খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬, ১২ চৈত্র, ১৪৩২

দৈনিক মাথাব্যথা: সাধারণ সমস্যা নাকি ব্রেন টিউমারের লক্ষণ?

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:১৪ এএম
দৈনিক মাথাব্যথা: সাধারণ সমস্যা নাকি ব্রেন টিউমারের লক্ষণ?

মাথাব্যথা খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। কাজের চাপ, ঘুম কম হওয়া, মানসিক দুশ্চিন্তা, চোখের সমস্যা বা গ্যাস্ট্রিক—বিভিন্ন কারণেই মাথাব্যথা হতে পারে। তাই প্রতিদিন মাথাব্যথা মানেই গুরুতর কিছু, এমনটা নয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে মাথাব্যথা চলতে থাকলে বা ব্যথার ধরন অস্বাভাবিক হলে তা বড় কোনো রোগের লক্ষণও হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মস্তিষ্কে টিউমার থাকলেও মাথাব্যথা হতে পারে, যদিও সব মাথাব্যথা ব্রেন টিউমারের কারণে হয় না। এ বিষয়ে কী বলছে চিকিৎসাবিজ্ঞান, চলুন জেনে নেওয়া যাক।

মাথাব্যথা কি ব্রেন টিউমারের লক্ষণ?

আমেরিকান ব্রেন টিউমার অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকা মাথাব্যথা মস্তিষ্কের টিউমারের একটি সাধারণ লক্ষণ হতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, বেশিভাগ মাথাব্যথার কারণই অন্য কিছু, যা সাধারণত গুরুতর নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, টিউমারের আকার, অবস্থান এবং মস্তিষ্কের কোন অংশে চাপ পড়ছে—এসবের ওপর নির্ভর করে লক্ষণ ভিন্ন হতে পারে। টিউমার বড় হয়ে মস্তিষ্কের স্নায়ুর ওপর চাপ সৃষ্টি করলে মাথাব্যথা শুরু হতে পারে।

ব্রেন টিউমারের মাথাব্যথা কেমন হতে পারে?

চিকিৎসকদের মতে, মস্তিষ্কের টিউমারের কারণে হওয়া মাথাব্যথা অনেক সময় মাইগ্রেন বা টেনশনের মাথাব্যথা থেকে আলাদা হয়ে থাকে।

কিছু সাধারণ লক্ষণ হলো

১. এমন মাথাব্যথা, যা রাতে ঘুম ভেঙে দেয়

২. শরীরের অবস্থান পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ব্যথার ধরন বদলে যায়

৩. সাধারণ ব্যথানাশক ওষুধে কাজ না করা

৪. কয়েক দিন বা সপ্তাহ ধরে স্থায়ী মাথাব্যথা

৫. ঘন ঘন মাথাব্যথা নিয়ে ঘুম থেকে ওঠা

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, সকালের মাথাব্যথার পেছনে স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো অন্য কারণও থাকতে পারে।

কখন ডাক্তারের কাছে যাওয়া জরুরি?

চিকিৎসকদের মতে, নতুন ধরনের বা অস্বাভাবিক মাথাব্যথা হলে সেটিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। বিশেষ করে যদি ব্যথা ক্রমাগত বাড়তে থাকে এবং সাধারণ চিকিৎসায় কমে না, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যাওয়ার কথা বিবেচনা করা উচিত—

১. শরীরে আগে থেকেই ক্যান্সার ধরা পড়েছে এবং নতুন করে মাথাব্যথা শুরু হয়েছে

২. মাথাব্যথা ক্রমাগত বাড়ছে এবং দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত করছে

৩. মাথা ঘোরা বা ভারসাম্য হারানো

৪. মাথার পেছনে চাপ অনুভব হওয়া

৫. বমি বমি ভাব বা বমির সঙ্গে মাথাব্যথা

৬. খিঁচুনি হওয়া বা কথা বলতে অসুবিধা

৭. ঝাপসা বা দ্বিগুণ দেখা, এমনকি দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া

৮. ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন, অকারণে বিভ্রান্ত হওয়া বা মানসিকভাবে গুটিয়ে যাওয়া

৯. শরীরের একপাশ ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়া বা অনুভূতি কমে যাওয়া

সব মাথাব্যথাই কি ভয়ঙ্কর?

বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশিভাগ মাথাব্যথা গুরুতর নয় এবং সাধারণ কারণেই হয়ে থাকে। তবে যে কোনো মাথাব্যথা যদি ক্রমেই বাড়তে থাকে এবং সাধারণ ব্যবস্থায় কমে না, তাহলে তা পরীক্ষা করানো জরুরি। যদি মাথাব্যথার সঙ্গে অস্বাভাবিক উপসর্গ যোগ হয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করাই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।

সূত্র : যশোদা হাসপাতাল

বিয়ে কবে, চাকরি কই— প্রশ্নগুলো সামলানোর স্মার্ট ৬ উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬, ৭:২৪ এএম
বিয়ে কবে, চাকরি কই— প্রশ্নগুলো সামলানোর স্মার্ট ৬ উপায়

পারিবারিক অনুষ্ঠান, আত্মীয়ের বাসা কিংবা কোনো সামাজিক আড্ডা; যেখানেই যান কিছু প্রশ্ন যেন পিছু ছাড়ে না। ‘বিয়ে কবে?’, ‘চাকরি কই?’, ‘এখনো সেটেলড না?’; এ ধরনের প্রশ্ন অনেক সময় বিব্রতকর হয়ে ওঠে। সরাসরি প্রতিবাদ করলে সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা, আবার চুপ থাকলেও অস্বস্তি কাটে না। এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে ভদ্রতা বজায় রেখে নিজেকে সামলাবেন, জেনে নিন কিছু কার্যকর উপায়।

কেন এমন প্রশ্ন করা হয়?

বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের সমাজে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কৌতূহল অনেক বেশি। অনেকে সামাজিকভাবে ‘কেয়ার’ দেখানোর অংশ হিসেবে এমন প্রশ্ন করেন। কেউ কেউ আবার নিজের অভিজ্ঞতা বা প্রত্যাশা অন্যের ওপর চাপিয়ে দেন। আবার অনেক ক্ষেত্রে এটি নিছক কথা শুরু করার সহজ উপায়ও।

মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, প্রশ্নগুলো সব সময় খারাপ উদ্দেশে করা হয় না, কিন্তু এগুলোর প্রভাব ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে।

স্মার্টভাবে সামলাবেন যেভাবে

১. হালকা হাসি দিয়ে এড়িয়ে যান

সব প্রশ্নের জবাব সিরিয়াসভাবে দিতে হবে, বিষয়টি এমন নয়। তাই ‘দোয়া রাখেন, সময় হলে জানাব’— এ ধরনের উত্তর অনেক সময় পরিস্থিতি হালকা করে দেয়।

২. সংক্ষিপ্ত ও নিরপেক্ষ উত্তর দিন

বেশি ব্যাখ্যায় গেলে প্রশ্ন বাড়ে। তাই ‘চেষ্টা করছি’, ‘প্রসেসে আছি’— এ ধরনের ছোট উত্তরই যথেষ্ট।

৩. কথার মোড় ঘুরিয়ে দিন

প্রশ্ন এড়িয়ে অন্য প্রসঙ্গ তুলুন। এ ক্ষেত্রে প্রশ্নকারীকে আপনিও কিছু প্রশ্ন করতে পারেন। যেমন : ‘আপনার ছেলে তো এবার কলেজে উঠল, কেমন করছে?’

৪. সীমা নির্ধারণ করুন

যদি প্রশ্ন বারবার আসে, তখন ভদ্রভাবে সীমা টানতে পারেন। ‘এই বিষয়টা নিয়ে একটু ব্যক্তিগত থাকতে চাই’— এভাবে বললে অনেকেই বুঝে যান।

৫. হিউমার ব্যবহার করুন

হালকা মজা অনেক সময় অস্বস্তি কমায়। তাই ‘চাকরি খুঁজছি, পেলে আপনাকেই প্রথমে বলব’— এ জাতীয় মজাদার উত্তর আপনার পরিস্থিতিকে খুব সহজে সামলে নিতে পারবে।

৬. নিজের অবস্থান পরিষ্কার রাখুন

যদি আপনি প্রস্তুত না থাকেন, সেটা স্বীকার করাও স্বাভাবিক। তাই বিয়ের প্রশ্নে সহজ উত্তর হিসেবে বলতে পারেন, ‘এখন ক্যারিয়ারটাই ফোকাস করছি’— এটা আপনার আত্মবিশ্বাসেরই প্রকাশ।

কেন ‘না’ বলা গুরুত্বপূর্ণ?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিজের ব্যক্তিগত সীমা রক্ষা করা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি। সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া আপনার দায়িত্ব নয়। বরং ভদ্রভাবে ‘না’ বলতে শেখা আত্মসম্মান ও মানসিক স্বস্তি দুটোই বজায় রাখে।

কী এড়িয়ে চলবেন

১. রেগে গিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখানো

২. অতিরিক্ত ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করা

৩. নিজেকে ছোট করে ফেলা বা অপরাধবোধে ভোগা

শেষ কথা

সমাজে চলতে গেলে এমন প্রশ্ন এড়ানো সম্ভব নয়। তবে কৌশল জানা থাকলে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিও সহজ হয়ে যায়। মনে রাখবেন, আপনার জীবন আপনার সিদ্ধান্ত। অন্যের কৌতূহলের চেয়ে নিজের স্বস্তি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র : আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন, মায়ো ক্লিনিক ও মাইন্ড

পদ্মার বুকে ট্র্যাজেডি: বাস উদ্ধারে মিললো ১৮ মরদেহ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬, ৬:৫৪ এএম
পদ্মার বুকে ট্র্যাজেডি: বাস উদ্ধারে মিললো ১৮ মরদেহ

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া যাত্রীবাহী বাসটি অবশেষে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৮ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

বুধবার (২৫ মার্চ) রাতে রাজবাড়ী-নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) মো. হাফিজুর রহমান এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, নদী থেকে বাসটি টেনে তুলে পন্টুনে রাখা হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে ১৩ জন নারী ও ৫ জন পুরুষ রয়েছেন। চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৩ জন।

এনডিসি আরও বলেন, বাসটি তল্লাশি শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে ভেতরে আর কোনো মরদেহ রয়েছে কি না। ঘটনার পর থেকে প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন থেকে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের ওই বাস ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়।

রাজবাড়ী জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা মোবাইলে বলেছিলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে— কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি ফেরিতে ওঠার সময় নদীতে পড়ে যায়। বাসটিতে প্রায় ৫০ জন যাত্রী ছিলেন।

আজ মহান স্বাধীনতা দিবস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬, ৬:৪৮ এএম
আজ মহান স্বাধীনতা দিবস

আজ বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) মহান স্বাধীনতা দিবস। হাজার বছরের সংগ্রামমুখর বাঙালি জাতি পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ তার বহুল কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা অর্জন করে।

স্বাধীন বাংলাদেশ এবার ৫৬ বছরে পদার্পণ করল। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়।

১৭৫৭ সালে পলাশীর প্রান্তরে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হওয়ার পর দীর্ঘ প্রায় ১৯০ বছর ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন, শোষণ ও নির্যাতনের শিকার হয় এ অঞ্চল। ১৯৪৭ সালে ভারতীয় উপমহাদেশ ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত হলেও পূর্ব বাংলার জনগণের ওপর নতুন করে শোষণের বোঝা চাপিয়ে দেয় পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী। ভারত বিভক্ত হয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়। সেই পাকিস্তানের দুই অংশ—পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে ছিল হাজার মাইলের ভৌগোলিক দূরত্ব।

শুধু তাই নয়, ভাষা ও সংস্কৃতিতেও ছিল বিস্তর অমিল। তবুও পূর্ব বাংলাকে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।

রাষ্ট্র গঠনের শুরু থেকেই পূর্ব বাংলার মানুষ সীমাহীন শোষণ, নির্যাতন, নিপীড়ন ও বৈষম্যের শিকার হতে থাকে—অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক সব ক্ষেত্রেই। তবে এই পরিস্থিতি মেনে নেয়নি এ ভূখণ্ডের মানুষ।

পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বৈষম্যমূলক আচরণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে ছাত্র, কৃষক, শ্রমিকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রতিবাদ ও আন্দোলনে গড়ে তোলে। ধীরে ধীরে এসব আন্দোলন জাতীয় সংগ্রামে রূপ নেয়, যা শেষ পর্যন্ত স্বাধীনতা ও মুক্তিসংগ্রামে পরিণত হয়।

পাকিস্তানের দুঃশাসন ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে বাঙালি জাতি শুরু থেকেই অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নামে। ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই সংগ্রামের পথ প্রসারিত হয়। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ৬ দফা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনসহ দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছরের ধারাবাহিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জাতি ১৯৭১ সালে এসে উপনীত হয়।

এই আন্দোলনগুলো এক পর্যায়ে স্বাধীনতার দাবিতে পরিণত হয়।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি করতে থাকে। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ঢাকায় এসে শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে আলোচনা করেন, কিন্তু তা প্রহসনে পরিণত হয়। ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় ইয়াহিয়া খান গোপনে ঢাকা ত্যাগ করেন এবং বাঙালির ওপর সশস্ত্র হামলার নির্দেশ দিয়ে যান।

২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর আক্রমণ ও গণহত্যা শুরু করে। ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে চালানো এই হত্যাযজ্ঞের প্রেক্ষিতে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে ২৬ মার্চ মেজর জিয়াউর রহমান (পরবর্তীকালে রাষ্ট্রপতি) চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন। স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে বিশ্বের মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের। একই রাতে পাকিস্তানি বাহিনী শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পাকিস্তানে নিয়ে যায়।

২৫ মার্চ রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা ও রাজারবাগে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ছাত্র-শিক্ষক, পুলিশ ও সামরিক সদস্যদের হত্যা করা হয়। নিরীহ মানুষের বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হয়। এই পরিস্থিতিতে ২৬ মার্চ থেকেই ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক, বুদ্ধিজীবী, নারী-পুরুষসহ সর্বস্তরের মানুষ জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে তাদের দোসর রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনীও গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞে অংশ নেয়। এর বিরুদ্ধে অদম্য সাহস নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে বীর বাঙালি। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর (ভারতীয় সেনাবাহিনী) যৌথ কমান্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করে।

৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ এবং দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে অর্জিত হয় বাঙালি জাতির চূড়ান্ত বিজয়।

জাতির এই শ্রেষ্ঠ অর্জন, মহান স্বাধীনতা দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ মর্যাদায় উদযাপিত হচ্ছে। দিনটি সরকারি ছুটির দিন।