খুঁজুন
, ,

২০২৬ সালে ভ্রমণের জন্য সেরা ২০ আন্তর্জাতিক গন্তব্য

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:৩৫ অপরাহ্ণ
২০২৬ সালে ভ্রমণের জন্য সেরা ২০ আন্তর্জাতিক গন্তব্য

যেখানে নীল লেগুন ঘেরা পলিনেশিয়ার দ্বীপ থেকে শুরু করে চিলির ওয়াইন ক্ষেত্রের হার্ট অবভেন্যু—এই বছর জাগানো অভিজ্ঞতার জন্য বিশ্বের নানা প্রান্তের গন্তব্য।

ভ্রমণপ্রেমীরা সাধারণত দব্রোভনিকে পছন্দ করেন; কিন্তু দুনিয়ার অনেকে তাই করে। তবে ক্রোয়েশিয়ার কাছাকাছি মন্টেনেগ্রোও রয়েছে অসাধারণ সাগরতীর শহর, নতুন হাইকিং ট্রেইল এবং পাহাড়ি কমিউনিটিগুলোর সঙ্গে সংযোগ।

অন্যদিকে, বুয়েনাস আইরেসের থেকে জলপথ পেরিয়ে মন্টেভিডিওর সবুজ শহর, যেখানে বিশ্বের মানের টাঙ্গো, স্টেক এবং স্থাপত্য উপভোগ করা যায়। আর রোম হয়তো চিরন্তন, তবে আলজেরিয়ার প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ জনসমুদ্র ছাড়াই ঘুরে দেখার সুযোগ দেয়।

এই বছরের ভ্রমণ গাইডে আমরা এমন জায়গাগুলো তুলে ধরেছি, যেখানে অসাধারণ অভিজ্ঞতার সঙ্গে ট্যুরিজম স্থানীয় কমিউনিটি, পরিবেশ এবং সংস্কৃতির রক্ষায় সাহায্য করছে। তালিকা তৈরিতে আমরা বিশ্বস্ত সাংবাদিক, ট্যুরিজম বিশেষজ্ঞ এবং সাস্টেনেবল ট্র্যাভেলের নেতৃত্বদানকারী অভিজ্ঞদের পরামর্শ নিয়েছি।

আবুধাবি
কেন যাবেন: নতুন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও থিম পার্ক অভিজ্ঞতার জন্য

মরুভূমির বাতাসে এক উত্তেজনার ঢেউ। লুভর আবু ধাবি খোলার পর, শহরের সাদিয়াত কালচারাল জেলা ধাপে ধাপে নতুন রূপ নিচ্ছে। বিশ্বের বৃহত্তম ডিজিটাল আর্ট মিউজিয়াম, টিমল্যাব ফেনোমেনা, এবং জায়েদ ন্যাশনাল মিউজিয়াম দর্শকদের জন্য খুলেছে। এখানে আবু ধাবির ইতিহাস, ইসলামিক প্রভাব এবং দেশের প্রতিষ্ঠাতার ভিশন দেখতে পারবেন।

মিউজিয়ামের বাইরে, আবুধাবি থিম পার্কেও এগিয়ে যাচ্ছে। ইয়াস আইল্যান্ডে ওয়ানার ব্রোস ওয়ার্ল্ড এবং ইয়াস ওয়াটারওয়ার্ল্ডে নতুন রাইড ও বিনোদন যোগ হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম ডিজনিল্যান্ডও এখানে আসছে।

আলজেরিয়া
কেন যাবেন: রোমান ধ্বংসাবশেষ, মরুভূমি এবং সাংস্কৃতিক রক্ষণাবেক্ষণ

রোমান ধ্বংসাবশেষ, বিস্ময়কর মরুভূমি এবং ঐতিহাসিক শহরগুলোতে আলজেরিয়ার অনন্য সৌন্দর্য। দেশটি পর্যটন বৃদ্ধি করতে নতুন ভিসা নীতি এবং ফ্লাইট সংযোগ চালু করেছে। আলজিয়ার্সের সৈকত শহর, কনস্টান্টিনের ইউনেস্কো সাইট এবং টিমগাদ ও জেমিলা রোমান ধ্বংসাবশেষ সহজে ঘুরে দেখার সুযোগ। সাহারা মরুভূমির দ্যুতি আর জ্যানেট শহর থেকে মরুভূমি অভিযান শুরু করা যায়।

