খুঁজুন
, ,

মায়ের কাছ থেকে যে ৮ বৈশিষ্ট্য পায় সন্তান?

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:২২ পূর্বাহ্ণ
মায়ের কাছ থেকে যে ৮ বৈশিষ্ট্য পায় সন্তান?

প্রতিটি শিশুর জন্মই এক নতুন জগতের সূচনা। তবে শুধু পিতামাতার ভালোবাসা, যত্ন বা পরিবেশ নয়, শিশুর শরীর ও মনও এক ধরনের জৈবিক উত্তরাধিকার বহন করে।

বিশেষ করে মায়ের জিনের প্রভাব সন্তানের ওপর আলাদা এবং গুরুত্বপূর্ণ। অনেক বৈজ্ঞানিক গবেষণা দেখিয়েছে, মায়ের দিক থেকে প্রাপ্ত জিন এবং বৈশিষ্ট্য শিশুর শারীরিক গঠন, মানসিক সক্ষমতা, স্বাস্থ্যের ঝুঁকি এবং এমনকি আচরণেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।

বাংলাদেশের পরিবারে মা ও সন্তানের সম্পর্ক প্রাথমিক পরিচর্যার মাধ্যমে বোঝা যায়, কিন্তু এই সম্পর্ক জিনগতভাবে অনেক গভীর। শুধু দেখায় যে বাচ্চা মায়ের মতো হাসে বা মূখাবয়ব নেয়, বরং মায়ের দিক থেকে প্রাপ্ত জিনগুলো শিশুর জীবনের নানা দিককে প্রভাবিত করে।

চলুন জেনে নিই, মায়ের কাছ থেকে সন্তানের মধ্যে কোন কোন গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য আসে:

১. মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ

কোষের শক্তিকেন্দ্র মাইটোকন্ড্রিয়া শুধু মায়ের কাছ থেকেই আসে। এটি শিশুর শরীরের শক্তি উৎপাদন, বিপাকক্রিয়া এবং বার্ধক্যের গতিতে প্রভাব ফেলে।

২. বুদ্ধিমত্তা

গবেষণায় দেখা গেছে, বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু জিন মায়ের দিক থেকে বেশি প্রভাব ফেলে। ফলে মায়ের শিক্ষার অভ্যাস, চিন্তাভাবনার ধরন ও জিনগত বৈশিষ্ট্য শিশুর মানসিক বিকাশে সাহায্য করতে পারে।

৩. শারীরিক বৈশিষ্ট্য

চুলের রং ও গঠন, হেয়ারলাইন, ত্বকের রং এবং ভ্যারিকোজ ভেইনের প্রবণতা; এসব শিশুর মধ্যে প্রাথমিকভাবে মায়ের দিক থেকে আসে। ভ্যারিকোজ ভেইন হলো এমন এক অবস্থা, যেখানে শিরাগুলো ফুলে যায় বা বাঁকানো দেখা যায়, সাধারণত ত্বকের ওপর নীল বা বেগুনি দাগের মতো প্রকাশ পায়।

৪. বিপাকক্রিয়া ও ওজন

শরীরের শক্তি ব্যবহারের ধরন এবং সহজে ওজন বাড়ার প্রবণতা; এসবে মায়ের জিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিশুর বিপাক ও ওজন নিয়ন্ত্রণে মায়ের দিক থেকে প্রাপ্ত জিনের প্রভাব চোখে পড়ে।

৫. মেজাজ ও ঘুমের ধরন

অনিদ্রা, ঘুমের সমস্যা বা কিছু মুড-সম্পর্কিত প্রবণতা, যেমন বিষণ্নতা—মায়ের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে আসতে পারে। এর মাধ্যমে শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য ও আচরণে প্রভাব পড়ে।

৬. কিছু রোগের ঝুঁকি

মায়োপিয়া (কাছের জিনিস স্পষ্ট ও দূরের জিনিস ঝাপসা দেখা), গ্লুকোমা, ছানি ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি মায়ের দিক থেকে আসতে পারে। ফলে স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং প্রাথমিক নজরদারি শিশুর জন্য জরুরি।

