খুঁজুন
, ,

ইচ্ছাকৃত রোজা না রাখলে কী শাস্তি ও বিধান রয়েছে

তোয়াহা হুসাইন
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ৭:৪৩ পূর্বাহ্ণ
ইচ্ছাকৃত রোজা না রাখলে কী শাস্তি ও বিধান রয়েছে

রমজান মাসে প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ বিবেক-বুদ্ধিসম্পন্ন ও মুকিম তথা নিজ বাড়িতে অবস্থানকারী প্রত্যেক মুসলমানের ওপর রোজা রাখা ফরজ। রোজার বিধান সম্পর্কে কোরআনুল কারিমে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে ইমানদারগণ! তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের ওপর, যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।’ (সুরা বাকারা: ১৮৩)।

অন্য এক আয়াতে এসেছে, ‘অতএব, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাস পাবে, সে যেন এ মাসে রোজা পালন করে। তবে কেউ রোগাক্রান্ত হলে অথবা সফরে থাকলে এ সংখ্যা অন্য সময়ে পূরণ করবে।’ (সুরা বাকারা: ১৮৫)

এ মাসে রোজা রাখলে যেমন অধিক সওয়াব লাভের সুযোগ রয়েছে, তদ্রূপ রোজা না রাখলেও রয়েছে ভয়াবহ শাস্তির আশঙ্কা। রমজান মাসে রোজা পরিত্যাগ করা কবিরা গুনাহ। রমজান মাসে রোজার প্রতিদান বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আদম সন্তানের প্রতিটি কাজই দশগুণ থেকে সাতশগুণ বৃদ্ধি করা হয়। মহান আল্লাহতায়ালা বলেন, কিন্তু রোজা ছাড়া। কেননা তা আমার জন্য, তাই আমি এর প্রতিদান দেব। সে আমার সন্তুষ্টির জন্য কামাচার ও পানাহার পরিত্যাগ করে। রোজা পালনকারীর জন্য রয়েছে দুটি খুশি, যা তাকে খুশি করে। যখন সে ইফতার করে, সে খুশি হয় এবং যখন সে তার রবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে, তখন রোজার বিনিময়ে আনন্দিত হবে। রোজা পালনকারীর মুখের (না খাওয়াজনিত) ঘ্রাণ আল্লাহর কাছে মিসকের ঘ্রাণের চেয়েও উত্তম।’ (বুখারি: ১৯০৪)। তিনি আরও বলেছেন যে, প্রত্যেক আমলেরই কাফফারা আছে। রোজা আমার জন্য, তাই আমি এর প্রতিদান দেব।’ (বুখারি: ৭৫৩৮)।

রোজার বিনিময়ে রয়েছে জান্নাত। রাসুল (সা.) বলেছেন, রমজান ধৈর্যের মাস। আর ধৈর্যের প্রতিদান জান্নাত।’ (ইবন খুজাইমা: ১৮৮৭)। আরেক হাদিসে এসেছে, রোজা ঢালস্বরূপ যতক্ষণ পর্যন্ত তা ভেঙে না ফেলে।’ (নাসাঈ: ২২৩৫, মুসনাদে আহমাদ: ১৬৯০)। এখানেই শেষ নয়, রাসুল (সা.) আরও বলেছেন, রোজা পালনকারীর মুখের (না খাওয়াজনিত) ঘ্রাণ আল্লাহর কাছে মিসকের ঘ্রাণের চেয়েও উত্তম।’ (বুখারি: ১৯০৪, সহিহ মুসলিম: ১১৫১)। তিরমিজি শরিফে বর্ণনা করা হয়েছে, তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। (তন্মধ্যে একজন হলো) রোজা পালনকারী ব্যক্তি, যতক্ষণ না ইফতার করে।’ (তিরমিজি: ৩৪৯৮)।

এ তো গেল অধিক ফজিলতের বর্ণনা। রমজান মাসে রোজা না রাখার ভয়াবহ শাস্তির ব্যাপারে হাদিসে এসেছে রাসুল (সা.) বলেছেন, একবার আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। এ সময় দুজন ব্যক্তি এসে আমার দুই বাহু ধরে আমাকে দুর্গম পাহাড়ে নিয়ে যায়। অতঃপর আমাকে এমন কিছু লোকের কাছে নিয়ে যায়, যাদের পায়ের টাখনুতে বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তাদের গাল ছিন্নভিন্ন, তা হতে রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে।’ আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘এরা কারা?’ তারা বললেন, ‘এরা এমন রোজাদার, যারা (অকারণে রমজান মাসের) রোজা শেষ না করেই ইফতার করত।’ (সহিহ ইবনে খুজাইমা, হাদিস: ১৫০৯)। অন্য হাদিসে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘যে ব্যক্তি প্রয়োজন ও রোগ ছাড়া রমজানের একটি রোজা ভেঙে ফেলল, তার সারা জীবনের রোজা দ্বারাও এ কাজা আদায় হবে না, যদিও সে সারা জীবন রোজা পালন করে।’ (তিরমিজি: ৭২৩)।

আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে রোজা রাখার তওফিক দান করুন।

লেখক: মাদ্রাসা শিক্ষক

 

ফরিদপুরে ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ জনের হাম শনাক্ত, মোট আক্রান্ত ৫৬৯৩

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ জনের হাম শনাক্ত, মোট আক্রান্ত ৫৬৯৩

ফরিদপুর জেলাজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের প্রাদুর্ভাব। ফরিদপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৪৪ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। তবে এই সময়ে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

​মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পাঠানো সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

​স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত জেলায় মোট হাম আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৬৯৩ জনে। এর মধ্যে হামজনিত জটিলতায় প্রাণ হারিয়েছেন ২১ জন।

​এদিকে গত এক দিনে আক্রানদের মধ্যে জেলার ২৪ জন এবং বাইরের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ১০ জন সন্দেহভাজন রোগী চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। জেলাজুড়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নতুন ৪৪ জনের মধ্যে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ১৭ জন এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৭ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

​বর্তমানে এই দুই হাসপাতালে নতুন-পুরোনো মিলিয়ে মোট ৯৩ জন হাম রোগী ভর্তি আছেন। যার মধ্যে জেনারেল হাসপাতালে ২৬ জন ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৬৭ জন। অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৭ জন। এ নিয়ে জেলাজুড়ে মোট সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পাওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৫ হাজার ৪৪৭ জনে।

​উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আলফাডাঙ্গায় সবচেয়ে বেশি ২৮ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এছাড়া বোয়ালমারীতে ২৫, সালথায় ২৩, চরভদ্রাসনে ১৭, সদরপুরে ১৪, ভাঙ্গায় ১২, মধুখালীতে ৬, ফরিদপুর সদর উপজেলায় ৫ এবং নগরকান্দায় ২ জন হামে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

​পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে টিকাদান ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম জোরদার করার কথা জানিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ।

ফরিদপুরের মধুখালীতে পুকুরে ডুবে ৫ বছরের শিশুর মৃত্যু

মধুখালী প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের মধুখালীতে পুকুরে ডুবে ৫ বছরের শিশুর মৃত্যু

ফরিদপুরের মধুখালীতে পুকুরের পানিতে ডুবে উৎস সরকার নামের ৫ বছর বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড় ৭টার দিকে উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের সীতারামপুর দাসপাড়া গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

​নিহত উৎস সরকার ওই গ্রামের উত্তম সরকারের একমাত্র সন্তান।

​স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর শিশু উৎসের মা ঘরের গৃহস্থালি কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় সবার অলক্ষে শিশুটি ঘর থেকে বের হয়ে পাশের বাড়ির একটি পুকুরে পড়ে তলিয়ে যায়।

​সন্তানকে ঘরে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। অনুসন্ধানের একপর্যায়ে স্থানীয় একটি পুকুরে শিশুটির স্যান্ডেল ভাসতে দেখে স্বজনদের সন্দেহ হয়। পরে তারা পুকুরে নেমে তল্লাশি চালিয়ে পানির নিচ থেকে শিশুটির নিথর দেহ উদ্ধার করেন।

​একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন মা-বাবা। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় পুরো দাসপাড়া গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকদেব রায় বলেন, “পুকুরের পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যুর খবর আমরা পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং আবেদন করায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”

ফরিদপুরে উচ্ছেদ অভিযান: সওজের কোটি টাকার জমি উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে উচ্ছেদ অভিযান: সওজের কোটি টাকার জমি উদ্ধার

ফরিদপুরে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের সরকারি জমি উদ্ধার ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকার অবৈধ স্থাপনা সরাতে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন। এসময় কোটি টাকার সওজের জমি উদ্ধার করা হয়।

​মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা থেকে এই অভিযান শুরু হয়।

​অভিযানের সময় ভাঙ্গা-ফরিদপুর (গোয়ালচামট) সড়কের নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে ভাঙ্গা রাস্তার মোড় পর্যন্ত সওজের আওতাধীন জায়গার অবৈধ দখল ও বিভিন্ন ধরনের অস্থায়ী দোকানপাট ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়।

​জেলা প্রশাসনের এনডিসি শাকিব রহমান আকাশের নেতৃত্বে এবং ফরিদপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শফিকুল ইসলামের সমন্বয়ে এ যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে র‍্যাব, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

​স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হাসপাতাল চত্বর ও মূল সড়কের ওপর অবৈধ দোকানপাট ও দখলের কারণে দীর্ঘদিন ধরে রোগী, স্বজন ও পথচারীদের চলাচলে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল। এই উচ্ছেদের ফলে এলাকায় পরিবেশ ও শৃঙ্খলা ফেরার পাশাপাশি পথচারীদের যাতায়াত সহজ হয়েছে। হঠাৎ এই অভিযানে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

​অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সওজের সরকারি জমি দখল ও যত্রতত্র অস্থায়ী দোকান গড়ে ওঠায় জনভোগান্তি চরমে পৌঁছেছিল। উচ্ছেদ করা জায়গায় যেন নতুন করে কেউ দখল বা পুনরায় দোকানপাট বসাতে না পারে, সে জন্য নিয়মিত মনিটরিং ও কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হবে।