খুঁজুন
, ,

মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরও যে ৭ খাবার আপনি নিরাপদে খেতে পারবেন?

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৭:৫৯ পূর্বাহ্ণ
মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরও যে ৭ খাবার আপনি নিরাপদে খেতে পারবেন?

রান্নাঘরের আলমারিতে রাখা পাস্তার প্যাকেট বা ফ্রিজে থাকা দুধের কার্টনের গায়ে লেখা তারিখ পার হয়ে গেলেই কি আমরা সেগুলো ফেলে দেব? অনেকেই স্বাস্থ্যের ঝুঁকির কথা ভেবে এমনটা করেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্যাকেটের গায়ের ‘বেস্ট বাই’ বা ‘কোয়ালিটি ডেট’ মূলত খাবারের স্বাদ ও গুণমান বোঝায়, সবসময় তা খাবারটি নষ্ট হয়ে যাওয়া নির্দেশ করে না।

তাই আপনার অপচয় কমাতে এবং খাদ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এখানে এমন ৭টি খাবারের তালিকা দেওয়া হলো, যা মেয়াদের পরেও খাওয়া নিরাপদ হতে পারে:

১. হিমায়িত মাংস: ফ্রিজের তাপমাত্রা যদি ০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের নিচে থাকে, তবে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া সেখানে বংশবিস্তার করতে পারে না। ফলে হিমায়িত মাংস, পোল্ট্রি বা সামুদ্রিক মাছ মেয়াদের পরেও কয়েক মাস পর্যন্ত ফ্রিজে রাখা নিরাপদ। যেমন, আস্ত মুরগি বা টার্কি ফ্রিজারে ৯ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত ভালো থাকে। তবে দীর্ঘসময় রাখলে এর স্বাদ বা নরম ভাব কিছুটা কমে যেতে পারে।

২. ক্যানজাত খাবার: মটরশুঁটি, সস বা স্যুপের মতো টিনজাত খাবারগুলো মেয়াদের পরেও কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত ভালো থাকে। তবে শর্ত থাকে যে, ক্যান বা টিনটি যেন কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত, ফুটো বা ফুলে না ওঠে। ক্যান ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাতে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করতে পারে।

৩. শুকনো পাস্তা ও চাল: শুকনো খাবার যেমন পাস্তা বা চালের প্যাকেটে সাধারণত গুণগত মানের তারিখ লেখা থাকে। এই তারিখের পরেও প্রায় দুই বছর পর্যন্ত এগুলো নিরাপদে খাওয়া সম্ভব। ফ্লেভারযুক্ত পাস্তা বা চালের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা প্রায় ছয় মাস।

৪. পাউরুটি: পাউরুটির গায়ে কোনো সাদা বা সবুজ ছাঁচ না পড়া পর্যন্ত এটি খাওয়া নিরাপদ। সাধারণত দোকানে পাওয়া পাউরুটিতে প্রিজারভেটিভ থাকে যা একে দীর্ঘস্থায়ী করে। আপনি যদি পাউরুটি ফ্রিজে সংরক্ষণ করেন, তবে এটি দুই থেকে তিন মাস পর্যন্ত ভালো থাকে।

৫. হিমায়িত ফল ও সবজি: ফ্রোজেন ফল এবং সবজি সাধারণত তুলে আনার পরপরই ধুয়ে ফ্রিজ করা হয়, যা পুষ্টিগুণ ধরে রাখতে সাহায্য করে। এগুলো ফ্রজারে ৮ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত নিরাপদে রাখা যায়। তবে শসা বা আলুর মতো জলীয় সবজি ফ্রিজে রাখলে কিছুটা নরম হয়ে যেতে পারে, যা স্বাদে কিছুটা ভিন্নতা আনতে পারে।

