খুঁজুন
, ,

১০ খাবার ও পানীয় নীরবে নষ্ট করছে আপনার দাঁত

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:১৬ পূর্বাহ্ণ
১০ খাবার ও পানীয় নীরবে নষ্ট করছে আপনার দাঁত

ঝকঝকে সাদা দাঁত শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, এটি সুস্বাস্থ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসেই লুকিয়ে আছে এমন কিছু অভ্যাস ও খাবার, যা ধীরে ধীরে দাঁতের সবচেয়ে শক্ত স্তর ‘এনামেল’ ক্ষয় করে দিচ্ছে।

অনেকেই মনে করেন শুধু মিষ্টি খেলেই দাঁতের ক্ষতি হয়, কিন্তু বাস্তবতা আরও বিস্তৃত। অ্যাসিডিক পানীয়, সফট ড্রিঙ্কস, এমনকি স্বাস্থ্যকর মনে করা কিছু ফলের জুসও দাঁতের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাবারের ধরন যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ তা খাওয়ার সময় ও অভ্যাসও। ধীরে ধীরে চুমুক দিয়ে পান করা বা বারবার অ্যাসিডিক খাবার গ্রহণ করলে দাঁতের ক্ষতির ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন ১০টি খাবার ও পানীয় সম্পর্কে, যেগুলো আপনার দাঁতের এনামেলের জন্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

১. ফলের জুস

মুখের ভেতরের pH মাত্রা ৫.৫-এর নিচে নামলে দাঁতের এনামেল নরম হয়ে যায়। সাইট্রাস ফলের জুসের pH সাধারণত ২.০–৩.৫-এর মধ্যে থাকে, যা অত্যন্ত অ্যাসিডিক। এতে থাকা সিট্রিক অ্যাসিড দাঁতের খনিজ উপাদান টেনে বের করে আনে, ফলে এনামেল ক্ষয়ের ঝুঁকি দ্বিগুণ হয়। আনারস ও ডালিমের জুসও এনামেল ক্ষয় করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, ডালিমের জুসের প্রভাব অনেকটা সোডার মতোই। প্যাকেটজাত জুসে অতিরিক্ত সিট্রিক অ্যাসিড ও ভিটামিন C (অ্যাসকরবিক অ্যাসিড) থাকায় এগুলো আরও ক্ষতিকর হতে পারে। তবে ক্যালসিয়ামযুক্ত জুস কিছুটা কম ক্ষতিকর।

২. সোডা ও স্পার্কলিং ওয়াটার

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন চিনিযুক্ত সোডা পান করেন না, তাদের দাঁতের ক্ষয়ের ঝুঁকি ৯৪% কম। সোডার pH ২.৫–৩.৫, যা অত্যন্ত অ্যাসিডিক। এতে কার্বনিক, সিট্রিক, ফসফরিক ও টারটারিক অ্যাসিড থাকে। বিশেষ করে ফসফরিক অ্যাসিড দাঁত থেকে ক্যালসিয়াম বের করে আনে। প্রতিবার সোডা পান করার পর প্রায় ২০ মিনিট ধরে দাঁতে অ্যাসিড আক্রমণ চলতে থাকে। সাধারণ স্পার্কলিং ওয়াটার তুলনামূলক কম ক্ষতিকর হলেও ফ্লেভারযুক্ত হলে ঝুঁকি বাড়ে।

অ্যাসিড, চিনি ও ক্যাফেইনের প্রভাব

অ্যাসিড এনামেল নরম করে, আর চিনি মুখের ব্যাকটেরিয়াকে সক্রিয় করে আরও অ্যাসিড তৈরি করে। ডায়েট সোডায় চিনি না থাকলেও অ্যাসিড থাকে। ক্যাফেইন লালা কমিয়ে দেয়, ফলে দাঁত স্বাভাবিকভাবে পরিষ্কার হওয়ার সুযোগ কমে যায়।

৩. স্পোর্টস ড্রিঙ্কস

এগুলো শরীরের ইলেক্ট্রোলাইটের ঘাটতি পূরণ করলেও দাঁতের জন্য ক্ষতিকর। এতে সিট্রিক অ্যাসিড ও চিনি থাকে। ব্যায়ামের সময় লালা কম তৈরি হওয়ায় দাঁত আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

৪. এনার্জি ড্রিঙ্কস

এগুলোর গড় pH প্রায় ৩.৩। এতে অ্যাসিড, চিনি ও উচ্চমাত্রার ক্যাফেইন থাকে। এমনকি সুগার-ফ্রি হলেও অ্যাসিডের কারণে ক্ষতি হয়। কিছু ক্ষেত্রে এগুলো সোডার চেয়েও বেশি ক্ষতিকর, কারণ এগুলো দীর্ঘ সময় অ্যাসিডিক থাকে এবং লালা সহজে নিরপেক্ষ করতে পারে না।

৫. ভিনেগারযুক্ত ও আচারজাত খাবার

ভিনেগার (যেমন অ্যাপল সিডার ভিনেগার) দাঁতে অ্যাসিটিক অ্যাসিডের প্রভাব ফেলে। অনেক সালাদ ড্রেসিংয়েও সিট্রিক অ্যাসিড থাকে। তবে কিছু অভ্যাস ঝুঁকি কমাতে পারে—

ক) ড্রেসিংয়ের সঙ্গে দুধজাত খাবার বা তেল মেশালে ঝুঁকি কমে

খ) খাবারের সঙ্গে অল্প পরিমাণে খেলে ভালো

গ) রাতে খেলে ঝুঁকি বাড়ে, কারণ তখন লালা কম তৈরি হয়

৬. চিনি ও স্টার্চযুক্ত স্ন্যাকস

কেক, চিপস, পাউরুটি ইত্যাদি মুখে গিয়ে চিনিতে রূপান্তরিত হয়। ব্যাকটেরিয়া এগুলো ভেঙে অ্যাসিড তৈরি করে। এসব খাবার দাঁতে লেগে থাকে, ফলে ক্ষতির সময়ও দীর্ঘ হয়।

৭. ক্যান্ডি

সব ক্যান্ডিই ক্ষতিকর, তবে কিছু আরও বেশি। এর মধ্যে হার্ড ক্যান্ডি ধীরে গলে, ফলে দীর্ঘ সময় দাঁতের সংস্পর্শে থাকে। টক ক্যান্ডিতে অ্যাসিড ও চিনি দুটোই থাকে। আর স্টিকি ক্যান্ডি দাঁতে লেগে থাকে; এসব কারণেই ক্যান্ডিগুলো দাঁতের জন্য ক্ষতিকর।

৮. শুকনো ফল

কিশমিশ, খেজুর, এপ্রিকট স্বাস্থ্যকর হলেও এতে চিনি থাকে এবং এগুলো দাঁতে লেগে থাকে। ফলে ব্যাকটেরিয়া বেশি সময় ধরে অ্যাসিড তৈরি করতে পারে।

৯. অ্যালকোহল

অ্যালকোহল অ্যাসিডিক এবং লালা কমিয়ে দেয়। ফ্লেভারযুক্ত ককটেলে চিনি ও সিট্রিক অ্যাসিড থাকে, যা আরও ক্ষতিকর। গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু ককটেল সোডার চেয়েও বেশি এনামেল ক্ষয় করে। সাদা ওয়াইন লাল ওয়াইনের চেয়ে বেশি ক্ষতিকর এবং ধীরে পান করলে ঝুঁকি বাড়ে।

১০. কফি ও চা

এগুলো সামান্য অ্যাসিডিক হলেও পরিমিত পরিমাণে নিরাপদ। তবে সারাদিন ধরে অল্প অল্প করে পান করলে দাঁতের ক্ষতি বাড়ে। ক্যাফেইন লালা কমায় এবং চিনি বা সিরাপ যোগ করলে ঝুঁকি আরও বাড়ে। কম্বুচা চায়ের pH ২.৮–৩.৬, যা এনামেলের ক্যালসিয়াম ক্ষয় বাড়াতে পারে। বোতলজাত আইসড টি-তে সাধারণত বেশি সিট্রিক অ্যাসিড থাকে, তাই এটি বেশি ক্ষতিকর।

কীভাবে দাঁত রক্ষা করবেন

কিছু সহজ অভ্যাস আপনার দাঁতকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করতে পারে।

১. দীর্ঘ সময় ধরে অ্যাসিডিক বা চিনিযুক্ত পানীয় চুমুক দিয়ে পান করবেন না

২. পর্যাপ্ত পানি পান করুন

৩. অ্যাসিডিক খাবারের সঙ্গে দুধজাত খাবার খান

৪. খাবারের সঙ্গে ক্ষতিকর খাবার গ্রহণ করুন

৫. খাওয়ার পর পানি দিয়ে কুলি করুন

৬. স্ট্র ব্যবহার করুন (পানীয় দাঁতের পেছন দিকে নিতে)

ওরাল হাইজিন টিপস

১. নরম ব্রাশ ও ফ্লোরাইড টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করুন

২. প্রতিদিন ফ্লস ব্যবহার করুন

৩. সুগার-ফ্রি চুইংগাম চিবাতে পারেন

৪. নিয়মিত ডেন্টিস্টের কাছে যান

৫. অ্যালকোহলমুক্ত মাউথওয়াশ ব্যবহার করুন

৬. অ্যাসিডিক কিছু খাওয়ার পর ৩০-৬০ মিনিট অপেক্ষা করে ব্রাশ করুন

সূত্র : ভেরি ওয়েল হেলথ

ফরিদপুরে পুলিশের নির্বাচনি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে পুলিশের নির্বাচনি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী

আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে ফরিদপুরে পুলিশের দুই দিন মেয়াদী দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ কোর্সের প্রথম ব্যাচের সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ফরিদপুর পুলিশ লাইনসের শহীদ ছালাম সভা কক্ষে এ সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

​অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী।

​প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার বলেন, “আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের সময় প্রতিটি সদস্যকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সর্বোচ্চ মনোযোগ দিতে হবে।”

​কোর্সে ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন থানা ও ইউনিট থেকে আসা ৫০ জন সদস্য অংশ নেন। প্রশিক্ষণে নির্বাচনি দায়িত্বে পেশাদারিত্ব বজায় রাখা, নিরপেক্ষতা, জনগণের আস্থা অর্জন, আইন প্রয়োগে মানবিকতা এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

​সমাপনী অনুষ্ঠানে ফরিদপুর জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

ফরিদপুরে মহাসড়কে গুলি চালানো সেই পিস্তল উদ্ধার, গ্রেফতার যুবক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:২৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে মহাসড়কে গুলি চালানো সেই পিস্তল উদ্ধার, গ্রেফতার যুবক

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় এক্সপ্রেসওয়েতে পথচারীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনায় ব্যবহৃত ২২ বোরের রিভলবারটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামি মো. হামিদুল গাজী (৪২) নামের ওই যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

​পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ১১ টার দিকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌরসভার সামনে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের (ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা সংলগ্ন) ওপর একটি খয়েরি রঙের প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো-গ-১৬-৩০৮৭) থামান হামিদুল গাজী। গাড়িতে তাঁর সঙ্গে শিমু আক্তার তিশা ওরফে ফাতেমা ইসলাম এনি (২৬) নামে এক নারী আরোহী ছিলেন। গাড়ি পার্কিং নিয়ে এক পথচারীর সঙ্গে তর্কাতর্কির জেরে হামিদুল গাজী গাড়িতে বসেই নিজ রিভলবার দিয়ে ওই পথচারীকে লক্ষ্য করে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়েন। পরবর্তীতে এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়।

​ঘটনাটি নজরে আসার পর ভাঙ্গা থানা পুলিশ অনুসন্ধানে নামে। অনুসন্ধানে আসামির পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর গত ১০ সেপ্টেম্বর ভাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) প্রশান্ত কুমার মন্ডল বাদী হয়ে অস্ত্র আইন ও পেনাল কোডের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা (মামলা নং-০৬) দায়ের করেন।

​পরবর্তীতে গত ১৫ সেপ্টেম্বর র‍্যাব-১-এর সহায়তায় ঢাকার বনানী এলাকা থেকে মামলার মূল আসামি হামিদুল গাজীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। একই সঙ্গে তাঁর সঙ্গে থাকা নারী আরোহী শিমু আক্তার তিশাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয় এবং ঘটনায় ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি জব্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃত হামিদুলের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় মোট ৯টি মামলা রয়েছে।

​গ্রেফতারের পর নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে হামিদুল স্বীকার করেন যে, তিনি পিস্তলটি মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ে তাঁর নিজ বাড়ির পরিত্যক্ত টয়লেটে লুকিয়ে রেখেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম লৌহজং উপজেলার গোয়ালী মান্দ্রা এলাকায় অভিযান চালিয়ে রিভলবারটি উদ্ধার করে।

​ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী জানান, ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন ও আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করতে মামলার তদন্ত কাজ এখনও চলমান রয়েছে।

ফরিদপুরে চার মণ ভেজাল কালোজিরা জব্দ, আতঙ্কে পালালো বিক্রেতা

মধুখালী প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:২৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে চার মণ ভেজাল কালোজিরা জব্দ, আতঙ্কে পালালো বিক্রেতা

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলা সদরে ভেজাল কালোজিরা বিক্রির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। কেনাবেচার সময় সন্দেহ হলে পরীক্ষা চালিয়ে ভেজালের প্রাথমিক প্রমাণ পান স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দেওয়া হলে আনুমানিক চার মণ কালোজিরা ফেলেই সটকে পড়েন কথিত এক বিক্রেতা।

​বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মধুখালী বাজারের চার রাস্তার মোড় সংলগ্ন মন্দির প্রাঙ্গণে সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে ওই কালোজিরাগুলো বিনষ্ট করেন ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা। এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আকু বিশ্বাস, মনিরুল বিশ্বাস, ইমামুল বিশ্বাস ইমাম, ইমরান হোসেন ও তৌফিক বিশ্বাসসহ বাজার কমিটির অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

​ব্যবসায়ীরা জানান, গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) হাটের দিনে কয়েকজন কথিত কৃষক কালোজিরা বিক্রি করতে মধুখালী বাজারে আসেন। তারা মধুখালী বাজার ব্যবসায়ী পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম লটাই বিশ্বাসের ভূষিমালের দোকানে এগুলো বিক্রি করতে নিয়ে যান। মান পরীক্ষা করতে গিয়ে এতে ভেজাল উপাদান মেলানোর সন্দেহ হয় লটাই বিশ্বাসের।

​তিনি কৌশলে ওই বিক্রেতাকে দোকানে বসিয়ে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি জানান। তবে পুলিশ আসার সুযোগ পেয়ে প্রায় চার মণ কালোজিরা রেখে চতুর বিক্রেতা সেখান থেকে পালিয়ে যান।

​পরবর্তীতে ভেজাল কালোজিরা বিনষ্ট করার সময় খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন মধুখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মাহবুব এলাহী এবং মধুখালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. কামরুজ্জামান।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহবুব এলাহী জানান, দৃশ্যমান পরীক্ষা-নিরীক্ষায় কালোজিরায় ভেজাল উপাদান মেশানোর প্রমাণ মিলেছে। তবে পুরোপুরি নিশ্চিত হতে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সংগৃহীত নমুনা মসলা গবেষণা কেন্দ্রে পাঠানো হবে এবং ল্যাব টেস্টের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।