খুঁজুন
, ,

মাত্র ২০ সেকেন্ডের এই অভ্যাস আপনাকে একাধিক রোগ থেকে বাঁচাতে পারে

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৭:৩২ পূর্বাহ্ণ
মাত্র ২০ সেকেন্ডের এই অভ্যাস আপনাকে একাধিক রোগ থেকে বাঁচাতে পারে

হাত ধোয়া কাজটি এতটাই সাধারণ যে, অনেক সময় এর গুরুত্বই আমরা ভুলে যাই। অথচ মাত্র ২০ সেকেন্ডের এই ছোট্ট অভ্যাসই অসংখ্য সংক্রমণ থেকে মানুষকে সুরক্ষা দিতে পারে। বিশেষ কোনো যন্ত্র লাগে না, খরচও খুব কম। তারপরও আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই যুগে চিকিৎসকেরা এখনও বারবার হাত ধোয়ার কথাই বলেন।

ভ্যাকসিন বা অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কারের বহু আগেই হাতের পরিচ্ছন্নতা মানুষের বেঁচে থাকার হার বদলে দিয়েছিল। করোনাভাইরাস মহামারির সময়ও একই বার্তা নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছিল; পরিষ্কার হাত শুধু ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার বিষয় নয়, এটি পুরো সমাজের জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে জড়িত।

সংক্রমণের অদৃশ্য শৃঙ্খল শুরু হয় স্পর্শ থেকেই

প্রতিদিনের জীবনে মানুষ অসংখ্য জিনিস স্পর্শ করে। দরজার হাতল, মোবাইল ফোন, টাকার নোট, বাস-ট্রেনের রেলিং, এমনকি কারও সঙ্গে করমর্দন; সবকিছুতেই নানা ধরনের জীবাণু থাকতে পারে। সব জীবাণু ক্ষতিকর না হলেও কিছু জীবাণু গুরুতর অসুস্থতার কারণ হতে পারে।

মুম্বাইয়ের জিনোভা শালবি হাসপাতালের কনসালটিং ফিজিশিয়ান ডা. প্রতীক গোপানি বলেন, অনেক মানুষ এখনও নিয়মিত হাত ধোয়াকে গুরুত্ব দেন না। অথচ হাত ধোয়ার অভ্যাস গুরুতর সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয় এবং সামগ্রিক সুস্থতা বাড়াতে সাহায্য করে। এটি অত্যন্ত কার্যকর ও কম খরচের একটি স্বাস্থ্যচর্চা।

দূষিত হাত যখন মুখ, নাক বা চোখে লাগে, তখন জীবাণু খুব সহজেই শরীরে প্রবেশ করে। এভাবেই কলেরা, টাইফয়েড, ডায়রিয়া কিংবা ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো শ্বাসতন্ত্রের রোগ ছড়িয়ে পড়ে। শুধু নোংরা পরিবেশেই নয়, বাইরে থেকে পরিষ্কার দেখানো জায়গাতেও সংক্রমণের ঝুঁকি থাকতে পারে।

গবেষণা কী বলছে?

হাত ধোয়ার উপকারিতা শুধু মুখে মুখে প্রচলিত কোনো পরামর্শ নয়, এর পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক তথ্যও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা সিডিসি (CDC) বলছে, নিয়মিত হাত ধোয়ার মাধ্যমে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব।

যেসব দেশে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনের সুযোগ বেড়েছে, সেখানে সংক্রমণের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাত ধোয়া এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কার্যকর ও কম ব্যয়বহুল স্বাস্থ্যসুরক্ষা অভ্যাসগুলোর একটি।

যেসব মুহূর্ত মানুষ সবচেয়ে বেশি অবহেলা করে

বেশরভাগ সংক্রমণ বড় কোনো ঘটনায় নয়, বরং প্রতিদিনের ছোট ছোট অসতর্ক মুহূর্ত থেকেই ছড়ায়। অপরিষ্কার হাতের কারণে পেটব্যথা, বমি, জ্বর, কাশি বা ত্বকে জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এসব জটিল হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজনও হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা যেসব সময়ে অবশ্যই হাত ধোয়ার পরামর্শ দেন—

টয়লেট ব্যবহারের পর

খাবার খাওয়ার আগে

রান্না শুরু করার আগে ও কাঁচা খাবার ধরার পর

কাশি বা হাঁচি দেওয়ার পর

টিস্যু ব্যবহার করার পর

পোষা প্রাণী বা ময়লা স্পর্শ করার পর

বাইরে থেকে বাসায় ফেরার পর

শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি। কারণ শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি, আর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেটি দুর্বল হতে থাকে।

শুধু সময় নয়, সঠিক পদ্ধতিটাও জরুরি

অনেকেই খুব তাড়াহুড়ো করে হাত ধুয়ে ফেলেন। কিন্তু সঠিকভাবে হাত না ধুলে জীবাণু থেকেই যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভালোভাবে হাত ধুতে প্রায় ২০ সেকেন্ড সময় নেওয়া উচিত।

সঠিক পদ্ধতি হলো—

পরিষ্কার পানিতে হাত ভিজিয়ে নিন

সাবান ব্যবহার করে ভালোভাবে ফেনা তৈরি করুন

দুই হাতের তালু, হাতের পেছনের অংশ, আঙুলের ফাঁক ও নখের নিচে ভালোভাবে ঘষুন

পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন

পরিষ্কার তোয়ালে বা বাতাসে শুকিয়ে নিন

সাবান ত্বকের ময়লা ও চর্বি ভেঙে জীবাণু দূর করতে সাহায্য করে। শুধু পানি ব্যবহার করলে অনেক জীবাণুই হাতে থেকে যেতে পারে। সাবান না থাকলে অ্যালকোহলভিত্তিক স্যানিটাইজার কিছুটা সহায়তা করতে পারে। তবে হাত দৃশ্যমানভাবে নোংরা হলে সেটি পুরোপুরি বিকল্প নয়।

আধুনিক জীবনেও কেন এই অভ্যাস এত গুরুত্বপূর্ণ

চিকিৎসাবিজ্ঞান অনেক এগিয়েছে, কিন্তু সংক্রমণ এখনও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে; বিশেষ করে ভিড়পূর্ণ শহর, অফিস, স্কুল বা গণপরিবহনে। একজন মানুষের ছোট্ট অসতর্কতা অনেকের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। হাত ধোয়ার অভ্যাস তাই শুধু নিজের সুরক্ষার জন্য নয়, আশপাশের মানুষের নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত।

এ কারণেই চিকিৎসকেরা এখনও হাত ধোয়ার কথা এত গুরুত্ব দিয়ে বলেন। কারণ এই ছোট্ট অভ্যাসটি সহজ, বারবার করা যায়, আর কার্যকারিতাও অত্যন্ত শক্তিশালী।

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

ফরিদপুরে অস্ত্র, ককটেল ও সেনাপোশাকসহ ভুয়া কর্মকর্তা গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে অস্ত্র, ককটেল ও সেনাপোশাকসহ ভুয়া কর্মকর্তা গ্রেফতার

ফরিদপুর শহরের কোতয়ালী থানা এলাকায় পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি রিভলবার, তাজা কার্তুজ, ককটেল, দেশীয় অস্ত্র, ওয়াকিটকি ও সেনাবাহিনীর পোশাকসহ সাফায়েত আহমেদ (৩৬) নামের এক ভুয়া সেন কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১০)।

​মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ভোরে ও সকালে পৃথক স্থান থেকে তাকে গ্রেফতার ও এসব সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

​এসআরবি-১০ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৫টার দিকে ফরিদপুর কোতয়ালী থানাধীন উত্তর কালীবাড়ি এলাকার জেনারেল হাসপাতালের একটি পরিত্যক্ত ভবনে মাদক বেচাকেনার খবর পেয়ে অভিযান চালায় এসআরবি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে থাকা মাদকসেবীরা পালিয়ে যায়। পরে ভবনে তল্লাশি চালিয়ে একটি বিদেশি রিভলবার ও ৫ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।

​পরবর্তীতে একই দিন সকাল পৌনে ৯টার দিকে নীলটুলি এলাকার একটি আবাসিক ভবনে অপর এক অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে পালানোর চেষ্টাকালে চরকমলাপুর এলাকার মৃত বশির আহমেদের ছেলে সাফায়েত আহমেদকে আটক করা হয়।

​পরে তার দেওয়া তথ্য মতে বসতঘরে তল্লাশি চালিয়ে ২টি ককটেল, ১টি খেলনা রিভলবার, ১টি চাইনিজ কুড়াল, ১টি রামদা, ১টি ছুরি, ১টি সুইচ গিয়ার, ১টি ওয়াকিটকি, ১টি ট্রেজার গান, ২৫ রাউন্ড গুলির খোসা, ১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ২টি সেনাবাহিনীর ক্যাপ, ১টি এপিবিএন-এর ক্যাপ ও ১টি সেনাবাহিনীর কোমর বন্ধনী উদ্ধার করা হয়।

​প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, আটক সাফায়েত দীর্ঘদিন ধরে সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় একটি মাদক ও একটি সন্ত্রাসবিরোধী মামলা রয়েছে।

​বিষয়টি নিশ্চিত করে এসআরবি-১০ এর সিপিএসসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার মো: শাহরিয়ার রিফাত অভি জানান, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। অপরাধ দমনে এসআরবির এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ফরিদপুরে বিদ্যালয়ের পাশে পোল্ট্রি ফার্ম, দুর্গন্ধে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ৩০০ শিক্ষার্থী

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বিদ্যালয়ের পাশে পোল্ট্রি ফার্ম, দুর্গন্ধে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ৩০০ শিক্ষার্থী

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের পিয়াজখালী আদর্শ লিপি প্রি-ক্যাডেট স্কুলের পাশেই গড়ে উঠেছে একটি পোল্ট্রি ফার্ম। অভিযোগ, ফার্মের মুরগির বিষ্ঠা ও অন্যান্য বর্জ্য যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা না করায় সেখান থেকে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। এতে বিদ্যালয়ের তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পিয়াজখালী এলাকায় বিদ্যালয়টির ১৫ মিটার পাশেই পোল্ট্রি ফার্মটি স্থাপন করা হয়েছে। ফার্মে মুরগি পালনের কারণে নিয়মিত দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। বিশেষ করে বাতাসের সঙ্গে দুর্গন্ধ বিদ্যালয়ের দিকে এলে শ্রেণিকক্ষে স্বাভাবিক পরিবেশে পাঠদান কঠিন হয়ে পড়ে। দুর্গন্ধের কারণে অনেক শিক্ষার্থী ক্লাসে মনোযোগ দিতে পারছে না। কখনো কখনো তাদের বমি বমি ভাবও হচ্ছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।

বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল আক্তার বলে, ক্লাস করার সময় এমন দুর্গন্ধ আসে যে নাকে হাত দিয়ে বসে থাকতে হয়। তখন স্যার-ম্যাডামের পড়ায় মনোযোগ দেওয়া যায় না। মাঝে মাঝে বমি বমি লাগে।

অভিভাবক মোসা. সালমা আক্তার বলেন, আমরা সন্তানদের লেখাপড়া করানোর জন্য স্কুলে পাঠাই। কিন্তু স্কুলের পাশেই এমনভাবে পোল্ট্রি ফার্ম করা হয়েছে যে দুর্গন্ধে শিশুরা কষ্ট পাচ্ছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা দরকার।

বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা মোসা. মিনু আক্তার বলেন, পোল্ট্রি ফার্মের দুর্গন্ধের কারণে শ্রেণিকক্ষে স্বাভাবিক পরিবেশে পাঠদান করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বাতাসের সঙ্গে দুর্গন্ধ স্কুলের দিকে এলে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখা যায় না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক আবু সাঈদ খান বলেন, বিদ্যালয়ের পাশে পোল্ট্রি ফার্ম স্থাপনের পর থেকেই দীর্ঘদিন ধরে দুর্গন্ধের সমস্যা চলছে। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিকভাবে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিষয়টি ফার্ম কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি। ফার্মের মালিক বারবার কার্যক্রম বন্ধ করার কথা বললেও পোল্ট্রি বিক্রি করে আবার নতুন করে পোল্ট্রি পালন শুরু করেন। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশের কথা বিবেচনা করে দ্রুত এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।

তবে পোল্ট্রি ফার্মের মালিক মো. মজনু খান বলেন, আগামী এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে পোল্ট্রিগুলো বিক্রি করে দেব। এরপর আর এখানে পোল্ট্রি পালন করব না।

এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন জানান, এ বিষয়টি আমি অবগত না। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফরিদপুরে হাতি দিয়ে টাকা আদায়, ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে হাতি দিয়ে টাকা আদায়, ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি

Oplus_131072

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা সদর বাজার চৌরাস্তায় হাতি নিয়ে বিভিন্ন দোকান ও পথচারীদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহের ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ব্যস্ত বাজারে এভাবে টাকা তোলায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

​স্থানীয়রা জানান, দুপুরে এক মাহুত একটি হাতি নিয়ে আলফাডাঙ্গা সদর বাজারের চৌরাস্তা এলাকায় আসেন। পরে হাতিটিকে বিভিন্ন দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে শুঁড় উঁচিয়ে টাকা চাইতে দেখা যায়। হাতি দোকানের সামনে এসে দাঁড়ালে পথচারী ও ব্যবসায়ীদের অনেকেই বাধ্য হয়ে টাকা দেন।

​বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দোকানের সামনে হাতি এসে দাঁড়ালে চাইলেও বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া যায় না। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অনেকেই টাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন। এভাবে প্রতিদিন টাকা তোলা হলে বাজার এলাকায় ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

​স্থানীয়দের আশঙ্কা, আলফাডাঙ্গা সদর বাজারের চৌরাস্তা অত্যন্ত ব্যস্ত এলাকা। যেকোনো মুহূর্তে হাতিটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে এ নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হয়। হাতি নিয়ে এভাবে টাকা তোলার কোনো আইনি অনুমোদন আছে কি না, সে বিষয়ে বন বিভাগ ও প্রশাসনের স্পষ্ট বক্তব্য দাবি করেছেন তারা।

​বিষয়টি নজরে আনলে আলফাডাঙ্গা উপজেলা বন কর্মকর্তা শেখ লিটন জানান, হাতি দিয়ে টাকা সংগ্রহের বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

​এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল সরোয়ার বলেন, “সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হলে সুযোগ বুঝে মাহুত হাতি নিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

​জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও বাজারে স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন স্থানীয়রা।