৬. দুধ: দুধের প্যাকেটে সাধারণত ‘সেল-বাই’ তারিখ থাকে এবং এই তারিখের পরেও দুধ পান করা নিরাপদ হতে পারে। ফ্রিজে ঠিকমতো রাখা হলে এবং প্যাকেটের মুখ খোলার পর দুধ অন্তত ১ থেকে ২ সপ্তাহ পর্যন্ত ভালো থাকে। তবে দুধে যদি টক গন্ধ পাওয়া যায় বা দানা বেঁধে যায়, তবে তা অবশ্যই ফেলে দিতে হবে।

৭. ডিম: প্যাকেটের গায়ের তারিখের তুলনায় ডিম ফ্রিজে অনেক বেশি সময় ভালো থাকে। ফ্রিজের দরজায় না রেখে ভেতরের ঠান্ডা অংশে ডিম রাখলে তা কেনা থেকে প্রায় ৫ সপ্তাহ পর্যন্ত সতেজ থাকে। যদি ডিমের মেয়াদের তারিখ জানা না থাকে, তবে কেনার দুই সপ্তাহের মধ্যে ব্যবহার করা উচিত।

কখন খাবার ফেলে দেবেন?

নিরাপদে খাওয়ার সুযোগ থাকলেও নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে খাবার অবশ্যই ফেলে দিন:

খাবারে ছাঁচ বা ছত্রাক দেখা দিলে।

দুর্গন্ধ ছড়ালে।

খাবারের উপরিভাগ পিচ্ছিল বা আঠালো হয়ে গেলে।

প্যাকেট বা ক্যান ফুলে গেলে বা লিক করলে।

তথ্যসূত্র: ভেরিওয়েল হেলথ

ফরিদপুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে বৃদ্ধের ৫ বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে বৃদ্ধের ৫ বছরের কারাদণ্ড

ফরিদপুরের নগরকান্দায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এক মেয়েশিশুকে (১৩) ধর্ষণচেষ্টার অপরাধে ইসমাইল মোল্লা (৫৬) নামে এক বৃদ্ধকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ পাহারায় তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

​মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর বিকেল ৩টার দিকে নগরকান্দা উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের একটি গ্রামে মুদি দোকানের পাশের পুকুর থেকে পানি নিয়ে বাড়ি ফিরছিল শিশুটি। এ সময় ইসমাইল মোল্লা তাকে দোকানঘরে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালান।

​ঘটনার পর শিশুটি বাড়িতে ফিরে স্বজনদের বিষয়টি জানায়। পরে ওই বছরের ২১ ডিসেম্বর শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় ইসমাইল মোল্লাকে একমাত্র আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

​মামলাটি তদন্ত শেষে নগরকান্দা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইরানুল ইসলাম ২০২৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার আদালত এ রায় দেন।

​রায়ের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, “বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতন প্রতিরোধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।”

জীবনসঙ্গী কেমন চান, জানালেন সাফা কবির

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ
জীবনসঙ্গী কেমন চান, জানালেন সাফা কবির

ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাফা কবির। তার সমসাময়িক অনেকেই বিয়ে করে সংসারী হয়েছেন।সংসার সামলানোর পাশাপাশি অভিনয়ও চালিয়ে যাচ্ছেন সমানতালে। তবে বিয়ে নিয়ে সামাজিক প্রত্যাশা আর নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় সাফা কবিরকে।এসব প্রশ্নে বিরক্ত এই অভিনেত্রীর মতে, বিয়ে করা কিংবা একা থাকার সিদ্ধান্ত একান্তই ব্যক্তিগত।
সম্প্রতি এক আড্ডায় নিজের জীবনযাপন, অভিনয় ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন সাফা কবির।

সেখানে উঠে আসে বিয়ে ও একক জীবন নিয়ে তার ভাবনার প্রসঙ্গও।
মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি আরও সহানুভূতিশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে অভিনেত্রী বলেন, তারকারাও সাধারণ মানুষের মতোই।

তাদেরও রয়েছে ব্যক্তিগত জীবন, নিজস্ব সময় ও নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা। বিষয়টি সবার বোঝা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
বিয়ে নিয়ে নানা প্রশ্নের মুখে পড়লেও নিজের বর্তমান জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট সাফা কবির। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নিজের জীবন নিয়ে আমি বেশ সন্তুষ্ট। সৃষ্টিকর্তার কৃপায় সুন্দর একটি জীবন কাটছে আমার।’

তবে জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিজের পছন্দের কথাও জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। শিক্ষিত, রসবোধসম্পন্ন ও ভালো মনের একজন মানুষকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে চান তিনি।

অভিনয়জীবন নিয়েও নিজের উপলব্ধির কথা জানিয়েছেন সাফা কবির। নিজের অভিনীত কাজ নিয়ে কখনোই শতভাগ সন্তুষ্ট হতে পারেন না বলে জানান তিনি। তার মতে, একজন শিল্পীর মধ্যে নিজের কাজ নিয়ে এমন অতৃপ্তি থাকা প্রয়োজন। কারণ, এই অতৃপ্তিই আরও ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগায়।

সব মিলিয়ে বিয়ে নিয়ে সামাজিক প্রত্যাশার চেয়ে নিজের ভালো থাকা, আত্মনির্ভরশীলতা ও ব্যক্তিগত পছন্দকেই বেশি গুরুত্ব দিতে চান সাফা কবির।

জটিল রোগে আক্রান্ত নগরকান্দার সাংবাদিক বোরহান আনিসের পাশে মুফতি রায়হান জামিল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩১ অপরাহ্ণ
জটিল রোগে আক্রান্ত নগরকান্দার সাংবাদিক বোরহান আনিসের পাশে মুফতি রায়হান জামিল

ফরিদপুরের নগরকান্দার সিনিয়র সাংবাদিক, দৈনিক সমকাল ও দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিনিধি এবং নগরকান্দা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি বোরহান আনিস দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস ও কিডনির জটিলতায় ভুগছেন। তাঁর উভয় কিডনি অকার্যকর হয়ে পড়ায় নিয়মিত ডায়ালিসিসসহ ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হচ্ছে। তবে পর্যাপ্ত অর্থের অভাবে তাঁর চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এমন সংকটময় মুহূর্তে অসুস্থ সাংবাদিকের পাশে দাঁড়িয়েছেন সুনামধন্য সমাজসেবক ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চরভদ্রাসন উপজেলা শাখার সভাপতি মুফতি রায়হান জামিল। বোরহান আনিসের অসুস্থতার খবর পেয়ে তিনি নগরকান্দায় তাঁর বাড়িতে ছুটে যান। সেখানে অসুস্থ সাংবাদিকের খোঁজখবর নেন, তাঁকে সান্ত্বনা দেন এবং দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করেন। পাশাপাশি তাঁর চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় বাজারসদাই কেনার জন্য নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেন।

এ সময় মুফতি রায়হান জামিল বলেন, “সাংবাদিক বোরহান আনিসের জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর পেয়ে আমি তাঁর বাড়িতে ছুটে এসেছি। তাঁকে সান্ত্বনা দিয়েছি এবং মহান আল্লাহর কাছে তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছি। সামর্থ্য অনুযায়ী তাঁর পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী। দুদিন আগে কিংবা পরে আমাদের সবাইকে এ পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে। তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো।”

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকায় সমাজসেবা ও মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পরিচিতি পেয়েছেন মুফতি রায়হান জামিল। তাঁর উদ্যোগে গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর ১০ টাকায় ইলিশ মাছ, ৩০ নভেম্বর ১ টাকা কেজি দরে গরুর মাংস এবং ১১ জুলাই ২ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণ করা হয়। এসব ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়ে সারা দেশে ব্যাপক আলোচনা হয়। এ ছাড়া গভীর রাতে অসহায় মানুষের বাড়িতে বাড়িতে এক বস্তা চাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগও প্রশংসা পেয়েছে।