চিলি, কলচাগুয়া ভ্যালি
কেন যাবেন: ওয়াইন, কওয়বয় এবং তারামণ্ডল

সান্তিয়াগোর দুই ঘণ্টা দক্ষিণে, চিলির কলচাগুয়া ভ্যালি ওয়াইন, ঐতিহ্যবাহী হ্যাসিয়েন্ডা এবং পাহাড়ি হাইকিং-এর জন্য বিখ্যাত। এখানে অতিথিরা ওয়াইন চেখে দেখতে পারবেন, রাত কাটাতে পারবেন আঙ্গুর ক্ষেত্রের মাঝের আধুনিক ভিলায়। ছাড়াও, রোডিও, তারামণ্ডল পর্যবেক্ষণ এবং স্থানীয় বাজার ও উপকণ্ঠের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করার সুযোগ রয়েছে।

কুক দ্বীপপুঞ্জ
কেন যাবেন: শান্ত ও স্বচ্ছ নীল লেগুনের প্যারাডাইস

রারোটোঙ্গা, বৃহত্তম দ্বীপ, দক্ষিণ প্রশান্তির স্বপ্নের মতো। এছাড়াও, ১৩টি ছোট দ্বীপে প্রায় স্বতন্ত্রভাবে ঘুরে দেখা যায়। নতুন পরিবেশগত উদ্যোগ এবং সংস্কৃতিক সংরক্ষণ কার্যক্রম ২০২৬ সালে আরও শক্তিশালী হবে।

কোস্টারিকা
কেন যাবেন: পৃথিবীর সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় বায়োস্ফিয়ার হটস্পট

রেইনফরেস্ট, সৈকত, প্যাসিফিক এবং বিপুল জীববৈচিত্র্য—সবই এক জায়গায়। ২০২৬ সালে স্থানীয় সংস্থা ও ন্যাশনাল পার্টনাররা সুরক্ষিত এলাকা বৃদ্ধি করবে এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক ইকো-ট্যুরিজমকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।

স্কটল্যান্ড, হেব্রাইডিস
কেন যাবেন: প্রাচীন স্মারক, হোয়াইট-স্যান্ড সৈকত এবং স্কটিশ আতিথেয়তা

লুইস, বারারা এবং আইলেই-এর দ্বীপগুলো প্রাচীন স্থাপত্য, নতুন হুইস্কি ডিস্টিলারি এবং শান্ত সৈকতের জন্য বিখ্যাত। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন এই দ্বীপগুলোকে অনন্য করে তোলে।

জাপান, ইশিকাও
কেন যাবেন: ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প ও সাকের জন্য

নোটো উপদ্বীপে ২০২৪ সালের ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পুনর্নির্মাণের পথে। স্থানীয় হস্তশিল্প ও পরিবার-নির্বাহিত ইন্সে থাকার মাধ্যমে ভ্রমণকারীরা কমিউনিটি ও সংস্কৃতি রক্ষায় সাহায্য করতে পারেন।

ইন্দোনেশিয়া, কমোডো দ্বীপপুঞ্জ
কেন যাবেন: প্রাগৈতিহাসিক প্রাণী, প্রবাল রিফ এবং সংরক্ষণ

কমোডো ড্রাগন, মন্টা রে এবং প্রবাল উদ্যানের সঙ্গে এক অনন্য অভিজ্ঞতা। সঠিক নিয়ন্ত্রণ ও ইকো-লজ ব্যবস্থার মাধ্যমে স্থানীয় কমিউনিটি ও পরিবেশ সংরক্ষণে সাহায্য করা যায়।

অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গন্তব্য
লোরেতো, মেক্সিকো: বায়ু ও সমুদ্র সংরক্ষণ এবং পর্যটক অভিযানের জন্য।

মন্টেনেগ্রো: কোতার উপসাগর ও অপ্রদূষিত পাহাড়ি অঞ্চলে হাইকিং।

ওরেগন কোস্ট, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র: অসাধারণ সমুদ্র তীর এবং সাইক্লিং।

ওউলু, ফিনল্যান্ড: আর্কটিক সংস্কৃতি ও সৃজনশীল উদযাপন।

ফিলাডেলফিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র: ২৫০ বছর উদযাপন এবং খেলা।

