খুঁজুন
, ,

সালথায় মাদক বিক্রির অভিযোগে যুবকের চুল কেটে দিল জনতা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১:০৫ অপরাহ্ণ
সালথায় মাদক বিক্রির অভিযোগে যুবকের চুল কেটে দিল জনতা

ফরিদপুরের সালথায় মাদক বিক্রির অভিযোগে জুনায়েদ ওরফে জুনা (১৮) নামে এক যুবককে আটকের পর তার মাথার চুল কেটে দিয়েছে স্থানীয় উত্তেজিত জনতা।

শনিবার (০৪ এপ্রিল) সকাল থেকে এই ঘটনার ৫৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

এর আগে শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের ভাবুকদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তোভোগী মাদক ব্যবসায়ী জুনায়েদ ভাবুকদিয়া গ্রামের সামাদ মিয়ার ছেলে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, কেচি দিয়ে এক যুবকের মাথার চুল কেটে দিচ্ছি এক ব্যক্তি। আর ঘটনার চারপাশ দিয়ে দাঁড়িয়ে চুল কাটার দৃশ্য দেখছেন উৎসুক জনতা। এদের মধ্যে ঘটনার দৃশ্যটি মোবাইল দিয়ে ভিডিও ধারণ করছেন।

ভাবুকদিয়া গ্রামের বাসিন্দারা জানান, জুনায়েদ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় গাঁজা ও ইয়াবা বিক্রির অভিযোগ আসছিল। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর বারবার তাকে সতর্ক করার পরেও তিনি মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিল। শুক্রবার রাতে কয়েকজন বহিরাগত ব্যক্তি ভাবুকদিয়া গ্রামে জুনায়েদের কাছে মাদক ক্রয় করতে আসেন। বিষয় স্থানীরা টের পেয়ে তখন জুনায়দেকে আটক করেন। পরে উত্তেজিত জনতা প্রকাশ্যে তার মাথার চুল কেটে দিয়ে প্রতিবাদ জানান।

ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা কয়েকজন ব্যক্তি জানান, চুল কাটার সময় জুনায়েদ ভুল স্বীকার করে আর মাদক ব্যবসায় জড়াবে না বলে আশ্বাস দেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে আটক মাদক ব্যবসায়ী জুনায়েদকে এভাবে চুল কেটে ছেড়ে না দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করলে ভাল হতো বলে মনে করেন অনেকে।

সালথা থানার ওসি (তদন্ত) ইন্দ্রজিৎ মল্লিক বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি খোঁজ খবর নিচ্ছি। ঘটনাটি তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে খাল খনন প্রকল্পে শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধে অনিয়মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ৮:০২ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে খাল খনন প্রকল্পে শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধে অনিয়মের অভিযোগ

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার গাজীরটেক ইউনিয়নের হাজীগঞ্জ বাজার সংলগ্ন পদ্মা নদী থেকে ভুবনেশ্বর নদী পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার খাল খনন কাজ শেষ হলেও শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কাজ শেষে ১৬ দিন পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ শ্রমিক এখনো তাদের প্রাপ্য মজুরি পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।

জানা গেছে, প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিকরা টানা দুই মাস খাল খননের কাজ সম্পন্ন করেন। রোববার (১২ জুলাই) হাজীগঞ্জ সোনালী ব্যাংকে শ্রমিকদের সুপারভাইজার আব্দুল মান্নান সরদার শ্রমিকদের মধ্যে ৯ হাজার ৯০০ টাকা করে চেক বিতরণ করেন। তবে শ্রমিকদের অভিযোগ, ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের পর কয়েকজন শ্রমিকের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা করে রেখে দেওয়া হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের সঙ্গে সুপারভাইজারের বাকবিতণ্ডা শুরু হলে সেখানে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তাঁর নির্দেশনায় পর্যায়ক্রমে সব শ্রমিকের হাতে চেক হস্তান্তর ও বকেয়া মজুরি পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হলে শ্রমিকরা শান্ত হয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে সুপারভাইজার আব্দুল মান্নান সরদার বলেন, “আমি দুইজন শ্রমিকের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা করে মোট ১০ হাজার টাকা নিয়েছিলাম। পরে সেই টাকা ফেরত দিয়েছি। এছাড়া পর্যায়ক্রমে সব শ্রমিকের হাতে তাদের চেক তুলে দেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে চরভদ্রাসন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগটি আমার কাছে এসেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া মমতাজ বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হয়েছে। কোনো শ্রমিক যেন তার প্রাপ্য মজুরি থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব শ্রমিকের হাতে তাদের চেক পৌঁছে দেওয়া হবে এবং অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা দ্রুত তাদের সম্পূর্ণ ও ন্যায্য মজুরি পরিশোধের পাশাপাশি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ফরিদপুরে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে অনশন, লাথি মেরে পেটের সন্তান নষ্টের অভিযোগ

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ৭:৪৮ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে অনশন, লাথি মেরে পেটের সন্তান নষ্টের অভিযোগ

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে স্বামীর বাড়িতে অবস্থান নেওয়া এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে মারধরের ঘটনায় গর্ভের সন্তান নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্বামীসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে সদরপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার ভাষাচর ইউনিয়নের আমির খার ডাঙ্গী গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে। ভুক্তভোগী বিথী আক্তার (২৮) মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বড়দোয়ালী গ্রামের বাসিন্দা।

