খুঁজুন
, ,

“গ্রামের সেই দিনগুলি আজও মনে পড়ে”

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:১৮ পূর্বাহ্ণ
“গ্রামের সেই দিনগুলি আজও মনে পড়ে”

শহরের এই কংক্রিটের দেয়ালঘেরা জীবনে বসে মাঝে মাঝে মনে হয়, আমি যেন নিজের ভেতরের একটা বড় অংশ হারিয়ে ফেলেছি। চারপাশে গাড়ির শব্দ, ব্যস্ত মানুষের ভিড়, সময়ের পেছনে দৌড়—সবকিছুই আছে, কিন্তু নেই সেই শান্তি, নেই সেই মায়া। আর ঠিক তখনই মনটা ফিরে যায় সেই ছোট্ট গ্রামটায়, যেখানে কেটেছিল আমার শৈশবের সোনালি দিনগুলো।

আমাদের গ্রামটা ছিল রাস্তার পাড় ঘেঁষে। বাড়ির সামনে বিশাল একটা মাঠ, তার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সরু কাঁচা রাস্তা। সেই রাস্তা ধরে হাঁটলেই চোখে পড়ত সবুজ ধানের ক্ষেত, যেখানে হাওয়ায় ঢেউ খেলত সোনালি শীষ। বিকেলের আলো পড়লে পুরো মাঠটা যেন সোনার মতো ঝলমল করত। আমি আর আমার বন্ধুরা তখন ছুটে যেতাম সেই মাঠে, খালি পায়ে দৌড়াতাম, কখনো লুকোচুরি খেলতাম, কখনো ঘুড়ি ওড়াতাম।

আমাদের বাড়িটা ছিল মাটির, ছনের ছাউনি দেওয়া। উঠোনে একটা বড় আমগাছ ছিল। গরমের দুপুরে সেই গাছের ছায়ায় বসে মা আম কেটে দিতেন। আমরা ভাইবোনেরা গোল হয়ে বসে খেতাম, আর হাসতাম। মা মাঝে মাঝে বকতেন, “ধীরে খা, গলায় আটকে যাবে!” কিন্তু আমরা কি আর শুনতাম? সেই টক-মিষ্টি আমের স্বাদ যেন আজও জিভে লেগে আছে।

বাবা ছিলেন খুব সহজ-সরল মানুষ। সকালে উঠে জমিতে কাজ করতে যেতেন। আমিও মাঝে মাঝে বাবার সঙ্গে যেতাম। কাঁদায় পা ডুবিয়ে হাঁটা, গরুর গাড়িতে চড়া—এসব ছিল আমার কাছে একরকম অ্যাডভেঞ্চার। বাবা কাজ করতে করতে গল্প করতেন, “দেখিস, বড় হয়ে তুই অনেক বড় মানুষ হবি।” তখন বুঝতাম না ‘বড় মানুষ’ মানে কী, শুধু বাবার চোখের স্বপ্নটা দেখতাম।

বর্ষাকাল এলে গ্রামটা যেন এক অন্য রূপ নিত। চারদিকে পানি, কচুরিপানায় ভরা খাল, আর মাঝে মাঝে বৃষ্টি। আমরা তখন নৌকা বানাতাম—কাগজের, কখনো কলাগাছের ডাঁটা দিয়ে। সেই নৌকা ভাসিয়ে দিতাম পানিতে, আর দৌড়ে দৌড়ে দেখতাম কার নৌকা কত দূর যায়। বৃষ্টিতে ভিজে কাঁপতে কাঁপতে বাড়ি ফিরলে মা রেগে যেতেন, কিন্তু পরে গরম ভাত আর ডাল দিয়ে খাওয়াতেন। সেই ভাতের স্বাদ যেন পৃথিবীর সব খাবারের চেয়েও বেশি ছিল।

শীতের সকালগুলো ছিল আরও মধুর। কুয়াশা ঢাকা মাঠ, দূরে গরুর ঘণ্টার শব্দ, আর মাটির চুলায় ধোঁয়া উঠছে। মা তখন পিঠা বানাতেন—চিতই, ভাপা, পাটিসাপটা। আমরা সবাই আগুনের পাশে বসে গরম পিঠা খেতাম। ঠান্ডা বাতাস আর গরম পিঠার সেই মিলন যেন এক অপূর্ব আনন্দ এনে দিত।

স্কুলের দিনগুলোও কম স্মরণীয় ছিল না। আমাদের স্কুলটা ছিল টিনের ছাউনি দেওয়া, চারদিকে গাছপালা। ক্লাসে বসে মাঝে মাঝে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকতাম—পাখির ডাক, বাতাসে দুলতে থাকা গাছের পাতা—সবকিছুই মন টানত। শিক্ষকরা ছিলেন কঠোর, কিন্তু ভালোবাসায় ভরা। তারা শুধু পড়াশোনা নয়, জীবনটাকেও শেখাতেন।

আমার সবচেয়ে প্রিয় সময় ছিল বিকেল। তখন সূর্যটা ধীরে ধীরে পশ্চিমে ঢলে পড়ত, আর আকাশ লালচে হয়ে উঠত। আমরা সবাই মাঠে জড়ো হতাম। কেউ ফুটবল খেলত, কেউ ক্রিকেট, কেউবা শুধু গল্প করত। সেই হাসি, সেই চিৎকার—সব মিলিয়ে একটা অদ্ভুত আনন্দ ছিল।

আর ছিল গ্রামের মানুষের আন্তরিকতা। কেউ অসুস্থ হলে সবাই ছুটে যেত, কারো বাড়িতে আনন্দ হলে পুরো গ্রাম মিলে উৎসব করত। ঈদের সময় সবাই নতুন কাপড় পরে একে অপরের বাড়ি যেতাম। সেমাই, পায়েস, নানা রকম খাবার—সবকিছু ভাগাভাগি করে খেতাম। তখন মনে হতো, আমরা সবাই একটা বড় পরিবারের অংশ।

কিন্তু সময় তো থেমে থাকে না। পড়াশোনার জন্য একসময় আমাকে শহরে চলে আসতে হলো। প্রথমদিকে খুব কষ্ট হতো। রাতে ঘুমোতে গেলে গ্রামের কথা মনে পড়ত, মায়ের মুখ, বাবার হাসি, বন্ধুদের সাথে কাটানো সময়—সবকিছু চোখের সামনে ভেসে উঠত। শহরের এই ব্যস্ততা, এই যান্ত্রিক জীবন আমার কাছে অপরিচিত লাগত।

ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে গেলাম, কিন্তু মনের ভেতরের সেই শূন্যতা আর ভরাট হলো না। মাঝে মাঝে ছুটিতে গ্রামে যাই। কিন্তু এখন আর আগের মতো লাগে না। অনেক কিছু বদলে গেছে। সেই মাঠে এখন আধা-পাকা বাড়ি উঠেছে, কাঁচা রাস্তা পাকা হয়েছে, অনেক পুরনো মানুষ আর নেই।

আমাদের সেই আমগাছটাও আর নেই—ঝড়ে ভেঙে গেছে। উঠোনটা এখন ছোট হয়ে গেছে, চারপাশে নতুন দেয়াল উঠেছে। বন্ধুরাও সবাই ছড়িয়ে গেছে—কেউ শহরে, কেউ বিদেশে।

তবুও যখন গ্রামের পথে হাঁটি, তখন মনে হয়—এখানেই তো আমার শিকড়। এই মাটির সঙ্গেই আমার সম্পর্ক। বাতাসে এখনো যেন শৈশবের গন্ধ পাই। দূরে কোথাও কারো হাঁকডাক, গরুর ঘণ্টার শব্দ, কিংবা সন্ধ্যার আজানের ধ্বনি—সবকিছু আমাকে আবার সেই ছোট্ট ছেলেটায় ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

একদিন বিকেলে নদীর পাড়ে গিয়ে বসেছিলাম। সূর্যটা ধীরে ধীরে ডুবছিল, ঠিক যেমনটা দেখতাম ছোটবেলায়। সেই দৃশ্যটা দেখে চোখে পানি চলে এসেছিল। মনে হচ্ছিল, সময়টা যদি আবার ফিরে পাওয়া যেত! যদি আবার সেই দিনগুলোতে ফিরে যেতে পারতাম!

কিন্তু জীবন তো সামনে এগিয়ে চলে। অতীত শুধু স্মৃতি হয়ে থাকে। তবুও সেই স্মৃতিগুলোই আমাদের বাঁচিয়ে রাখে, আমাদের শক্তি দেয়।

আজ যখন শহরের ব্যস্ততার মাঝে ক্লান্ত হয়ে পড়ি, তখন চোখ বন্ধ করলেই দেখতে পাই—সবুজ মাঠ, নদীর পাড়, মাটির ঘর, মায়ের ডাক, বাবার হাসি। মনে হয়, আমি আবার ফিরে গেছি সেই গ্রামে, সেই দিনগুলোর মাঝে।

হয়তো আর কোনোদিন সেই দিনগুলো ফিরে আসবে না। কিন্তু আমার হৃদয়ের গভীরে তারা চিরকাল বেঁচে থাকবে।
কারণ সত্যিই—গ্রামের সেই দিনগুলি আজও মনে পড়ে।

লেখক: সংবাদকর্মী, ফরিদপুর

ফরিদপুরে কিশোরীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৭:৪৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে কিশোরীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে অপহরণ করে ধর্ষণের দায়ে ফরহাদ হোসেন (৩৫) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এই রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত ওই যুবককে ধর্ষণ ও অপহরণ—এই দুটি ধারায় পৃথক দণ্ড দেওয়া হয়। এর মধ্যে ধর্ষণের ঘটনায় তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও নগদ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এছাড়া অপহরণের ঘটনায় তাকে ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও নগদ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

তবে আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি একই সঙ্গে দুটি দণ্ড ভোগ করতে পারবেন। সে হিসেবে তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমানা অনাদায়ে অতিরিক্ত এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করলেই চলবে।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় এ মামলার অপর আসামি প্রশান্ত কুমার মণ্ডলকে (৩৬) বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।

রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। রায়ের পর আদালত তার নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত যুবক লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার চর পোড়াগাছা গ্রামের আশরাফ হোসেনের ছেলে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ট্রলারযোগে ভাঙ্গা উপজেলার কুমার নদের তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় বালি বিক্রি করত ফরহাদ। ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবার একটি মুদি দোকান ছিল। ওই কিশোরী তার বাবাকে দোকানে সকাল ও দুপুরের খাবার দিয়ে যেত।

মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০১৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকাল আটটার দিকে ওই কিশোরী তার বাবার জন্য সকালের খাবার নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর ওই কিশোরী বাবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আর বাড়ি ফিরে যায়নি। এর ১৯ দিন পর, ২৫ সেপ্টেম্বর ওই কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে ভাঙ্গা থানায় ওই দুই ব্যক্তিকে আসামি করে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ভাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সৌমেন মৈত্র ২০১৬ সালের ১৭ জানুয়ারি ওই দুই ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভুইয়া বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এর ফলে সমাজে এ জাতীয় অপরাধের প্রবণতা কমে আসবে।

ভাঙ্গার চাঞ্চল্যকর সুমন হত্যা: চার আসামি গ্রেফতার, চলছে অভিযান

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৭:০৭ অপরাহ্ণ
ভাঙ্গার চাঞ্চল্যকর সুমন হত্যা: চার আসামি গ্রেফতার, চলছে অভিযান

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় চাঞ্চল্যকর সুমন শেখ হত্যা মামলার চারজন এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করেছে ভাঙ্গা থানা পুলিশ। সোমবার (৬ জুলাই) দিবাগত রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন— ভাঙ্গা পৌরসভার হাসামদিয়া গ্রামের আব্দুল জব্বার মোল্লার ছেলে শফিকুল ইসলাম মোল্লা (৪০), একই গ্রামের বেলায়েত মাতুব্বরের ছেলে রবিউল মাতুব্বর (৩০), আবুল কাসেম সর্দারের ছেলে তানজির (৩২) এবং ঘারুয়া ইউনিয়নের বামনকান্দা গ্রামের শহর আলীর ছেলে নাসির আলী (৩০)।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, গত ৩০ জুন সন্ধ্যায় ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন এক্সপ্রেসওয়ে এলাকায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে সুমন শেখ নামে এক যুবক নিহত হন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মিলন শেখ বাদী হয়ে ভাঙ্গা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ অভিযান চালিয়ে এ পর্যন্ত চারজন আসামিকে গ্রেফতার করেছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার থেকে পাঁচ মাস আগে কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের ইসমাইল মুন্সির ভাগনে এবাদুলসহ কয়েকজন যুবককে ধরে এনে পৌরসভার সামনে মারধরের একটি ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় আসামদিয়া গ্রামের ফয়সাল সর্দারসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টির মীমাংসা হলেও দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের জের থেকেই উত্তেজনা অব্যাহত ছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩০ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত প্রায় ১০টা পর্যন্ত ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন এক্সপ্রেসওয়ে এলাকায় টর্চলাইট জ্বালিয়ে কয়েকটি গ্রামের লোকজনের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হন সুমন শেখ। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সদরপুরে গোসলখানায় ঝুলছিল যুবকের মরদেহ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৬:৪৯ অপরাহ্ণ
সদরপুরে গোসলখানায় ঝুলছিল যুবকের মরদেহ

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় গলায় ফাঁস দিয়ে শরজীদ শাহ (৪২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাড়ে সাতরশি গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত শরজীদ শাহ ওই গ্রামের মৃত মধুসুদন শাহের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন শরজীদ শাহ। এরপর থেকে তিনি বাড়িতেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে উন্নত চিকিৎসা করাতে না পারায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে স্বজনরা জানান।

মঙ্গলবার দুপুরে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে তিনি নিজ বাড়ির গোসলখানার টিনের আড়ার সঙ্গে রশি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

পরে তার স্ত্রী শশী রান্নার কাজে গোসলখানায় পানি আনতে গিয়ে স্বামীকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তার চিৎকারে পরিবারের সদস্য ও নিহতের ভাই রাজীব কুমার শাহ ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত আটরশির বিশ্ব জাকের মঞ্জিল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে সদরপুর থানার এসআই (নি.) মো. মেহেদী হাসান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়।

এ বিষয়ে এসআই (নি.) মো. মেহেদী হাসান জানান, মরদেহের আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।