খুঁজুন
, ,

কুয়াশার ঘেরাটোপে ফরিদপুরের মাঠ-ঘাট, বাড়ছে ফসল ক্ষতির আশঙ্কা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১২:৫৮ অপরাহ্ণ
কুয়াশার ঘেরাটোপে ফরিদপুরের মাঠ-ঘাট, বাড়ছে ফসল ক্ষতির আশঙ্কা

ফরিদপুর জেলাজুড়ে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে গেছে জনপদ ও বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। টানা কয়েক দিন ধরে ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন থাকছে পুরো জেলা। এতে করে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।

রোববার (২৮ ডিসেম্বর) ভোর থেকেই ফরিদপুর সদরসহ ভাঙ্গা, বোয়ালমারী, সালথা, মধুখালী, নগরকান্দা ও সদরপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘন কুয়াশা লক্ষ্য করা গেছে। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অনেক স্থানে সূর্যের দেখা মেলেনি। কুয়াশার কারণে সড়ক-মহাসড়কে যানবাহন চলাচল ধীরগতির হয়ে পড়ে, কিছু এলাকায় যানজটও সৃষ্টি হয়।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ফরিদপুরে বোরো ধানের বীজতলা, গম, সরিষা, আলু, পেঁয়াজ, রসুনসহ শীতকালীন সবজি চাষের মৌসুম চলছে। ঘন কুয়াশা ও ঠাণ্ডাজনিত আর্দ্রতা ফসলের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষ করে আলু ও সবজি ক্ষেতে ছত্রাকজনিত রোগের আশঙ্কা বেড়ে যায়। দীর্ঘ সময় কুয়াশা থাকলে বীজতলায় চারা পচে যাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।

ফরিদপুর সদর উপজেলার কৃষক ছুরাপ কাজী বলেন, “কয়েক দিন ধরে মাঠে ঘন কুয়াশা পড়ছে। আলুর ক্ষেতে পানি জমে থাকার মতো অবস্থা হচ্ছে। রোগবালাই হলে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।” একই উপজেলার আরেক কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, শীত বাড়ায় শ্রমিক সংকটও দেখা দিয়েছে, এতে চাষাবাদে ব্যয় বাড়ছে।

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, “কুয়াশার কারণে ফসলে ছত্রাক ও পোকার আক্রমণের ঝুঁকি থাকে। কৃষকদের নিয়মিত জমি পর্যবেক্ষণ করতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে পরামর্শ অনুযায়ী ছত্রাকনাশক ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।”

এদিকে ফরিদপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন ফরিদপুরসহ দেশের মধ্যাঞ্চলে কুয়াশা অব্যাহত থাকতে পারে। রাতের তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।ফলে কৃষক ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাওয়া ফরিদপুরে তাই একদিকে যেমন শীতের অনুভূতি বেড়েছে, অন্যদিকে ফসল রক্ষা নিয়ে বাড়ছে কৃষকদের উদ্বেগ।

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ১

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:১২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ১

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে কপিল মন্ডল (৪০) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন।

​রবিবার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার চুমুরদী ইউনিয়নের বাবনাতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

​নিহত কপিল মন্ডল গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বাঘারদিয়া গ্রামের কালিপদ মন্ডলের ছেলে।

​প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যায় মোটরসাইকেলটি ভাঙ্গা থেকে মুকসুদপুরের দিকে যাচ্ছিল। পথে বাবনাতলা চাপা ব্রিজের কাছে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অজ্ঞাত বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।

​খবর পেয়ে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে এবং মরদেহ ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

​ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শামীম জানান, অজ্ঞাত বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। ঘাতক বাসটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ফরিদপুরে শিশুকে যৌন নিপীড়নের দায়ে ইমামের ৭ বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:০০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে শিশুকে যৌন নিপীড়নের দায়ে ইমামের ৭ বছরের কারাদণ্ড

ফরিদপুরের নগরকান্দায় এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টার অপরাধে আরিফুল ইসলাম (২৪) নামের এক খণ্ডকালীন ইমাম ও মক্তব শিক্ষককে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

​রোববার (০৮ নভেম্বর) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ প্রহরায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

​দণ্ডপ্রাপ্ত আরিফুল ইসলাম নগরকান্দা উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের দয়ারামপুর এলাকার একটি মসজিদের খণ্ডকালীন ইমাম ও মক্তবের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি ওই মসজিদে নামাজ পড়ানোর পাশাপাশি সকালে মক্তবে শিশুদের আরবি পড়াতেন।

​মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২০২৪ সালের ৫ অক্টোবর সকালে মুষলধারে বৃষ্টির কারণে অন্য কোনো শিশু মক্তবে না গেলেও ভিকটিম শিশুটি একাই পড়তে যায়। এই সুযোগে আসামি শিশুটিকে নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে বিভিন্ন কুপ্রস্তাব দেন এবং শরীরের বিভিন্ন অংশ স্পর্শ করতে বলেন। শিশুটি এতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক অনৈতিক আচরণের চেষ্টা চালান তিনি। এ সময় শিশুটি পানি খাওয়ার বাহানা করে বাইরে বের হয়ে দ্রুত বাড়িতে গিয়ে পরিবারকে পুরো বিষয়টি খুলে বলে।

​ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় সোপর্দ করেন। ওইদিনই শিশুটির মা বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

​মামলাটি তদন্ত করেন নগরকান্দা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম। তদন্ত শেষে তিনি একমাত্র অভিযুক্ত আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

​মামলার রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন জানান, দীর্ঘ সাক্ষ্যপ্রমাণ ও শুনানি শেষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আসামির উপস্থিতিতে আদালত এই রায় দেন। রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে এবং এর ফলে সমাজে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হ্রাস পাবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

যে পাঁচ বৈশিষ্ট্যে আলাদা হয়ে ওঠেন বুদ্ধিমান নারীরা

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৫ অপরাহ্ণ
যে পাঁচ বৈশিষ্ট্যে আলাদা হয়ে ওঠেন বুদ্ধিমান নারীরা

প্রতিটি মানুষেরই কিছু স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য থাকে, যা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে। কারও চিন্তাভাবনা, কারও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ধরন, আবার কারও জীবন পরিচালনার কৌশলে ফুটে ওঠে ব্যক্তিত্বের গভীরতা।নারীদের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নয়।

একজন বুদ্ধিমান নারী কেবল জ্ঞান বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় এগিয়ে থাকেন না, বরং তার চিন্তাভাবনা, আত্মবিশ্বাস, সম্পর্কের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি এবং প্রতিকূল পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষমতাও তাকে আলাদা করে তোলে।মনোবিজ্ঞানের বিভিন্ন আলোচনায় মানুষের আচরণ ও পছন্দকে তার চিন্তাভাবনা এবং ব্যক্তিত্ব বোঝার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে একজন বুদ্ধিমান নারীর মধ্যে কয়েকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়।

চলুন, জেনে নেওয়া যাক এমন পাঁচটি বৈশিষ্ট্য

অন্যের মতামতকে গুরুত্ব দেন

একজন বুদ্ধিমান নারী নিজের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি অন্যের দৃষ্টিভঙ্গিকেও সম্মান করেন।

কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি নিজের অভিজ্ঞতা, চারপাশের মানুষের মতামত এবং পরিস্থিতির নানা দিক বিবেচনা করেন। অন্যের মতামতকে গুরুত্ব দিলেও নিজের চিন্তাভাবনা বা বিশ্বাস থেকে সহজে সরে আসেন না। বরং যুক্তি ও বাস্তবতার ভিত্তিতে নিজের অবস্থান নির্ধারণ করেন। ভুল হলে তা স্বীকার করার মানসিকতাও তার মধ্যে থাকে।

বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে বেছে চলেন

বুদ্ধিমান নারীরা সাধারণত সম্পর্কের সংখ্যার চেয়ে গুণগত মানকে বেশি গুরুত্ব দেন। সবার সঙ্গে পরিচিত হওয়া বা অনেক মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করাই তাদের কাছে বন্ধুত্বের মূল বিষয় নয়। বরং যাদের সঙ্গে বিশ্বাস, সম্মান ও মানসিক বোঝাপড়া তৈরি হয়, তাদেরই কাছের মানুষ হিসেবে বেছে নেন। তারা সহজে কাউকে ব্যক্তিগত জীবনে জায়গা দেন না। তবে একবার কাউকে আপন করে নিলে সেই সম্পর্কের প্রতি যত্নশীল থাকেন।

সময়ের সঠিক ব্যবহার জানেন

সময় ব্যবস্থাপনা একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব ও কর্মদক্ষতার গুরুত্বপূর্ণ দিক। একজন বুদ্ধিমান নারী নিজের ব্যক্তিগত জীবন, পেশাগত দায়িত্ব এবং সামাজিক সম্পর্কের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করেন। কোন কাজটি আগে করা প্রয়োজন, কোনটির জন্য কতটা সময় দেওয়া উচিত, এসব বিষয়ে তার পরিকল্পনা থাকে। অপ্রয়োজনীয় কাজে সময় নষ্ট না করে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে মনোযোগ দেন। ফলে ব্যস্ততার মধ্যেও নিজের জন্য সময় বের করতে পারেন।

নিজের সিদ্ধান্তের প্রতি আত্মবিশ্বাসী

নিজের ওপর আস্থা রাখা বুদ্ধিমান নারীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তারা জানেন, জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্ত সবার পছন্দ হবে না। তাই অন্যের সমালোচনা বা নেতিবাচক মন্তব্যে সহজে বিচলিত হন না। কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভালো-মন্দ বিবেচনা করেন এবং সিদ্ধান্তের দায়িত্ব নিতেও প্রস্তুত থাকেন। চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লে ভয় পেয়ে পিছিয়ে না গিয়ে পরিস্থিতি বুঝে সমাধানের চেষ্টা করেন। একইসঙ্গে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করেন।

ধৈর্য ধরে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যান

সাফল্য অর্জনের জন্য শুধু মেধা বা যোগ্যতাই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন ধৈর্য ও অধ্যবসায়। একজন বুদ্ধিমান নারী জানেন, জীবনে সবকিছু চাইলেই তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায় না। তাই সাময়িক ব্যর্থতা বা বাধাকে তিনি চূড়ান্ত পরাজয় হিসেবে দেখেন না। বরং ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও শান্ত থাকার চেষ্টা করেন এবং নিজের লক্ষ্য থেকে সহজে সরে আসেন না।

বুদ্ধিমত্তা শুধু মেধায় নয়, আচরণেও

একজন নারীর বুদ্ধিমত্তা শুধু তার শিক্ষাগত যোগ্যতা, কথাবার্তা কিংবা জ্ঞান দিয়ে বিচার করা যায় না। বরং তিনি কীভাবে চিন্তা করেন, অন্যের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন, সময়ের ব্যবহার করেন এবং জীবনের কঠিন পরিস্থিতি সামাল দেন, এসবের মধ্যেও তার বুদ্ধিমত্তার প্রকাশ ঘটে।

এই বৈশিষ্ট্যগুলো কোনো নারীর বুদ্ধিমত্তা পরিমাপের চূড়ান্ত মাপকাঠি নয়। মানুষের ব্যক্তিত্ব ও সক্ষমতা ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। বুদ্ধিমত্তার সবচেয়ে সুন্দর প্রকাশ তখনই ঘটে, যখন জ্ঞান, আত্মবিশ্বাস, বিবেচনাবোধ ও মানবিকতা একসঙ্গে কাজ করে।