খুঁজুন
সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৩০ চৈত্র, ১৪৩২

১০ খাবার ও পানীয় নীরবে নষ্ট করছে আপনার দাঁত

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:১৬ পূর্বাহ্ণ
১০ খাবার ও পানীয় নীরবে নষ্ট করছে আপনার দাঁত

ঝকঝকে সাদা দাঁত শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, এটি সুস্বাস্থ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসেই লুকিয়ে আছে এমন কিছু অভ্যাস ও খাবার, যা ধীরে ধীরে দাঁতের সবচেয়ে শক্ত স্তর ‘এনামেল’ ক্ষয় করে দিচ্ছে।

অনেকেই মনে করেন শুধু মিষ্টি খেলেই দাঁতের ক্ষতি হয়, কিন্তু বাস্তবতা আরও বিস্তৃত। অ্যাসিডিক পানীয়, সফট ড্রিঙ্কস, এমনকি স্বাস্থ্যকর মনে করা কিছু ফলের জুসও দাঁতের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাবারের ধরন যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ তা খাওয়ার সময় ও অভ্যাসও। ধীরে ধীরে চুমুক দিয়ে পান করা বা বারবার অ্যাসিডিক খাবার গ্রহণ করলে দাঁতের ক্ষতির ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন ১০টি খাবার ও পানীয় সম্পর্কে, যেগুলো আপনার দাঁতের এনামেলের জন্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

১. ফলের জুস

মুখের ভেতরের pH মাত্রা ৫.৫-এর নিচে নামলে দাঁতের এনামেল নরম হয়ে যায়। সাইট্রাস ফলের জুসের pH সাধারণত ২.০–৩.৫-এর মধ্যে থাকে, যা অত্যন্ত অ্যাসিডিক। এতে থাকা সিট্রিক অ্যাসিড দাঁতের খনিজ উপাদান টেনে বের করে আনে, ফলে এনামেল ক্ষয়ের ঝুঁকি দ্বিগুণ হয়। আনারস ও ডালিমের জুসও এনামেল ক্ষয় করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, ডালিমের জুসের প্রভাব অনেকটা সোডার মতোই। প্যাকেটজাত জুসে অতিরিক্ত সিট্রিক অ্যাসিড ও ভিটামিন C (অ্যাসকরবিক অ্যাসিড) থাকায় এগুলো আরও ক্ষতিকর হতে পারে। তবে ক্যালসিয়ামযুক্ত জুস কিছুটা কম ক্ষতিকর।

২. সোডা ও স্পার্কলিং ওয়াটার

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন চিনিযুক্ত সোডা পান করেন না, তাদের দাঁতের ক্ষয়ের ঝুঁকি ৯৪% কম। সোডার pH ২.৫–৩.৫, যা অত্যন্ত অ্যাসিডিক। এতে কার্বনিক, সিট্রিক, ফসফরিক ও টারটারিক অ্যাসিড থাকে। বিশেষ করে ফসফরিক অ্যাসিড দাঁত থেকে ক্যালসিয়াম বের করে আনে। প্রতিবার সোডা পান করার পর প্রায় ২০ মিনিট ধরে দাঁতে অ্যাসিড আক্রমণ চলতে থাকে। সাধারণ স্পার্কলিং ওয়াটার তুলনামূলক কম ক্ষতিকর হলেও ফ্লেভারযুক্ত হলে ঝুঁকি বাড়ে।

অ্যাসিড, চিনি ও ক্যাফেইনের প্রভাব

অ্যাসিড এনামেল নরম করে, আর চিনি মুখের ব্যাকটেরিয়াকে সক্রিয় করে আরও অ্যাসিড তৈরি করে। ডায়েট সোডায় চিনি না থাকলেও অ্যাসিড থাকে। ক্যাফেইন লালা কমিয়ে দেয়, ফলে দাঁত স্বাভাবিকভাবে পরিষ্কার হওয়ার সুযোগ কমে যায়।

৩. স্পোর্টস ড্রিঙ্কস

এগুলো শরীরের ইলেক্ট্রোলাইটের ঘাটতি পূরণ করলেও দাঁতের জন্য ক্ষতিকর। এতে সিট্রিক অ্যাসিড ও চিনি থাকে। ব্যায়ামের সময় লালা কম তৈরি হওয়ায় দাঁত আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

