খুঁজুন
বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৯ বৈশাখ, ১৪৩৩

ফরিদপুরে তিনদিনব্যাপী “রমাদান ফেস্টিভ্যাল” শুরু, গণইফতারে অংশ নিলেন দুই হাজার মানুষ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে তিনদিনব্যাপী  “রমাদান ফেস্টিভ্যাল” শুরু, গণইফতারে অংশ নিলেন দুই হাজার মানুষ

পবিত্র মাহে রমজানকে ঘিরে ধর্মীয় আবহ, সামাজিক সম্প্রীতি ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমকে উৎসাহিত করতে ফরিদপুরে শুরু হয়েছে তিনদিনব্যাপী “রমাদান ফেস্টিভ্যাল”।

শুক্রবার (৬ মার্চ) বিকেলে শহরের সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধন করা হয়। স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ইউনাইটেড ফরিদপুর এ আয়োজনের উদ্যোগ নেয়।

ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধন উপলক্ষে বিকেলে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং গণইফতারের আয়োজন করা হয়। ইউনাইটেড ফরিদপুরের সভাপতি জুরাইস ইবনে আশরাফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম। এছাড়া বক্তব্য দেন এসডিসির নির্বাহী পরিচালক কাজী আশরাফুল হাসান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য প্রফেসর আবদুত তাওয়াব, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের সাবেক অধ্যাপক প্রফেসর আব্দুল বাতেন এবং বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. মুস্তাফিজুর রহমান শামীমসহ অন্যান্য অতিথিরা।

এ সময় মাহে রমজানের তাৎপর্য ও মানবিক শিক্ষার ওপর আলোচনা করেন ফরিদপুর মডেল মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, রমজান শুধু সংযমের মাস নয়, এটি আত্মশুদ্ধি, সহমর্মিতা এবং সমাজে নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠারও একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়।

বক্তারা বলেন, এ ধরনের আয়োজন সমাজে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একইসঙ্গে স্থানীয় ক্ষুদ্র ও নতুন উদ্যোক্তাদের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির সুযোগ সৃষ্টি করে, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করতে সহায়ক।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে ফরিদপুরের খান ভিলা জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফেজ মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন।

পরে আয়োজিত গণইফতার মাহফিলে প্রায় দুই হাজার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এতে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা অংশ নিয়ে একসঙ্গে ইফতার করেন।

রমাদান ফেস্টিভ্যাল উপলক্ষে প্রায় ৫০টি স্টল বসেছে, যেখানে দেশীয় খাবার, পোশাক, ইসলামী সামগ্রী, হস্তশিল্প ও বিভিন্ন উদ্যোক্তার পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করা হচ্ছে। আগামী ৮ মার্চ পর্যন্ত চলবে এই ফেস্টিভ্যাল।

আয়োজকরা জানান, প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, আলোচনা ও বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমও অনুষ্ঠিত হবে।

প্রকৃত সাংবাদিক কারা?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:২৪ পূর্বাহ্ণ
প্রকৃত সাংবাদিক কারা?

দেশে ‘প্রকৃত সাংবাদিকদের’ একটি জাতীয় ডাটাবেজ তৈরির সরকারি ঘোষণা নতুন করে গণমাধ্যম অঙ্গনে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, অবাধ তথ্যপ্রবাহের যুগে সাংবাদিকতার মানোন্নয়ন এবং ভুয়া সাংবাদিকতা প্রতিরোধে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল সাংবাদিকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণসহ একটি পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ডাটাবেজ তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। 

ঘোষণার পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে— প্রকৃত সাংবাদিক কারা? কোন মানদণ্ডে তাদের নির্ধারণ করা হবে? এই দায়িত্ব কি সরকারের হাতে থাকবে, নাকি সাংবাদিক সংগঠন ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে তা নির্ধারিত হবে? রাষ্ট্র যখন সাংবাদিকের পরিচয় নির্ধারণ করবে, তখন সেটি পেশাগত শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নাকি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অংশ— এ নিয়েও শুরু হয়েছে আলোচনা।

কেন ডাটাবেজের উদ্যোগ 

তথ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সাংবাদিকদের মর্যাদা রক্ষা, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে ‘সাংবাদিক সুরক্ষা সহায়তা সেল’ গঠন করা হয়েছে। হুমকি, হামলা বা ডিজিটাল হয়রানির শিকার সাংবাদিকদের আইনি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা, নারী সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ সুবিধা, ডিজিটাল নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ এবং জেলা পর্যায়ে সুরক্ষা উদ্যোগসহ সমন্বিত সহায়তা কাঠামো গড়ে তোলার কাজ চলছে।

এই উদ্যোগগুলোর কার্যকর বাস্তবায়নের জন্যই সাংবাদিকদের একটি যাচাইযোগ্য জাতীয় ডাটাবেজ প্রয়োজন বলে মনে করছে সরকার।

তিনি আরও জানান, সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করতে ১৯৭৪ সালের প্রেস কাউন্সিল আইন যুগোপযোগী করার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

সরকারের যুক্তি  

তথ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিবন্ধিত সংবাদমাধ্যমের বাইরে সাংবাদিক পরিচয়ে নানা অপকর্মের অভিযোগ বেড়েছে। প্রেস কার্ড ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাব খাটানো এবং অনিবন্ধিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মের বিস্তার প্রশাসন ও সাংবাদিক সংগঠন— উভয় পক্ষের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

সরকারের মতে, একটি যাচাইযোগ্য তালিকা থাকলে প্রকৃত সংবাদকর্মীদের শনাক্ত করা সহজ হবে এবং পেশার মর্যাদা রক্ষা পাবে। চিকিৎসক বা আইনজীবীদের মতো সাংবাদিকদেরও একটি স্বীকৃত ডাটাবেজ থাকা উচিত বলে মনে করছেন তারা।

‘প্রকৃত সাংবাদিক’ বলতে কী বোঝানো হচ্ছে 

সংশ্লিষ্ট মহলের ভাষ্য অনুযায়ী, যারা সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছেন, নিবন্ধিত সংবাদপত্র, টেলিভিশন বা অনলাইন গণমাধ্যমে সম্পাদকীয় কাঠামোর মধ্যে কাজ করেন এবং পেশাগত নৈতিকতা ও আইনি কাঠামোর আওতায় আছেন— তাদেরই সাধারণভাবে ‘প্রকৃত সাংবাদিক’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ডাটাবেজ তৈরির ক্ষেত্রে সম্ভাব্য যে মানদণ্ডগুলো আলোচনায় রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে— বৈধ প্রেস কার্ড, সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের নিয়োগপত্র, সাংবাদিক সংগঠনের সদস্যপদ, মাঠপর্যায়ে সক্রিয় কাজের প্রমাণ, ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও উদ্বেগ।

ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন গণমাধ্যমের একটি অংশ। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ‘ভুয়া সাংবাদিক’ পরিচয়ে চাঁদাবাজি ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে। সঠিক তালিকা তৈরি হলে পেশার মর্যাদা বাড়বে।

তবে সাংবাদিকদের আরেক অংশ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, ‘প্রকৃত সাংবাদিক’ নির্ধারণের ক্ষমতা যদি পুরোপুরি সরকারের হাতে যায়, তাহলে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

পুরনো আলোচনা, নতুন উদ্যোগ 

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম আবদুল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “সাংবাদিকদের ডাটাবেজ তৈরির আলোচনা নতুন নয়; প্রায় এক দশক ধরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।”

তিনি জানান, প্রথমে প্রেস কাউন্সিল এ উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করলে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে তাদের কর্তৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় বিষয়টি থেমে যায়। পরে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) একটি ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগ নিলেও তা অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে।

কল্যাণমূলক সুবিধা প্রকৃত সাংবাদিকদের কাছে পৌঁছে দিতে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট থেকেও ডাটাবেজ তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সম্ভাব্য বিতর্ক এড়াতে প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয় থেকে সেই উদ্যোগ স্থগিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

বর্তমান সরকারের সময়ে বিষয়টি আবার আলোচনায় আসে বলেও উল্লেখ করেন এম আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, “কল্যাণ ট্রাস্টের সুবিধা সঠিকভাবে দিতে একটি ডাটাবেজ প্রয়োজন, এমন সিদ্ধান্ত তার দায়িত্ব ছাড়ার আগের বোর্ড সভায় নেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমানে যে ডাটাবেজের কথা বলা হচ্ছে, তা পূর্বের সেই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা কিনা— তা তিনি নিশ্চিত নন।”

বিতর্কের জায়গা কোথায় 

এম আবদুল্লাহ বলেন, “ডাটাবেজ তৈরির বড় জটিলতা শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রশ্নে। বাংলাদেশের সাংবাদিক সমাজের একটি বড় অংশ মনে করে, সাংবাদিকতা মূলত বাস্তব অভিজ্ঞতা ও দক্ষতানির্ভর পেশা; শুধু একাডেমিক ডিগ্রি দিয়ে ভালো সাংবাদিক নির্ধারণ করা যায় না।”

তার ভাষায়, “অনেক উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তি সাংবাদিকতায় সফল হননি, আবার উচ্চমাধ্যমিক পাস করেও অনেকেই প্রতিষ্ঠিত সাংবাদিক হয়েছেন। দীর্ঘদিনের এই বিতর্কের গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করে যদি কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া যায়, তাহলে তা সাংবাদিক সমাজের স্বাগত জানানো উচিত।”

সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন

সালথায় রাতের অন্ধকারে সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে বিচার দাবি

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:২৭ অপরাহ্ণ
সালথায় রাতের অন্ধকারে সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে বিচার দাবি

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া গ্রামে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীরা।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে গ্রামের বাসিন্দা রব্বান মাতুব্বরের বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগীরা জানান, গত শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে একদল দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গ্রামে হামলা চালায়। তাদের দাবি, বিএনপি নেতা মুরাদ মাতুব্বর ও যুবদল নেতা শাফিকুলের নেতৃত্বে এ হামলা সংঘটিত হয়। হামলাকারীরা টর্চলাইটের আলো ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন বাড়িঘরে ভাঙচুর চালায় এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শুধু স্থানীয় লোকজন নয়, পাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকেও লোকজন এনে সংঘবদ্ধভাবে এই হামলা পরিচালনা করা হয়। এতে অন্তত কয়েকটি বাড়িঘর ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুরের পাশাপাশি অনেক পরিবার রাতেই নিরাপত্তাহীনতায় গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয় বলেও দাবি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছে। প্রভাবশালী মহলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি, মোটরসাইকেল মহড়া এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ তোলা হয়।

এ সময় গোয়ালপাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের মোল্লা বলেন, “হামলার সময় পুরো গ্রামজুড়ে টর্চলাইটের আলো দেখা যায়। দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংগঠিতভাবে বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়। বহিরাগত লোকজনও এতে অংশ নেয়।” তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি নেতা মুরাদুর রহমান, শাফিকুল ইসলাম ও সামাদ মাতুব্বরের নেতৃত্বেই এ হামলা হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিএনপি নেতা রব্বান মাতুব্বর বলেন, “ঘটনার সময় আমি গ্রামের বাইরে ছিলাম। পরে ফিরে এসে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখি। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিচার দাবি করছি।”

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সালথা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক তানভীর হাসিব লিঠু, আটঘর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা কাওসার মাতুব্বর, যুবদল নেতা রব্বান মাতুব্বর, বিএনপি নেতা আদেল মাতুব্বর, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান আলীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে এলাকার নিরাপত্তা জোরদার, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

ফরিদপুরে আসামীদের হামলায় ৫ পুলিশ সদস্য আহত

চরভদ্রাসন প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৫৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে আসামীদের হামলায় ৫ পুলিশ সদস্য আহত

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলে আসামি গ্রেপ্তার করতে গিয়ে স্থানীয়দের হামলায় পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার চরহরিরামপুর ইউনিয়নের পদ্মা নদীবেষ্টিত চরশালেহপুর এলাকার ছোরমান খাঁর বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন চরভদ্রাসন থানার উপ-পরিদর্শক রিপন হোসেন, মোজাম্মেল হক, মো. রফিকুজ্জামান, সহকারী উপ-পরিদর্শক গাজী সোহেল এবং কনস্টেবল উজ্জল হোসেন। তাঁদের মধ্যে চারজনকে চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অপর একজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চরশালেহপুর এলাকার বাসিন্দা এবং চরহরিরামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কবির খাঁর বিরুদ্ধে থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে। ওই মামলায় তাকে আটক করতে পুলিশ সদস্যরা সাধারণ পোশাকে এলাকায় অভিযান চালায়। একপর্যায়ে বাজার এলাকা থেকে কবির খাঁকে আটক করা হলে স্থানীয় লোকজন উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। পরে তারা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে কবির খাঁকে হাতকড়াসহ ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, আহত চার পুলিশ সদস্য হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। আরেকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা লাবলু দাবি করেন, কয়েকজন ব্যক্তি লুঙ্গি ও ট্রাউজার পরে এসে নিজেদের পুলিশ পরিচয় দেন এবং কবির খাঁকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যেতে চান। এ সময় উপস্থিত স্বজনরা বাধা দিলে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে হাতকড়া ফেরত দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চরভদ্রাসন থানার (ওসির দায়িত্বপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক রফিকুজ্জামান বলেন, কবির খাঁর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে তার লোকজন হামলা চালিয়ে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলমান।

তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি চরাঞ্চলে প্রভাবশালী হওয়ায় তাকে ধরতে ছদ্মবেশে অভিযান চালানো হয়। পুলিশ পোশাকে গেলে তিনি পালিয়ে যেতে পারতেন।

এদিকে, সম্প্রতি কবির খাঁর বিরুদ্ধে চরাঞ্চলের শতাধিক মানুষের ভুট্টাখেত ও জমি দখলের অভিযোগ তুলে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী। তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করা হচ্ছে।