খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

নাব্যতা সংকটে তিন মাস ধরে বন্ধ ফরিদপুরের নৌ বন্দর, বেকার কয়েক হাজার শ্রমিক

সঞ্জিব দাস, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:৫৯ পূর্বাহ্ণ
নাব্যতা সংকটে তিন মাস ধরে বন্ধ ফরিদপুরের নৌ বন্দর, বেকার কয়েক হাজার শ্রমিক

ফরিদপুরের পদ্মা পাড়ের মানুষ এমন পদ্মা নদীর চিত্র এর আগে কোনদিন দেখতে হয়েছে বলে তারা মনে করতে পারছেন না। এবার তাদের দেখতে হচ্ছে পদ্মা নদীর পানি শূন্যতায় পুরো পদ্মা যেন হাহাকারের এক প্রতিধ্বনি। ফরিদপুরের পদ্মায় চর তাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে এ যেন এক ধূসর মরুভূমির ছবি। অবলীলায় পায়ে হেঁটেই পদ্মা পার হয়ে যাওয়ার দৃশ্য এ অঞ্চলে যেন নতুন কোন গল্প।

কবিতার ভাষায় বলতে হয়, “চিক্ চিক্ করে বালি, কোথা নাই কাদা, একধারে কাশবন ফুলে ফুলে সাদা। কিচিমিচি করে সেথা শালিকের ঝাঁক, রাতে ওঠে থেকে থেকে শেয়ালের হাঁক।” কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি কবিতার এই চারটি লাইনের সাথে ফরিদপুরের পদ্মা নদীর মিল এখন অনেকটাই।

শীতের শুরুতেই ফরিদপুরের পদ্মা নদীতে নাব্যতা সংকট দেখা দেয়। এরপর থেকে গত প্রায় তিন মাস যাবত বন্ধ রয়েছে নৌবন্দরের প্রায় সফল কার্যক্রম। ‌অচল হয়ে রয়েছে দক্ষিণ অঞ্চল সহ ফরিদপুর অঞ্চলের একমাত্র সিএন্ডবি ঘাট নৌবন্দরটি। নদীর মাঝে জেগে ওঠা ছোট-বড় অসংখ্য ডুবোচর ও পানি শূন্যতার কারণে পণ্যবাহী জাহাজ, কার্গো ও বড় ট্রলার চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। দূরদূরান্ত থেকে পণ্য নিয়ে আসা এসব পণ্যবাহী জাহাজ পদ্মা নদীর বিভিন্ন স্থানে আটকা পড়ে যাচ্ছে। চরে আটকা পড়ে থাকার কারণে নৌবন্দরে ভিড়তে পারছে না। এতে অচল হয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের একমাত্র নৌবন্দর হিসেবে পরিচিত ঘাটটি। আর এ কারণে হাজারের বেশি কুলি শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের জীবন-জীবিকা থমকে গেছে।

নৌ ঘাট সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী সিঅ্যান্ডবি (C&B) ঘাট নৌবন্দরটি শত বছরের পুরোনো হলেও, এটি পূর্ণাঙ্গ নৌবন্দর হিসেবে ২০১৫ সালে সরকারিভাবে আত্মপ্রকাশ ও ঘোষিত হয়। পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত এই বন্দরটি দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম ব্যবসায়িক কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। পরে দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীত হয় বন্দরটি। চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্রবন্দর এবং সিলেট, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলার সাথে সরাসরি বাণিজ্যিক সংযোগ স্থাপনের বন্দরটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

বর্ষা মৌসুমে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪ থেকে ৫ কোটি টাকার পণ্য আমদানি রপ্তানি হলেও শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানি কমে যাওয়ায় বছরের একটি বড় সময় ধরে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এই সংকট শুধু বন্দরের কর্মী ও ব্যবসায়ীদের জীবনেই প্রভাব ফেলছে না বরং জাতীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ফরিদপুরের বিখ্যাত সোনালী আঁশ খ্যাত পাট এই বন্দর হয়েই চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রপ্তানি হয়। সিলেট থেকে কয়লা ও বালু, নারায়ণগঞ্জ থেকে সিমেন্টবাহী জাহাজ এই বন্দর থেকে খালাস করা হয়।

গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই নৌবন্দর থেকে ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। কিন্তু ডুবো চর ও নদীর নাব্যতা সংকটের কারণে, চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বাড়ছে না রাজস্ব। এরপর থেকে বিআইডব্লিউটি নিজেই রাজস্ব আদায় করে থাকে ঘাট থেকে। এই অর্থবছরের ২০২৫ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত নৌ বন্দরটি ইজারা দেয়া হয় দুই কোটি ৮৫ লক্ষ টাকায়।‌ বর্তমানে মো. মজিবুর রহমান নামে ইজারাদার প্রতিদিন ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা ক্ষতিগ্রস্তের শিকার হচ্ছেন। ‌তিনি গত তিন মাসে বিভিন্নভাবে ২৫টি চিঠি বিআইডব্লিউটিএ এর কাছে লিখলেও তার কোন ব্যবস্থা গ্রহণ তারা করেননি। উল্টো একটি ড্রেজার মেশিন নদীর ভিতর রেখে নদীতে আসা-যাওয়ার সমস্যা করে রেখেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেছেন সাংবাদিকদের কাছে।

পণ্যবাহী নৌযান ভিড়তে না পারায় নৌবন্দরের শুল্ক আদায়ও নেই। পণ্যবাহী নৌযানের মালিকরা ও পণ্য আমদানিকারকরাও পড়েছেন চরম বিপাকে। নৌবন্দরের শ্রমিকরাও বেকার হয়ে পড়েছেন। এছাড়া দিনের পর দিন নৌ বন্দর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে মাঝ পদ্মা নদীতে অরক্ষিত স্থানে জাহাজ, কার্গোগুলো থাকায় পড়তে হচ্ছে বিবিধ সমস্যায়। ঘাটে জাহাজ এবং কার্গো গুলো না আসতে পারায় বর্তমানে দূরবস্থা চরমে পৌঁছেছে। নাব্যতা সংকট সমাধানে কয়েকটি স্থানে বিআইডব্লিউটিএ ড্রেজার মেশিন বসিয়ে খনন কাজ না করলে নৌবন্দরটি ব্যবসায়িকভাবে চরম ক্ষতির মুখে পড়ে যাবে। ‌

ফরিদপুরের সোনালি আঁশ খ্যাত পাট এই বন্দর হয়েই চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে বহির্বিশ্বে রফতানি হয়। এছাড়াও সিলেট থেকে কয়লা ও বালু, ভারতের গরু ও চালসহ চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, মিরকাদিম থেকে এই নৌপথেই চাল আমদানি হয়। নারায়ণগঞ্জ বন্দর থেকে প্রচুর সিমেন্টবাহী জাহাজ ও কার্গো এই বন্দর থেকে খালাস করা হয়।

এদিকে নৌবন্দরে ভিড়তে না পেরে নৌবন্দর থেকে নদীর মাঝ নদীতে পণ্যবাহী জাহাজ, কার্গো ও বড় ট্রলার ডুবো চরে আটকা পড়ে রয়েছে। সেখান থেকে ছোট ছোট ট্রলারে করে পণ্য নিয়ে আসায় খরচ বাড়ছে ব্যবসায়ীদের। এতে ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা।

নৌ বন্দরের শ্রমিক লালন বলেন, ঘাটে জাহাজ ভিড়তে না পারায় বেকার হয়ে বসে থাকতে হচ্ছে। আমার বাড়ি নওগাঁ, এখানে শ্রমিকের কাজ করি। প্রতিদিন কাজ না থাকায় নিজের খাওয়া দাওয়ার সমস্যা হয়, বাড়িতে ঠিকমতো টাকা পাঠাতে পারি না। সরকার আমাদের দিক বিবেচনা করে অতি দ্রুত ড্রেজিং ব্যবস্থা চালু করুক এটাই এখন তার দাবি।

আরেক শ্রমিক নুরুল শেখ বলেন, এই কাজের ওপর সংসার চলে। জাহাজ না আসায় রোজগার কমে গেছে। দুই সন্তান পড়ালেখা করে। সংসারের খরচ তাদের পড়ালেখার খরচ জোগাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক সময় বাড়ি থেকে টাকা এনে চলতে হয়। এখন তারা আর পেরে উঠছেন না বেকার থাকার কারণে।

রমজান নামে এক কুলি জানান, গত তিন মাস যাবৎ একদম বেকার হয়ে গিয়েছি। আমাদের অবস্থা দেখার কেউ নেই। ঘাট আমাদের আয় রোজগারের একমাত্র জায়গা। সেই জায়গাটি সরকারের অব্যবস্থাপনার কারণে এখন বন্ধ রয়েছে। সরকারের কাছে দাবী জানাই অতি দ্রুত ড্রেজিং করে নদীর নাব্যতা দূর করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

ঘাটের বড় ব্যবসায়ী আলম শেখ বলেন, দক্ষিণবঙ্গসহ বৃহত্তর ফরিদপুরের ব্যবসায়িক পণ্য আনা নেওয়ার জন্য এই নৌবন্দরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে নৌবন্ধটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্যবসায়িক ক্ষতির মধ্যে রয়েছেন তারা। গত তিন মাসে আমাদের ব্যবসার ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শুধু আমার। ব্যবসায়িক দিক বিবেচনা করে অতি দ্রুত বিআইডব্লিউটিএ ডেজিং ব্যবস্থা চালু করে নদী পথকে স্বাভাবিক রাখার দাবি তার।

ব্যবসায়ী ও ঘাট ইজারাদার মুজিবর শেখ বলেন, নদীতে নাব্যতা সংকট এবং নদীতে চর পড়ে যাওয়ায় পণ্যবাহী নৌযান বন্দরে আসতে পারছে না। এই অর্থবছরের ২০২৫ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত নৌ বন্দরটি ইজারা নেয়া হয়েছে দুই কোটি ৮৫ লক্ষ টাকায়।‌ বর্তমানে আমার প্রতিদিন ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা ক্ষতিগ্রস্তের শিকার হচ্ছি। ‌ গত তিন মাসে বিভিন্নভাবে ২৫টি চিঠি বিআইডব্লিউটিএ এর কাছে লিখেছি। বিআইডব্লিউটিএ থেকে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ তারা করেননি। উল্টো একটি ড্রেজার মেশিন নদীর ভিতর রেখে নদীতে আসা-যাওয়ার সমস্যা করে রেখেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। আমাদের ক্ষতিপূরণ দাবি এবং একই সাথে ড্রেজার বসিয়ে নদীর নাব্যতা সংকট দূর করার দাবি জানাচ্ছি।

ফরিদপুর সিএন্ডবি ঘাট নৌবন্দরের বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায়, নাব্যতা সংকটের কারণে ফরিদপুর নৌবন্দরের শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অতি দ্রুত ড্রেজিং এর দরকার বলে মনে করেন তারা।

এদিকে নাব্যতা বিষয়ে জানতে বিআইডব্লিউটিএ’র আরিচা নৌ বন্দরের উপ-পরিচালক সুব্রত কুমার রায় মোবাইল ফোনটি রিং বাজলেও না ধরে কেটে দেন।

এ বিষয়ে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যা বলেন, নাব্যতা সংকটের কারণে চরম ক্ষতিতে পড়ছে নৌবন্দরটি। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। দ্রুতই খননের কাজ শুরু হবে বলে আশা রাখি। নির্বাচনের সময় ব্যস্ততার কারণে বিষয়টি হয়তো পিছিয়ে গেছে। আশা করছি এখন যেসব জায়গায় চরের সৃষ্টি হয়েছে সে সব জায়গায় ড্রেজার বসিয়ে খনন করে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ঠিক করা হবে। আর এই বিষয়টি বিআইডব্লিউটিএ দেখে তারা বিষয়টি দ্রুত করবে এমনটাই আমরা জানতে পেরেছি বলে তিনি জানান। ‌

ফরিদপুর সিএন্ডবি ঘাট নৌবন্দরের নাব্যতা সংকট উত্তরণে অতি দ্রুত ড্রেজিং সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সরকার নেবে এমনটাই প্রত্যাশা ঘাট সংশ্লিষ্টদের।

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে ৮ বছরের বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টা

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৯:৪৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে ৮ বছরের বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টা

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় ৮ বছর বয়সী এক বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (২৫ মে) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্ব বিএস ডাঙ্গী অবস্থিত পরিত্যাক্ত জেলখানার একটি ভবনের বারান্দায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, শিশুটি প্রতি দিনের মতন বাড়ির পাশের পরিত্যাক্ত ওই জেলখানার উন্মুক্ত স্থানে খেলা করতে আসে। এ সময় শিশুটির সরলতার সুযোগ নিয়ে আলতাফ ওরফে আদু (৬৫) তাকে পাশেই পরিত্যাক্ত একটি ভবনের বারান্দায় ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। অভিযুক্ত আদু ওই ভবনের পাশেই একটি জরাজীর্ণ ছাপড়া ঘরে বসবাস করেন।

ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, আদুর বর্তমান স্ত্রী প্রতিবন্ধী। সে পেশায় একজন ভ্যান চালক। শিশুটি মাঝে মধ্যেই আদুর মেয়েদের সাথে খেলা করতে আদুর বাড়ির সামনে আসত।

ঘটনার প্রত্যক্ষ্যদর্শী এক নারী জানান, তিনি ও তার বোন সকালে জেলখানার সামনের ওই স্থান দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। হঠাৎ তিনি খারাপ কাজ করার দৃশ্য দেখতে পায়। প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন স্বামী স্ত্রী হতে পারে, পরে তিনি আবার তাকিয়ে শিশুটিকে দেখতে পেয়ে ওই স্থানে এগিয়ে যান।

তিনি বলেন, তাকে দেখে আদু শিশুকে প্যান্ট পরিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টো করে। তখন ওই নারী এগিয়ে গিয়ে আদুকে শাসালে আদু পালিয়ে যায়।পরে শিশুটির পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। এই ঘটনায় স্থানীয়রা নিজেদের সন্তান নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।

এই ঘটনার বিষয়ে চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। এই ঘটনায় শিশুটির নানী বাদি হয়ে থানায় একটি ধর্ষণ চেষ্টার মামলা করেছেন।

সদরপুরে অনুমতি ছাড়াই বসেছে পশুর হাট, লাখ টাকার খাজনা আদায়ের অভিযোগ

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৭:০৪ অপরাহ্ণ
সদরপুরে অনুমতি ছাড়াই বসেছে পশুর হাট, লাখ টাকার খাজনা আদায়ের অভিযোগ

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই পশুর হাট বসিয়ে লাখ টাকার খাজনা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে।

সোমবার (২৫ মে) দুপুর ৩টার দিকে উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের পিঁয়াজখালী বাজার এলাকায় এ পশুর হাট বসানো হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হান্নান চাকলাদার নামে এক ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা কোনো ধরনের সরকারি অনুমতি ছাড়াই কোরবানির পশুর হাট পরিচালনা করছেন। হাটে আগত ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের খাজনা আদায় করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই দীর্ঘ সময় ধরে একটি চক্র প্রভাব খাটিয়ে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এতে সরকার যেমন রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তেমনি সাধারণ ব্যবসায়ীরাও অতিরিক্ত খাজনার চাপে পড়ছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত হান্নান চাকলাদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন বলেন, ওই বাজারে পশুর হাট বসানোর কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে উনারা জেলা প্রশাসকের আবেদন করেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঘাস কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ গেল বৃদ্ধের

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৬:৪৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের সদরপুরে ঘাস কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ গেল বৃদ্ধের

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় বজ্রপাতে শেখ সামাদ (৭৬) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (২৫ মে) দুপুরে উপজেলার চর বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সলিমুদ্দিন ফকিরের ডাঙ্গী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শেখ সামাদ ওই গ্রামের মৃত শেখ ইয়াজউদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুপুর দেড়টার দিকে শেখ সামাদ গরুর জন্য নিজ জমিতে ঘাস কাটতে যান। এ সময় হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বজ্রপাত শুরু হলে তিনি বজ্রাঘাতে গুরুতর আহত হন। পরে তার স্ত্রী ছাহেরা বেগমের চিৎকারে স্বজন ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সদরপুর থানা পুলিশকে জানালে উপ-পরিদর্শক (নি:) মো. মিনারুল কাজী সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন এবং মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।