৪. এনার্জি ড্রিঙ্কস

এগুলোর গড় pH প্রায় ৩.৩। এতে অ্যাসিড, চিনি ও উচ্চমাত্রার ক্যাফেইন থাকে। এমনকি সুগার-ফ্রি হলেও অ্যাসিডের কারণে ক্ষতি হয়। কিছু ক্ষেত্রে এগুলো সোডার চেয়েও বেশি ক্ষতিকর, কারণ এগুলো দীর্ঘ সময় অ্যাসিডিক থাকে এবং লালা সহজে নিরপেক্ষ করতে পারে না।

৫. ভিনেগারযুক্ত ও আচারজাত খাবার

ভিনেগার (যেমন অ্যাপল সিডার ভিনেগার) দাঁতে অ্যাসিটিক অ্যাসিডের প্রভাব ফেলে। অনেক সালাদ ড্রেসিংয়েও সিট্রিক অ্যাসিড থাকে। তবে কিছু অভ্যাস ঝুঁকি কমাতে পারে—

ক) ড্রেসিংয়ের সঙ্গে দুধজাত খাবার বা তেল মেশালে ঝুঁকি কমে

খ) খাবারের সঙ্গে অল্প পরিমাণে খেলে ভালো

গ) রাতে খেলে ঝুঁকি বাড়ে, কারণ তখন লালা কম তৈরি হয়

৬. চিনি ও স্টার্চযুক্ত স্ন্যাকস

কেক, চিপস, পাউরুটি ইত্যাদি মুখে গিয়ে চিনিতে রূপান্তরিত হয়। ব্যাকটেরিয়া এগুলো ভেঙে অ্যাসিড তৈরি করে। এসব খাবার দাঁতে লেগে থাকে, ফলে ক্ষতির সময়ও দীর্ঘ হয়।

৭. ক্যান্ডি

সব ক্যান্ডিই ক্ষতিকর, তবে কিছু আরও বেশি। এর মধ্যে হার্ড ক্যান্ডি ধীরে গলে, ফলে দীর্ঘ সময় দাঁতের সংস্পর্শে থাকে। টক ক্যান্ডিতে অ্যাসিড ও চিনি দুটোই থাকে। আর স্টিকি ক্যান্ডি দাঁতে লেগে থাকে; এসব কারণেই ক্যান্ডিগুলো দাঁতের জন্য ক্ষতিকর।

৮. শুকনো ফল

কিশমিশ, খেজুর, এপ্রিকট স্বাস্থ্যকর হলেও এতে চিনি থাকে এবং এগুলো দাঁতে লেগে থাকে। ফলে ব্যাকটেরিয়া বেশি সময় ধরে অ্যাসিড তৈরি করতে পারে।

৯. অ্যালকোহল

অ্যালকোহল অ্যাসিডিক এবং লালা কমিয়ে দেয়। ফ্লেভারযুক্ত ককটেলে চিনি ও সিট্রিক অ্যাসিড থাকে, যা আরও ক্ষতিকর। গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু ককটেল সোডার চেয়েও বেশি এনামেল ক্ষয় করে। সাদা ওয়াইন লাল ওয়াইনের চেয়ে বেশি ক্ষতিকর এবং ধীরে পান করলে ঝুঁকি বাড়ে।

১০. কফি ও চা

এগুলো সামান্য অ্যাসিডিক হলেও পরিমিত পরিমাণে নিরাপদ। তবে সারাদিন ধরে অল্প অল্প করে পান করলে দাঁতের ক্ষতি বাড়ে। ক্যাফেইন লালা কমায় এবং চিনি বা সিরাপ যোগ করলে ঝুঁকি আরও বাড়ে। কম্বুচা চায়ের pH ২.৮–৩.৬, যা এনামেলের ক্যালসিয়াম ক্ষয় বাড়াতে পারে। বোতলজাত আইসড টি-তে সাধারণত বেশি সিট্রিক অ্যাসিড থাকে, তাই এটি বেশি ক্ষতিকর।

কীভাবে দাঁত রক্ষা করবেন

কিছু সহজ অভ্যাস আপনার দাঁতকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করতে পারে।

১. দীর্ঘ সময় ধরে অ্যাসিডিক বা চিনিযুক্ত পানীয় চুমুক দিয়ে পান করবেন না

২. পর্যাপ্ত পানি পান করুন

৩. অ্যাসিডিক খাবারের সঙ্গে দুধজাত খাবার খান

৪. খাবারের সঙ্গে ক্ষতিকর খাবার গ্রহণ করুন

৫. খাওয়ার পর পানি দিয়ে কুলি করুন

৬. স্ট্র ব্যবহার করুন (পানীয় দাঁতের পেছন দিকে নিতে)

ওরাল হাইজিন টিপস

১. নরম ব্রাশ ও ফ্লোরাইড টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করুন

২. প্রতিদিন ফ্লস ব্যবহার করুন

৩. সুগার-ফ্রি চুইংগাম চিবাতে পারেন

৪. নিয়মিত ডেন্টিস্টের কাছে যান

৫. অ্যালকোহলমুক্ত মাউথওয়াশ ব্যবহার করুন

৬. অ্যাসিডিক কিছু খাওয়ার পর ৩০-৬০ মিনিট অপেক্ষা করে ব্রাশ করুন

সূত্র : ভেরি ওয়েল হেলথ

“হাদিয়ার প্রলোভন পেরিয়ে এক টুকরো মানবিকতার গল্প”

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৫৪ অপরাহ্ণ
“হাদিয়ার প্রলোভন পেরিয়ে এক টুকরো মানবিকতার গল্প”

অফিসের ব্যস্ততা যেন প্রতিদিনেরই সঙ্গী। তবুও প্রতিটি কাজ আন্তরিকতার সাথে সম্পন্ন করার চেষ্টা সবসময়ই থাকে। কাউকে অযথা ঘোরানো বা দায়িত্বে অবহেলা—এসব থেকে নিজেকে যতটা সম্ভব দূরে রাখার চেষ্টা করি। কতটা পারি বা পেরেছি, সে হিসাব আজ না-ই বা করলাম।

আজও ছিল তেমনই একটি দিন। নির্ধারিত অফিস সময় পেরিয়ে গেলেও এক পুলিশ কর্মকর্তা সেবা নিতে আসেন। নিয়ম অনুযায়ী সময় শেষ হলেও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাকে ফিরিয়ে দিতে মন সায় দিল না। তাকে বসতে দিলাম, ধৈর্য ধরে তার সমস্যার কথা শুনলাম এবং যথাসাধ্য আন্তরিকতার সাথে সমাধানের চেষ্টা করলাম।

আমার এই সামান্য চেষ্টায় তিনি সন্তুষ্ট হলেন। কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অংশ হিসেবে কিছু অর্থ দিতে চাইলেন। বিনয়ের সাথে জানিয়ে দিলাম—এটি আমার নীতি ও পছন্দের বিরুদ্ধে। আমি সেবার বিনিময়ে কোনো ব্যক্তিগত অর্থ গ্রহণ করি না। কারণ, মানুষের সেবা করার জন্যই আমি বেতন পাই—যার মাধ্যমে সাদামাটা ডাল-ভাতেই আমার জীবন চলে যায়, আলহামদুলিল্লাহ।

তিনি বারবার চেষ্টা করেও যখন কিছু দিতে পারলেন না, তখন কিছুটা বিস্ময় আর শ্রদ্ধা মিশ্রিত দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন। শেষে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, “আপনি সত্যিই একজন ভালো মানুষ। আল্লাহ আপনাকে ভালো রাখুন।”

এ ধরনের অভিজ্ঞতা নতুন নয়। প্রায়ই কেউ না কেউ কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য কিছু দিতে চান—কখনো অর্থ, কখনো খাবার। তবে যতটা সম্ভব তা এড়িয়ে গিয়ে বরং তাদের আপ্যায়ন করার চেষ্টা করি। কারণ, আমার বিশ্বাস—সত্যিকারের সন্তুষ্টি আসে দেওয়ার মধ্যে, নেওয়ার মধ্যে নয়।

অনেকে হয়তো এই লেখাকে আত্মপ্রচার বা আত্মপ্রশংসা ভাবতে পারেন। কিন্তু উদ্দেশ্য তা নয়। আমি শুধু একটি বিশ্বাস ভাগ করতে চাই—পৃথিবীতে টাকা-পয়সাই সবকিছু নয়। বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয়টুকু থাকলেই প্রকৃত সুখ খুঁজে পাওয়া যায়। অতিরিক্ত অর্থ কিংবা অযথা প্রাপ্তি অনেক সময় মানুষের জীবনে অশান্তি ডেকে আনে।

আমি সবসময় বিশ্বাস করি—“মানুষ মানুষের জন্য”। মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাদের সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসা—এটাই সবচেয়ে বড় মানবিক দায়িত্ব। সেবার মাধ্যমে যদি কারো মুখে হাসি ফোটানো যায়, সেটাই জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন।

এই আদর্শ নিয়েই বেঁচে আছি, এবং আজীবন এভাবেই থাকতে চাই। সবাই দোয়া করবেন, যেন সততা ও মানবিকতার এই পথ থেকে কখনো বিচ্যুত না হই।

লেখক: হারুন-অর-রশীদ, সংবাদকর্মী, ফরিদপুর

ফরিদপুরে ডিবির সাঁড়াশি অভিযানে গাঁজা-ইয়াবা-মদসহ ৭ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ডিবির সাঁড়াশি অভিযানে গাঁজা-ইয়াবা-মদসহ ৭ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

ফরিদপুর জেলাজুড়ে মাদকবিরোধী জোরালো অভিযানে গাঁজা, ইয়াবা ও বিদেশি মদসহ নারীসহ ৭ জন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।

শনিবার (১১ এপ্রিল) ও রবিবার (১২ এপ্রিল) জেলার ভাঙ্গা, কোতয়ালী ও নগরকান্দা থানার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিবি সূত্রে জানা যায়, জেলার গোয়েন্দা পুলিশের ওসি সৈয়দ মো. আলমগীর হোসেনের তত্ত্বাবধানে একাধিক টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সমন্বিতভাবে এসব অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে, যা জেলার সক্রিয় মাদকচক্রের বিস্তৃত নেটওয়ার্কের ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রবিবার ভাঙ্গা থানার পুলিয়ার ব্রাহ্মণপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে রিনা বেগম (৪৫) নামে এক নারীকে ৮ কেজি ২০০ গ্রাম গাঁজাসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে শনিবার কোতয়ালী থানার দক্ষিণ আলীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে জুটন (৩১), জুবায়ের শেখ (২০) ও সাথী বেগম (৫৫)-কে আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে ৪৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির নগদ ৬১ হাজার ৪৫০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

একই দিনে নগরকান্দা থানার কুঞ্জুনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মহসিন শেখ বাবু (৩০) নামে এক মাদক কারবারিকে ২১ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার সহযোগী শেখ জাফরের ঘর থেকে আরও ৯০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হলেও তিনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অপরদিকে রবিবার ভাঙ্গা থানার মানিকদহ কালিবাড়ী এলাকায় পৃথক অভিযানে শিমুল চক্রবর্তী মনা (৪১) ও ওয়াসিম ঘোষ (৩৯)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ২ বোতল বিদেশি মদ (প্রায় ১৫০০ মিলিলিটার) এবং ১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিবি পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক সরবরাহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিল এবং একটি সংঘবদ্ধ চক্র হিসেবে কাজ করছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা মাদক সংগ্রহ ও বিতরণের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে, যা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ডিবির ওসি সৈয়দ মো. আলমগীর হোসেন বলেন, “ফরিদপুরকে মাদকমুক্ত করতে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। কোনো মাদক কারবারিকে ছাড় দেওয়া হবে না। সংঘবদ্ধ চক্র ভেঙে দিতে আমাদের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।”

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

৭ বছর পালিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি, নগরকান্দায় ধরা পড়ল যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত খুনি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৫৭ অপরাহ্ণ
৭ বছর পালিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি, নগরকান্দায় ধরা পড়ল যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত খুনি

ফরিদপুরের নগরকান্দায় দীর্ঘদিন পলাতক থাকা একটি হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি রেজাউল মাতুব্বরকে অবশেষে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির সমন্বয়ে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে তাকে আটক করা হয়।

রবিবার (১২ এপ্রিল) সকালে তাকে ফরিদপুরের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এর আগে শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে নগরকান্দা থানার বাবুর কাইচাইল এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। রেজাউল মাতুব্বর ওই এলাকার মৃত সাহেদ আলী মাতুব্বরের ছেলে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১১ আগস্ট দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলায় (এফআইআর নং-০৯/১৯০; জিআর নং-১৯০/১৯) দণ্ডবিধির একাধিক গুরুতর ধারায় অভিযুক্ত ছিলেন রেজাউল। পরবর্তীতে আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করলে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। দীর্ঘ প্রায় সাত বছর ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে পলাতক থাকলেও শেষ পর্যন্ত প্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

অভিযানটি পরিচালনা করেন সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মাহমুদুল হাসান। নগরকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাসূল সামদানী আজাদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এসআই তারক বিশ্বাস, এএসআই মো. জাহাঙ্গীর আলম ও এএসআই মো. শরিফুল ইসলামসহ একটি বিশেষ দল এতে অংশ নেয়।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসূল সামদানী আজাদ জানান, “দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এই সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেফতার করা পুলিশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।”