খুঁজুন
, ,

সব সময় শীত শীত লাগে? আপনার শরীরে কী ঘটছে জানুন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:১৮ পূর্বাহ্ণ
সব সময় শীত শীত লাগে? আপনার শরীরে কী ঘটছে জানুন

চারপাশের সবাই যখন স্বাভাবিক তাপমাত্রায় স্বচ্ছন্দে আছেন, তখন আপনার হাত–পা বরফের মতো ঠান্ডা? গরমের মধ্যেও শরীর কাঁপছে? অনেকের কাছেই এটি খুব পরিচিত অভিজ্ঞতা। বাইরে যতই উষ্ণতা থাকুক, তাঁদের কাছে মনে হয় ঠান্ডার দাপট কিছুতেই কমছে না।

কেন এমন হয়? এর পেছনে কি কোনো শারীরিক কারণ আছে, নাকি স্বাভাবিক ব্যাপার? বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু কারণ একেবারেই সাধারণ ও নিরীহ, আবার কিছু ক্ষেত্রে এটি শরীরের ভেতরের কোনো সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, সব সময় ঠান্ডা লাগার সবচেয়ে সাধারণ ৯টি কারণ।

১. আপনার শরীর প্রাকৃতিকভাবেই ঠান্ডা

কেউ কেউ বলেন, ‘আমার শরীর এমনিতেই ঠান্ডা।’ ব্যাপারটা আদতেই সত্য হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, কোনো শারীরিক সমস্যা না থাকলেও কিছু মানুষের শরীর স্বাভাবিকভাবেই তুলনামূলক বেশি ঠান্ডা থাকে।

এর অন্যতম কারণ হতে পারে কম পেশি বা মাসল মাস। পেশি শরীরে তাপ তৈরি করতে সাহায্য করে। যাঁদের পেশি কম, তাঁদের শরীর তাপ সংরক্ষণের জন্য হাত–পা থেকে রক্তপ্রবাহ কমিয়ে দেয়। ফলে হাত-পা ঠান্ডা লাগে, কখনো পুরো শরীরও। বিশেষ করে নারী ও বয়স্ক ব্যক্তিদের পেশি তুলনামূলক কম হয়, তাই তাঁদের মধ্যে ঠান্ডা লাগার প্রবণতাও বেশি দেখা যায়।

২. পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া

ঘুম কম হলে শুধু ক্লান্তি নয়, ঠান্ডাও বেশি লাগতে পারে। শরীরের নিজস্ব ‘বডি ক্লক’ বা সার্কাডিয়ান রিদম ঘুমের সময় শরীরের তাপমাত্রা কমিয়ে দেয়।

আপনি যদি নিয়মিত কম ঘুমান, তাহলে দিনের বেলায়ও শরীর ধরে নিতে পারে বিশ্রামের সময় চলছে। ফলে স্বাভাবিকের তুলনায় ঠান্ডা বেশি অনুভূত হয়।

৩. রক্ত সঞ্চালন দুর্বল হওয়া

রক্ত ঠিকমতো সঞ্চালিত না হলে শরীরের বিভিন্ন অংশে তাপ পৌঁছায় না। সাধারণত হাত ও পা তখন বেশি ঠান্ডা লাগে। ধূমপান, অতিরিক্ত ওজন, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস—এসব কারণে রক্ত সঞ্চালন দুর্বল হতে পারে। নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাবার ও ধূমপান ত্যাগ করলে রক্তপ্রবাহ উন্নত হয়।

৪. দ্রুত ওজন কমে যাওয়া

হঠাৎ ওজন কমলে বেশি ঠান্ডা লাগতে পারে। কারণ, ত্বকের নিচে থাকা চর্বি শরীরকে উষ্ণ রাখে। ওজন কমার সঙ্গে সঙ্গে এই ‘ইনসুলেশন’ কমে যায়। এ ছাড়া খুব কম ক্যালরি গ্রহণ করলে শরীর শক্তি বাঁচাতে বিপাকক্রিয়া ধীর করে দেয়। এর ফলেও সব সময় ঠান্ডা লাগে।

৫. ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি

ভিটামিন বি১২ স্নায়ুতন্ত্র ও রক্তকণিকা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর অভাবে রক্তস্বল্পতা হতে পারে, যার একটি উপসর্গ হলো ঠান্ডা লাগা।

বিশেষ করে নিরামিষভোজী, বয়স্ক মানুষ, হজমজনিত সমস্যা আছে, এমন ব্যক্তি কিংবা যাঁদের অন্ত্রের অস্ত্রোপচার হয়েছে, তাঁদের মধ্যে এ ঘাটতির ঝুঁকি বেশি।
লক্ষণগুলো হতে পারে দুর্বলতা, ক্লান্তি, ক্ষুধামান্দ্য, ওজন কমে যাওয়া, হাত-পায়ে ঝিনঝিন বা অবশভাব এবং সব সময় ঠান্ডা লাগা।

৬. থাইরয়েডের সমস্যা (হাইপোথাইরয়েডিজম)

থাইরয়েড গ্রন্থি শরীরের শক্তি ব্যবহারের গতি নিয়ন্ত্রণ করে। এই গ্রন্থি কম কাজ করলে শরীরের বিপাক ধীর হয়ে যায়, ফলে ঠান্ডা লাগা অন্যতম উপসর্গ হয়ে দাঁড়ায়। নারী, ৬০ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তি ও যাঁদের আগে থাইরয়েডজনিত সমস্যা ছিল, তাঁদের ঝুঁকি বেশি।

৭. রক্তস্বল্পতা (অ্যানিমিয়া)

রক্তে পর্যাপ্ত লোহিত কণিকা না থাকলে শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন পৌঁছায় না। ফলে হাত-পা ঠান্ডা লাগতে পারে। অন্তঃসত্ত্বা নারী, অতিরিক্ত মাসিক রক্তক্ষরণ হয় যাঁদের কিংবা আয়রন ও ফলিক অ্যাসিডের ঘাটতি আছে, তাঁদের মধ্যে এ সমস্যা বেশি দেখা যায়।

৮. রক্তনালির রোগ

দুটি রোগ বিশেষভাবে ঠান্ডা লাগার সঙ্গে জড়িত—

পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ (পিএডি): ধমনিতে চর্বি জমে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে এ সমস্যা হয়। এতে হাত বা পায়ে ঠান্ডা, ব্যথা ও দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।

রেনোডস ডিজিজ: এতে ঠান্ডা বা মানসিক চাপের সময় আঙুল ও পায়ের আঙুলে রক্তপ্রবাহ হঠাৎ কমে যায়। ফলে সেসব সাদা বা নীলচে হয়ে ঠান্ডা লাগে।

৯. ডায়াবেটিস

ডায়াবেটিসে স্নায়ু ও রক্তনালির ক্ষতি হতে পারে। ফলে হাত-পায়ে ঝিনঝিন, অবশভাব ও ঠান্ডা অনুভূত হয়।

সব সময় ঠান্ডা লাগলে কী করবেন

প্রথম কাজ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। কারণ, এর পেছনে কোনো রোগ আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

চিকিৎসকের মতে, যদি সমস্যাটি কোনো রোগজনিত হয়, তাহলে সাধারণত অন্য উপসর্গও দেখা দেয়। তবু সন্দেহ হলে পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে ভালো।
এ ছাড়া দৈনন্দিন জীবনে কিছু অভ্যাস গড়ে তুললে ঠান্ডা লাগা অনেকটাই কমানো সম্ভব—

নিয়মিত ব্যায়াম করুন:  শরীর গরম রাখে ও রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়।

স্তরে স্তরে পোশাক পরুন: একাধিক স্তরের কাপড় তাপ ধরে রাখতে সাহায্য করে।

গরম সেঁক নিন: হাত-পা বা শরীরের নির্দিষ্ট অংশ গরম রাখতে কাজে দেয়।

পর্যাপ্ত ঘুমান: ঘুমের ঘাটতি ঠান্ডা লাগার বড় কারণ হতে পারে।

পুষ্টিকর খাবার খান: ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি দূর হলে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

ধূমপান কমান বা ছাড়ুন: এটি রক্তনালির ক্ষতি করে ও ঠান্ডা লাগার ঝুঁকি বাড়ায়।

সূত্র : রিয়াল সিম্পল

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় রাতের আঁধারে কৃষকের দুটি সেচযন্ত্র পুড়িয়ে দিলো দুর্বৃত্তরা

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় রাতের আঁধারে কৃষকের দুটি সেচযন্ত্র পুড়িয়ে দিলো দুর্বৃত্তরা

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় রাতের আঁধারে আরকান মোল্যা নামের এক কৃষকের দুটি সেচযন্ত্র পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রায় চার একর জমির ইরি ধান আবাদ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ওই কৃষক।

​বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দিবাগত রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের দরুনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

​ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আরকান মোল্যা আলফাডাঙ্গা উপজেলার জাটিগ্রাম এলাকার সিরাজুল হক সুরাপ মোল্যার ছেলে। ঘটনাটি জানতে পেরে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে আলফাডাঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।

​লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দরুনা গ্রামের মাঠে দুটি সেচযন্ত্রের সাহায্যে প্রায় চার একর জমিতে ইরি ধানের চাষ করছিলেন কৃষক আরকান মোল্যা। একটি সেচযন্ত্র থেকে অন্যটির দূরত্ব প্রায় ৭০০ ফুট। প্রতিদিনের মতো শুক্রবার সকালে জমিতে গিয়ে তিনি দেখতে পান, রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা তাঁর দুটি সেচযন্ত্রই পুড়িয়ে দিয়ে গেছে। এতে বর্তমান বাজারমূল্যে তাঁর প্রায় অর্ধ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

​ভুক্তভোগী কৃষক আরকান মোল্যা জানান, কর্মসংস্থান ব্যাংকের আলফাডাঙ্গা শাখা থেকে দুই লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তিনি এই ইরি ধানের আবাদ ও সেচযন্ত্র ক্রয় করেছিলেন। বর্তমানে ধানগাছের বয়স দুই মাস চলছে এবং আগামী এক মাসের মধ্যে শিষ বের হওয়ার কথা। এই মুহূর্তে সেচ কার্যক্রম বন্ধ থাকলে ধানখেত শুকিয়ে ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাবে। ফসলের ক্ষতির পাশাপাশি ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করা নিয়েও তিনি এখন গভীর দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

​এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল সরোয়ার জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফরিদপুরে অভাবনীয় পুনর্মিলন: ৫০ বছর পর পাকিস্তান থেকে শেকড়ে ফিরলেন পরী বেগম

নগরকান্দা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে অভাবনীয় পুনর্মিলন: ৫০ বছর পর পাকিস্তান থেকে শেকড়ে ফিরলেন পরী বেগম

মাত্র ১০ বছর বয়সে পরিবারের কাছ থেকে হারিয়ে যাওয়া পরী বেগম দীর্ঘ পাঁচ দশক পর পাকিস্তান থেকে নিজ জন্মভূমি ফরিদপুরের নগরকান্দায় ফিরেছেন। মানব পাচারকারীর খপ্পরে পড়ে সুদূর পাকিস্তানে পাড়ি জমানো এই নারী জীবনের দীর্ঘ ৫০ বছর পর ভাইদের বুকে ফিরে পেলেও ভাষা বদলে ফেলেছেন। মাতৃভাষা বাংলা ভুলে গিয়ে এখন তিনি সাবলীলভাবে কথা বলছেন উর্দুতে। তবুও এই ভাষা ও দূরত্বের ব্যবধান দুই ভাই-বোনের আত্মিক টানে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।

​পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পরী বেগমের পৈতৃক বাড়ি ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে। তার বাবার নাম মৃত মমিন মাতুব্বর। প্রায় ৫০ বছর আগে অতীতে শিশু বয়সে নিখোঁজ হওয়া পরী বেগম চক্রের খপ্পরে পড়ে প্রথমে ভারত এবং পরবর্তীতে পাকিস্তানে পৌঁছান। সেখানে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে একপর্যায়ে এক নিঃসন্তান দম্পতির আশ্রয়ে বড় হন এবং পরবর্তীতে পাকিস্তানি এক নাগরিককে বিয়ে করেন। ওই সংসারে তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

​তবে প্রবাসের মাটিতে যুগের পর যুগ কেটে গেলেও জন্মভূমি কিংবা আপন মা-বাবা ও ভাইদের স্মৃতি একটুও মুছে যায়নি পরী বেগমের মন থেকে। পরিবারের সদস্যরাও তাকে ফিরে পাওয়ার আশা প্রায় ছেড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের এক বিস্ময়কর চাকা ঘোরে পাকিস্তানে অধ্যয়নরত দুই বাংলাদেশি যুবকের সুবাদে।

​পাকিস্তানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা ওই দুই যুবকের সাথে পরিচয় হয় পরী বেগমের নাতির। দাদির মুখে বাংলাদেশের হারিয়ে যাওয়া শেকড়ের গল্প শুনে সেই যুবকরা উদ্যোগী হন। পরী বেগমের দেওয়া নগরকান্দার ঠিকানা এবং বাবা মমিন মাতুব্বর ও ভাইদের (নওশের আলী মাতুব্বর, সাইফুল মাতুব্বর ও সোলেমান মাতুব্বর) নাম সংগ্রহ করে তারা দেশে ফিরে খোঁজ শুরু করেন। অবশেষে তাদের মাধ্যমেই দীর্ঘ অর্ধশতাব্দী পর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ হয় ভাই-বোনের।

​অবশেষে পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে সম্প্রতি জন্মভূমিতে ফেরেন পরী বেগম। দীর্ঘ পাঁচ দশকের ব্যবধানে ভাই-বোনের চেহারা ও পরিবেশ বদলালেও ভালোবাসার কমতি হয়নি একটুও। ছোটবেলার সেই বোনকে এত বছর পর কাছে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন ভাইয়েরা।

​এদিকে পুনর্মিলনের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী দিক হলো, দীর্ঘকাল পাকিস্তানে বসবাস করায় পরী বেগম এখন আর বাংলায় কথা বলতে পারেন না; তার দৈনন্দিন ভাষা এখন উর্দু। দেশে ফিরে গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালেও তিনি উর্দুতেই নিজের জীবনের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। ভাইয়েরাও তার সব কথা পুরোপুরি বুঝতে না পারলেও চোখের ভাষা আর অনুভূতির মধ্য দিয়েই মনের ভাব বুঝে নিচ্ছেন।

​দীর্ঘ ৫০ বছর পর পরী বেগমের এই নাটকীয় ও আবেগঘন প্রত্যাবর্তনে নগরকান্দার পৈতৃক বাড়িতে বইছে আনন্দের বন্যা। আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন তাকে একনজর দেখতে। কেউ শুনছেন তার কষ্টের জীবনসংগ্রামের গল্প, আবার কেউ অবাক হচ্ছেন এত বছর পরও জন্মভূমির প্রতি অটুট ভালোবাসার কথা ভেবে। পরিবারে আনন্দের এই জোয়ার ধরে রাখতে মসজিদে বিশেষ দোয়া মাহফিলেরও আয়োজন করা হয়েছে।

​পরী বেগমের ভাই সাইফুল মাতুব্বর আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘পরী আপা আমাদের কাছে ফিরে আসায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। দীর্ঘ এই বিচ্ছেদ শেষে তাকে ফিরে পাবো, তা আমরা কল্পনাই করতে পারিনি।’

​মাত্র ১০ বছর বয়সে যে মেয়েটি নির্মমভাবে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অচেনা ভিনদেশে হারিয়ে গিয়েছিলেন, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে নিজের শেকড়ে তার এই ফিরে আসা কেবল একটি পরিবারের পুনর্মিলনই নয়, এটি মানুষের জন্মভূমির প্রতি অবিনশ্বর টান ও ভালোবাসার এক অনন্য উপাখ্যান।

 

জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দিচ্ছে ফরিদপুর জেলা পরিষদ

হাসানউজ্জামান, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৪ অপরাহ্ণ
জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দিচ্ছে ফরিদপুর জেলা পরিষদ

ফরিদপুরে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে নিজস্ব চাহিদা মিটিয়ে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করেছে জেলা পরিষদ। সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত কোনো প্রতিষ্ঠানের ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যোগ করার এমন উদ্যোগ জেলা পর্যায়ে এটিই প্রথম।

​বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে জেলা পরিষদের প্রকৌশল শাখা ও সদর ভিআইপি ডাকবাংলোর ছাদে স্থাপিত মোট ৬০ কিলোওয়াট ক্ষমতার এ সৌরবিদ্যুৎ প্লান্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম।

​জেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রকৌশল ভবনের ছাদে ৪০ কিলোওয়াট এবং ভিআইপি ডাকবাংলোর ছাদে ২০ কিলোওয়াট ক্ষমতার প্যানেল বসানো হয়েছে। এ সিস্টেম থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ‘নেট মিটারিং’ পদ্ধতির মাধ্যমে যুক্ত হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে।

​সৌরবিদ্যুৎ প্লান্টটি স্থাপনে সরকারের দেওয়া ২০ লাখ টাকার পাশাপাশি জেলা পরিষদ নিজস্ব তহবিল থেকে অর্থায়ন করেছে। প্যানেল স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠান ‘মার্শ পাওয়ার টেকনোলজি লিমিটেড’-এর সঙ্গে আগামী ২০ বছরের জন্য মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের চুক্তি করা হয়েছে।

​উদ্বোধন উপলক্ষে জেলা পরিষদ এবং পশ্চিম অঞ্চল বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি (ওজোপাডিকো)-১, ফরিদপুরের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

​অনুষ্ঠানে ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আফজাল হোসেন খান পলাশ জানান, “দেশের ৬১টি জেলা পরিষদকে সোলার সিস্টেম স্থাপনে সরকার ২০ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দিয়েছিল। ফরিদপুর জেলা পরিষদ প্রথম নিজস্ব অর্থায়ন যুক্ত করে কাজ শেষ করে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করল। আমাদের দৈনিক চাহিদা ৪০ কিলোওয়াট, বাকি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে চলে যাবে।”

​জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম বলেন, “বিশ্বব্যাপী চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে নিজস্ব প্রাকৃতিক উৎস ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের এ উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও অনুকরণীয়।”

​উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বাকাহীদ হোসেন, ফরিদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. ইলিয়াছুর রহমান, জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা সুলতানা, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম এবং ওজোপাডিকো-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী প্রণব চন্দ্র দেবনাথ।