খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৮:৫৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে ফরিদপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ শাখা।

রবিবার (১৪ জুন) সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের শহর শাখা উচ্চ মাধ্যমিক ভবনের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিপুল সংখ্যায় অংশগ্রহণ করেন।

প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. পারভেজ খান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ আদনান হোসেন অনু এবং সাধারণ সম্পাদক তামজিদুল হাসান কায়েস।

এছাড়া এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরেফিন কায়েস ও মো. জুয়েল রানা, প্রচার সম্পাদক মাহিদুল ইসলাম স্বরন, সাবেক সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক, সিনিয়র সহ-সভাপতি এম. মামুন রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রাহিমসহ জেলা ও কলেজ শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সরকার এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারা দাবি করেন, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা চলছে।

বক্তারা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বলেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে এবং শিক্ষাঙ্গনে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিমূলক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন। তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে আরও শক্ত অবস্থান গ্রহণের ঘোষণা দেন।

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল কলেজ ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং তাদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন।

ফরিদপুরে স্বাস্থ্য বিভাগের অভিযান, বন্ধ ৫ হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক সেন্টার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৫:০৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে স্বাস্থ্য বিভাগের অভিযান, বন্ধ ৫ হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক সেন্টার

ফরিদপুরে অব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন এবং অনুমোদন (লাইসেন্স) ছাড়া কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে পাঁচটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি থাকা রোগীদের দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অথবা অন্য উপযুক্ত হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে অবস্থিত বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহামুদুল হাসান। এ সময় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুর রহমান ও নাজমুন নাহার নাঈমসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযানে আল-জারা স্পেশালাইজড হাসপাতাল, মেডিকো হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, লিলি প্রাইভেট হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, হলিসিটি প্রাইভেট হাসপাতাল এবং মা-মনি ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কয়েকটি প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল এবং কোথাও কোথাও গুরুতর অব্যবস্থাপনা ও মানদণ্ড লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ জুলাই আল-জারা স্পেশালাইজড হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর আয়েশা আফরিন (১৭) নামে এক কলেজছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে হাসপাতালটির নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার চিত্র উঠে আসে। এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে অস্ত্রোপচার কক্ষের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, রোগীদের বেডে প্রয়োজনীয় মনিটরের অভাব, ৩০ শয্যার হাসপাতালের জন্য নির্ধারিত সংখ্যক চিকিৎসক ও নার্স না থাকা এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন ত্রুটি দেখতে পান কর্মকর্তারা।

এসব অনিয়মের পরিপ্রেক্ষিতে আল-জারা স্পেশালাইজড হাসপাতালের অস্ত্রোপচার কার্যক্রমসহ পুরো হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি ওই অস্ত্রোপচারে দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসক ডা. আতিকুল আহসানের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

সিভিল সার্জন ডা. মাহামুদুল হাসান বলেন,“যেখানে নিয়মবহির্ভূতভাবে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হবে, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সেখানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাধারণ মানুষ যেন নিরাপদ ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পান, তা নিশ্চিত করাই আমাদের দায়িত্ব। তাই এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “যিনি অস্ত্রোপচার করেছেন তিনি একজন অভিজ্ঞ সার্জন ও সহকারী অধ্যাপক। তবে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে গিয়ে অস্ত্রোপচার করা তাঁর উচিত হয়নি। বিষয়টি তদন্তের আলোকে তাঁর বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সালথায় পাটের গাইট মাথায় নিয়ে ফেরার পথে বজ্রপাতে কিশোরের মৃত্যু

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৩৯ অপরাহ্ণ
সালথায় পাটের গাইট মাথায় নিয়ে ফেরার পথে বজ্রপাতে কিশোরের মৃত্যু

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় পাটের গাইট মাথায় নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে মিরাজ শেখ (১৫) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের বড় খারদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মিরাজ ওই গ্রামের বাবুল শেখের ছেলে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাড়ির পাশের জমিতে ধৌত করা পাটের গাইট মাথায় নিয়ে বাড়ি ফিরছিল মিরাজ। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

যদুনন্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম মোল্লা বজ্রপাতে মিরাজের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, খবর পেয়ে তিনি নিহতের বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা বর্ষা মৌসুমে বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে বা উন্মুক্ত স্থানে কাজ করার ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

একটি পোটলা, একটি লাঠি আর এক বৃদ্ধার অপেক্ষাহীন জীবন

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩৯ পূর্বাহ্ণ
একটি পোটলা, একটি লাঠি আর এক বৃদ্ধার অপেক্ষাহীন জীবন

ঘড়ির কাঁটা রাত সাড়ে ৯টা ছুঁইছুঁই। বাইরে রিমঝিম বৃষ্টি। ফরিদপুর রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে মিটমিট করে জ্বলছে ডিম লাইটের ক্ষীণ আলো। দূরে কোথাও ট্রেনের হুইসেল মিলিয়ে যায় রাতের নিস্তব্ধতায়। একটি কুকুর ধীরে ধীরে পাশ ঘেঁষে চলে যায়। চারপাশে মানুষের আনাগোনা কমে এসেছে, অথচ একজন মানুষ তখনও জেগে আছে—না, চোখে নয়; জীবনের কঠিন বাস্তবতায়।

প্ল্যাটফর্মের এক কোণে মাটিতে শুয়ে আছেন এক বৃদ্ধা। গায়ে একটি পুরোনো শাড়ি। মাথার নিচে ছোট্ট কাপড়ের বালিশ। পাশে একটি পোটলা—হয়তো এটাই তার সমস্ত সম্বল। একজোড়া পুরোনো স্যান্ডেল, একটি লাঠি, আর একটি প্লাস্টিকের গামলায় রাখা পানির বোতল ও কিছু সামান্য জিনিসপত্র। মনে হয়, এই অল্প কয়েকটি জিনিসই তার পুরো পৃথিবী।

বয়স হয়তো ষাট পেরিয়েছে। মুখে সময়ের নির্মম আঁচড়, শরীরে ক্লান্তির ছাপ। সারাদিন তিনি কী খেয়েছেন, আদৌ খেতে পেরেছেন কি না—সেই খবর রাখার মানুষ হয়তো আর কেউ নেই। মাথার ওপর নেই কোনো ছাদ, অপেক্ষায় নেই কোনো আপনজন। দিনের শেষে তার ঠিকানা এই রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম, আর আকাশটাই যেন তার একমাত্র ছাদ।

হয়তো একদিন তারও ছিল একটি সংসার। ছিল সন্তানের মুখ, ছিল হাসি-আনন্দে ভরা উঠোন। সময়ের নির্মম স্রোতে হারিয়ে গেছে সব। আজ তিনি সমাজের হাজারো ব্যস্ত মানুষের চোখের সামনে থেকেও অদৃশ্য এক মানুষ। শত শত যাত্রী তার পাশ দিয়ে হেঁটে যায়, কিন্তু খুব কম মানুষই থেমে জানতে চায়—“মা, আপনি কেমন আছেন?”

সভ্যতার অগ্রগতির গল্প আমরা প্রতিদিন বলি। উন্নয়নের পরিসংখ্যান নিয়ে গর্ব করি। অথচ একটি অসহায় বৃদ্ধা যখন রেলস্টেশনের খোলা প্ল্যাটফর্মে বৃষ্টির রাতে ঘুমিয়ে থাকেন, তখন প্রশ্ন জাগে—আমাদের উন্নয়নের আলো কি তার কাছে পৌঁছেছে?

হয়তো এই বৃদ্ধা কোনো খবরের শিরোনাম হবেন না। কিন্তু তার নীরব ঘুম, তার পাশে পড়ে থাকা লাঠি আর ছোট্ট পোটলাটি আমাদের সমাজের এক কঠিন বাস্তবতার প্রতীক। মানবিকতার পরীক্ষা বড় বড় মঞ্চে নয়, এমন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্যেই।

হয়তো একটি উষ্ণ খাবার, একটি শুকনো কম্বল, একটু চিকিৎসা কিংবা একটি নিরাপদ আশ্রয়—এসবই বদলে দিতে পারে তার আগামী সকাল। কারণ, প্রতিটি মানুষেরই সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার আছে। আর সেই অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব শুধু রাষ্ট্রের নয়, আমাদের সবার।

লেখক: সংবাদকর্মী, ফরিদপুর