খুঁজুন
শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১২ বৈশাখ, ১৪৩৩

২০২৬ হতে পারে ইতিহাসের সবচেয়ে গরমের বছর: রেকর্ড ভাঙার শঙ্কা

পরিবেশ ও জলবায়ু ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:২০ অপরাহ্ণ
২০২৬ হতে পারে ইতিহাসের সবচেয়ে গরমের বছর: রেকর্ড ভাঙার শঙ্কা

২০২৬ সাল বিশ্ব ইতিহাসের চারটি উষ্ণতম বছরের একটি হতে পারে। এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ কানাডার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

দেশটির জলবায়ু বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্লাইমেটডাটা.সিএ–তে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, চলতি বছরটি রেকর্ডভাঙা উষ্ণ বছরগুলোর তালিকায় থাকাটা প্রায় নিশ্চিত।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, শিল্পবিপ্লবের আগের সময়ের (১৮৫০-১৯০০) তুলনায় ২০২৬ সালে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা ১ দশমিক ৩৫ থেকে ১ দশমিক ৫৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হতে পারে। এর মধ্যে প্রায় ১২ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে যে এই উষ্ণতা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের গুরুত্বপূর্ণ সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

বিজ্ঞানীদের মতে, কয়লা, তেল ও গ্যাস পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট কার্বন নিঃসরণই বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রধান কারণ। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোর অতিরিক্ত তাপমাত্রার পেছনে ২০২৩-২৪ সালের শক্তিশালী এল নিনো আবহাওয়া ঘটনাও ভূমিকা রেখেছে।

প্যারিস জলবায়ু চুক্তি অনুযায়ী, বৈশ্বিক উষ্ণতা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখা এবং সম্ভব হলে ১ দশমিক ৫ ডিগ্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও কোনো একটি বছরে ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সীমা অতিক্রম করাকে চুক্তি ভঙ্গ হিসেবে ধরা হয় না। তবুও বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই প্রবণতা স্পষ্টভাবে উদ্বেগজনক।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়লে তাপপ্রবাহ, খরা, দাবানল, অতিবৃষ্টি ও বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়বে। এর প্রভাব পড়তে পারে কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও।

এনভায়রনমেন্ট কানাডার পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৈশ্বিক তাপমাত্রা শিল্পবিপ্লব-পূর্ব সময়ের তুলনায় ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি থাকবে ২০২৬ সাল। এটি টানা ১৩তম বছর হতে যাচ্ছে। একই ধরনের পূর্বাভাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা বার্কলে আর্থও।

ফরিদপুরে আরএসএম ট্রাভেলস এন্ড ট্যুরসের উদ্যোগে হজ্জ প্রশিক্ষণ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:২৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে আরএসএম ট্রাভেলস এন্ড ট্যুরসের উদ্যোগে হজ্জ প্রশিক্ষণ

সরকার অনুমোদিত ফরিদপুর জেলার একমাত্র হজ্জ ও ওমরাহ এজেন্সি আরএসএম ট্রাভেলস এন্ড ট্যুরসের উদ্যোগে হজ্জ যাত্রীদের নিয়ে প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেখানে পবিত্র মক্কা নগরীতে হাজীদের করণীয় ও হজ্জের পবিত্রতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেন সরকার অনুমোদিত প্রশিক্ষকরা।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ১০ টা থেকে দুপুর পর্যন্ত শহরের স্বপ্নছোয়া কমিনিউটি সেন্টারে এই প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। যেখানে হজ্জের চলতি মৌসুমে আরএসএম ট্রাভেলস এন্ড ট্যুরসের মাধ্যমে নারী-পুরুষসহ ৯৬ জন হজ্জ যাত্রী অংশ নেয়।

এছাড়া চলতি মৌসুমে সারা দেশে প্রায় আড়াইশ জন হজ্জ্ব যাত্রী এজেন্সিটির মাধ্যমে হজ্জে যাবেন বলে প্রতিষ্ঠানটির স্বত্ত্বাধিকারী আলহাজ্ব মনিরুল ইসলাম মোল্যা জানিয়েছেন। তিনি হজ্জ এজেন্সীস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ অর্থাৎ হাব-এর ঢাকা জোনাল কার্যনির্বাহী সদস্য আলহাজ্ব মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম মোল্লা।

হজ্জ প্রশিক্ষণে তিনি পবিত্র হজের গুরুত্ব, নিয়ম-কানুন ও করণীয় বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন। এছাড়া অন্যদের মধ্যে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন শাহ ফরিদ জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আবুল কালাম আজাদ সহ অনেকে। তারা হজের বিভিন্ন আমল ও কার্যক্রম সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক ধারণা লাভ করেন।

আরএসএম ট্রাভেলস এন্ড ট্যুরসের প্রধান কার্যালয় ফরিদপুর শহরের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বিপরীত পাশে অবস্থিত। প্রতি বছরই হজ্জ ও ওমারাহ যাত্রায় সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছে।

ফরিদপুরে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছিল শিক্ষা কর্মকর্তার লাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:১০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছিল শিক্ষা কর্মকর্তার লাশ

ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌর এলাকায় গোপালগঞ্জ উপজেলা সদরের সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ রাজু ইসলাম (৩৬)-এর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ

শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ভাঙ্গা পৌরসভার পূর্ব হাসামদিয়া এলাকার মাতৃকুঞ্জ নামে একটি আবাসিক ভবনের চতুর্থ তলার ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত শেখ রাজু ইসলাম গোপালগঞ্জ উপজেলা সদরে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার মউতলা গ্রামে। তিনি নুরুল ইসলাম শেখের ছেলে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ভাঙ্গা পৌরসভার আতাদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা হ্যাপি আক্তারের স্বামী। তাদের সংসারে দুই কন্যা সন্তান রয়েছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুর আনুমানিক ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। বিষয়টি বুঝতে পেরে দ্রুত স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে নিচে নামানো হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহতের স্ত্রী হ্যাপি আক্তার জানান, দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে তিনি বাসায় ফোন করেন। এ সময় তার মেয়েরা জানায়, তাদের বাবা ঘরের ভেতরে গলায় রশি দিয়েছেন। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত বাসায় এসে স্বামীর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান।

নিহতের জমজ ভাই শেখ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মায়ের ফোন পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে আসেন। বাসায় পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পর উপরের তলা থেকে চিৎকার শুনে দৌড়ে গিয়ে ভাইয়ের মরদেহ দেখতে পান। ঘটনাটি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।

এদিকে নিহতের ছোট মেয়ে আমেনা আক্তার (প্রায় ৪ বছর) জানায়, কিছুক্ষণ আগে তার বাবা তার পাশে শুয়ে ছিলেন। পরে তাকে পাশে না পেয়ে পাশের কক্ষে গিয়ে বাবাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে তিনি জানান।

পুলিশ জানিয়েছে, এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তা খতিয়ে দেখতে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিহতের সহকর্মী ও স্বজনদের সঙ্গেও কথা বলছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সংবাদ প্রকাশের পর: জমিদার বাড়ি সংরক্ষণে পদক্ষেপের ঘোষণা দিলেন এমপি বাবুল

সদরপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:২৯ অপরাহ্ণ
সংবাদ প্রকাশের পর: জমিদার বাড়ি সংরক্ষণে পদক্ষেপের ঘোষণা দিলেন এমপি বাবুল

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাইশরশি জমিদার বাড়ি সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন ফরিদপুর-৪ (সদরপুর, ভাঙ্গা ও চরভদ্রাসন) আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। এরই প্রেক্ষিতে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টার দিকে এমপি বাবুল সরেজমিনে জমিদার বাড়িটি পরিদর্শন করেন এবং সংরক্ষণে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, এই জমিদার বাড়িটি আমাদের এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন। এটিকে রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। ইতোমধ্যে আমরা এটি অধিদপ্তর-এর আওতায় এনে সংরক্ষণের চেষ্টা করছি।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায় পড়ে থাকা এই জমিদার বাড়ির বিভিন্ন অংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি গুপ্তধনের আশায় বউঘাট খননের ঘটনাও এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

শহিদুল ইসলাম বাবুলের এ ঘোষণায় এলাকাবাসীর মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।