খুঁজুন
সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন, ১৪৩২

তসলিমা নাসরিনের পোস্টে উসকানি: জেমসের কনসার্ট ঘিরে আন্তর্জাতিক গুজব

হারুন আনসারী, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১২:৫৮ পিএম
তসলিমা নাসরিনের পোস্টে উসকানি: জেমসের কনসার্ট ঘিরে আন্তর্জাতিক গুজব

ফরিদপুর জিলা স্কুলে নগরবাউল জেমসের কনসার্টে হট্টগোলের ঘটনায় পাঁচজন নিহত হওয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। একটি ভুয়া ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে এ গুজব ছড়ান দেব দুলাল গুহ নামের এক ব্যক্তি। পরবর্তীতে সেই পোস্ট শেয়ার করে বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন ঘটনাটিকে ‘তৌহিদী জনতার তাণ্ডব’ হিসেবে উপস্থাপন করেন। এতে ভারতের কয়েকটি অখ্যাত অনলাইন পোর্টাল এবং একটি মূলধারার গণমাধ্যমেও ভুয়া তথ্য ছাপা হয়।

ফরিদপুর জিলা স্কুলের ১৮৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের শেষ দিনে রোববার (২৮ ডিসেম্বর) রাতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল জনপ্রিয় শিল্পী জেমসের কনসার্ট। অনুষ্ঠান ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ থাকলেও আয়োজক কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুধু স্কুলের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের জন্য প্রবেশাধিকার ছিল বাধ্যতামূলক।

প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী ও আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাত আনুমানিক ৯টার দিকে কয়েকজন বহিরাগত যুবক দেয়াল টপকে মাঠে প্রবেশের চেষ্টা করলে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে তাদের হাতাহাতি হয়। বিষয়টি বাইরে ছড়িয়ে পড়লে মাঠের বাইরে অপেক্ষমাণ কিছু দর্শক ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এতে স্কুলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাধে।

প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হলেও নিহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কনসার্টটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয় আয়োজক কমিটি।

এই ঘটনার পরপরই শহরের শ্রী অঙ্গনের বাসিন্দা দেব দুলাল গুহ তাঁর ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, জেমস কোনোমতে প্রাণে বেঁচে পালিয়েছেন এবং কমপক্ষে পাঁচজন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছেন। তাঁর এই সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রাত ১টার আগেই তসলিমা নাসরিন তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে সেটি শেয়ার করেন।

তসলিমা নাসরিন তাঁর পোস্টে ঘটনাটিকে ‘তৌহিদী জনতার হামলা’ আখ্যা দিয়ে ছায়ানট ও উদীচীর সঙ্গে তুলনা করেন এবং বাংলাদেশে সংস্কৃতি চর্চা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে—এমন বক্তব্য দেন।

এই পোস্টকে কেন্দ্র করে ভারতের কিছু অখ্যাত অনলাইন পোর্টাল ছাড়াও ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলা’ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যেখানে বাংলাদেশে মৌলবাদী শক্তির উত্থান এবং সংস্কৃতি চর্চায় বাধার অভিযোগ তোলা হয়।

তবে ফরিদপুর জিলা স্কুল কর্তৃপক্ষ, শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন—নিহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। একটি বিচ্ছিন্ন ও নিয়ন্ত্রণহীন হট্টগোলকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুজব ছড়িয়ে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, যাচাই-বাছাই ছাড়াই একটি ফেসবুক পোস্টকে ‘সূত্র’ বানিয়ে ভিনদেশি মিডিয়া যে সংবাদ পরিবেশন করেছে, তা সাংবাদিকতার ন্যূনতম নীতিমালারও পরিপন্থী।

ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

সোহাগ মাতুব্বর, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:২৫ পিএম
ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের নিয়ে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যায় ভাঙ্গা উপজেলার হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের মিলনায়তনে এ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে হাসপাতালের চেয়ারম্যান সহিদুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, মানবসেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। দক্ষ ও মানবিক মনোভাবসম্পন্ন সেবাকর্মী তৈরি করতে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের চর্চাও প্রয়োজন। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ভবিষ্যতে মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করার আহ্বান জানান।

ইফতার মাহফিলে হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের বিভিন্ন ট্রেডের প্রশিক্ষক, প্রশিক্ষণার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। ইফতারের আগে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে রমজানের তাৎপর্য, সংযম ও মানবিকতার শিক্ষা নিয়ে বক্তব্য রাখেন উপস্থিত অতিথিরা।

পরে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং হাসপাতালের সার্বিক উন্নতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের কল্যাণ এবং সকলের সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষণার্থীরা জানান, এ ধরনের আয়োজন তাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে। একই সঙ্গে রমজানের পবিত্রতা ও সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে নতুন করে অনুপ্রাণিত হতে সহায়তা করে।

সর্বশেষে উপস্থিত সবাই একসঙ্গে ইফতার গ্রহণ করেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও প্রশিক্ষণার্থীদের অংশগ্রহণে এ ধরনের সামাজিক ও ধর্মীয় আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

‘দৃষ্টির চশমা’

গোলাম কিবরিয়া
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:১২ পিএম
‘দৃষ্টির চশমা’

নিশুতি রাত, থমথমে ভাব, পুকুর ঘাটের পাড়ে,
দুইটি মানুষ বসলো এসে খুব সাবধানে আড়ে।
এক পাড়ে এক পাকা চোর, অন্য পাড়ে মুমিন,
দুজনারই ব্যস্ততা আজ বেড়েছে অন্তহীন।

​চোর বেচারা হাত ধুয়ে নেয়, পোটলাটি তার পাশে,
ওপার পানে তাকিয়ে সে মুচকি মনে হাসে।
ভাবছে, “আহা! ওই বেটা তো মস্ত বড় চোর,
নিশ্চয় সেও সিঁধ কেটেছে ওস্তাদ বড় জোর!”

​মনেহয় সে কোনো বাড়ির সিন্দুক করেছে ফাঁকা,
আমার চেয়েও বেশি হয়তো মাল রয়েছে রাখা!
বড্ড সেয়ানা চোর তো ওটা, বসলো জলের ধারে,
কাজ সেরে আজ ফুরফুরে সে, শান্তি খোঁজে পাড়ে।

​ওপার পাড়ে ধার্মিক জন করছে ওযু ধীর,
ভাবছে, “আহা! ওই পাড়ে কে? বড্ড খোদাভীর!
আমার চেয়েও মস্ত বড় বুজুর্গ এক পীর,
ইবাদতে মত্ত হতে তাই তো হলেন স্থির।”

​তাহাজ্জুদের এই বেলাতে আমার সাথে জাগে,
খোদার প্রেমে মশগুল সে, মরণ কিসের আগে?
আহা! কপাল আমার ভালো, এমন সাথী পেলাম,
দূর থেকেই সেই বুজুর্গে জানাই হাজার সালাম!

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান,
বরগুনা সরকারি কলেজ

ফরিদপুরে ঈদের প্রধান জামাত কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল ৮ টায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪২ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের প্রধান জামাত কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল ৮ টায়

পবিত্র ঈদুল ফিতর ২০২৬ উদযাপনকে সামনে রেখে ফরিদপুর জেলায় সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণের লক্ষ্যে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বাকাহীদ হোসেন, পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সুস্মিতা সাহা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রামানন্দ পালসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা।

সভায় আসন্ন ঈদুল ফিতর উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফরিদপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮টায় জেলার প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল হলে বিকল্প হিসেবে জেলার বিভিন্ন মসজিদে ঈদের জামাত আয়োজনের ব্যবস্থা রাখা হবে।

এছাড়া ঈদ উপলক্ষে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা না করার বিষয়ে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ঈদকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনসমাগমস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলে জানানো হয়। বিশেষ করে ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।

সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয় যে, ঈদ যাত্রাকে স্বস্তিদায়ক করতে গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি বাস টার্মিনাল ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হবে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যা সভায় বলেন, ঈদ মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। তাই এই উৎসবকে ঘিরে মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। তিনি সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।

সভায় আরও জানানো হয়, ঈদের সময় হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ বিভাগসহ জরুরি সেবাগুলো চালু রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন।