভিড়তে না পেরে নৌবন্দর থেকে নদীর মাঝ নদীতে পণ্যবাহী জাহাজ, কার্গো ও বড় ট্রলার ডুবো চরে আটকা পড়ে রয়েছে। সেখান থেকে ছোট ছোট ট্রলারে করে পণ্য নিয়ে আসায় খরচ বাড়ছে ব্যবসায়ীদের। এতে ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা।

নৌ বন্দরের শ্রমিক লালন বলেন, ঘাটে জাহাজ ভিড়তে না পারায় বেকার হয়ে বসে থাকতে হচ্ছে। আমার বাড়ি নওগাঁ, এখানে শ্রমিকের কাজ করি। প্রতিদিন কাজ না থাকায় নিজের খাওয়া দাওয়ার সমস্যা হয়, বাড়িতে ঠিকমতো টাকা পাঠাতে পারি না। সরকার আমাদের দিক বিবেচনা করে অতি দ্রুত ড্রেজিং ব্যবস্থা চালু করুক এটাই এখন তার দাবি।

আরেক শ্রমিক নুরুল শেখ বলেন, এই কাজের ওপর সংসার চলে। জাহাজ না আসায় রোজগার কমে গেছে। দুই সন্তান পড়ালেখা করে। সংসারের খরচ তাদের পড়ালেখার খরচ জোগাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক সময় বাড়ি থেকে টাকা এনে চলতে হয়। এখন তারা আর পেরে উঠছেন না বেকার থাকার কারণে।

রমজান নামে এক কুলি জানান, গত তিন মাস যাবৎ একদম বেকার হয়ে গিয়েছি। আমাদের অবস্থা দেখার কেউ নেই। ঘাট আমাদের আয় রোজগারের একমাত্র জায়গা। সেই জায়গাটি সরকারের অব্যবস্থাপনার কারণে এখন বন্ধ রয়েছে। সরকারের কাছে দাবী জানাই অতি দ্রুত ড্রেজিং করে নদীর নাব্যতা দূর করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

ঘাটের বড় ব্যবসায়ী আলম শেখ বলেন, দক্ষিণবঙ্গসহ বৃহত্তর ফরিদপুরের ব্যবসায়িক পণ্য আনা নেওয়ার জন্য এই নৌবন্দরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে নৌবন্ধটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্যবসায়িক ক্ষতির মধ্যে রয়েছেন তারা। গত তিন মাসে আমাদের ব্যবসার ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শুধু আমার। ব্যবসায়িক দিক বিবেচনা করে অতি দ্রুত বিআইডব্লিউটিএ ডেজিং ব্যবস্থা চালু করে নদী পথকে স্বাভাবিক রাখার দাবি তার।

ব্যবসায়ী ও ঘাট ইজারাদার মুজিবর শেখ বলেন, নদীতে নাব্যতা সংকট এবং নদীতে চর পড়ে যাওয়ায় পণ্যবাহী নৌযান বন্দরে আসতে পারছে না। এই অর্থবছরের ২০২৫ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত নৌ বন্দরটি ইজারা নেয়া হয়েছে দুই কোটি ৮৫ লক্ষ টাকায়।‌ বর্তমানে আমার প্রতিদিন ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা ক্ষতিগ্রস্তের শিকার হচ্ছি। ‌ গত তিন মাসে বিভিন্নভাবে ২৫টি চিঠি বিআইডব্লিউটিএ এর কাছে লিখেছি। বিআইডব্লিউটিএ থেকে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ তারা করেননি। উল্টো একটি ড্রেজার মেশিন নদীর ভিতর রেখে নদীতে আসা-যাওয়ার সমস্যা করে রেখেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। আমাদের ক্ষতিপূরণ দাবি এবং একই সাথে ড্রেজার বসিয়ে নদীর নাব্যতা সংকট দূর করার দাবি জানাচ্ছি।

ফরিদপুর সিএন্ডবি ঘাট নৌবন্দরের বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায়, নাব্যতা সংকটের কারণে ফরিদপুর নৌবন্দরের শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অতি দ্রুত ড্রেজিং এর দরকার বলে মনে করেন তারা।

এদিকে নাব্যতা বিষয়ে জানতে বিআইডব্লিউটিএ’র আরিচা নৌ বন্দরের উপ-পরিচালক সুব্রত কুমার রায় মোবাইল ফোনটি রিং বাজলেও না ধরে কেটে দেন।

এ বিষয়ে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যা বলেন, নাব্যতা সংকটের কারণে চরম ক্ষতিতে পড়ছে নৌবন্দরটি। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। দ্রুতই খননের কাজ শুরু হবে বলে আশা রাখি। নির্বাচনের সময় ব্যস্ততার কারণে বিষয়টি হয়তো পিছিয়ে গেছে। আশা করছি এখন যেসব জায়গায় চরের সৃষ্টি হয়েছে সে সব জায়গায় ড্রেজার বসিয়ে খনন করে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ঠিক করা হবে। আর এই বিষয়টি বিআইডব্লিউটিএ দেখে তারা বিষয়টি দ্রুত করবে এমনটাই আমরা জানতে পেরেছি বলে তিনি জানান। ‌

ফরিদপুর সিএন্ডবি ঘাট নৌবন্দরের নাব্যতা সংকট উত্তরণে অতি দ্রুত ড্রেজিং সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সরকার নেবে এমনটাই প্রত্যাশা ঘাট সংশ্লিষ্টদের।

বৈঠার ছন্দে মুখর আষাঢ়ের বিল, সালথায় জমজমাট নৌকা বাইচ ও গ্রামীণ মেলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৩১ অপরাহ্ণ
বৈঠার ছন্দে মুখর আষাঢ়ের বিল, সালথায় জমজমাট নৌকা বাইচ ও গ্রামীণ মেলা

নৌকার বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ, মাঝিদের প্রাণবন্ত স্লোগান আর হাজারো দর্শকের উল্লাসে মুখর হয়ে উঠেছিল ফরিদপুরের সালথা উপজেলার খোয়াড় গ্রামের আষাঢ়ের বিল। আবহমান গ্রামবাংলার চিরচেনা ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে সেখানে আয়োজন করা হয় ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা। একই সঙ্গে বসে গ্রামীণ মেলা। উৎসবমুখর পরিবেশে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নারী-পুরুষসহ সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা পরিণত হয় আনন্দের মিলনমেলায়।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেল ৪টায় উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের খোয়াড় গ্রামের বটতলা সংলগ্ন আষাঢ়ের বিলে এ নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে খোয়াড় গ্রামবাসী।

বিকেল গড়াতেই বিলের দুই পাড়ে ভিড় জমাতে শুরু করেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ। দূর-দূরান্ত থেকে নৌকা বাইচপ্রেমীরা ছুটে আসেন প্রিয় এই গ্রামীণ খেলা উপভোগ করতে। প্রতিযোগিতা শুরু হলে মাঝিদের বৈঠার তালে তালে এগিয়ে চলা নৌকা আর তাদের উদ্দীপনাময় স্লোগানে দর্শকদের মধ্যে সৃষ্টি হয় বাড়তি উত্তেজনা। প্রতিটি নৌকার এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা দর্শকদের করতালি ও উল্লাসে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো আষাঢ়ের বিল।

নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে আয়োজিত গ্রামীণ মেলাও ছিল দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণ। মেলায় বিভিন্ন ধরনের গ্রামীণ পণ্য, মুখরোচক খাবার ও ঐতিহ্যবাহী সামগ্রীর সমাহার ঘটে। শিশুদের জন্য ছিল নানা বিনোদনের আয়োজন। ফলে নৌকা বাইচের পাশাপাশি গ্রামীণ মেলাতেও ভিড় করেন উৎসুক মানুষ।

স্থানীয়রা জানান, আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রামবাংলার অনেক ঐতিহ্যবাহী আয়োজন হারিয়ে যেতে বসেছে। এমন সময়ে নৌকা বাইচের মতো আয়োজন শুধু বিনোদন নয়, গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নতুন প্রজন্মও এ আয়োজনের মাধ্যমে গ্রামবাংলার পুরোনো সংস্কৃতি ও জীবনধারার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়।

প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী দলগুলোর মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার, জেলা স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক মো. জাহিদ হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার খায়রুল বাসার আজাদ, মো. শাহিনুর রহমান শাহিন ও কামরুল ইসলাম।

এ ছাড়া স্থানীয় আটঘর ইউনিয়ন ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. মুরাদুর রহমান, উপজেলা যুবদল নেতা সাফিকুল ইসলাম, মাহফুজুর রহমান খান, মো. জসিম মোল্যা, স্থানীয় সামাদ মাতুব্বর, আনিচুর রহমান মেম্বারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

নৌকার বৈঠার ছন্দ আর মাঝিদের কণ্ঠের উদ্দীপনাময় স্লোগানে দিনভর উৎসবমুখর পরিবেশে নতুন করে প্রাণ ফিরে পায় আবহমান গ্রামবাংলার চিরচেনা সেই নৌকা বাইচের ঐতিহ্য।

ফরিদপুরে ৮৮৮টি প্রাথমিকে শূন্য ৫১৫টি প্রধান শিক্ষকের পদ, ভেঙে পড়ছে পাঠদান

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ৮৮৮টি প্রাথমিকে শূন্য ৫১৫টি প্রধান শিক্ষকের পদ, ভেঙে পড়ছে পাঠদান

ফরিদপুরের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে তীব্র আকার ধারণ করেছে প্রধান শিক্ষক সংকট। জেলার মোট ৮৮৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫১৫টি প্রতিষ্ঠানই চলছে অভিভাবকহীন অবস্থায়। অর্ধেকেরও বেশি বিদ্যালয়ে স্থায়ী কোনো প্রধান শিক্ষক না থাকায় ভারপ্রাপ্তদের ওপর ভর করে জোড়াতালি দিয়ে চলছে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম। এতে একদিকের যেমন প্রশাসনিক গতি স্থবির হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে শ্রেণি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

​জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, ফরিদপুরে ৮৮৮টি বিদ্যালয়ে অনুমোদিত প্রধান শিক্ষকের পদও ৮৮৮টি। তবে এর মধ্যে বর্তমানে নিয়মিত প্রধান শিক্ষক কর্মরত আছেন মাত্র ৩৭৩ জন। অর্থাৎ ৫৮ শতাংশেরই বেশি বিদ্যালয়ে পদ শূন্য রয়েছে।

​উপজেলাভিত্তিক হিসেবে দেখা যায়, সবচেয়ে খারাপ অবস্থা সদরপুর ও আলফাডাঙ্গায়।

জেলাটির ​সদরপুর উপজেলার ১৩০টি বিদ্যালয়ের বিপরীতে কর্মরত মাত্র ৪৩ জন, শূন্য পদ ৮৭টি।আলফাডাঙ্গায় ৭৩টি পদের মধ্যে কর্মরত ১৯ জন, শূন্য পদ ৫৪টি। ​নগরকান্দায় ৮৪টি বিদ্যালয়ে কর্মরত ৩০ জন, শূন্য পদ ৫৪টি। ​সালথা উপজেলায় ৭৬টি পদের মধ্যে কর্মরত ২৪ জন, শূন্য পদ ৫২টি। ​বোয়ালমারীতে ১০২টি পদের বিপরীতে কর্মরত ৪৬ জন, শূন্য পদ ৫৬টি। ​ভাঙ্গায় ১২০টি পদের মধ্যে কর্মরত ৪৯ জন, শূন্য পদ ৭১টি। ​মধুখালীতে ৯৬টি পদের বিপরীতে কর্মরত ৪৫ জন, শূন্য পদ ৫১টি। ​ফরিদপুর সদর উপজেলার ১৫৩টি বিদ্যালয়ে কর্মরত ৮০ জন, শূন্য পদ ৭৩টি ও ​চরভদ্রাসন উপজেলায় ৫৪টি পদের মধ্যে কর্মরত ৩৭ জন, শূন্য পদ ১৭টি।

​সরেজমিনে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সহকারী শিক্ষকেরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। এসব শিক্ষকদের মূল পাঠদান বাদ দিয়ে নিয়মিত দাপ্তরিক নথিপত্র প্রস্তুত, প্রশাসনিক তদারকি, নানা সরকারি নির্দেশ বাস্তবায়ন ও বিভিন্ন প্রশাসনিক মিটিংয়ে অংশ নিতে হচ্ছে। একজন শিক্ষক যখন প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত থাকছেন, তখন অন্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদানে বাড়তি চাপ পড়ছে। ফলে নিয়মিত শ্রেণির পরীক্ষা ও পাঠদান ব্যাপকভাবে পিছিয়ে পড়ছে।

​স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষাবিদরা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলার কেন্দ্রবিন্দু হলেন প্রধান শিক্ষক। বছরের পর বছর এই পদ শূন্য থাকলে সার্বিক শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হয় এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভিত দুর্বল হয়ে পড়ে। দ্রুত স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন তারা।

​এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম তৌফিকুর রহমান বলেন, “জেলার ৫১৫টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় ভারপ্রাপ্ত দিয়ে কাজ চালাতে হচ্ছে। সমস্যাটি সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিস্তারিত তথ্য ও তালিকা পাঠানো হয়েছে। সিদ্ধান্ত এলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।”

ফরিদপুরে ট্রেনের ছাদে দৌড়াদৌড়ির সময় গাছের ডালের ধাক্কায় কিশোর নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৮:১২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ট্রেনের ছাদে দৌড়াদৌড়ির সময় গাছের ডালের ধাক্কায় কিশোর নিহত

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে চলন্ত ট্রেনের ছাদে উঠে দৌড়াদৌড়ি করার সময় গাছের ডালের সঙ্গে ধাক্কা লেগে জাহিদুল (১২) নামে এক কিশোর নিহত হয়েছে। এতে সাজেদুল শেখ নামে অপর এক কিশোর গুরুতর আহত হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বোয়ালমারী উপজেলার চতুল ইউনিয়নের চতুল উচ্চ বিদ্যালয়সংলগ্ন রেললাইনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

​নিহত জাহিদুল বোয়ালমারীর ময়না ইউনিয়নের ইছাখালী গ্রামের মিল্টন শেখের ছেলে। আহত সাজেদুল একই গ্রামের কাইয়ুম শেখের ছেলে। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাটিয়াপাড়া থেকে রাজবাড়ীগামী ‘ভাটিয়াপাড়া এক্সপ্রেস’ ট্রেনের ছাদে উঠে জাহিদুল ও সাজেদুল দৌড়াদৌড়ি করছিল। ট্রেনটি চতুল উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালে রেললাইনের পাশের একটি কাঁঠালগাছের ঝুলন্ত ডালের সঙ্গে দু’জনের সজোরে ধাক্কা লাগে। এতে তারা ট্রেনের ছাদ থেকে ছিটকে নিচে পড়ে যান। জাহিদুল ট্রেনের চাকায় কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। স্থানীয়রা আহত সাজেদুলকে উদ্ধার করে দ্রুত বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

​বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. তমাল কৃষ্ণ রায় জানান, সাজেদুলকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

​দুর্ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বোয়ালমারী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার রয়েল আহমেদ জানান, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

​এ বিষয়ে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, যেহেতু দুর্ঘটনাটি রেলপথে ঘটেছে, তাই এটি রেলওয়ে পুলিশের এখতিয়ারাধীন। রাজবাড়ী রেলওয়ে থানাকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

​রাজবাড়ী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ভাঙ্গা রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িকে জানানো হয়েছে। পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে রওনা হয়েছে এবং এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।