খুঁজুন
মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ২ আষাঢ়, ১৪৩৩

ফরিদপুরে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে তিনজনকে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে তিনজনকে হত্যা

ফরিদপুর সদর উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়নে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। কোদাল দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তিনজনকে হত্যা করেছে এক যুবক, যাকে স্থানীয়রা মানসিক ভারসাম্যহীন বলে দাবি করছেন। এ ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত পলাতক রয়েছে, তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের গদাধরডাঙ্গী গ্রামের আজগর মোল্লার বাড়ির উঠানে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। হঠাৎ করেই আকাশ মোল্যা (২৮) নামের ওই যুবক কোদাল হাতে উপস্থিত হয়ে আশপাশের লোকজনের ওপর হামলা চালায় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

এলোপাতাড়ি আঘাতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন রাহেলা বেগম (৫০), আমেনা বেগম (৭৫) এবং কাবুল (৪৫)। তাদের মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম বিরাজ করছে। গুরুতর আহত রিয়াজ মোল্লাকে (৪৫) স্থানীয়রা উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠান। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত আকাশ মোল্যা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তবে কী কারণে হঠাৎ করে তিনি এমন ভয়াবহ হামলা চালালেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার পরপরই তিনি এলাকা থেকে পালিয়ে যান।

কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। লাশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি আরও জানান, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। খুব দ্রুত তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ৯ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ৯:২৪ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ৯ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন

মাদক ও মোবাইল আসক্তি থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ও উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এস এম রিদওয়ানুন্নবী (রেদওয়ান)।

​সোমবার (১৫ জুন) বিকালে উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের ফলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় খেলার মাঠে আয়োজিত একটি ৯ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

​উপজেলা জামায়াতের সহ-সেক্রেটারী মো. মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি এস এম রিদওয়ানুন্নবী (রেদওয়ান) তার বক্তব্যে বলেন, “পর্যাপ্ত খেলাধুলার সুযোগ ও চর্চা না থাকায় বর্তমান যুবসমাজ মাদক ও মোবাইল আসক্তিতে জড়িয়ে পড়ছে। তাই এই মারাত্মক ব্যাধি থেকে তরুণদের দূরে রাখতে মাঠমুখী করার কোনো বিকল্প নেই। আমরা যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করে প্রকৃত যুবশক্তিতে রূপান্তরিত করতে চাই।”

​উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের উদ্যোগে এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়। উদ্বোধনী ম্যাচের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি জিয়াউল হাসান। টুর্নামেন্টটির সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছেন বুড়াইচ ইউনিয়ন জামায়াতের যুব বিভাগের সহ-সভাপতি ও ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী ইসানুর রহমান ইসা।

​টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয় বুড়াইচ ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড বারাংকুলা ফুটবল একাদশ এবং ৫ নং ওয়ার্ড শিয়ালদী-শৈলমারী ফুটবল একাদশ। নির্ধারিত সময়ে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচটি গোলশূন্যভাবে অমীমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়। পরবর্তীতে খেলার ভাগ্য নির্ধারণে টাইব্রেকারের আশ্রয় নেওয়া হয়। টাইব্রেকারে ২-১ গোলে বারাংকুলা ফুটবল একাদশকে হারিয়ে টুর্নামেন্টে শুভ সূচনা করে শিয়ালদী-শৈলমারী ফুটবল একাদশ। মাঠে বিপুলসংখ্যক ক্রীড়ামোদী দর্শক উপস্থিত থেকে খেলাটি উপভোগ করেন।

জামের বীজের গোপন গুণ, যা অনেকেরই অজানা

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ৯:১৬ পূর্বাহ্ণ
জামের বীজের গোপন গুণ, যা অনেকেরই অজানা

বাজারে গেলেই এখন দেখা মেলে আম-জাম-কাঁঠালের। গ্রীষ্মের এসব ফল যেমন সুস্বাদু, তেমনি পুষ্টিগুণে ভরপুর। এরমধ্যে অনেকের পছন্দের তালিকার শীর্ষে রয়েছে রসালো জাম। শুধু জামই নয়, পুষ্টিতে ভরপুর এর বীজও।

তবে বেশিরভাগ মানুষ জাম খাওয়ার পর বীজ ফেলে দেন। অথচ এই বীজেও রয়েছে এমন কিছু গুণ, যা শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক জামের বীজের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য উপকারিতা।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক

জামের বীজের গুঁড়া রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করতে পারে বলে প্রচলিত ধারণা রয়েছে। এজন্য বীজ শুকিয়ে গুঁড়া করে প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস পানির সঙ্গে এক চা-চামচ মিশিয়ে পান করা যেতে পারে। এটি ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে, ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে।

হজমের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে

গ্যাস, অম্বল, বদহজমসহ নানা ধরনের পেটের সমস্যায় অনেকেই ভোগেন। জামের বীজের গুঁড়া খালি পেটে পানির সঙ্গে গ্রহণ করলে হজম প্রক্রিয়া ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে। নিয়মিত ব্যবহারে পেটের অস্বস্তি কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করা হয়।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে

উচ্চ রক্তচাপ দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্‌যন্ত্র, কিডনি ও চোখের ক্ষতির কারণ হতে পারে। জামের বীজের গুঁড়া পানির সঙ্গে মিশিয়ে পান করলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি এটি হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী বলে বিবেচিত হয়।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে সহায়ক

শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী থাকলে বিভিন্ন সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা পাওয়া সহজ হয়। জামের বীজে থাকা বিভিন্ন উপাদান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। প্রতিদিন সকালে বীজের গুঁড়া মিশ্রিত পানি পান করলে এ ক্ষেত্রে উপকার পাওয়া যেতে পারে।

ওজন কমানোর প্রচেষ্টায় সহায়ক

অতিরিক্ত ওজন থেকে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের মতো নানা সমস্যা তৈরি হতে পারে। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের পাশাপাশি জামের বীজের গুঁড়া খাদ্যতালিকায় যুক্ত করলে ওজন নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টায় সহায়তা পাওয়া যেতে পারে। নিয়মিত ব্যবহারে শরীরের ওজন ও বিএমআই স্বাভাবিক রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে।

সতর্কতা

জামের বীজের সম্ভাব্য উপকারিতা নিয়ে বিভিন্ন প্রচলিত তথ্য থাকলেও ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের মতো রোগের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ও নির্ধারিত চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে এটি ব্যবহার করা উচিত নয়।

তথ্যসূত্র: পাবমেড ও ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিন

এত ফল থাকতে ‘কাঁঠালই’ কেন বাংলাদেশের জাতীয় ফল?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ৮:০১ পূর্বাহ্ণ
এত ফল থাকতে ‘কাঁঠালই’ কেন বাংলাদেশের জাতীয় ফল?

বাংলাদেশে গ্রীষ্মকাল এলেই গাছে গাছে দেখা মেলে কাঁঠালের। বিশাল আকৃতির এই ফল শুধু স্বাদেই নয়, দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি, কৃষি ও মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। আর সেই কারণেই কাঁঠাল পেয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় ফলের মর্যাদা।

একটি দেশের জাতীয় প্রতীক সাধারণত সেই দেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, প্রকৃতি ও মানুষের জীবনধারার প্রতিনিধিত্ব করে। জাতীয় ফল হিসেবে কাঁঠালকে বেছে নেওয়ার পেছনেও রয়েছে এমনই কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ।

বাংলাদেশের প্রায় সব অঞ্চলে কাঁঠাল জন্মায়। পাহাড়ি এলাকা থেকে সমতল ভূমি, গ্রাম থেকে শহর—দেশের সর্বত্রই এই ফলের উপস্থিতি রয়েছে। সহজলভ্যতা এবং ব্যাপক বিস্তারের কারণে কাঁঠাল দেশের পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

কাঁঠাল বাঙালির খাদ্যসংস্কৃতিরও অবিচ্ছেদ্য অংশ। কাঁচা কাঁঠাল দিয়ে তৈরি হয় নানা ধরনের তরকারি, যা অনেক এলাকায় ‘গাছের মাংস’ নামেও পরিচিত। অন্যদিকে পাকা কাঁঠাল তার মিষ্টি স্বাদের জন্য সবার কাছে জনপ্রিয়। শুধু তাই নয়, কাঁঠালের বিচি দিয়েও তৈরি হয় সুস্বাদু নানা খাবার।

এই ফলের আরেকটি বিশেষ দিক হলো এর বহুমুখী ব্যবহার। পাকা ফল, কাঁচা ফল, বিচি—সবই খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এমনকি খোসা ও অন্যান্য অংশও পশুখাদ্য হিসেবে কাজে লাগে। ফলে কাঁঠাল শুধু একটি ফল নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যসম্পদও।

গবেষকদের মতে, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে কাঁঠালের উৎপত্তি। বাংলাদেশে শত শত বছর ধরে এর চাষ হয়ে আসছে। তাই এটি দেশের ঐতিহ্য ও কৃষিভিত্তিক জীবনধারার সঙ্গেও নিবিড়ভাবে জড়িত।

অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, এত জনপ্রিয় হওয়ার পরও আম নয়, কেন কাঁঠাল জাতীয় ফল? বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঁঠাল দেশের প্রায় সব অঞ্চলে জন্মায় এবং গ্রামীণ জীবন, কৃষি ও খাদ্যসংস্কৃতির সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত। তাই জাতীয় পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে কাঁঠালকেই বেশি উপযুক্ত মনে করা হয়েছে।

পুষ্টিগুণেও কাঁঠাল বেশ সমৃদ্ধ। এতে রয়েছে প্রাকৃতিক শর্করা, বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ উপাদান, যা শরীরের শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। কাঁঠালের বিচিও পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে পরিচিত।

দেশের প্রকৃতি, কৃষি, ঐতিহ্য ও মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে গভীর সম্পর্কের কারণেই কাঁঠাল আজ বাংলাদেশের জাতীয় ফল। একটি ফলের গণ্ডি পেরিয়ে এটি হয়ে উঠেছে দেশের পরিচয় ও ঐতিহ্যের প্রতীক।

সূত্র : আরটিভি