৭. X-লিংকড বৈশিষ্ট্য (বিশেষ করে ছেলেদের ক্ষেত্রে)

ছেলেসন্তান মায়ের কাছ থেকে একমাত্র X ক্রোমোজোম পায়। তাই বর্ণান্ধের মতো বৈশিষ্ট্য সরাসরি মায়ের দিক থেকে আসার সম্ভাবনা বেশি।

৮. প্রজনন (মেয়েদের ক্ষেত্রে)

মেয়েদের প্রথম মাসিক ও মেনোপজের সময় অনেক ক্ষেত্রে মায়ের সময়সূচির সঙ্গে মিল দেখা যায়। অর্থাৎ মেয়েদের প্রজনন সংক্রান্ত কিছু বৈশিষ্ট্যও মায়ের জিনের সঙ্গে সম্পর্কিত।

শেষ কথা

মনে রাখতে হবে, সব শিশুর ক্ষেত্রে এসব ভূমিকা এক রকম নয়। জিনের পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাস, পরিবেশ এবং জীবনধারার প্রভাব শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাই মা ও সন্তানের সম্পর্ক শুধুমাত্র জেনেটিক নয়, বরং প্রতিদিনের যত্ন, পরিচর্যা ও অভ্যাসের মিশ্রণে শিশুর ব্যক্তিত্ব গড়ে ওঠে।

সূত্র: ফ্যামিলি এডুকেশন

ফরিদপুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে বৃদ্ধের ৫ বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে বৃদ্ধের ৫ বছরের কারাদণ্ড

ফরিদপুরের নগরকান্দায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এক মেয়েশিশুকে (১৩) ধর্ষণচেষ্টার অপরাধে ইসমাইল মোল্লা (৫৬) নামে এক বৃদ্ধকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ পাহারায় তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

​মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর বিকেল ৩টার দিকে নগরকান্দা উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের একটি গ্রামে মুদি দোকানের পাশের পুকুর থেকে পানি নিয়ে বাড়ি ফিরছিল শিশুটি। এ সময় ইসমাইল মোল্লা তাকে দোকানঘরে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালান।

​ঘটনার পর শিশুটি বাড়িতে ফিরে স্বজনদের বিষয়টি জানায়। পরে ওই বছরের ২১ ডিসেম্বর শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় ইসমাইল মোল্লাকে একমাত্র আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

​মামলাটি তদন্ত শেষে নগরকান্দা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইরানুল ইসলাম ২০২৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার আদালত এ রায় দেন।

​রায়ের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, “বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতন প্রতিরোধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।”

জীবনসঙ্গী কেমন চান, জানালেন সাফা কবির

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ
জীবনসঙ্গী কেমন চান, জানালেন সাফা কবির

ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাফা কবির। তার সমসাময়িক অনেকেই বিয়ে করে সংসারী হয়েছেন।সংসার সামলানোর পাশাপাশি অভিনয়ও চালিয়ে যাচ্ছেন সমানতালে। তবে বিয়ে নিয়ে সামাজিক প্রত্যাশা আর নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় সাফা কবিরকে।এসব প্রশ্নে বিরক্ত এই অভিনেত্রীর মতে, বিয়ে করা কিংবা একা থাকার সিদ্ধান্ত একান্তই ব্যক্তিগত।
সম্প্রতি এক আড্ডায় নিজের জীবনযাপন, অভিনয় ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন সাফা কবির।

সেখানে উঠে আসে বিয়ে ও একক জীবন নিয়ে তার ভাবনার প্রসঙ্গও।
মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি আরও সহানুভূতিশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে অভিনেত্রী বলেন, তারকারাও সাধারণ মানুষের মতোই।

