খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

পেটের গ্যাস ভেবে অবহেলা করছেন, এটাই হতে পারে ক্যানসারের সংকেত

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:৫৫ এএম
পেটের গ্যাস ভেবে অবহেলা করছেন, এটাই হতে পারে ক্যানসারের সংকেত

পেটে মাঝে মধ্যেই ব্যথা হয়? গ্যাস বা অম্বল ভেবে এড়িয়ে যাচ্ছেন? একটু সাবধান হোন। সব ব্যথাই কিন্তু সাধারণ গ্যাসের কারণে হয় না। কখনো কখনো এমন অস্বস্তির পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে মারাত্মক একটি অসুখ—গলব্লাডার বা পিত্তথলির ক্যানসার।

এটা এমন এক ধরনের ক্যানসার, যেটা শুরুতে খুব একটা লক্ষণ দেখায় না আর তাই সময়মতো ধরা পড়ে না। পিত্তথলি বা গলব্লাডারের ক্যানসার খুব সাধারণ নয়; কিন্তু একবার হলে তা অনেক ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে। এটি যকৃতের নিচে থাকা ছোট্ট অঙ্গ পিত্তথলিতে শুরু হয়, যেখানে হজমের জন্য দরকারি রস জমা থাকে।

এই ক্যানসারটা সাধারণত শুরুতে খুব একটা ধরা পড়ে না, কারণ এর উপসর্গগুলো অনেকটাই সাধারণ এবং অন্য সমস্যার মতো মনে হয়। ফলে মানুষ অনেক সময়ই গুরুত্ব না দিয়ে দেরিতে চিকিৎসা নেন, আর তখন পরিস্থিতি জটিল হয়ে যায়।

তবে কয়েকটি লক্ষণ আগে থেকেই চিনে নিলে সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব। নিচে এমন ৫টি লক্ষণ বলা হলো, যেগুলো অনেকেই এড়িয়ে যান:

ডান দিকের পেটের ওপরের অংশে হালকা ব্যথা বা অস্বস্তি

ডান পাঁজরের নিচে যদি মাঝে মাঝে ভারী ভাব, চাপ বা টান ধরার মতো কিছু অনুভব হয়, তাহলে সেটা অবহেলা করা ঠিক নয়। অনেকে ভাবেন এটা গ্যাস, অম্বল বা পাথরের কারণে, কিন্তু সেটা না-ও হতে পারে। যদি এই ব্যথা বারবার ফিরে আসে, চিকিৎসকের কাছে যাওয়া ভালো।

খাওয়ার পর বমিভাব বা অস্বস্তি

অল্প খাওয়ার পরও যদি গা গুলিয়ে ওঠে বা অস্বস্তি লাগে, তাহলে সেটা হজমের সমস্যা নয় ক্যানসারের ইঙ্গিতও হতে পারে। যদি এই উপসর্গ কয়েক সপ্তাহ ধরে থাকে এবং এর পেছনে অন্য কোনো পরিষ্কার কারণ না থাকে, তাহলে দেরি না করে ডাক্তার দেখানো উচিত।

হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া বা খাওয়ার রুচি কমে যাওয়া

অনেক সময় অজান্তেই খাওয়ার ইচ্ছা কমে যায় বা ওজন কমতে থাকে। এটা অনেক রোগের লক্ষণ হতে পারে, কিন্তু পিত্তথলির ক্যানসারেও এমন হয়। শরীর যদি ঠিকভাবে খাবার শোষণ করতে না পারে, তাহলে শক্তির অভাব দেখা দেয়। তাই এমন কিছু হলে অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে।

চোখ বা ত্বকে হলদে ভাব (জন্ডিসের লক্ষণ)

যদি চোখ বা ত্বকে হালকা হলদে রং দেখা যায়, চুলকানি হয়, প্রস্রাব গাঢ় রঙের হয় আর মল হয় ফ্যাকাসে, তাহলে তা জন্ডিসের লক্ষণ হতে পারে। গলব্লাডার ক্যানসারে এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যদি আপনার ত্বক গাঢ় রঙের হয়, তাহলে খেয়াল করাটা আরও দরকারি।

