খুঁজুন
, ,

সিগারেট টানছেন? নীরবে গ্রাস করছে আপনার যে মানসিক স্বাস্থ্য?

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:৩৮ পূর্বাহ্ণ
সিগারেট টানছেন? নীরবে গ্রাস করছে আপনার যে মানসিক স্বাস্থ্য?

ধূমপান কেবল ফুসফুস বা হৃদরোগের কারণ নয়, এটি মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলে বলে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে। 

নতুন এই বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ধূমপান করেন তাদের মধ্যে বিষণ্নতা বা ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অধূমপায়ীদের তুলনায় অনেক বেশি।

গবেষকরা দাবি করছেন, তামাকের মধ্যে থাকা নিকোটিন মস্তিষ্কের ডোপামিন নিঃসরণের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে, যা দীর্ঘমেয়াদে মানসিক অস্থিরতা ও অবসাদের জন্ম দেয়।

গবেষণাটিতে বলা হয়েছে যে অনেক ধূমপায়ী সাময়িক মানসিক প্রশান্তি বা স্ট্রেস কমানোর অজুহাতে ধূমপান শুরু করলেও প্রকৃতপক্ষে এটি পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটায়। নিকোটিনের প্রভাব যখন শরীর থেকে কমতে শুরু করে, তখন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আরও বেশি দুশ্চিন্তা ও বিষণ্নতা অনুভব করেন। এর ফলে তারা পুনরায় ধূমপানে আসক্ত হয়ে পড়েন, যা একটি ভয়াবহ চক্রের সৃষ্টি করে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে, যারা মানসিক চাপ মোকাবিলায় ধূমপানকে সমাধান হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে ধূমপান ত্যাগের মাধ্যমে কেবল শারীরিক সুস্থতাই নয়, বরং মানসিক প্রশান্তিও ফিরে পাওয়া সম্ভব। যারা ধূমপান ছেড়ে দিয়েছেন, তাদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্যের উল্লেখযোগ্য উন্নতির প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তাই জনস্বাস্থ্য রক্ষায় কেবল ক্যানসার বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকির ওপর গুরুত্ব না দিয়ে, ধূমপানের সাথে মানসিক স্বাস্থ্যের এই গভীর সম্পর্কের বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র: সামা টিভি

 

ফরিদপুরের মধুখালীতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো দুই শতাধিক অবৈধ স্থাপনা

মো. ইনামুল খন্দকার, মধুখালী:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৮:০১ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরের মধুখালীতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো দুই শতাধিক অবৈধ স্থাপনা

ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ফরিদপুর অংশের মধুখালীতে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ এবং সরকারি খাস জমি দখল করে গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল ওহাব শেখের নির্মিত ‘মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওহাব মার্কেট’সহ প্রায় দুই শতাধিক অবৈধ দোকানপাট ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

​বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল ১১টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলা এ উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন মধুখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতীক দত্ত।

​উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মধুখালী উপজেলার ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের দুই পাশের সওজ-এর জায়গা ও সরকারি খাস জমি দখল করে বেশ কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি অবৈধভাবে দোকানপাট ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করে আসছিল। এতে সড়ক সরু হয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটত এবং তীব্র যানজটের সৃষ্টি হতো। জনস্বার্থ বিবেচনায় ও সড়ক নিরাপদ রাখতে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

​অভিযান চলাকালে মধুখালী রেলগেট বাজার, পৌরসভা বাজার, মরিচ বাজার ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের অংশ থেকে শুরু করে মহাসড়কের দু’পাশের সকল অবৈধ পাকা-আধা পাকা স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এ সময় শত শত সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

​অভিযান পরিচালনাকালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতীক দত্ত সাংবাদিকদের জানান, মহাসড়কের দু’পাশে সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখল করে স্থাপনা তৈরির কারণে দুর্ঘটনা ও যানজট নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছিল। জনস্বার্থ রক্ষা এবং মহাসড়কে নিরাপদ যান চলাচল নিশ্চিত করতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সরকারি জমি দখলমুক্ত রাখতে এ ধরনের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।

​অভিযান চলাকালীন সময় মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদুর রহমান সরেজমিনে সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। এছাড়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য উপস্থিত থেকে উদ্ধার কাজে সহায়তা প্রদান করেন।

​দীর্ঘদিন পর সরকারি জমি উদ্ধারে প্রশাসনের এমন কঠোর পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। উচ্ছেদ অভিযানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখে স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতা সুজন মিয়া বলেন, “এটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ। স্বাধীনতার পর মধুখালীতে এত বড় আকারের সওজ ও খাস জমি উদ্ধারের ঘটনা এবারই প্রথম। এতে সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজ হবে এবং যানজট কমবে। আমরা উপজেলা প্রশাসন ও সওজকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।”

ফরিদপুরে ড্রামের খোলা ভোজ্যতেল বিক্রি বন্ধে ক্যাবের সচেতনতামূলক কর্মশালা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৩৫ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে ড্রামের খোলা ভোজ্যতেল বিক্রি বন্ধে ক্যাবের সচেতনতামূলক কর্মশালা

মানবস্বাস্থ্যের ওপর ড্রামের খোলা ভোজ্যতেলের মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে ভোক্তা ও বাল্ক ব্যবহারকারীদের সচেতন করার লক্ষ্যে ফরিদপুরে এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ফরিদপুর পৌরসভার হলরুমে কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

​ক্যাব ফরিদপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক তারেক আইয়ুব খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সোহরাব হোসেন। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন সাবেক সচিব ও ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এ.এইচ.এম. সফিকুজ্জামান।

​ক্যাব জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নাজমুল আলম পারভেজের সঞ্চালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন ফরিদপুর পৌরসভার প্রশাসক​ মো. ইলিয়াছুর রহমান, ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ​ডা. মাহমুদুল হাসান, কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ​মাহমুদুল হাসান, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ​মুস্তাক হাসান মুক্ত ইফতিখার, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান ​অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী।

​কর্মশালায় অনিরাপদ ড্রামে ড্রামজাতকরণ, সংরক্ষণ ও বিক্রি বন্ধের তাগিদ দিয়ে বক্তারা বলেন, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করতে খোলা ভোজ্যতেলের ব্যবহার পর্যায়ক্রমে বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নে ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তারা।

সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় ভাঙ্গায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সচেতনতামূলক সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১৭ পূর্বাহ্ণ
সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় ভাঙ্গায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সচেতনতামূলক সভা

তরুণ সমাজকে প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার ও সাইবার ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করার লক্ষ্যে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সংগঠনের নিয়মিত সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল করার পাশাপাশি অনলাইনে নিরাপত্তার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

​বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে ভাঙ্গার একটি মহিলা কলেজের হলরুমে বসুন্ধরা শুভসংঘ ভাঙ্গা উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।

​বসুন্ধরা শুভসংঘ ভাঙ্গা উপজেলা শাখার সভাপতি গোলাম মোরশেদ এবং সহ-সভাপতি ইয়াছিন আরাফাতের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এ সভায় সংগঠনের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সদস্য ও উপদেষ্টাবৃন্দ অংশ নেন।

​সভায় বর্তমান সময়ের অন্যতম আলোচিত বিষয় সাইবার নিরাপত্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিরাপদ ব্যবহার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বক্তারা উল্লেখ করেন, প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে অনলাইন প্রতারণা, ভুয়া তথ্যের বিস্তার, অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং, ব্যক্তিগত তথ্য চুরি ও সাইবার হয়রানির ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে ব্যক্তিগত সচেতনতার বিকল্প নেই।

​আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন এম রাজন। তিনি বলেন, “বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির ব্যবহার যেমন বেড়েছে, তেমনি নতুন নতুন সাইবার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। তাই নিজেদের অনলাইন অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখতে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা, টূ-স্টেপ ভেরিফিকেশন বা দুই ধাপের নিরাপত্তা চালু রাখা এবং যেকোনো অপরিচিত লিংক বা বার্তা পেয়ে ক্লিক না করার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক হতে হবে।”

​তিনি আরও বলেন, তরুণদের প্রযুক্তির ইতিবাচক ও সঠিক ব্যবহারের পথ দেখানোর পাশাপাশি সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে সামাজিকভাবে সচেতনতা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।

​সাইবার নিরাপত্তার পাশাপাশি সভায় সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় বৃদ্ধি, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ এবং এলাকার দুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে বিভিন্ন মানবিক ও সামাজিক উদ্যোগ বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

​সভায় উপস্থিত সদস্যরা বসুন্ধরা শুভসংঘের কল্যাণমূলক উদ্যোগগুলোকে মাঠপর্যায়ে আরও গতিশীল, জনকল্যাণমুখী ও কার্যকরী করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।