খুঁজুন
বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি: বাড়তি চাপে মধ্য-নিম্নবিত্ত

দেলোয়ার হোসেন বাদল
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি: বাড়তি চাপে মধ্য-নিম্নবিত্ত

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ঘোষণার পরপরই এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে জনজীবনে। জ্বালানির দাম বাড়ানোর একদিন পরেই আবার গ্যাসের দাম বাড়ানোয় নতুন করে চাপে পড়েছে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো।

অন্যদিকে পরিবহন খাতের চালকরা বলছেন, খরচ সামলাতে ভাড়া সমন্বয় ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো পথ নেই।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, আমদানি ব্যয়ের চাপ ও বৈদেশিক মুদ্রার ওপর বাড়তি চাপের কারণে সরকার তেলের দাম সমন্বয় করেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্ববাজারের অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির প্রভাব বিবেচনায় এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তাছাড়া জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় রাষ্ট্রীয় ভর্তুকির চাপ বাড়ছিল।

সেই চাপ সামাল দিতে মূল্য সমন্বয় প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কথা হয় নানা পেশার মানুষের সঙ্গে।

তারা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেই প্রথমে বাড়ে পরিবহন ভাড়া, এরপর ধাপে ধাপে বাড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। কিন্তু সেই তুলনায় আয় বাড়ে না।
রাজধানীর দোলাইপাড় এলাকার স্থানীয় মোটর পার্টস বিক্রেতা রুবেল বলেন, তেলের দাম বৃদ্ধির খবর আসতেই নিত্যপণ্যের দামসহ নানা রকম জিনিসের দাম কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ইচ্ছে করলেই আমরা আমাদের পণ্যের দাম বা কাজের মূল্য হঠাৎ করে বাড়াতে পারি না। ফলে আমাদের মতো মানুষের জীবিকা নির্বাহ করা দুষ্কর হয়ে পড়ে।

ওয়ারী এলাকার এক শিক্ষার্থী বলেন, তেলের দাম যদি বাড়াতেই হতো তাহলে এখন কেন? এখন তো বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমানো হয়েছে। আগে তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়ে পর্যাপ্ত তেল বাজারে ছাড়লে সরকারের আয় হতো। হাজার হাজার মানুষকে দীর্ঘ লাইনে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করে তেলের জন্য কষ্ট করতে হতো না। এটা জনগণের সঙ্গে মশকরা ছাড়া কিছু না।

মতিঝিলের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমাদের মতো চাকরিজীবীদের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। প্রতিবার তেলের দাম বাড়লে অফিসে যাতায়াত খরচ বাড়ে, বাজার খরচ বাড়ে। কিন্তু বেতন তো বাড়ে না। সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

রাজধানীর জুরাইন আশ্রাফ মাস্টার আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক রুমানা আক্তার বলেন, গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বাড়ার পরই আমরা চাপে ছিলাম। এখন আবার তেলের দাম বাড়ানোয় দৈনন্দিন খরচ কীভাবে সামলাবো, সেটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

শ্যামপুর জুরাইন বাজারে সবজি কিনতে আসা গৃহিণী মুসফিকা সুলতানা বলেন, তেলের দাম বাড়লে পরিবহন খরচ বাড়ে আর পরিবহন খরচ বাড়লে সবকিছুর দাম বাড়ে। বাজারে এলেই এখন ভয় লাগে।

এদিকে কৃষি খাতে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন কেরানীগঞ্জের কৃষক মো. সাইদুর রহমান। তিনি বলেন, ডিজেলের দাম বাড়লে সেচ খরচ বাড়ে, জমি চাষের খরচ বাড়ে। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। কিন্তু আমরা সেই অনুযায়ী ফসলের দাম পাই না।

অন্যদিকে পরিবহন চালকরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে তাদেরও খরচ বেড়ে যায়, ফলে ভাড়া সমন্বয় করা ছাড়া উপায় থাকে না।

রাজধানীতে চলাচল করা রাইদা বাসের চালক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তেলের দাম বাড়লে আমাদের দৈনিক খরচ অনেক বেড়ে যায়। মালিককে জমা দিতে হয় আগের মতোই। তাই ভাড়া না বাড়ালে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যায়।

অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিং চালক মো. সোহেল রানা বলেন, তেলের দাম বাড়লে আমাদের আয় কমে যায়। যাত্রীরা যদি ভাড়া বাড়াতে না চান, তাহলে আমরা কীভাবে গাড়ির খরচ চালাব?

একই ধরনের কথা বলেন সিএনজি অটোরিকশাচালক মো. হেলাল উদ্দিন। তার ভাষ্য, গ্যাস আর তেলের দাম বাড়লে আমাদের ওপর চাপ পড়ে। তখন যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া না নিলে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে।

ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব শুধু পরিবহন খাতেই সীমাবদ্ধ থাকে না, এটি ধাপে ধাপে কৃষি, শিল্প ও নিত্যপণ্যের বাজারেও প্রভাব ফেলে। ফলে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের ওপর।

তারা মনে করছেন, জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের পাশাপাশি গণপরিবহন ভাড়া নিয়ন্ত্রণ, বাজার তদারকি জোরদার এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য সহায়তা কার্যক্রম বাড়ানো জরুরি। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কিছুটা হলেও কমতে পারে।

আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও বাণিজ্য বিশ্লেষক মোবাশ্বের হোসেন টুটুলের মতে, মুক্তবাজার অর্থনীতির এই সময়ে সরকার এখনো নিজ উদ্যোগে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে দেশে সরবরাহ করছে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ কমেছে, ফলে দাম বেড়েছে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হওয়ায় অতিরিক্ত দামে জ্বালানি আমদানি করতে গিয়ে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। একইসঙ্গে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় দেশের সার কারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রসহ শিল্প খাতের উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

এই বিশ্লেষক বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ সামাল দিতে সরকার উন্নয়ন সহযোগী ও বহুজাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ঋণ সহায়তা চেয়েছে। তবে দ্রুত বৈদেশিক মুদ্রা ছাড়ে অনিশ্চয়তা থাকায় সরকারকে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের পথে হাঁটতে হয়েছে।

মোবাশ্বের হোসেন টুটুলের মতে, তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে শিল্প উৎপাদন ব্যয় ও পণ্য পরিবহন খরচ বাড়বে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে বাজারে পণ্যের দামে। এতে নির্দিষ্ট আয়ের সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাবে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়বে।

তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি বাড়লে মানুষের সঞ্চয় প্রবণতা কমে যেতে পারে, যা ব্যাংক খাতে তারল্য সংকট তৈরি করতে পারে। এতে বিনিয়োগের গতি কমে গিয়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দেশীয় উৎপাদনের প্রবৃদ্ধিও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একইসঙ্গে উৎপাদন কমে গেলে সরকারের রাজস্ব আদায়ও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

তবে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কমাতে পারলে তা সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন এই বিশ্লেষক।

মোবাশ্বের হোসেন টুটুল বলেন, স্বল্পমেয়াদি প্রভাব মোকাবিলায় সরকার যদি কার্যকর অর্থনৈতিক নীতি সমন্বয় করতে পারে এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সক্ষম হয়, তাহলে এই মূল্য সমন্বয়ের ধাক্কা সামাল দেওয়া সম্ভব হবে।

ফরিদপুর জেলা কারাগারে বন্দিদের মাঝে মৌসুমী ফল লিচু বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুর জেলা কারাগারে বন্দিদের মাঝে মৌসুমী ফল লিচু বিতরণ

ফরিদপুর জেলা কারাগারে বন্দিদের মানবিক ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে সকল বন্দির মাঝে মৌসুমী ফল লিচু বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) সকালে জেলা কারাগার প্রাঙ্গণে এ কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়।

কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, বন্দিদের পুষ্টি চাহিদা পূরণ এবং তাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত বিভিন্ন কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গ্রীষ্মকালীন জনপ্রিয় ও পুষ্টিকর ফল লিচু বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

লিচু বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার শওকত হোসেন মিয়া এবং জেলার মনির হোসেন। তারা বন্দিদের খোঁজখবর নেন এবং কারাগারের সার্বিক পরিবেশ ও বন্দিদের কল্যাণমূলক বিষয়গুলো পরিদর্শন করেন।

এ সময় জেল সুপার শওকত হোসেন মিয়া বলেন, বন্দিদের মানবিক মর্যাদা রক্ষা এবং তাদের সুস্থতা নিশ্চিত করতে কারা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন কল্যাণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। বন্দিদের জন্য স্বাস্থ্যকর খাদ্য, চিকিৎসাসেবা, বিনোদন ও পুনর্বাসনমূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি মৌসুমী ফল বিতরণও তার একটি অংশ।

তিনি আরও বলেন, কারাগার শুধু শাস্তি প্রদানের স্থান নয়, বরং সংশোধন ও পুনর্বাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। বন্দিদের মানসিক বিকাশ ও ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

লিচু বিতরণ পেয়ে বন্দিদের মধ্যেও সন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায়। কারা কর্তৃপক্ষের এমন উদ্যোগকে তারা ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।

ফরিদপুর জেলা কারাগার সূত্রে জানা গেছে, ভবিষ্যতেও বন্দিদের কল্যাণ ও সুস্থতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

সদরপুরের পদ্মাবেষ্টিত ইউনিয়নে নির্মাণ হচ্ছে পরিষদ ভবন, অবসান হবে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৮:১২ পূর্বাহ্ণ
সদরপুরের পদ্মাবেষ্টিত ইউনিয়নে নির্মাণ হচ্ছে পরিষদ ভবন, অবসান হবে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পদ্মাবেষ্টিত প্রত্যন্ত চরাঞ্চল দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়ন অবশেষে পেতে যাচ্ছে নিজস্ব ইউনিয়ন পরিষদ ভবন। দীর্ঘদিন ধরে পরিষদ ভবন না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের বিভিন্ন নাগরিক সেবা নিতে ট্রলারে প্রায় দুই ঘণ্টা পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে উপজেলা সদরে যেতে হতো। প্রায় দুই হাজার পরিবারের এই ইউনিয়নে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উচ্ছ্বাস।

মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে ইউনিয়নের নুরুদ্দিন সরদার কান্দী বাজার সংলগ্ন এলাকায় সেমি-পাকা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাজহারুল ইসলাম।

এর আগে একই ইউনিয়নের উপজেলা প্রশাসন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দীন সরদার, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসেন, উপজেলা প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব ভবন না থাকায় প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণে তাদের নানা ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হতো। নতুন ভবন নির্মিত হলে ইউনিয়নবাসী নিজ এলাকাতেই সহজে নাগরিক সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। এতে চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

এদিকে বহুদিনের প্রত্যাশিত ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে। স্থানীয়দের আশা, দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে চরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।

প্রিয়জন হারানোর শোকে কাতর ব্যক্তিকে যে ৭ কথা বলা উচিত নয়?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৮:০৪ পূর্বাহ্ণ
প্রিয়জন হারানোর শোকে কাতর ব্যক্তিকে যে ৭ কথা বলা উচিত নয়?

আপনার প্রিয়জন হারানোর শোকে কাতর কোনো বন্ধু বা আত্মীয়ের পাশে দাঁড়িয়ে আমরা প্রায়ই বুঝতে পারি না কী বলা উচিত। আমরা তাদের সান্ত্বনা দিতে চাই, কিন্তু অনেক সময় আমাদের বলা কথাগুলো হিতে বিপরীত হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শোক কোনো সহজ বিষয় নয় এবং একে অন্যের জন্য আরামদায়ক করার কোনো সংক্ষিপ্ত পথ নেই।

নিচে এমন ৭টি কথার তালিকা দেওয়া হলো যা প্রিয়জন হারানো ব্যক্তিকে বলা থেকে বিরত থাকা উচিত:

১. সবকিছুই কোনো না কোনো কারণে ঘটে: এই কথাটি শোকাতুর ব্যক্তির কষ্টকে ছোট করে ফেলে। কারণ, সব শোকের পেছনে কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা থাকে না এবং কোনো কারণই প্রিয়জনকে হারানোর অভাব পূরণ করতে পারে না।

২. আমি ঠিক জানি আপনার কেমন লাগছে: শোক একটি অত্যন্ত ব্যক্তিগত অনুভূতি এবং প্রত্যেকের অভিজ্ঞতা আলাদা। এমনকি আপনি নিজে কাউকে হারিয়ে থাকলেও, অন্যের শোকের সাথে নিজের তুলনা করা উচিত নয়।

৩. অন্তত আপনি প্রস্তুতির সময় পেয়েছিলেন: দীর্ঘ অসুস্থতার পর কেউ মারা গেলে অনেকেই এটি বলেন। কিন্তু প্রিয়জন চলে যাবে এটা আগে থেকে জানলেও তার চলে যাওয়ার কষ্ট বা ব্যথা একটুও কমে না।

৪. অন্তত আপনার অন্য সন্তান বা পরিবারের সদস্যরা তো আছে: এই কথার মাধ্যমে বোঝানো হয় যে একজনের অভাব অন্যজন দিয়ে পূরণ করা সম্ভব। এটি মৃত ব্যক্তির গুরুত্বকে খাটো করে দেখায়।

৫. শক্ত হোন: এই কথাটি শোকাতুর ব্যক্তির ওপর আবেগ চেপে রাখার জন্য এক ধরনের মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। শোকের সময় ভেঙে পড়াটাই স্বাভাবিক এবং অনেক সময় এটাই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

৬. এখন সব ভুলে সামনে এগিয়ে যেতে হবে: শোক কাটানোর কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। কাউকে ভুলে যাওয়া বা সরিয়ে দেওয়ার নাম শোক কাটিয়ে ওঠা নয়, বরং শোককে জীবনের অংশ হিসেবে মেনে নিতে শিখতে অনেক সময়ের প্রয়োজন হয়।

৭. শুধু ভালো স্মৃতিগুলোর কথা ভাবুন: শোকের শুরুতে ভালো স্মৃতিগুলোও অনেক সময় কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায় কারণ সেই মানুষটির অনুপস্থিতি আরও প্রকটভাবে অনুভূত হয়। শোকাতুর ব্যক্তি কীভাবে শোক পালন করবেন তা নির্ধারণ করে দেওয়া উচিত নয়।

সঠিকভাবে পাশে দাঁড়ানোর উপায়

সান্ত্বনা দেওয়ার বদলে আপনার উপস্থিতিই সবচেয়ে বড় সমর্থন হতে পারে। আপনি বলতে পারেন, ‘আমি জানি না কী বলা উচিত, তবে আমি তোমার পাশে আছি’। এছাড়া শুধু কথা না বলে ঘরের কাজে সাহায্য করা বা নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়ার মাধ্যমেও দীর্ঘমেয়াদী সমর্থন দেওয়া সম্ভব। মনে রাখবেন, লক্ষ্য শোক দূর করা নয়, বরং তাকে অনুভব করানো যে এই কঠিন যাত্রায় তিনি একা নন।

তথ্যসূত্র: ভেরিওয়েল মাইন্ড