খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে রাখতে যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন?

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:৪৩ এএম
অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে রাখতে যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন?

হঠাৎ শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, বুক ভারী লাগা বা রাতে ঘুম ভেঙে যাওয়া; অ্যাজমা রোগীদের কাছে এসব খুব পরিচিত সমস্যা। কিন্তু অনেকেই জানেন না, প্রতিদিনের খাবারও কখনো কখনো এই শ্বাসকষ্ট বাড়িয়ে দিতে পারে। আবার ঠিক খাবার বেছে নিলে অ্যাজমার উপসর্গ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

চিকিৎসকরা বলছেন, অ্যাজমা কোনো খাবারে সেরে যায় না। তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ফুসফুস ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং শ্বাসনালির প্রদাহ কমাতে ভূমিকা রাখে। তাই অ্যাজমা থাকলে কোন খাবার খাবেন আর কোন খাবার এড়িয়ে চলবেন, তা জানা জরুরি।

অ্যাজমার জন্য কি আলাদা কোনো ডায়েট দরকার

অ্যাজমার জন্য নির্দিষ্ট কোনো ডায়েট এখনো নেই। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ফাস্ট ফুড ও অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার খান, তাদের মধ্যে অ্যাজমার সমস্যা বেশি দেখা যায়।

অন্যদিকে, তাজা ফল, শাকসবজি ও পুষ্টিকর খাবার খেলে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা ভালো থাকে এবং শরীরের প্রদাহ কমে।

পুষ্টিকর খাবার কেন গুরুত্বপূর্ণ

ভিটামিন ও খনিজসমৃদ্ধ খাবার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এতে শ্বাসনালির ভেতরের জ্বালা বা ফোলা কমতে পারে। দীর্ঘদিন সুষম খাবার খেলে অ্যাজমার আক্রমণ তুলনামূলক কম হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

অ্যাজমা থাকলে যেসব খাবার উপকারী

ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার : কমলা, লেবু, স্ট্রবেরি, আপেল, ক্যাপসিকাম ও ব্রোকলি ফুসফুসের জন্য ভালো।

ভিটামিন ই : বাদাম, চিনাবাদাম, সূর্যমুখী বীজ ও অ্যাভোকাডো শ্বাসনালির প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।

ভিটামিন এ ও বিটা ক্যারোটিন : গাজর, মিষ্টি আলু, পালং শাক ও ব্রোকলি ফুসফুস সুস্থ রাখতে সহায়ক।

ভিটামিন ডি : সালমন মাছ, ডিম, ফোর্টিফায়েড দুধ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

সেলেনিয়াম : ডিম, মাছ, ব্রাউন রাইস ও বাদাম ফুসফুসের কর্মক্ষমতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।

ম্যাগনেসিয়াম : কুমড়ার বীজ, ডার্ক চকলেট, টফু ও অ্যাভোকাডো শ্বাসপ্রশ্বাস সহজ করতে সহায়ক।

যেসব খাবার অ্যাজমার সমস্যা বাড়াতে পারে

কিছু খাবার অ্যাজমা রোগীদের জন্য ট্রিগার হিসেবে কাজ করতে পারে। বিশেষ করে যাদের সংবেদনশীলতা আছে, তাদের ক্ষেত্রে সমস্যা বেশি হয়।

সালফাইটযুক্ত খাবার : ওয়াইন, শুকনো ফল, আচার ও বোতলজাত লেবুর রস শ্বাসকষ্ট বাড়াতে পারে।

গ্যাস তৈরি করে এমন খাবার : বাঁধাকপি, পেঁয়াজ, বিট, কোমল পানীয় ও ভাজাপোড়া খাবার বুকের চাপ বাড়াতে পারে।

সালিসাইলেট সংবেদনশীলদের জন্য : কফি, চা ও কিছু মসলা কারও কারও শ্বাসকষ্ট বাড়াতে পারে।

অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার : ফাস্ট ফুড ও কৃত্রিম উপাদানযুক্ত খাবার শরীরে প্রদাহ বাড়ায়।

অ্যালার্জি সৃষ্টি করতে পারে এমন খাবার

দুধ, গম, সামুদ্রিক মাছ বা বাদাম কিছু মানুষের ক্ষেত্রে অ্যাজমা বাড়াতে পারে। এটি ব্যক্তি ভেদে আলাদা।

ওজন নিয়ন্ত্রণও জরুরি

চিকিৎসকরা বলছেন, অতিরিক্ত ওজন থাকলে অ্যাজমার সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই স্বাস্থ্যকর ওজন ধরে রাখা খুব জরুরি। নিয়মিত হালকা ব্যায়াম ও সুষম খাবার অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তবে ব্যায়াম শুরু করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণের জন্য কোনো ম্যাজিক ডায়েট নেই। তবে প্রতিদিনের খাবারে একটু সচেতন হলেই শ্বাস নিতে অনেকটাই স্বস্তি পাওয়া যায়। ফাস্ট ফুড কমানো, বেশি করে ফল ও শাকসবজি খাওয়া এবং নিজের শরীর কোন খাবারে সমস্যা করছে তা বুঝে চলাই সবচেয়ে ভালো উপায়।

খাদ্যাভ্যাসে বড় পরিবর্তনের আগে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন এবং নিজে থেকে কখনোই ওষুধ বন্ধ করবেন না। সুস্থ শ্বাসের জন্য খাবার হোক আপনার নীরব সহায়।

সূত্র : Health Line

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৪:০৩ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঈদের নামাজ শেষে দুই দল গ্রামবাসী মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ১৫/২০ টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করা হয় বলে জানা গেছে।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৯ টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত দুই ঘন্টা ব্যাপী দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে চলে এ সংঘর্ষ। দুই পক্ষ ঢাল, সরকি, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে-অপরের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। এ সময় এলাকায় রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের ইসমাইল মুন্সি ও চুন্নু মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দিনগত রাত সাড়ে বারটার দিকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত ১২ জন আহত হন। এর জের ধরে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও মন্ত্রী কে এম ওবায়দুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ১:৩০ পিএম
বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও মন্ত্রী কে এম ওবায়দুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বিএনপির সাবেক মহাসচিব, সাবেক মন্ত্রী কে এম ওবায়দুর রহমানের ২১ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০০৭ সালের ২১ মার্চ ঢাকা অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তাঁর ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।  

কেএম ওবায়দুর রহমান ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্র রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন ও নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি ১৯৬২-৬৩ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৬৩ থেকে ৬৫ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি ফরিদপুরের কোতোয়ালি ও নগরকান্দা থানা নিয়ে গঠিত আসন থেকে জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। স্বাধীনতার  পরে ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ফরিদপুরের নগরকান্দা আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ও সরকারের প্রতিমন্ত্রী হন। ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ফরিদপুরের নগরকান্দা আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ও সরকারের মন্ত্রী হন। এরপর তিনি বিএনপির মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্য হন।তিনি ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের ৭ম জাতীয় সংসদ ও ২০০১ সালের ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর -২ (নগরকান্দা ও সালথা) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

তাঁর ১৯ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক বাণীতে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বাংলাদেশে মরহুম কে এম ওবায়দুর রহমান একজন গণসম্পৃক্ত জাতীয় নেতা হিসেবে সবার নিকট সমাদৃত ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকে শুরু পরবর্তীতে জাতীয় রাজনৈতিক জীবনে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র তথা সকল আন্দোলন -সংগ্রামে সোচ্চার থেকে তিনি আজীবন দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের পক্ষে নিজেকে নিবেদিত রেখেছিলেন। ‘

কেএম ওবায়দুর রহমানের একমাত্র সন্তান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘তিনি ছিলেন গণমানুষের নেতা, ন্যায় ও গণতন্ত্রের নির্ভীক সৈনিক। তার আদর্শ, সততা মানুষের জন্য কাজ আমাদের পথচলার প্রেরণা হয়ে আছে এবং থাকবে।

কে এম ওবায়দুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ফরিদপুর জেলা বিএনপি, নগরকান্দা ও সালথা উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে আজ শুক্রবার বিকাল ৩ টায় নগরকান্দার লস্করদিয়ায় কে এম ওবায়দুর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা অর্পণ ও আগামী ২৩ মার্চ বিকালে নগরকান্দা সরকারি মহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমি মাঠে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন