খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬, ১০ চৈত্র, ১৪৩২

“আসন্ন ১২ তারিখের নির্বাচন নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র চলছে” : শামা ওবায়েদ

ফরিদপুর ও সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩৫ এএম
“আসন্ন ১২ তারিখের নির্বাচন নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র চলছে” : শামা ওবায়েদ

ফরিদপুর-২ (সালথা–নগরকান্দা) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম নির্বাচনী মাঠে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে শান্ত, সংযত ও সংগঠিত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আসন্ন ১২ তারিখের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নানা ষড়যন্ত্র চলছে। এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় ধৈর্য, ঐক্য ও জনগণের ওপর আস্থা রাখাই বিএনপির মূল শক্তি।

শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের বাউষখালী বাজার মাঠে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত এক নির্বাচনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় এলাকার বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, “১২ তারিখে আপনারা সকাল সকাল ভোট দিতে যাবেন। ১১ তারিখ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত ধানের শীষের প্রতিটি ভোট পাহারা দিতে হবে। কেউ উসকানি দিয়ে ঝগড়া করতে এলে তাতে জড়ানো যাবে না। মাথা ঠান্ডা রেখে মানুষের কাছে যাবেন, ভোট চাইবেন—এটাই আমাদের কাজ।” তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে স্পষ্ট করে বলেন, বিএনপির রাজনীতি শান্তিপূর্ণ ও জনগণকেন্দ্রিক, এখানে সহিংসতার কোনো স্থান নেই।

ধর্মীয় অনুভূতি ও বিশ্বাসের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমরা মুসলমান। ইসলাম আমাদের জীবনের প্রতিটি অংশের সঙ্গে জড়িত। কোরআনের নির্দেশনা অনুসরণ করে ভালো মানুষ ও ভালো মুসলিম হওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু জান্নাত–জাহান্নামের নিশ্চয়তা দেওয়ার অধিকার একমাত্র আল্লাহর। কেউ যদি নিজেকে সেই নিশ্চয়তার মালিক মনে করে, তবে তা নাফরমানির শামিল।” তিনি আরও বলেন, ইসলাম ধারণ করার বিষয়, বিক্রির কোনো পণ্য নয়।

নিজ নির্বাচনী এলাকার মানুষের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, “আপনাদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক শুধু নির্বাচনের নয়—এ সম্পর্ক মাটি, হৃদয় ও আত্মার। নির্বাচন একদিন শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু আমাদের সম্পর্ক থাকবে আজীবনের।” গত ১৭ বছর ধরে এলাকার মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন উল্লেখ করে তিনি ভোটারদের কাছে একবার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান, যাতে সালথা উপজেলাকে একটি মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলা যায়।

বাবা বিএনপির সাবেক মহাসচিব কে এম ওবায়দুর রহমানের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ন্যায় ও সত্যের প্রশ্নে তিনি কখনো আপস করেননি। সেই আদর্শ ধারণ করেই তিনি রাজনীতি করছেন এবং ভবিষ্যতেও জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

সভায় বল্লভদী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. মজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন- মুকসুদপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান লিপু মিয়া, সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি শাহিন মাতুব্বর, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. ওহিদুজ্জামানসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

‘যক্ষ্মা মুক্ত বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গীকারে ফরিদপুরে বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস পালিত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬, ৫:১৯ পিএম
‘যক্ষ্মা মুক্ত বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গীকারে ফরিদপুরে বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস পালিত

ফরিদপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। “দেশের নেতৃত্বে ও জনগণের শক্তিতে আমরা যক্ষ্মা নির্মূল করতে পারি”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

দিবসটি উপলক্ষে সকালে ফরিদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সিভিল সার্জন কার্যালয় প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। এতে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সচেতন নাগরিকরা অংশগ্রহণ করেন।

র‍্যালি শেষে কার্যালয় প্রাঙ্গণে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান। সভায় বক্তারা যক্ষ্মা প্রতিরোধ, সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় এবং নিয়মিত চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

বক্তারা জানান, ১৮৮২ সালের ২৪ মার্চ জার্মান বিজ্ঞানী রবার্ট কখ যক্ষ্মার জীবাণু মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকুলোসিস আবিষ্কার করেন। এ আবিষ্কারের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে ১৯৮২ সাল থেকে প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে যক্ষ্মা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং রোগটি নির্মূলে সবাইকে সম্পৃক্ত করা।

আলোচনা সভায় আরও জানানো হয়, বাংলাদেশে যক্ষ্মা এখনও একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে বিদ্যমান। তবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির মাধ্যমে রোগটি প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। দেশের প্রতিটি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিনামূল্যে যক্ষ্মা পরীক্ষা ও ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে।

বক্তারা বলেন, যক্ষ্মা একটি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য রোগ। তবে রোগটি সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা ও সামাজিক কুসংস্কার দূর না হলে নির্মূল সম্ভব নয়। এজন্য জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