থানার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রথম স্ত্রীর কথা গোপন রেখে ভাষাণচর এলাকার উকিল উদ্দিন শেখের ছেলে কাতার প্রবাসী শাহিন শেখ (৩৫) প্রায় ৭ মাস আগে তাকে বিয়ে করে। বিয়ের কয়েক মাস পর তাকে কাতারে নিয়ে যান। প্রায় ৩ মাস আগে তারা একসাথে দেশে ফিরে। বিথীকে শাহিন তার বাড়িতে না তুলে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বাসা করে রাখে। পরবর্তী বিথী গর্ভবর্তী হলে তাকে রেখে পালিয়ে আসে। পরে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পরও স্ত্রীর মর্যাদা না পেয়ে গত ১০ জুলাই স্থানীয়দের সহযোগিতায় তিনি সদরপুর উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের আমির খার ডাঙ্গী গ্রামে স্বামীর বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেন।

অভিযোগে আরও জানা যায়, ১১ জুলাই সকালে অভিযুক্তরা তাকে বাড়ি থেকে চলে যেতে চাপ দেন। তিনি অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করা হয়। এক পর্যায়ে শাহিনের চাচা পাঞ্জু শেখ তার পেটে লাথি মারে। এতে তিনি গুরুত্বর আহত হয় এবং রক্তক্ষরণ শুরু হলে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে বিথীর অবস্থার অবনতি হওয়ায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার গর্ভের সন্তান মারা যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বিথী আক্তার বাদী হয়ে স্বামীসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাহিনের সাথে কথা বলতে গেলে তাকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি এবং তার মোবাইল নাম্বাটিও বন্ধ পাওয়া যায়।

সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন শাহ জানান, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কখন গোসল করা সবচেয়ে ভালো? যা বলছেন বিশেষজ্ঞ

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ৭:২৪ পূর্বাহ্ণ
কখন গোসল করা সবচেয়ে ভালো? যা বলছেন বিশেষজ্ঞ

দিন শুরুর প্রথম কাজ হিসেবে এক পশলা গরম পানির নিচে ১০ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকা অনেকের কাছেই প্রশান্তির। আবার অনেকের কাছে সারাদিনের ক্লান্তি আর ধুলোবালি শরীর থেকে ঝেড়ে ফেলে ফ্রেশ হয়ে বিছানায় যাওয়াটাই পরম তৃপ্তির। এই দুই দলের মানুষের মধ্যে বিতর্ক বেশ পুরোনো, গোসল করার সঠিক সময় আসলে কোনটি? বিজ্ঞান আসলে কী বলে?

সকালে গোসল করার পক্ষের মানুষরা মনে করেন, এটি তাদের ঘুম কাটাতে এবং নতুন দিনের জন্য প্রস্তুত হতে সাহায্য করে। মাইক্রোবায়োলজিস্ট প্রিমরোজ ফ্রিস্টোনের মতে, সকালে গোসল করা শরীরের জন্য উপকারী। কারণ এটি রাতে ঘুমানোর সময় শরীর থেকে নিঃসৃত ঘাম এবং জমে থাকা জীবাণু দূর করে। এমনকি শীতকালেও মানুষ ঘুমের মধ্যে ঘামতে পারে এবং প্রচুর পরিমাণে মৃত চামড়া বিছানায় ত্যাগ করে, যা ধুলিকণা বা ডাস্ট মাইটের প্রজনন ক্ষেত্র হয়ে দাঁড়ায়। তাই সকালের গোসল আপনাকে সারাদিনের জন্য একদম পরিচ্ছন্ন ও সতেজ রাখে।

অন্যদিকে, রাতে গোসল করারও বেশ কিছু বৈজ্ঞানিক সুবিধা রয়েছে। সারাদিনের বাইরের ধুলোবালি, ঘাম, এবং পরিবেশ দূষণ থেকে শরীরে যে ময়লা জমে, তা রাতে ধুয়ে ফেলা হয়। যদি আপনি রাতে গোসল না করে বিছানায় যান, তবে সেই ময়লা আপনার বিছানার চাদর ও বালিশে স্থানান্তরিত হয়।

বিজ্ঞান আরও বলছে যে, ঘুমানোর এক বা দুই ঘণ্টা আগে ১০ মিনিটের একটি কুসুম গরম পানির গোসল দ্রুত ঘুমিয়ে পড়তে সাহায্য করে। গোসলের ফলে শরীরের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পায় এবং পরে তা দ্রুত কমতে শুরু করে, যা শরীরকে ঘুমের জন্য প্রস্তুত হওয়ার সংকেত দেয়।

তবে রাতে গোসল করার উপকারিতা কেবল তখনই পাওয়া যাবে, যখন আপনার বিছানার চাদর ও বালিশ নিয়মিত পরিষ্কার থাকে। চাদরে জমে থাকা ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাক হাপানি বা অ্যালার্জির সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। গবেষক হোলি উইলকিনসনের মতে, রাতে গোসলের চেয়েও বিছানার চাদর পরিষ্কার রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অপরিচ্ছন্ন বিছানায় ঘুমালে ত্বকের সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।

তাহলে কখন গোসল করা সবচেয়ে ভালো? বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি আসলে ব্যক্তিগত পছন্দ এবং আপনার পেশার ওপর নির্ভর করে। যেমন: একজন কৃষক বা কঠোর পরিশ্রমী মানুষের জন্য দিনের শেষে গোসল করা জরুরি, যেখানে অন্যদের জন্য দিনে একবার গোসল করাই যথেষ্ট।

আসলে আপনি দিনে একবার যে সময়েই গোসল করুন না কেন, স্বাস্থ্যের ওপর তার খুব বেশি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে না। মূল বিষয়টি হলো শরীরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং একটি সুস্থ জীবনযাপন নিশ্চিত করা। তাই আপনার শরীর ও মন যখন চায়, তখনই সতেজ হয়ে নিতে পারেন এক পশলা পানিতে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি