খুঁজুন
, ,

কনকনে ঠান্ডায় জবুথবু ফরিদপুর, তাপমাত্রা নামল ১২ ডিগ্রিতে

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ
কনকনে ঠান্ডায় জবুথবু ফরিদপুর, তাপমাত্রা নামল ১২ ডিগ্রিতে

ফরিদপুর জেলায় হঠাৎ করেই তীব্র শীতের প্রভাব দেখা দিয়েছে। কনকনে ঠান্ডায় জবুথবু হয়ে পড়েছে জেলার জনজীবন। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ভোর থেকে ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে সাধারণ মানুষ। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এদিন ফরিদপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি শীত মৌসুমে এখন পর্যন্ত অন্যতম সর্বনিম্ন।

সকাল থেকে সূর্যের দেখা না মেলায় শীতের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়। প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না মানুষজন। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর, রিকশাচালক ও ভাসমান শ্রমজীবীরা। শীতের কারণে অনেক এলাকায় কাজকর্ম স্থবির হয়ে পড়েছে। সকালবেলা স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও অফিসগামী মানুষকেও পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে।

ফরিদপুর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সামাদুল হক ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘কে জানান, উত্তরাঞ্চল থেকে আসা শীতল বায়ুর প্রভাবে জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এর ফলে তাপমাত্রা হঠাৎ করে কমে গেছে। তিনি আরও জানান, আগামী দুই থেকে তিন দিন এই শীতের তীব্রতা অব্যাহত থাকতে পারে এবং রাত ও ভোরের দিকে কুয়াশার ঘনত্ব আরও বাড়তে পারে।

শীতের প্রভাবে জেলার গ্রামাঞ্চলের মানুষের কষ্ট যেন আরও প্রকট। অনেক দরিদ্র ও অসহায় মানুষ শীতবস্ত্রের অভাবে খোলা আকাশের নিচে কাঁপতে কাঁপতে রাত কাটাচ্ছেন। বিশেষ করে চরাঞ্চল ও নদীবেষ্টিত এলাকার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তীব্র শীতে শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। সর্দি, কাশি ও জ্বরের প্রকোপ বাড়ছে।

এদিকে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় সহায়তা এখনও অপ্রতুল বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তারা দ্রুত আরও ব্যাপক আকারে শীতবস্ত্র বিতরণের দাবি জানিয়েছেন।

আবহাওয়া অফিস পরামর্শ দিয়েছে, শীতজনিত রোগ থেকে বাঁচতে শিশু ও বয়স্কদের বিশেষ যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি গরম কাপড় ব্যবহারের ওপর জোর দিতে। পাশাপাশি অপ্রয়োজনে ভোরের দিকে বাইরে না যাওয়ারও অনুরোধ জানানো হয়েছে।

তীব্র এই শীত কবে নাগাদ কমবে, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত কোনো পূর্বাভাস নেই। তবে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন সতর্কবার্তা জারি করা হবে।

ফরিদপুরে কৌশিক সাহা জিতু হত্যার বিচারের দাবি

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে কৌশিক সাহা জিতু হত্যার বিচারের দাবি

ফরিদপুর শহরের সিংপাড়া নিবাসী কৌশিক সাহা জিতু হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করে বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ ফরিদপুর জেলা, সদর উপজেলা ও পৌর শাখা।

​ফরিদপুর পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সহ-সভাপতি তাপস কুমার সাহার সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিধান কুমার সাহা, সহ-সভাপতি ননী গোপাল বিশ্বাস ও সুকেশ কুমার সাহা, দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট তুষার কুমার দত্ত, সদর উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি সিতাংশু মিত্র কিংকর, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট চিরঞ্জীব রায়, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিশ্বনাথ সরকার স্বাধীন এবং চন্দ্রা দেবনাথ।

​এ সময় পৌর পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি রাম দত্ত, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের জেলা কমিটির সদস্যসচিব সুব্রত রবিদাসসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

​মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কৌশিক সাহা জিতুর অকাল মৃত্যুতে তাঁর পরিবার অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পুরো ফরিদপুরজুড়ে তীব্র শোক, ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

​বক্তারা অবিলম্বে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং আইনানুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের জন্য জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

ফরিদপুরে হামে আক্রান্ত ৭ হাজার ছাড়াল, মৃত্যু ২২

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে হামে আক্রান্ত ৭ হাজার ছাড়াল, মৃত্যু ২২

ফরিদপুরে হামের সংক্রমণ থামছেই না। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ৪২ জনের শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় সন্দেহভাজন হামের মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৩২৩ জনে এবং মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২ জনে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

​শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

​প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ১৪ জন এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৮ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে দুই হাসপাতালে মোট ১১৮ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে জেনারেল হাসপাতালে ৪০ জন এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭৮ জন রোগী ভর্তি আছেন।

​গত ২৪ ঘণ্টায় দুই হাসপাতাল থেকে ৪৭ জন রোগী সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ৭ হাজার ৫২ জন রোগী ছাড়পত্র পেয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

​উপজেলাভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় বোয়ালমারীতে ২৮, ভাঙ্গায় ১২, চরভদ্রাসনে ১৭, নগরকান্দায় ২, মধুখালীতে ৬, সদরপুরে ১৪, সালথায় ২৩ এবং ফরিদপুর সদরে ৫ জনের হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে।

​এদিকে, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৯২৬ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন এবং হামে আক্রান্ত হয়ে ২২ জনের মৃত্যুর তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, জেনারেল হাসপাতালে শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ২৬৫ জন।

​স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন শনাক্ত হওয়া ৪২ জনের মধ্যে ফরিদপুর জেলার স্থায়ী বাসিন্দা ৩০ জন এবং অন্যান্য জেলার ১২ জন রয়েছেন।

ফরিদপুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে বৃদ্ধের ৫ বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে বৃদ্ধের ৫ বছরের কারাদণ্ড

ফরিদপুরের নগরকান্দায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এক মেয়েশিশুকে (১৩) ধর্ষণচেষ্টার অপরাধে ইসমাইল মোল্লা (৫৬) নামে এক বৃদ্ধকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ পাহারায় তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

​মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর বিকেল ৩টার দিকে নগরকান্দা উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের একটি গ্রামে মুদি দোকানের পাশের পুকুর থেকে পানি নিয়ে বাড়ি ফিরছিল শিশুটি। এ সময় ইসমাইল মোল্লা তাকে দোকানঘরে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালান।

​ঘটনার পর শিশুটি বাড়িতে ফিরে স্বজনদের বিষয়টি জানায়। পরে ওই বছরের ২১ ডিসেম্বর শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় ইসমাইল মোল্লাকে একমাত্র আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

​মামলাটি তদন্ত শেষে নগরকান্দা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইরানুল ইসলাম ২০২৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার আদালত এ রায় দেন।

​রায়ের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, “বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতন প্রতিরোধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।”