খুঁজুন
, ,

বিএনপি-আওয়ামী লীগ-জামায়াত-সে যেই হোক—দোষী হলে রেহাই নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

হারুন-অর-রশীদ ও মো. নুর ইসলাম, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ
বিএনপি-আওয়ামী লীগ-জামায়াত-সে যেই হোক—দোষী হলে রেহাই নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জেলা প্রশাসনকে উদ্দ্যেশ্য করে বলেছেন, আপনাদের দ্ল-মত দেখার দরকার নেই। কেউ যদি দোষী হয়—সে বিএনপি, আওয়ামী লীগ বা জামায়াত যেই হোক—তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। এটিই আমাদের সরকারের স্ট্যান্ড। নিরপেক্ষভাবে ব্যবস্থা নেবেন। সরকারের পক্ষ থেকে আপনাদের পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলার বিভিন্ন দপ্তর প্রধানদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই—আমি আপনাদের সহকর্মী হিসেবে কাজ করতে চাই। আমি এখানে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে বসিনি। আমরা যদি টিমওয়ার্ক করতে পারি, তাহলেই ফরিদপুর জেলাকে সুন্দরভাবে সাজাতে পারব। আপনারা আমাকে সহকর্মী হিসেবে বিবেচনা করবেন। বেশিরভাগের কাছেই আমার ফোন নম্বর আছে। যেকোনো সমস্যা সরাসরি আমাকে জানাতে পারেন।

রমজান মাস নিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, দ্রব্যমূল্য যাতে আর না বাড়ে, সে বিষয়ে সরকার সচেষ্ট আছে। কমার্স মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো ইতিমধ্যে সে বিষয়ে কাজ শুরু করেছে। আপনারা যারা গ্রাউন্ড লেভেলে আছেন, আপনাদের কোনো বিশেষ পরামর্শ থাকলে অবশ্যই দেবেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, রমজান মাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জনগণের মনে শান্তি রাখা, যাতে তারা সুন্দরভাবে রোজা পালন করতে পারে এবং ঈদ পালন করতে পারে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে একটি বিষয় দেখিয়ে দিয়েছেন। এই সরকার অনেক যুদ্ধের পরে, অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এসেছে। জনগণেরও অনেক আকাঙ্খা এই সরকারের ওপর। সুতরাং এটাকে হেলাফেলা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, বিশেষ করে মাদক নিয়ে ঘরে বসে কথা বললে হবে না। আমাদের কিছু স্ট্র‍্যাটেজিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যারা মাদক সেবন করে, তারা অনেক ক্ষেত্রে ভিকটিম। কিন্তু যারা মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে। শর্ট টার্মে অ্যাকশন দেখাতে হবে, পাশাপাশি লং টার্মে সামাজিক সচেতনতা চালিয়ে যেতে হবে।

শামা ওবায়েদ বলেন, রমজান মাসে সকল জনগণ দল-মত নির্বিশেষে সুন্দরভাবে রোজা ও ঈদ পালন করবে, দ্রব্যমূল্য সহনীয় থাকবে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হবে না। কোনো ষড়যন্ত্র যেন সফল না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

সভায় উপস্থিত ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন উপজেলা) আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, আমরা যে নানান পরিবর্তনের কথা বলছি, সেই পরিবর্তন অবশ্যই হবে। আপনারা ইতোমধ্যেই দেখেছেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই পরিবর্তন নিজে থেকেই শুরু করেছেন। আমরাও চাই এই পরিবর্তনটা সর্বব্যাপী হোক। তবে মানুষের যেমন চাওয়া যে একটা সুইচ দিলে সব পরিবর্তন হয়ে যাবে, এটা ঠিক না। তবে আবার পরিবর্তন যে হবে না, সেটাও না। পরিবর্তন অবশ্যই হবে। সবটুকু যদি অর্জন নাও করতে পারি, অন্তত কিছুটা ভালো অর্জন করতে পারব।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যার সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে এসময় বক্তব্য দেন, পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নজরুল ইসলাম, সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান, জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এ.এস.এম. আলী আহসান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শাহাদুজ্জামান, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ফরিদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী আজহারুল ইসলাম, ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছা, সদস্য সচিব একেএম কিবরিয়া স্বপন ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক কাজী রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ প্রমুখ।

ফরিদপুরে ৭ হাজার ৯০০ পিস ইয়াবাসহ কক্সবাজারের যুবক গ্রেপ্তার

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ৭ হাজার ৯০০ পিস ইয়াবাসহ কক্সবাজারের যুবক গ্রেপ্তার

কক্সবাজার পৌরসভা এলাকা থেকে ইয়াবার বড় চালানের খবর পেয়েই তৎপর হন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) সদস্যরা। দীর্ঘ নজরদারি শেষে ফরিদপুরের ভাঙ্গা এলাকা থেকে আটক করা হয় তরুণ মাদক কারবারি মো. হারুন রশীদকে (২৪)।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে চালানের সাত হাজার নয়শত (৭,৯০০) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট।

​মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টা থেকে ১১ টার মধ্যে ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থানাধীন ভাঙ্গা বাসস্টপ সংলগ্ন ভাঙ্গা-বরিশাল কাউন্টারের পশ্চিম পাশে পাকা রাস্তার ওপর এক বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় সন্দেহভাজন হিসেবে টেকনাফ-কক্সবাজার রুট দিয়ে আসা যুবকদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়। পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে মো. হারুন রশীদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

​গ্রেফতারকৃত হারুন রশীদ কক্সবাজার পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের টেকপাড়া এলাকার (ইউনুছ এর বাড়ির ভাড়াটিয়া) মৃত সিদ্দিক মিয়া ও মৃত রেনুয়ারা বেগমের ছেলে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা কক্সবাজার থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে ফরিদপুরসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করে আসছিল।

​এ বিষয়ে ফরিদপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শিরিন আক্তার ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে জানান, “মাদক সরবরাহ ও পাচারের বিরুদ্ধে আমাদের নিয়মিত জিরো টলারেন্স অভিযান চলছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আমরা বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ হারুনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই। এ ঘটনায় ভাঙ্গা থানায় নিয়মিত ধারায় ১টি মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছে।”

​ডিএনসি ফরিদপুর জেলা কার্যালয়ের পরিচালিত এ অভিযানে আটক আসামিকে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে। মাদকের এই বড় সিন্ডিকেটের পেছনে আর কারা জড়িত রয়েছে, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

ফরিদপুরে বসতবাড়ি থেকে দেড় কেজি গাঁজা উদ্ধার, নারী গ্রেপ্তার

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে বসতবাড়ি থেকে দেড় কেজি গাঁজা উদ্ধার, নারী গ্রেপ্তার

ফরিদপুর শহরের কুঠিবাড়ি এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে বসতবাড়ি থেকে ১ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ শিল্পী বেগম (৩৫) নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

​বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাসান সিকদার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ওই নারীর বসতবাড়িতে তল্লাশি চালান। এ সময় তাঁর ঘর থেকে ১ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ মাদকদ্রব্য জব্দ করে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, এ ঘটনায় থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তার নারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

ফরিদপুরে ডিম খাওয়া নিয়ে বিরোধে মারামারি, ঠেকাতে গিয়ে কৃষকের মৃত্যু

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে ডিম খাওয়া নিয়ে বিরোধে মারামারি, ঠেকাতে গিয়ে কৃষকের মৃত্যু

ফরিদপুরের সালথায় ডিম খাওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে ছেলের সঙ্গে দুই প্রতিবেশীর মারামারি থামাতে গিয়ে মো. লুৎফার মোল্যা (৫০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, মারামারি থামাতে গিয়ে তাঁকে মারধর করা হয়। তবে পুলিশের দাবি, কোনো আঘাতে নয়, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের মোন্তারমোড় বাজারে এ ঘটনা ঘটে। লুৎফার মোল্যা উপজেলার চান্দাখোলা গ্রামের মৃত পান্নু মোল্যার ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বুধবার সন্ধ্যায় মোন্তারমোড় বাজারে ডিম খাওয়া নিয়ে লুৎফারের ছেলে মো. লিয়াকত মোল্যার সঙ্গে প্রতিবেশী আলামিন ও মো. শামের কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতিতে হয়। খবর পেয়ে লুৎফার ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের থামানোর চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।

তবে স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, মারামারি থামাতে গেলে লুৎফারকে কিল-ঘুষি মারা হয়। এরপর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, ডিম খাওয়া নিয়ে লুৎফারের ছেলের সঙ্গে দুই যুবকের মারামারি হয়। এ সময় এগিয়ে গেলে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে লুৎফারের মৃত্যু হয়। তার শরীরে আঘাতের কারণে মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশের কাছে কোনো তথ্য নেই। এ ঘটনায় কেউ অভিযোগও করেননি।