খুঁজুন
, ,

“দেশে জ্বালানি সংকট নেই, কৃত্রিম সংকটকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা”: পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩৬ অপরাহ্ণ
“দেশে জ্বালানি সংকট নেই, কৃত্রিম সংকটকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা”: পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী

পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ শুক্রবার (০৩ এপ্রিল) দুপুরে ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কার্যালয় পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী পানি ব্যবস্থাপনা, নদীভাঙন প্রতিরোধ এবং বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে গৃহীত প্রস্তুতি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। তিনি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন, চলমান প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে এবং জনদুর্ভোগ কমাতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ, ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল, জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান মোল্যা, পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রতিমন্ত্রী দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলছে।

প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, “দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই। একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগামী বর্ষা মৌসুমের আগে কৃষকদের জন্য পর্যাপ্ত ডিজেল ও পেট্রোল সরবরাহ নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, নদীভাঙন রোধে সরকার বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এসব প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোকে সুরক্ষার আওতায় আনা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “নদীভাঙন শুধু অবকাঠামোগত নয়, এটি একটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা। তাই আমরা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্থায়ী সমাধানের দিকে এগোচ্ছি।”

এর আগে, প্রতিমন্ত্রী ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ে পৌঁছালে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ফুলেল শুভেচ্ছা দিয়ে তাকে বরণ করে নেন।

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ১৬ বছর পর কুমার নদে বর্ণাঢ্য নৌকা বাইচ

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ১৬ বছর পর কুমার নদে বর্ণাঢ্য নৌকা বাইচ

ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় কুমার নদে অনুষ্ঠিত হয়েছে দুই শতাধিক বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ। হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশ্বকর্মা পূজা উপলক্ষে দীর্ঘ ১৬ বছর পর কুমার নদে ফিরলো হারিয়ে যাওয়া এ লোকজ উৎসব।

​শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার কুমার নদের চরকান্দা পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে ভাঙ্গা খাদ্যগুদাম এলাকা পর্যন্ত দীর্ঘ দুই কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ২৬টি বাইচের নৌকা অংশ নেয়।

​সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচের আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন করেন।

​প্রতিযোগিতা চলাকালে কুমার নদের দুই কূলে বসে হাজার হাজার উৎসবমুখর মানুষের মিলনমেলা। আশেপাশের ভবনের ছাদ, নদের দুই ধার এবং ব্রিজের ওপর মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে ট্রলার ও নৌকা ভাড়া করে নদে নেমে বাইচ উপভোগ করেন। উৎসবকে ঘিরে নদের দুই তীরে মিষ্টি ও গৃহস্থালি পণ্যের নানা ধরনের ভাসমান দোকানও বসে।

​অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও আয়োজনের মূল উদ্যোক্তা ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, “দীর্ঘদিন পর ভাঙ্গাবাসীর প্রাণের দাবি পূরণ হয়েছে। লোকসংস্কৃতির শেকড়ের টানে নৌকা বাইচসহ জারি ও সার গানের মতো সব ঐতিহ্য আমাদের ফিরিয়ে আনতে হবে।”

​পরে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী বড় বাইচের নৌকাগুলোকে ফ্রিজ এবং ছোট নৌকাগুলোকে রঙিন টেলিভিশন পুরস্কার হিসেবে তুলে দেন অতিথিরা।

​ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজালুর রহমান খান পলাশ, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. শামীমুজ্জামান, ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব মোল্লা এবং ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

আলফাডাঙ্গায় হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফেরাতে নৌকা বাইচ ও হাডুডু টুর্নামেন্ট

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৭ অপরাহ্ণ
আলফাডাঙ্গায় হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফেরাতে নৌকা বাইচ ও হাডুডু টুর্নামেন্ট

গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া চিরায়ত ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ডিঙি নৌকা বাইচ ও হাডুডু টুর্নামেন্ট। এ উপলক্ষে স্থানীয় মধুমতি নদীর বাঁওড় পাড়ে বসেছিল প্রাণবন্ত গ্রাম্য মেলা।

​শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার গোপালপুর পশ্চিমপাড়া এলাকার মধুমতি নদীর বাঁওড়ে এ ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচের আয়োজন করা হয়।

​স্থানীয়রা জানান, গ্রামবাংলার পুরোনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এবং গ্রামীণ বিনোদন পৌঁছে দিতেই এ উদ্যোগ। দুপুর থেকেই শিশু-কিশোর, নারী-পুরুষসহ নানা বয়সের হাজারো দর্শকের ঢল নামে বাঁওড় পাড়ে। নদীর দুই কূলে হাজারো মানুষের করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। রাতে অনুষ্ঠিত হয় আলো ঝলমলে চারদলীয় হাডুডু টুর্নামেন্ট।

​বাইচ ও টুর্নামেন্ট শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। গোপালপুর ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী মো. মোনায়েম খান। অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ী দলের অধিনায়কদের হাতে আকর্ষণীয় পুরস্কার তুলে দেন তিনি।

​প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. মোনায়েম খান বলেন, “আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রামবাংলার হাজার বছরের প্রাচীন খেলাধুলা ও লোকজ সংস্কৃতি আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। অপসংস্কৃতি ও মাদকের হাত থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখতে এবং আমাদের নিজস্ব ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে বাঁচিয়ে রাখতে নিয়মিত এমন ক্রীড়া উৎসবের আয়োজন অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।”

‘শ্রাবণের মেঘের দিনে’

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৫ পূর্বাহ্ণ
‘শ্রাবণের মেঘের দিনে’

আকাশের বুকে কালো মেঘের ঘনঘটা,
শ্রাবণের দিনে যেন আঁধারের ছটা।
রিমঝিম সুর ধরে ঝরে জলধারা,
ঝরাপাতারা যেন হাহাকারে হারা।

​বাতাস বয়ে যায় উদাস পথ ধরে,
গাছের ডালে জল টুপটুপ করে।
কদমের শাখা আজ ফুটেছে সতেজ,
সবুজে সবুজে আঁকা নতুন আবেশ।

​ভেজা কাদা-মাটিতে হাঁটে মেঠো পথ,
বয়ে চলে বর্ষার অবিরাম রথ।
পাখিরা যে নিথর, ডানা দুটি গুটিয়ে,
উষ্ণতার খোঁজে যেন নীড়ে গেছে লুকিয়ে।

​মাঠে মাঠে জমা জল দর্পণের মতো,
ঝাপসা পাহাড়ি ছবি দেখা যায় কত।
মেঘের গর্জনে বুক কাঁপে ধরে,
বিদ্যুৎ ঝলকায় দূর নীলম্বরে।

​শ্রাবণের এই মেঘ মন কেড়ে নেয়,
সোঁদা মাটির ঘ্রাণে প্রাণ ভরে দেয়।
ধুয়ে যায় ধুলোবালি ধরা হয় শুভ্র,
মেঘে ঢাকা দিনশেষে প্রকৃতি সুশান্ত।