অনুষ্ঠানে যক্ষ্মা প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগ জোরদার করার আহ্বান জানানো হয় এবং ভবিষ্যতে রোগমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

হোটেলের আড়ালে অনৈতিক বাণিজ্য! ফরিদপুরে চলছে রমরমা দেহব্যবসা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬, ৩:৩১ পিএম
হোটেলের আড়ালে অনৈতিক বাণিজ্য! ফরিদপুরে চলছে রমরমা দেহব্যবসা

ফরিদপুর শহরের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে দীর্ঘদিন ধরে দেহব্যবসা চলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, শহরের একাধিক হোটেলে বাইরে থেকে নারী এনে এই অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে, যদিও প্রশাসন এ ধরনের অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শহরের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত কিছু আবাসিক হোটেলে প্রতিদিনই এই ধরনের কার্যক্রম চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রতি গ্রাহকের কাছ থেকে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া পুরো রাতের জন্য ২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে শহরের হেলিপোর্ট বাজার এলাকার একটি আবাসিক হোটেল, ব্রেইলি ব্রিজ সংলগ্ন কয়েকটি হোটেল এবং হাজী শরীয়তুল্লাহ বাজার এলাকার কয়েকটি হোটেলসহ অন্তত ৮ থেকে ১০টি স্থানে সন্দেহজনক কার্যক্রম লক্ষ্য করা গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এসব হোটেলের আশপাশে কিছু নারীকে প্রকাশ্যে ক্রেতা ডাকতে দেখা যায়, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

এ বিষয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতায় এই অবৈধ ব্যবসা টিকে আছে। তাদের দাবি, অনেক সময় অভিযানের আগেই সংশ্লিষ্ট হোটেলগুলোকে সতর্ক করে দেওয়া হয়। ফলে অভিযান পরিচালনার সময় কাউকে পাওয়া যায় না, এবং অভিযানের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে, প্রশাসন সেটা অস্বীকার করেছে।

এদিকে, অনুসন্ধানে কিছু রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও সামনে এসেছে। গোয়ালচামট এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে গিয়ে একজন ম্যানেজার নিজেকে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করেন এবং একটি ভিজিটিং কার্ড প্রদর্শন করেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) মো. শামছুল আজম বলেন, “দেহব্যবসার মতো অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পুলিশ সবসময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আমরা নিয়মিতভাবে বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে অভিযান পরিচালনা করছি। কেউ যদি সুনির্দিষ্ট তথ্য দেন, তাহলে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারব। কোনো অসাধু ব্যক্তি প্রশাসনের নাম ব্যবহার করলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অন্যদিকে, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মিন্টু বিশ্বাস বলেন, “প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত—এমন অভিযোগ সত্য নয়। বরং কিছু অসাধু চক্র প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে। আমরা নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছি এবং যেখানে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে অভিযান চালানো হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, “আইনের বাইরে গিয়ে কোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই। কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে যেই হোক না কেন। মাদক ও নারী আর হোটেলে দেহ ব্যবসার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করা হয়েছে।”

সচেতন মহল মনে করছে, অভিযোগগুলোর সঠিক তদন্ত এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। একইসঙ্গে নিয়মিত ও কার্যকর অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে এ ধরনের অনৈতিক কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।

ঈদের সাত দিনের ছুটি শেষে খুলেছে অফিস-আদালত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬, ১০:৫৪ এএম
ঈদের সাত দিনের ছুটি শেষে খুলেছে অফিস-আদালত

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাত দিনের সরকারি ছুটি শেষ হয়েছে সোমবার (২৩ মার্চ)। গত মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) এ থেকে ছুটি শুরু হয়।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) থেকে অফিস-আদালত খুলেছে। অফিস চলবে সকাল ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত।

ছুটি শেষে কর্মজীবী মানুষ বাস, ট্রেন, লঞ্চে এবং ব্যক্তিগত বাহনে বাড়ি থেকে ফিরেছেন।

গত ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ঈদের পাঁচ দিন ছুটি নির্ধারণ করা ছিল। পূর্ব ঘোষিত ছুটির পাশাপাশি ১৮ মার্চও ছুটির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এর ফলে ঈদের ছুটি ছিল মোট সাত দিন।

গত ৫ মার্চ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে শবে কদরের একদিনের ছুটির পর ১৮ মার্চও ছুটি ঘোষণা করা হয়।

রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হওয়ায় ২১ মার্চ পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে। এর মধ্যে ২১ মার্চ ঈদুল ফিতরের দিন সাধারণ ছুটি। এ ছাড়া ঈদের আগে ১৯ ও ২০ মার্চ এবং ঈদের পরে ২২ ও ২৩ মার্চ নির্বাহী আদেশে ছুটি নির্ধারণ করা ছিল।

আর গণমাধ্যমকর্মীরা ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ছুটি পেয়েছিলেন পাঁচ দিন।