সবসময় ক্লান্ত লাগা বা দুর্বলতা

যদি ঘুমিয়েও ক্লান্তি না কাটে, সবসময় অবসন্ন লাগে, তাহলে সেটি শুধু কাজের চাপ নয়—এর পেছনে বড় কোনো কারণ থাকতে পারে। পিত্তথলির ক্যানসারে এমন ধরনের ক্লান্তি অনেক সময় দেখা দেয়। সঙ্গে যদি অন্য উপসর্গও থাকে, তাহলে অবশ্যই ডাক্তার দেখাতে হবে।

যে কোনো অস্পষ্ট উপসর্গ যদি অনেকদিন ধরে চলতে থাকে, তাহলে সেটা অবহেলা না করে একজন চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত। ক্যানসার যত আগে ধরা পড়ে, চিকিৎসা ততটাই সহজ হয়।

তথ্যসূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৪:০৩ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঈদের নামাজ শেষে দুই দল গ্রামবাসী মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ১৫/২০ টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করা হয় বলে জানা গেছে।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৯ টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত দুই ঘন্টা ব্যাপী দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে চলে এ সংঘর্ষ। দুই পক্ষ ঢাল, সরকি, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে-অপরের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। এ সময় এলাকায় রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের ইসমাইল মুন্সি ও চুন্নু মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দিনগত রাত সাড়ে বারটার দিকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত ১২ জন আহত হন। এর জের ধরে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও মন্ত্রী কে এম ওবায়দুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ১:৩০ পিএম
বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও মন্ত্রী কে এম ওবায়দুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বিএনপির সাবেক মহাসচিব, সাবেক মন্ত্রী কে এম ওবায়দুর রহমানের ২১ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০০৭ সালের ২১ মার্চ ঢাকা অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তাঁর ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।  

কেএম ওবায়দুর রহমান ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্র রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন ও নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি ১৯৬২-৬৩ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৬৩ থেকে ৬৫ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি ফরিদপুরের কোতোয়ালি ও নগরকান্দা থানা নিয়ে গঠিত আসন থেকে জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। স্বাধীনতার  পরে ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ফরিদপুরের নগরকান্দা আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ও সরকারের প্রতিমন্ত্রী হন। ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ফরিদপুরের নগরকান্দা আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ও সরকারের মন্ত্রী হন। এরপর তিনি বিএনপির মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্য হন।তিনি ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের ৭ম জাতীয় সংসদ ও ২০০১ সালের ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর -২ (নগরকান্দা ও সালথা) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

তাঁর ১৯ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক বাণীতে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বাংলাদেশে মরহুম কে এম ওবায়দুর রহমান একজন গণসম্পৃক্ত জাতীয় নেতা হিসেবে সবার নিকট সমাদৃত ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকে শুরু পরবর্তীতে জাতীয় রাজনৈতিক জীবনে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র তথা সকল আন্দোলন -সংগ্রামে সোচ্চার থেকে তিনি আজীবন দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের পক্ষে নিজেকে নিবেদিত রেখেছিলেন। ‘

কেএম ওবায়দুর রহমানের একমাত্র সন্তান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘তিনি ছিলেন গণমানুষের নেতা, ন্যায় ও গণতন্ত্রের নির্ভীক সৈনিক। তার আদর্শ, সততা মানুষের জন্য কাজ আমাদের পথচলার প্রেরণা হয়ে আছে এবং থাকবে।

কে এম ওবায়দুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ফরিদপুর জেলা বিএনপি, নগরকান্দা ও সালথা উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে আজ শুক্রবার বিকাল ৩ টায় নগরকান্দার লস্করদিয়ায় কে এম ওবায়দুর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা অর্পণ ও আগামী ২৩ মার্চ বিকালে নগরকান্দা সরকারি মহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমি মাঠে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন