খুঁজুন
, ,

কথা বলার সময় মনের অজান্তেই হচ্ছে যে ৮ ‍ভুল?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ
কথা বলার সময় মনের অজান্তেই হচ্ছে যে ৮ ‍ভুল?

বন্ধুদের সঙ্গে দিনের একটি ইতিবাচক আলাপ আমাদের মানসিক প্রশান্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, একটি অস্বস্তিকর বা বিশ্রী আলাপ আমাদের দিনের পর দিন মানসিক চাপে রাখতে পারে। সম্পর্কের উন্নতি এবং সঠিক যোগাযোগের জন্য আমাদের কিছু সাধারণ কিন্তু ক্ষতিকর ভুল এড়িয়ে চলা প্রয়োজন।

মনোবিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের মতে, আমরা অজান্তেই কথোপকথনের সময় এমন কিছু ভুল করি যা আমাদের সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। নিচে এমন ৮টি সাধারণ ভুলের কথা তুলে ধরা হলো:

১. ‘বুমেরাং-স্কিং’ বা উত্তর দেওয়ার জন্য প্রশ্ন করা

অনেক সময় আমরা কাউকে কোনো প্রশ্ন করি শুধু সেই বিষয়ে নিজের উত্তরটি দেওয়ার সুযোগ পাওয়ার জন্য। একে বলা হয় ‘বুমেরাং-স্কিং’। এটি মানুষকে আপনার সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা দেয় এবং অন্যপক্ষ মনে করতে পারে যে আপনি তাদের গুরুত্ব দিচ্ছেন না।

২. কথা মাঝপথে থামিয়ে দেওয়া

কারো কথা শেষ হওয়ার আগেই কথা বলা শুরু করা অত্যন্ত অভদ্রতা এবং অসম্মানজনক। এটি অন্য ব্যক্তিকে তুচ্ছজ্ঞান করার শামিল এবং এর ফলে সে নিজেকে গুরুত্বহীন মনে করতে পারে।

৩. শুধু নিজের সম্পর্কে কথা বলা

কথোপকথনের সময় ভারসাম্য থাকা জরুরি। সারাক্ষণ শুধু নিজের জীবনের গল্প করলে অন্যপক্ষ বিরক্ত হতে পারে এবং মনে করতে পারে যে তার উপস্থিতি আপনার কাছে অর্থহীন। একটি ভালো আলোচনা হলো টেনিস খেলার মতো, যেখানে বল উভয় পাশ থেকেই আদান-প্রদান হতে হয়।

৪. অতিরিক্ত বা অযাচিত উপদেশ দেওয়া

কেউ কোনো সমস্যা নিয়ে আপনার কাছে এলে আমরা প্রায়ই সমাধান দিতে ঝাঁপিয়ে পড়ি [৪]। কিন্তু অনেক সময় মানুষ শুধু তার মনের কথাটুকু জানাতে চায়, উপদেশ শুনতে নয়। না চাইতেই উপদেশ দিলে অন্য ব্যক্তি নিজেকে অসহায় বা অক্ষম মনে করতে পারে। এর বদলে তার অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করুন এবং তাকে প্রশ্ন করুন সে বর্তমানে কী সমাধান খুঁজছে।

৫. ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ সূচক প্রশ্ন করা

কথোপকথন চালিয়ে যাওয়ার জন্য এমন প্রশ্ন করুন যা বিস্তারিত উত্তর দেয়। যেমন- ‘আপনার পানীয়টি কি ভালো?’ এই প্রশ্নের বদলে যদি বলেন, ‘এই পানীয়টির কোন দিকটি আপনার ভালো লাগছে?’, তবে আলাপ আরও দীর্ঘ হয়। ক্লোজ-এন্ডেড বা হ্যাঁ-না সূচক প্রশ্ন আলাপকে দ্রুত থামিয়ে দেয়।

৬. পাল্টা প্রশ্ন না করা

কেউ আপনার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পর যদি আপনি সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রসঙ্গে চলে যান, তবে অন্যপক্ষ মনে করতে পারে আপনি তার কথা মন দিয়ে শুনছেন না। পাল্টা প্রশ্ন বা ফলো-আপ প্রশ্ন করার অর্থ হলো আপনি তার প্রতি আগ্রহী।

৭. জেরা করা বা ইন্টারোগেশন

কথোপকথন হওয়া উচিত স্বতঃস্ফূর্ত আদান-প্রদান। কিন্তু কাউকে একের পর এক প্রশ্ন করে জর্জরিত করলে সে নিজেকে অপরাধীর কাঠগড়ায় মনে করতে পারে এবং রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে। প্রতিটি উত্তরের পর একটু বিরতি দিয়ে অন্যপক্ষকেও প্রশ্ন করার সুযোগ দিন।

৮. অবজ্ঞাসূচক ভাষা ব্যবহার

কথোপকথনের সবচেয়ে বড় ভুল হলো অন্য ব্যক্তির প্রতি শ্রদ্ধার অভাব। ‘তুমি বাড়াবাড়ি করছো’ বা ‘যা খুশি’র মতো তুচ্ছতাচ্ছিল্যপূর্ণ শব্দ ব্যবহার করলে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সংলাপের পথ বন্ধ হয়ে যায়।

কেন এই অভ্যাসগুলো পরিবর্তন করা জরুরি?

মনোবিজ্ঞানী ডক্টর মেগান মার্কাম বলেন, এই ভুলগুলো সম্পর্কের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা তৈরি করে এবং ঘনঘন এমনটা ঘটলে মানুষ একে অপরকে এড়িয়ে চলতে শুরু করে। দীর্ঘমেয়াদে এটি ব্যক্তিগত ও পেশাগত সব ধরনের সম্পর্ক নষ্ট করতে পারে।

সমাধানের পথ

ভালো কথোপকথনের মূল চাবিকাঠি হলো খোলা মন নিয়ে শোনা এবং অপরকে শ্রদ্ধা করা। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো:

১. সক্রিয়ভাবে শোনা: কৌতূহল নিয়ে শুনুন এবং অন্যের চিন্তাগুলো প্রকাশের সুযোগ দিন।

সংক্ষেপে সারসংক্ষেপ করা: অন্য ব্যক্তি যা বললেন তা সংক্ষেপে একবার পুনরাবৃত্তি করুন, এতে ভুল বোঝাবুঝি কমে।

২. নিরপেক্ষ ভাষা ব্যবহার: যদি আপনি ভিন্নমত পোষণ করেন, তবে আক্রমণাত্মক না হয়ে নিরপেক্ষ ভাষায় আপনার দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করুন। কথোপকথন শুধুমাত্র শব্দ বিনিময় নয়, এটি একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার একটি শিল্প। একটু সচেতন থাকলেই আমরা আমাদের সম্পর্কগুলোকে আরও সুন্দর ও মজবুত করে তুলতে পারি।

তথ্যসূত্রভেরি ওয়েল মাইন্ড

ফরিদপুরে গরুর ডাকে ঘুম ভাঙলো মালিকের, ধাওয়ায় গরু ফেলে পালাল চোর

নগরকান্দা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ৪:১৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে গরুর ডাকে ঘুম ভাঙলো মালিকের, ধাওয়ায় গরু ফেলে পালাল চোর

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার একটি গ্রামে গভীর রাতে গরু চুরির চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে গরুর ডাকেই। গোহালে ঢুকে শিকল কেটে গরু নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও গরুর অস্বাভাবিক ডাক ও শব্দে মালিকের ঘুম ভেঙে যায়।

পরে পরিবারের সদস্যদের ধাওয়ায় চোর গরু রেখেই পালিয়ে যায়। পুরো ঘটনাটি বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হওয়ায় ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

বুধবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ৪টার দিকে নগরকান্দা উপজেলার লস্কারদিয়া ইউনিয়নের গয়েশপুর গ্রামের লাভলু শেখের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সিসিটিভির ৩ মিনিট ২৪ সেকেন্ডের ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, এক ব্যক্তি বড় আকারের লোহার কাটার দিয়ে গোহালের শিকল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর গোহালের দরজার ছিটকিনি খুলতে গিয়ে বিকট শব্দ হয়। এতে গরুগুলো আতঙ্কিত হয়ে ছুটাছুটি শুরু করে এবং জোরে ডাকতে থাকে। একপর্যায়ে গরুর ডাক শুনে ঘুম ভেঙে যায় বাড়ির মালিকের। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি ও পরিবারের অন্য সদস্যরা বাইরে বেরিয়ে এসে চিৎকার শুরু করলে চোর গরু ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়।

গরুর মালিক লাভলু হোসেন জানান, বাড়ি ও গোহালজুড়ে নিরাপত্তার জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো রয়েছে। রাতের অন্ধকারে চোর তিনটি গরু চুরির উদ্দেশ্যে আসে। প্রথমে একটি সাদা রঙের ছোট বাছুরকে টেনে-হিঁচড়ে গোহাল থেকে বের করে নেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু বাছুরটির চিৎকার ও অন্য গরুগুলোর ডাকাডাকিতে পরিবারের সদস্যরা জেগে ওঠেন। পরে সবাই ‘চোর-চোর’ বলে চিৎকার করলে চোরের দল বাছুরটি রেখেই পালিয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় গরু চুরির ঘটনা বেড়েছে। ফলে খামারি ও গৃহস্থদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, রাতের টহল জোরদার এবং গরু চুরির সঙ্গে জড়িত চক্রকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি দেখে অনেকেই গৃহপালিত পশুর নিরাপত্তায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের গুরুত্বের কথাও তুলে ধরছেন। স্থানীয়দের আশা, ভিডিও ফুটেজের সূত্র ধরে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

সদরপুরে মাদক সেবন ও সাপ্লাইয়ের অপরাধে যুবকের ১৫ দিনের জেল-জরিমানা

শিশির খাঁন
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ৩:২২ অপরাহ্ণ
সদরপুরে মাদক সেবন ও সাপ্লাইয়ের অপরাধে যুবকের ১৫ দিনের জেল-জরিমানা

ফরিদপুরের সদরপুরে অভিযান চালিয়ে নুর ইসলাম (১৮) নামে এক ইয়াবাসেবী ও সাপ্লায়ারকে ৪ পিস ইয়াবা সহ আটক করে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত অনুমানিক সাড়ে ৮ টার দিকে উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের নয়াকান্দি গ্রামে সদরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত আনজুম পিয়া এই দণ্ডাদেশ ও জরিমানা প্রদান করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত ও জরিমানা কৃত নুর ইসলাম নগরকান্দা উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের শ্রীরামদিয়া গ্রামের
আলামীন মাতুব্বরের ছেলে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, আজ শুক্রবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৮ টার দিকে সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের নয়াকান্দি গ্রামে অভিযান চালিয়ে নুর ইসলাম (১৮) নামে এক ইয়াবাসেবী ও ইয়াবা সাপ্লায়ারকে আটক করা হয়।

তল্লাশীকালে তার কাছ থেকে ৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়। স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর ৩৬ এর ৫ ধারা মোতাবেক তাকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। জব্দকৃত ইয়াবা বড়ি জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতকে সহযোগিতা করেন সদরপুর থানার একদল পুলিশ সদস্য ।

সদরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত আনজুম পিয়া বলেন, সমাজে মাদকের বিস্তার রোধে এ ধরনের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ফরিদপুরে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকার বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে অবৈধ ডিএনসির অভিযোগ

এন কে বি নয়ন, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ২:৫৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকার বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে অবৈধ ডিএনসির অভিযোগ

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের এক পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকার বিরুদ্ধে সরকারি কক্ষে অর্থের বিনিময়ে অবৈধভাবে ডিএনসি (ডাইলেশন অ্যান্ড কিউরেটেজ) করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ডিএনসির পর এক গৃহবধূর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

অভিযুক্ত পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকার নাম জাহানারা বেগম। তবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, রোগীর কাছ থেকে কোনো টাকা নেননি।

ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জুলাই নগরকান্দা উপজেলার কাইচাইল ইউনিয়নের দক্ষিণ কান্দী গ্রামের রফিকুল ইসলামের স্ত্রী হিরামনি দুই মাসের গর্ভধারণজনিত শারীরিক জটিলতা নিয়ে ভাঙ্গা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে যান। সেখানে গর্ভপাতের উদ্দেশ্যে ডিএনসি করার জন্য তার পরিবারের কাছ থেকে আড়াই হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরে সরকারি কার্যালয়ের একটি কক্ষেই পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা জাহানারা বেগম ডিএনসি করেন।

পরিবারের দাবি, ডিএনসির তিন দিন পর হিরামনির শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। পুনরায় জাহানারা বেগমের কাছে গেলে তিনি আবারও ডিএনসি করার কথা বলেন এবং এ জন্য আরও এক হাজার টাকা দাবি করেন। একই সঙ্গে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন।

কিন্তু আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে হিরামনিকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার আরও অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক গত বৃহস্পতিবার তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।

অভিযোগ রয়েছে, সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় এ ধরনের সেবার জন্য রোগীর কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার বিধান নেই। এছাড়া একজন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকার ডিএনসি করার আইনগত বা প্রশাসনিক এখতিয়ারও নেই। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী হিরামনি বলেন, “আমি অসুস্থ হওয়ার পর জাহানারা ম্যাডাম টাকা নিয়ে হাসপাতালের কক্ষেই আমার ডিএনসি করেন। পরে আবার অসুস্থ হলে তিনি বলেন, আবার ডিএনসি করতে হবে এবং টাকা নিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি হতে বলেন।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা জাহানারা বেগম বলেন, “আমি হিরামনির কাছ থেকে কোনো টাকা নেইনি। তিনি নিজের ইচ্ছায় অন্যত্র চলে গেছেন।”

ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সোহাগ মিয়া বলেন, “ডিএনসির পর অসুস্থ হয়ে ভর্তি হওয়া রোগী হিরামনির শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।”

এ বিষয়ে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মা ও শিশু স্বাস্থ্যবিষয়ক মেডিকেল অফিসার ডা. ইব্রাহীম খলিল বলেন, একজন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকার ডিএনসি করার কোনো সুযোগ বা বিধান নেই। তবে তিনি ক্যামেরার সামনে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।