খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬, ১২ চৈত্র, ১৪৩২

ফরিদপুর-২ আসনে ভোটের মাঠে হামলার অভিযোগ, কাফনের কাপড় পরে ১১ দলীয় জোটের সংবাদ সম্মেলন

ফরিদপুর ও সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:৪১ পিএম
ফরিদপুর-২ আসনে ভোটের মাঠে হামলার অভিযোগ, কাফনের কাপড় পরে ১১ দলীয় জোটের সংবাদ সম্মেলন

ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা–সালথা) আসনে নির্বাচনী প্রচারণাকালে গাড়ি বহরে হামলার অভিযোগ তুলে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ১১ দলীয় জোট।

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় রবিবার (০৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ব্যতিক্রমধর্মী এই সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে কাফনের কাপড় পরিধান করেন।

সালথা উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের বাহিরদিয়া মাদরাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত রিকশা মার্কার এমপি প্রার্থী মাওলানা আকরাম আলী ওরফে ‘ধলা হুজুর’-এর গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ তুলে ধরে জোটের নেতারা বলেন, এটি শুধু একজন প্রার্থীর ওপর হামলা নয়, বরং নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর সরাসরি আঘাত।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন প্রার্থী মাওলানা আকরাম আলী। তিনি বলেন, “গত ৭ ফেব্রুয়ারি নগরকান্দা ও সালথা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে সাধারণ মানুষের মাঝে লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছিল। এ সময় সিংহপ্রতাপ বাজার এলাকায় পৌঁছালে পরিকল্পিতভাবে আমার গাড়িবহরে বাধা দেওয়া হয় এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।”

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রতিপক্ষের কিছু নেতাকর্মী উসকানিমূলক স্লোগান দিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে। এতে করে নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ি এবং স্বাভাবিক প্রচারণা কার্যক্রম ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী ও পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতারা অভিযোগ করেন, “নির্বাচনী মাঠে ভয় দেখিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে দমিয়ে রাখার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। প্রশাসনের নীরবতা এমন অপতৎপরতাকে উৎসাহিত করছে।” তারা অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং নির্বাচনী পরিবেশ নিরাপদ করার দাবি জানান।

কাফনের কাপড় পরে সংবাদ সম্মেলন আয়োজনের বিষয়ে আকরাম আলীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মুফতি মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, এটি একটি প্রতীকী প্রতিবাদ। তাঁদের ভাষায়, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন করতে চাই। কিন্তু যদি আমাদের জীবননাশের হুমকি দিয়ে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, তাহলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়াই করবো—এই বার্তাই আমরা দিতে চেয়েছি।”

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ১১ দলীয় জোটের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মী-সমর্থকরা। বক্তারা বলেন, ফরিদপুর-২ আসনে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত না হলে তার দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে।

সেনা বাহিনী সূত্র জানায়, ঘটনার দিন খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন সেনাবাহিনী। এ ঘটনার পর বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালানো হয়। এলাকার পরিবেশ শান্ত রয়েছে। এ ঘটনার সত্যতা যাচাই-পূর্বক জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান খান বলেন, “মাওলানা আকরাম আলী নির্বাচনী কাজে সিংহপ্রতাপ বাজারে লিফলেট বিতরণ করছিলেন। বাজারের পাশে বিএনপির একটি অফিস থাকায় সেখানে দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা ধলা হুজুরকে দেখে ধানের শীষের মিছিল দেন, ফলে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।”

তিনি আরও বলেন, “পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে ধলা হুজুর সেনা ক্যাম্পে ফোন করেন। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে তাঁর গাড়ির ওপর সরাসরি হামলার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যদিও ধানের শীষের কিছু নেতাকর্মী তখন উত্তেজিত ছিলেন। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।”

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, খবর পাওয়া মাত্রই ওই এলাকায় সেনাবাহিনী যান। এছাড়া প্রতিটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশি চালায়। তিনি বলেন, রিকশা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষ থেকে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, সালথা উপজেলা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। ভোটের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বজায় রাখতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে টহল অব্যাহত আছে। এই নির্বাচন নিয়ে কেউ যদি বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করে, তাকে ছাড় দেওয়া হবেনা। অন্যদিকে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে প্রশাসন।’

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই সময় বাজার এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হঠাৎ স্লোগান, মিছিল ও নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতিতে স্বাভাবিক ব্যবসা-বাণিজ্য কিছু সময়ের জন্য স্থবির হয়ে যায়।

১১ দলীয় জোটের নেতারা দাবি করেন, নির্বাচনের মাঠে সব প্রার্থীর সমান সুযোগ থাকা উচিত। কিন্তু একটি পক্ষ প্রভাব খাটিয়ে ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে। তারা নির্বাচন কমিশন, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান, যেন অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনের শেষাংশে বলা হয়, “আমরা সংঘাত নয়, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চাই। কিন্তু যদি আমাদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ে রাজপথে থাকবো।”

বেয়ালমারীর ৫শ বছরের পুরনো কাটাগড় মেলা শুরু হয়েছে আজ

বোয়ালমারী প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬, ১০:৪৯ পিএম
বেয়ালমারীর ৫শ বছরের পুরনো কাটাগড় মেলা শুরু হয়েছে আজ

এক বছর বন্ধ থাকার পর আবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ৫শ বছরের ঐতিহ্যবাহী কাটাগড় দেওয়ান শাগির শাহর মেলা।

বুধবার (২৫ মার্চ) থেকে আগামী সোমবার পর্যন্ত পাঁচ দিনব্যাপী এ মেলা ঘিরে ফরিদপুরের বোয়ালমারীর ২০টি গ্রামে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

মেলা উপলক্ষে উপজেলার কাটাগড়, সহস্রাইল, ভুলবাড়িয়া, কলিমাঝি, মাইটকুমরা, গঙ্গানন্দপুর, ছত্রকান্দা, সুর্যোগ, বন্ডপাশা, বয়রা, বামনগাতীসহ আশপাশের গ্রামের অধিকাংশ বাড়িতে আত্মীয়স্বজনের সমাগম থাকে। প্রতিবছর দেওয়ান শাগির শাহর মেলা শুরুর প্রতীক্ষায় থাকেন এ অঞ্চলের মানুষ।

স্থানীয়দের ভাষ্য, কাটাগড় মেলার বিশেষ ট্রেড মার্ক তালপাতার হাতপাখা। এ ছাড়া বাচ্চাদের খেলার সামগ্রী থেকে সাংসারিক নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস মেলায় বিক্রি হয়। এ উপলক্ষে বিভিন্ন জেলা থেকে আসে নানা রকম ফার্নিচার। মেলায় বড় আকারের মাছ নিয়ে উপস্থিত হন দূরদূরান্তের মাছ ব্যবসায়ীরা।

প্রতিবছর ২৫ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত এ মেলা অনুষ্ঠিত হলেও ২৬ মার্চ হয় বড় মেলা। মেলা উপলক্ষে শাগির শাহর আস্তানার চারপাশে বসে বাউল সাধকদের আধ্যাত্মিক গানের আসর। এতে মরমি গানের সুরে মোহিত হয় দর্শক-শ্রোতা।
এ বছর মেলা উপলক্ষে আগেই খোলা ডাকের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে মেলার মাঠ। গত রোববার সন্ধ্যায় দেওয়ান শাগির শাহর মাজার প্রাঙ্গণে এ ডাক অনুষ্ঠিত হয়। সব মিলে প্রায় সাড়ে ২৯ লাখ টাকায় মেলা মাঠের বিভিন্ন অংশ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছে ইজারা দেওয়া হয়েছে।

বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান বলেন, কাটাগড়ের মেলা এই এলাকার ঐতিহ্যবাহী মেলা; মানুষের আনন্দ-উৎসবের একটা উপলক্ষ। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, মেলার মাঠ ডাকের বিষয়টি তাঁর জানা নেই। এ বিষয়ে খোঁজ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

‘এখন আমি মেয়েকে নিয়ে কিভাবে বাঁচবো’?

মো. নুর ইসলাম, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬, ৭:৫০ পিএম
‘এখন আমি মেয়েকে নিয়ে কিভাবে বাঁচবো’?

রক্তাক্ত নিথর দেহটা থানা চত্বরে অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে সাদা কাপড়ে ঢাকা! চারপাশে মানুষের ভিড়, ফিসফাস আর নিস্তব্ধতা। সেই নিস্তব্ধতাকে ভেঙে বুকফাটা আর্তনাদ, ‘ওগো তুমি আমাকে এভাবে ফেলে গেলে কেন? এখন আমি মেয়েকে নিয়ে কিভাবে বাঁচবো?’

স্বামীর লাশের পাশে এভাবেই আহাজারি করছিলেন নিহত হুমায়ন কবীর (৫৭) ওরফে মিন্টু মোল্লার স্ত্রী ফরিদা বেগম। ফরিদপুরের বোয়ালমারীর চতুল গ্রামের নিহতের বাড়িটি ও থানা চত্বর পরিণত হয়েছে শোকের মাতমে।

বুধবার (২৫ মার্চ) সকালে পৈতৃক জমির গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে বড় ভাইয়ের সটগানের গুলিতে নিহত হন মিন্টু মোল্লা। এ ঘটনার কয়েক ঘন্টা পরে স্থানীয় থানায় আনা হয় তার মরদেহ। আর সেই মরদেহ ঘিরেই শুরু হয় স্ত্রী ও সন্তানের হৃদয়বিদারক কান্না।

স্ত্রী ফরিদা বেগম বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছিলেন। কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফিরতেই আবার ছুটে গিয়ে স্বামীর নিথর দেহ আঁকড়ে ধরে কাঁদতে থাকেন। ‘আমার সব শেষ হয়ে গেল। এই মানুষটাই ছিল আমার সহায় সম্বল’।

আরেক পাশের দাঁড়িয়ে থাকা এক ব্যক্তির কোলে কাঁদছিল তাদের একমাত্র মেয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী ফাবিহা কবীর। ‘বাবার নিথর মুখের দিকে তাকিয়ে তার ছোট্ট মুখে “বাবা, তুমি উঠো …. তুমি কেন কথা বলছো না?’

কিছুক্ষণ পর কান্নাজড়িত কণ্ঠে সে বলে, “আমার বাবাকে কেড়ে নিলো। আমি এখন এতিম হয়ে গেলাম। আমার পড়াশোনা কীভাবে চলবে? আমি বাবার খুনির বিচার চাই।”

পরিবারের আত্মীয় স্বজনরা জানান, মিন্টুই ছিলেন এই ছোট্ট পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি। তার রোজগারেই চলতো সংসার, মেয়ের পড়াশোনা সবকিছু। এক মুহূর্তে সেই ভরসার জায়গাটাই ভেঙে পড়েছে। খুনির মামলার যন্ত্রণায় মিন্টুর কিছুই সহায় স্বম্বল নাই।

গ্রামের প্রতিবেশীরা বলেন, সামান্য গাছ নিয়ে এমন ভয়ংকর ঘটনা ঘটবে, তা কেউ ভাবতে পারেনি। এখন এই পরিবারটার দিকে তাকালে চোখে পানি চলে আসে রীতিমত।

লাশের অ্যাম্বুলেন্সের পাশে পড়ে আছে মেয়ের স্কুলব্যাগ, খাতাপত্র-যেখানে হয়তো লেখা ছিল ভবিষ্যতের স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তার অন্ধকারে ঢেকে গেল।

এ ঘটনার পর বিকেলে নিহতের স্ত্রী ফরিদা বেগম বাদী হয়ে গোলাম কবির, তার দ্বিতীয় স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগমসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে বোয়ালমারী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় আসামি স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেইন বলেন, আটকৃত স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে আদালতে পাঠানো হবে।

ফরিদপুরে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবককে গরম পানি ঢেলে ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩০ পিএম
ফরিদপুরে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবককে গরম পানি ঢেলে ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবকের শরীরে গরম পানি ঢেলে গুরুতরভাবে ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। মর্মান্তিক এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে।

ভুক্তভোগী সোহেল মোল্লা (২৫) উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের ফলিয়া গ্রামের দরিদ্র দিনমজুর শাহজাহান মোল্লার ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সন্ধ্যার একটু আগে সহস্রাইল বাজারের একটি চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে।

চায়ের দোকানদার বাবলু জানান, ওই সময় দোকানে বসে চা পান করছিলেন আক্তার খালাসি নামে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা ও তার কয়েকজন সঙ্গী। এসময় মানসিক ভারসাম্যহীন সোহেল হঠাৎ পেছন দিক থেকে এসে আক্তার খালাসিকে জড়িয়ে ধরে এবং হাত টানাটানি শুরু করে। এতে পরিস্থিতি উত্তেজিত হয়ে ওঠে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোহেলকে ছাড়াতে গিয়ে আক্তার খালাসি প্রথমে তাকে ধাক্কা দেন। একপর্যায়ে হাতে থাকা গরম চায়ের কেটলি দিয়ে আঘাত করলে কেটলির ফুটন্ত পানি সোহেলের শরীরে পড়ে যায়। এতে তার বুক থেকে শুরু করে পা পর্যন্ত অংশ মারাত্মকভাবে ঝলসে যায়।

ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।

সোহেলের বাবা শাহজাহান মোল্লা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ডাক্তার ঢাকায় নিতে বলছে, কিন্তু আমার সেই সামর্থ্য নেই। কীভাবে ছেলের চিকিৎসা চালাবো বুঝতে পারছি না।” তিনি জানান, তার ছেলে একজন ভাতাপ্রাপ্ত বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যও।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আক্তার খালাসির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসনাত জানান, আহত অবস্থায় সোহেলকে হাসপাতালে আনার পর বিষয়টি তারা জানতে পারেন। তিনি বলেন, “চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। ঘটনাস্থল বোয়ালমারী থানার আওতাধীন হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারকে সেখানে অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।”

তবে দরিদ্র পরিবারটি বর্তমানে চিকিৎসা নিয়েই ব্যস্ত থাকায় এখনো থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করতে পারেনি।

এদিকে, এমন নির্মম ঘটনার প্রতিবাদে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অসহায় পরিবারটির চিকিৎসা সহায়তায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।