তাদেরও রয়েছে ব্যক্তিগত জীবন, নিজস্ব সময় ও নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা। বিষয়টি সবার বোঝা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
বিয়ে নিয়ে নানা প্রশ্নের মুখে পড়লেও নিজের বর্তমান জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট সাফা কবির। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নিজের জীবন নিয়ে আমি বেশ সন্তুষ্ট। সৃষ্টিকর্তার কৃপায় সুন্দর একটি জীবন কাটছে আমার।’

তবে জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিজের পছন্দের কথাও জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। শিক্ষিত, রসবোধসম্পন্ন ও ভালো মনের একজন মানুষকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে চান তিনি।

অভিনয়জীবন নিয়েও নিজের উপলব্ধির কথা জানিয়েছেন সাফা কবির। নিজের অভিনীত কাজ নিয়ে কখনোই শতভাগ সন্তুষ্ট হতে পারেন না বলে জানান তিনি। তার মতে, একজন শিল্পীর মধ্যে নিজের কাজ নিয়ে এমন অতৃপ্তি থাকা প্রয়োজন। কারণ, এই অতৃপ্তিই আরও ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগায়।

সব মিলিয়ে বিয়ে নিয়ে সামাজিক প্রত্যাশার চেয়ে নিজের ভালো থাকা, আত্মনির্ভরশীলতা ও ব্যক্তিগত পছন্দকেই বেশি গুরুত্ব দিতে চান সাফা কবির।

জটিল রোগে আক্রান্ত নগরকান্দার সাংবাদিক বোরহান আনিসের পাশে মুফতি রায়হান জামিল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩১ অপরাহ্ণ
জটিল রোগে আক্রান্ত নগরকান্দার সাংবাদিক বোরহান আনিসের পাশে মুফতি রায়হান জামিল

ফরিদপুরের নগরকান্দার সিনিয়র সাংবাদিক, দৈনিক সমকাল ও দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিনিধি এবং নগরকান্দা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি বোরহান আনিস দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস ও কিডনির জটিলতায় ভুগছেন। তাঁর উভয় কিডনি অকার্যকর হয়ে পড়ায় নিয়মিত ডায়ালিসিসসহ ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হচ্ছে। তবে পর্যাপ্ত অর্থের অভাবে তাঁর চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এমন সংকটময় মুহূর্তে অসুস্থ সাংবাদিকের পাশে দাঁড়িয়েছেন সুনামধন্য সমাজসেবক ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চরভদ্রাসন উপজেলা শাখার সভাপতি মুফতি রায়হান জামিল। বোরহান আনিসের অসুস্থতার খবর পেয়ে তিনি নগরকান্দায় তাঁর বাড়িতে ছুটে যান। সেখানে অসুস্থ সাংবাদিকের খোঁজখবর নেন, তাঁকে সান্ত্বনা দেন এবং দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করেন। পাশাপাশি তাঁর চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় বাজারসদাই কেনার জন্য নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেন।

এ সময় মুফতি রায়হান জামিল বলেন, “সাংবাদিক বোরহান আনিসের জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর পেয়ে আমি তাঁর বাড়িতে ছুটে এসেছি। তাঁকে সান্ত্বনা দিয়েছি এবং মহান আল্লাহর কাছে তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছি। সামর্থ্য অনুযায়ী তাঁর পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী। দুদিন আগে কিংবা পরে আমাদের সবাইকে এ পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে। তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো।”

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকায় সমাজসেবা ও মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পরিচিতি পেয়েছেন মুফতি রায়হান জামিল। তাঁর উদ্যোগে গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর ১০ টাকায় ইলিশ মাছ, ৩০ নভেম্বর ১ টাকা কেজি দরে গরুর মাংস এবং ১১ জুলাই ২ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণ করা হয়। এসব ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়ে সারা দেশে ব্যাপক আলোচনা হয়। এ ছাড়া গভীর রাতে অসহায় মানুষের বাড়িতে বাড়িতে এক বস্তা চাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগও প্রশংসা পেয়েছে।