খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

ফরিদপুর সুগার মিলের বিষাক্ত বর্জ্যে বিপন্ন চন্দনা নদী: দুর্গন্ধে দমবন্ধ, ভেসে উঠছে মৃত মাছ

সুজিত কুমার দাস, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:১৩ এএম
ফরিদপুর সুগার মিলের বিষাক্ত বর্জ্যে বিপন্ন চন্দনা নদী: দুর্গন্ধে দমবন্ধ, ভেসে উঠছে মৃত মাছ

ফরিদপুর সুগার মিলের অপরিশোধিত ও বিষাক্ত তরল বর্জ্যের কারণে চন্দনা নদী ক্রমেই ভয়াবহ পরিবেশগত সংকটে পড়ছে। বছরের পর বছর ধরে আখ মাড়াই মৌসুম এলেই মিল থেকে নির্গত রাসায়নিক বর্জ্য একটি খালের মাধ্যমে সরাসরি নদীতে গিয়ে মিশছে। এতে মধুখালী পৌরসভার শ্মশান ঘাট এলাকা থেকে শুরু করে নদীর ভাটির বিস্তীর্ণ অংশে পানি দূষিত হয়ে পড়েছে, নষ্ট হচ্ছে জীববৈচিত্র্য এবং চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন হাজারো মানুষ।

সরেজমিনে মধুখালী থানা গেটসংলগ্ন শ্মশান ঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ফরিদপুর সুগার মিল থেকে নির্গত কালচে ও তীব্র দুর্গন্ধযুক্ত তরল বর্জ্যপানি একটি সরু খাল বেয়ে চন্দনা নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর উজানে মাত্র ৩০০ মিটার দূরে অবস্থিত মিলটি দীর্ঘদিন ধরেই এই খাল ব্যবহার করে বর্জ্য নিষ্কাশন করছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। মিল এলাকা অতিক্রম করার সময় বাতাসে এমন তীব্র রাসায়নিক দুর্গন্ধ ছড়ায় যে পথচারীদের অনেককেই নাক-মুখ কাপড় দিয়ে ঢেকে চলাচল করতে দেখা যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মধুখালী পৌরসভার ভাটির চারটি গ্রামের অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ এই দূষণের সরাসরি শিকার। আখ মাড়াই মৌসুমজুড়ে বাতাসে ভেসে বেড়ানো দুর্গন্ধে স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়ে। নদীর পানি ব্যবহারের সুযোগ তো নেইই, এমনকি নদীর ধারে দাঁড়ানোও কষ্টকর হয়ে ওঠে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

খালটি মধুখালী আইডিয়াল একাডেমি ও ফরিদপুর চিনি কল উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মিল গেট বাজার অতিক্রম করেছে। ফলে প্রায় দেড় হাজারের বেশি শিক্ষার্থী প্রতিদিন এই দুর্গন্ধের মধ্যেই ক্লাস করতে বাধ্য হচ্ছে। ফরিদপুর চিনি কল উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, “ক্লাস চলার সময় এত বাজে গন্ধ হয় যে মাথা ব্যথা করে। মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করা যায় না। বাড়িতে ফিরলেও সেই গন্ধ যেন পিছু ছাড়ে না।”

আইডিয়াল একাডেমির গভর্নিং বডির সদস্য মো. মাসুদুল ইসলাম বলেন, “অপরিশোধিত বর্জ্যপানির দুর্গন্ধে আমাদের প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে। অভিভাবকেরা সন্তানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন। ফলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন কমছে। বিষয়টি একাধিকবার মিল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোনো কার্যকর সাড়া পাইনি।”

শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন চরম বিপাকে। চর মহিষাপুর গ্রামের বাসিন্দা ও মিল গেট বাজারের ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান মুন্সি (৫৬) বলেন, “আখ মাড়াই মৌসুমজুড়ে খাল দিয়ে বিষাক্ত পানি বয়ে যায়। দুর্গন্ধে ক্রেতারা দোকানে দাঁড়াতে চান না। কয়েক মিনিটের মধ্যেই চলে যান। এতে আমাদের ব্যবসায় বড় ক্ষতি হচ্ছে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, যেখানে মিলের বর্জ্য নদীতে মিশছে, সেখানে মাঝেমধ্যেই পানিতে মৃত মাছ ভেসে উঠতে দেখা যায়। এতে স্পষ্ট বোঝা যায়, নদীর পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা কমে গিয়ে জলজ প্রাণীর জীবন বিপন্ন হয়ে পড়ছে। একসময় যে চন্দনা নদী ছিল মাছ ও জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ, আজ তা দূষণের ভারে ধুঁকছে।

ফরিদপুর সুগার মিল সূত্রে জানা যায়, সরকারি উদ্যোগে ১৯৭৪ সালে মিলটি স্থাপন করা হয় এবং ১৯৭৬ সালে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হয়। কয়েক দশক ধরে মিলটি আখভিত্তিক শিল্প হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সুরক্ষার ঘাটতির কারণে এটি এখন আশপাশের জনপদ ও নদীর জন্য বড় হুমকিতে পরিণত হয়েছে বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা।

এ বিষয়ে ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিব হোসেন বলেন, তিনি সম্প্রতি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং মিলের বর্জ্যপানির কারণে চন্দনা নদীর পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে—এমন প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছেন। তিনি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে মিল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছেন।

ফরিদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাসরিন জাহান জানান, চন্দনা নদী এই এলাকার মৎস্যসম্পদ, কৃষি ও জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ২০২৬ সালের ১৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত জেলা সমন্বয় সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করেছেন। পরিদর্শনের সময় মিলের বিষাক্ত পানির কারণে নদীতে মাছ মারা যেতে দেখেছেন বলেও তিনি জানান।

পরিবেশ অধিদপ্তর ফরিদপুরের উপ-পরিচালক সাঈদ আনোয়ার বলেন, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে একজন পরিদর্শককে দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানো হবে। পরিদর্শন শেষে মিল কর্তৃপক্ষকে পরিবেশ আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হবে।

মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রওশনা জাহান জানান, মিল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে তাদের ইটিপি (ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) রয়েছে এবং বর্জ্যপানি নিজস্ব পুকুরে ফেলা হয়। তবে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সমাধানের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এ বিষয়ে ফরিদপুর সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারেক ফারহাদ বলেন, “চুন ও সালফার ডাই-অক্সাইড পানির সঙ্গে মিশে তীব্র দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে। আমরা মূলত মিলের নিজস্ব পুকুরের পানি ব্যবহার করি। তবে তরল হওয়ায় কিছু পানি মাটির নিচ দিয়ে চুঁইয়ে নদীতে যেতে পারে। ভবিষ্যতে যাতে কোনোভাবেই পানি নদীতে না যায়, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কেবল আশ্বাস নয়—দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ, আধুনিক বর্জ্য শোধন ব্যবস্থা এবং নিয়মিত নজরদারি ছাড়া চন্দনা নদী ও মানুষের জীবন রক্ষা সম্ভব নয়।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৪:০৩ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঈদের নামাজ শেষে দুই দল গ্রামবাসী মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ১৫/২০ টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করা হয় বলে জানা গেছে।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৯ টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত দুই ঘন্টা ব্যাপী দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে চলে এ সংঘর্ষ। দুই পক্ষ ঢাল, সরকি, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে-অপরের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। এ সময় এলাকায় রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের ইসমাইল মুন্সি ও চুন্নু মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দিনগত রাত সাড়ে বারটার দিকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত ১২ জন আহত হন। এর জের ধরে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও মন্ত্রী কে এম ওবায়দুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ১:৩০ পিএম
বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও মন্ত্রী কে এম ওবায়দুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বিএনপির সাবেক মহাসচিব, সাবেক মন্ত্রী কে এম ওবায়দুর রহমানের ২১ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০০৭ সালের ২১ মার্চ ঢাকা অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তাঁর ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।  

কেএম ওবায়দুর রহমান ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্র রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন ও নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি ১৯৬২-৬৩ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৬৩ থেকে ৬৫ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি ফরিদপুরের কোতোয়ালি ও নগরকান্দা থানা নিয়ে গঠিত আসন থেকে জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। স্বাধীনতার  পরে ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ফরিদপুরের নগরকান্দা আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ও সরকারের প্রতিমন্ত্রী হন। ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ফরিদপুরের নগরকান্দা আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ও সরকারের মন্ত্রী হন। এরপর তিনি বিএনপির মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্য হন।তিনি ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের ৭ম জাতীয় সংসদ ও ২০০১ সালের ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর -২ (নগরকান্দা ও সালথা) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

তাঁর ১৯ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক বাণীতে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বাংলাদেশে মরহুম কে এম ওবায়দুর রহমান একজন গণসম্পৃক্ত জাতীয় নেতা হিসেবে সবার নিকট সমাদৃত ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকে শুরু পরবর্তীতে জাতীয় রাজনৈতিক জীবনে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র তথা সকল আন্দোলন -সংগ্রামে সোচ্চার থেকে তিনি আজীবন দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের পক্ষে নিজেকে নিবেদিত রেখেছিলেন। ‘

কেএম ওবায়দুর রহমানের একমাত্র সন্তান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘তিনি ছিলেন গণমানুষের নেতা, ন্যায় ও গণতন্ত্রের নির্ভীক সৈনিক। তার আদর্শ, সততা মানুষের জন্য কাজ আমাদের পথচলার প্রেরণা হয়ে আছে এবং থাকবে।

কে এম ওবায়দুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ফরিদপুর জেলা বিএনপি, নগরকান্দা ও সালথা উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে আজ শুক্রবার বিকাল ৩ টায় নগরকান্দার লস্করদিয়ায় কে এম ওবায়দুর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা অর্পণ ও আগামী ২৩ মার্চ বিকালে নগরকান্দা সরকারি মহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমি মাঠে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন