খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

ঘাড়ে ব্যথা কেন হয়? প্রতিকার ও চিকিৎসকের পরামর্শ কখন জরুরি

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:১৫ এএম
ঘাড়ে ব্যথা কেন হয়? প্রতিকার ও চিকিৎসকের পরামর্শ কখন জরুরি

ঘাড়ের ব্যথা এখন খুবই পরিচিত একটি সমস্যা। দীর্ঘ সময় মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার, ভুল ভঙ্গিতে বসে কাজ করা কিংবা ঠিকমতো বিশ্রাম না নেওয়ার কারণে অনেকেই এই ব্যথায় ভোগেন। শুরুতে হালকা অস্বস্তি মনে হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি তীব্র হয়ে উঠতে পারে এবং দৈনন্দিন কাজেও বাধা সৃষ্টি করে।

ভালো খবর হলো, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কিছু সচেতনতা ও সঠিক যত্ন নিলেই ঘাড়ের ব্যথা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

ঘাড়ের ব্যথা কীভাবে বোঝা যায়

ঘাড়ের ব্যথা সবার ক্ষেত্রে একরকম হয় না। কারও ব্যথা হালকা, কারও আবার এতটাই তীব্র হয় যে, মাথা ঘোরানো বা সোজা করে তাকানোও কষ্টকর হয়ে পড়ে।

সাধারণ লক্ষণগুলো হলো

-ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া

-ঘাড় নড়াতে অসুবিধা হওয়া

-এক জায়গায় চাপ দিলে ব্যথা বাড়া

-ঘাড় থেকে কাঁধ, মাথা বা হাতে ব্যথা ছড়িয়ে পড়া

-হাত বা আঙুলে ঝিনঝিনি বা অবশভাব

-ঘাড়ের ব্যথার সঙ্গে মাথাব্যথা হওয়া

হাত দুর্বল হয়ে যাওয়া বা অবশভাব দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

ঘাড়ের ব্যথার সাধারণ কারণ

ঘাড়ের ব্যথার পেছনে কয়েকটি সাধারণ কারণ বেশি কাজ করে।

-পেশির টান ও চাপ

-দীর্ঘ সময় ভুল ভঙ্গিতে বসে কাজ করা

-মোবাইল নিচু করে অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকা

-ভুলভাবে ঘুমানো

-হঠাৎ ভারী কাজ বা ব্যায়াম করা

-আঘাত (দুর্ঘটনা, পড়ে যাওয়া বা খেলাধুলার সময় ঘাড়ে আঘাত লাগলে ব্যথা হতে পারে।)

-অন্য রোগের প্রভাব

-রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস

-ডিস্ক সরে যাওয়া

-ঘাড়ের অস্টিওআর্থ্রাইটিস

-স্পাইনাল স্টেনোসিস

কিছু ক্ষেত্রে ঘাড়ের ব্যথা হৃদরোগ বা মেনিনজাইটিসের লক্ষণও হতে পারে। ঘাড়ের ব্যথার সঙ্গে যদি বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট, জ্বর বা প্রচণ্ড মাথাব্যথা থাকে, তাহলে তা জরুরি অবস্থা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

ঘাড়ের ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায়

হালকা ব্যথা হলে প্রথমে ঘরোয়া কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে।

-শুরুর দিকে বরফ সেঁক দিলে ব্যথা ও ফোলা কমে

-কয়েক দিন পর গরম সেঁক উপকার দিতে পারে

-প্রয়োজনে প্যারাসিটামল বা আইবুপ্রোফেন খাওয়া যেতে পারে

-কয়েক দিন ভারী কাজ এড়িয়ে চলা ভালো

-ধীরে ধীরে ঘাড়ের হালকা ব্যায়াম ও স্ট্রেচিং করা

-সোজা হয়ে বসা ও দাঁড়ানোর অভ্যাস গড়ে তোলা

-এক ভঙ্গিতে দীর্ঘ সময় বসে না থাকা

ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া নেক ব্রেস বা কলার ব্যবহার করা ঠিক নয়।

চিকিৎসা কীভাবে হয়

ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে বা ঘরোয়া উপায়ে না কমলে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক এক্স রে, এমআরআই বা রক্ত পরীক্ষা করতে পারেন।

চিকিৎসার মধ্যে থাকতে পারে

-ব্যথানাশক ওষুধ

-ফিজিওথেরাপি

-পেশি শিথিলকারী ওষুধ

-ইনজেকশন বা বিশেষ থেরাপি

-জটিল ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার

কিছু বিকল্প চিকিৎসা যেমন ম্যাসাজ বা আকুপাংচার উপকার দিতে পারে, তবে অবশ্যই প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে করাতে হবে।

কখন অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যাবেন

-এক সপ্তাহের বেশি সময় ব্যথা থাকলে

-হঠাৎ তীব্র ব্যথা শুরু হলে

-ঘাড়ে ফুলে যাওয়া বা গাঁট দেখা দিলে

-জ্বর, বমি বা গিলতে কষ্ট হলে

-হাত বা পায়ে দুর্বলতা বা অবশভাব হলে

-দুর্ঘটনার পর ঘাড়ে ব্যথা শুরু হলে

ঘাড়ের ব্যথা বেশিরভাগ সময়ই আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাসের ফল। সঠিক ভঙ্গিতে বসা, নিয়মিত বিরতি নেওয়া এবং হালকা ব্যায়াম করলে এই সমস্যা অনেকটাই এড়ানো যায়। তবে ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে বা গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ। সচেতন থাকলেই ঘাড় থাকবে সুস্থ এবং স্বস্তিতে।

সূত্র : Clivland clinic

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৪:০৩ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঈদের নামাজ শেষে দুই দল গ্রামবাসী মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ১৫/২০ টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করা হয় বলে জানা গেছে।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৯ টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত দুই ঘন্টা ব্যাপী দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে চলে এ সংঘর্ষ। দুই পক্ষ ঢাল, সরকি, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে-অপরের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। এ সময় এলাকায় রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের ইসমাইল মুন্সি ও চুন্নু মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দিনগত রাত সাড়ে বারটার দিকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত ১২ জন আহত হন। এর জের ধরে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।