খুঁজুন
, ,

স্মৃতির টানে প্রাণের মিলন—ফরিদপুর জেলা স্কুলে ঈদ পুনর্মিলনীতে আনন্দের ঢেউ

প্রবীর কান্তি বালা, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬, ১২:৪২ অপরাহ্ণ
স্মৃতির টানে প্রাণের মিলন—ফরিদপুর জেলা স্কুলে ঈদ পুনর্মিলনীতে আনন্দের ঢেউ

“স্মৃতির টানে প্রিয় প্রাঙ্গণে”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ফরিদপুর জেলা স্কুল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো বর্ণাঢ্য ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান।

রবিবার (২২ মার্চ) বিকেল ৩টা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চলা এই আয়োজন প্রাণের উচ্ছ্বাস, বন্ধুত্বের বন্ধন আর স্মৃতির আবেগে মুখরিত করে তোলে পুরো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।

দীর্ঘদিন পর এক ছাদের নিচে মিলিত হন বিভিন্ন ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। একে অপরকে জড়িয়ে ধরা, পুরনো দিনের গল্প, শিক্ষক-সহপাঠীদের স্মৃতিচারণ—সব মিলিয়ে তৈরি হয় এক আবেগঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশ।

অনুষ্ঠানের সূচনা হয় বিকেল ৩টায় ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধনের মাধ্যমে। ২০১১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মোট ১২টি ব্যাচের অংশগ্রহণে ১২টি দল লিগ পদ্ধতিতে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। আগামী ২৫ মার্চ টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত হকি খেলোয়াড়, সাবেক অধিনায়ক ও কোচ মাহাবুব হারুন, যিনি তার বক্তব্যে খেলাধুলার মাধ্যমে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বন্ধন আরও দৃঢ় করার আহ্বান জানান।

বিকেল ৫টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে “অনুরণন” নামে বই আকৃতির একটি দৃষ্টিনন্দন ভাস্কর্যের উদ্বোধন করা হয়। করিম গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় নির্মিত এই ভাস্কর্য উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র শহীদুল হাসান। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “এই ভাস্কর্য শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি আমাদের শিকড় ও শিক্ষাজীবনের প্রতীক।”

সন্ধ্যায় ১৮৫ বছরপূর্তি উপলক্ষে গত ডিসেম্বর মাসে সফলভাবে আয়োজিত পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা বিভিন্ন ব্যাচ প্রধানদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। আয়োজকরা জানান, এই সম্মাননা প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহযোগিতা ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও জোরদার করবে।

ঈদ পুনর্মিলনীকে ঘিরে গত ১৮ মার্চ শুরু হওয়া ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল ফলও ঘোষণা করা হয়। প্রতিযোগিতায় ১৬টি ব্যাচ অংশ নেয়। এতে ১৮ ব্যাচ চ্যাম্পিয়ন এবং ১৭ ব্যাচ রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। ম্যান অব দ্য ফাইনাল নির্বাচিত হন ১৮ ব্যাচের রাজ। বিজয়ীদের হাতে ট্রফি তুলে দেন অতিথিরা।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পুনর্মিলনী আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান, সদস্য সচিব ওয়াহিদ মিয়া, ঈদ পুনর্মিলনী কমিটির আহ্বায়ক মেহেদী হাসান ও সদস্য সচিব নিয়ামতউল্লাহ। তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

দিনব্যাপী এই আয়োজনের শেষ পর্বে অনুষ্ঠিত হয় মনোমুগ্ধকর কাওয়ালি সংগীত পরিবেশনা। “সুফি” কাওয়ালি দলের পরিবেশনায় দর্শকরা মুগ্ধ হন, যা রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চলে।

সব মিলিয়ে, এই ঈদ পুনর্মিলনী শুধু একটি অনুষ্ঠানই নয়—এটি ছিল স্মৃতি, ভালোবাসা আর বন্ধুত্বের এক অনন্য মিলনমেলা, যা অংশগ্রহণকারীদের মনে দীর্ঘদিন উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।

ফরিদপুরে তিন বছরের শিশুকন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ২:২৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে তিন বছরের শিশুকন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগ

ফরিদপুরে তিন বছর বয়সী শিশু কন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী এক কিশোরের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত কিশোর আব্দুর রহমানকে (১৪) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদিকে ওই শিশুকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসি সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। এঘটনায় শিশুটির পিতা বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃত আব্দুর রহমানকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

জানা যায়, সোমবার (২২ জুন) দুুপুরে শহরের আলীপুর এলাকায় বাড়ির সামনে শিশুকন্যাটি দাঁড়িয়ে ছিল। এসময় প্রতিবেশী কিশোর আব্দুর রহমান (১৪) শিশুটিকে তার বাসায় ডেকে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। এ সময় শিশুটির চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আব্দুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে।

ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, খবর পেয়ে আমি নিজে ফোর্স সহ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি জানতে পারি। এঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আব্দুর রহমান নামের কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, ওই শিশুটির পিতা বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মঙ্গলবার দুপুরে গ্রেপ্তারকৃত আব্দুর রহমানকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

ফরিদপুরে স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পুলিশের পাশাপাশি মাঠে রয়েছে সেনাবাহিনী

হাসানউজ্জামান, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ১:২৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পুলিশের পাশাপাশি মাঠে রয়েছে সেনাবাহিনী

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সম্ভাব্য  অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ঠেকাতে ফরিদপুরে মাঠে রয়েছে সেনাবাহিনী। অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা দিতে তারা সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যায় ফরিদপুর  পৌঁছেছেন।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল থেকে ফরিদপুর শহর ও মহাসড়কে পুলিশ- র‌্যাবের পাশাপাশি তাদের টহল দিতে দেখা যায়। তবে এখনো পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি, উল্লেখযোগ্য কোনো গ্রেপ্তারের ঘটনা নেই। আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ বা কোনো অঙ্গ সংগঠনের পক্ষ থেকে  প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কোন কর্মসূচী বা তৎপরতা  দেখা যায়নি।

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আমাদের স্বাভাবিক যে কার্যক্রম তা অব্যাহত আছে। শহরের বিভিন্ন পয়েন্ট ও মহাসড়কে আমরা নজর রাখছি যাতে কেউ সাধারণ মানুষের শান্তি শৃঙ্খলায় বিঘ্ন না ঘটাতে পারে। সেনাবাহিনী পুলিশকে সহযোগিতা করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে তারা আমাদের সাথে যোগাযোগ করবে অথবা আমরা তাদের সাথে সমন্বয় করব।

সরেজমিনে দেখা যায়, ফরিদপুর শহরের রাজবাড়ী রাস্তার মোড়, ভাঙ্গা রাস্তার মোড়, থানার মোড়, জনতার মোড়, ডিসি অফিস চত্বর, টেপাখোলা মোড়, বাইপাস সড়ক ও বিভিন্ন মহাসড়কে সকাল থেকে যানবাহন চলাচল রয়েছে স্বাভাবিক। শান্তিপূর্ণভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এসব পয়েন্ট গুলোতে টহল দিচ্ছে।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইমরান হোসেনের নেতৃত্বে ১৫ আরই ব্যাটালিয়নের ১২৫ জন সেনা সদস্য ফরিদপুরে মোতায়েন করা হয়েছে। তারা স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আজ ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে ছয়টি জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ফরিদপুরে সেনাসদস্যরা মাঠে কাজ করছেন।

ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুস্মিতা সাহা জানান, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ এর আওতায় ৯ দিনের জন্য এ সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। এ সময় সেনাবাহিনী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বেসামরিক প্রশাসন, পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে।

ফরিদপুরে মাদক কারবারী সন্দেহে গণপিটুনি ও প্রাইভেটকারে আগুন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ১:০৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে মাদক কারবারী সন্দেহে গণপিটুনি ও প্রাইভেটকারে আগুন

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে মাদক ব্যবসায়ী সন্দেহে মামুন মোল্লা (৪২) নামে এক ব্যক্তিকে গণপিটুনি ও তার ব্যবহৃত প্রাইভেটকারে আগুন দেওয়ার ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। তবে ঘটনার পর পুলিশি তল্লাশিতে ওই ব্যক্তির কাছ থেকে কোনো মাদক উদ্ধার না হওয়ায় পুরো ঘটনাকে ঘিরে নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

‎সোমবার (২২ জুন) দিবাগত রাতে বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের মালিখালী বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। অপরদিকে তার পরিবারের দাবি, অতীতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হামলার শিকার করা হয়েছেন।

‎পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সন্ধ্যার দিকে মামুন মোল্লা একটি প্রাইভেটকার নিয়ে এলাকায় আসলে কয়েকজন তাকে মাদক ব্যবসায়ী বলে চিহ্নিত করে। একপর্যায়ে সেখানে লোকজন জড়ো হয়ে তাকে মারধর করে। পরে উত্তেজিত জনতা তার ব্যবহৃত প্রাইভেটকারে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহত মামুনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

‎মামুনের বাবা মানিক মোল্লা বলেন, আমার ছেলে ফরিদপুর আদালতে একটি মামলার হাজিরা দিয়ে বাড়িতে এসেছিল। দুপুরে খাওয়া-দাওয়া শেষে ঢাকায় যাওয়ার জন্য আত্মীয়ের প্রাইভেটকার নিয়ে বের হয়। পথে তাকে আটক করে মারধর করা হয় এবং গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। অথচ তার কাছে কোনো মাদক ছিল না।

‎তিনি দাবি করেন, তার ছেলে অতীতে মাদকাসক্ত থাকলেও অনেক আগেই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

‎স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এলাকায় মাদকের বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। তবে কোনো ব্যক্তিকে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে শাস্তি দেওয়া সমর্থনযোগ্য নয়।

‎বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, মামুনের বিরুদ্ধে মাদক সংক্রান্ত মামলা রয়েছে। স্থানীয়রা তাকে মারধর করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। তবে তার কাছ থেকে কোনো মাদক উদ্ধার হয়নি। গাড়ি ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনায় অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।