ফ্নোম পেন, কম্বোডিয়া: নতুন বিমানবন্দর, টেকসই পর্যটন।

গুইমারায়েস, পর্তুগাল: ইউরোপীয় সবুজ রাজধানী ও ঐতিহাসিক শহর।

সামবুরু, কেনিয়া: বিরল বন্যপ্রাণী ও তারা পর্যবেক্ষণ।

সান্টো ডমিংগো, ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র: উৎসব ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা।

স্লোকান ভ্যালি, কানাডা: ইতিহাস-উদ্দেশ্যমূলক হাইকিং ট্রেইল।

উলুরু, অস্ট্রেলিয়া: প্রাচীন পবিত্র ভূমি এবং ন্যাচার ওয়ার্কশপ।

উরুগুয়ে: ফ্লামিংগো লেগুন, স্টেক এবং টেকসই পর্যটন।

২০২৬ সালে ভ্রমণ মানে শুধুই দেখার নয়—অভিজ্ঞতা, শিক্ষা এবং প্রভাব। এই গন্তব্যগুলো কেবল দর্শনের জন্য নয়, বরং স্থানীয় কমিউনিটি ও পরিবেশকে সমর্থন করার সুযোগ দেয়। চাই সেটা পাহাড়ে হাইকিং হোক বা সমুদ্রের নীল জলে শোভা, এই ভ্রমণগুলো মনে রাখার মতো এবং দায়িত্বশীল। পর্যটক হিসেবে আমাদের পদক্ষেপই এই বিশ্বের ভবিষ্যতকে সুন্দর করে তোলে।

সূত্র : BBC Travels

ফরিদপুরে মহাসড়কে গুলি চালানো সেই পিস্তল উদ্ধার, গ্রেফতার যুবক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:২৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে মহাসড়কে গুলি চালানো সেই পিস্তল উদ্ধার, গ্রেফতার যুবক

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় এক্সপ্রেসওয়েতে পথচারীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনায় ব্যবহৃত ২২ বোরের রিভলবারটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামি মো. হামিদুল গাজী (৪২) নামের ওই যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

​পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ১১ টার দিকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌরসভার সামনে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের (ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা সংলগ্ন) ওপর একটি খয়েরি রঙের প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো-গ-১৬-৩০৮৭) থামান হামিদুল গাজী। গাড়িতে তাঁর সঙ্গে শিমু আক্তার তিশা ওরফে ফাতেমা ইসলাম এনি (২৬) নামে এক নারী আরোহী ছিলেন। গাড়ি পার্কিং নিয়ে এক পথচারীর সঙ্গে তর্কাতর্কির জেরে হামিদুল গাজী গাড়িতে বসেই নিজ রিভলবার দিয়ে ওই পথচারীকে লক্ষ্য করে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়েন। পরবর্তীতে এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়।

​ঘটনাটি নজরে আসার পর ভাঙ্গা থানা পুলিশ অনুসন্ধানে নামে। অনুসন্ধানে আসামির পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর গত ১০ সেপ্টেম্বর ভাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) প্রশান্ত কুমার মন্ডল বাদী হয়ে অস্ত্র আইন ও পেনাল কোডের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা (মামলা নং-০৬) দায়ের করেন।

​পরবর্তীতে গত ১৫ সেপ্টেম্বর র‍্যাব-১-এর সহায়তায় ঢাকার বনানী এলাকা থেকে মামলার মূল আসামি হামিদুল গাজীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। একই সঙ্গে তাঁর সঙ্গে থাকা নারী আরোহী শিমু আক্তার তিশাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয় এবং ঘটনায় ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি জব্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃত হামিদুলের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় মোট ৯টি মামলা রয়েছে।

​গ্রেফতারের পর নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে হামিদুল স্বীকার করেন যে, তিনি পিস্তলটি মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ে তাঁর নিজ বাড়ির পরিত্যক্ত টয়লেটে লুকিয়ে রেখেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম লৌহজং উপজেলার গোয়ালী মান্দ্রা এলাকায় অভিযান চালিয়ে রিভলবারটি উদ্ধার করে।

​ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী জানান, ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন ও আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করতে মামলার তদন্ত কাজ এখনও চলমান রয়েছে।

ফরিদপুরে চার মণ ভেজাল কালোজিরা জব্দ, আতঙ্কে পালালো বিক্রেতা

মধুখালী প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:২৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে চার মণ ভেজাল কালোজিরা জব্দ, আতঙ্কে পালালো বিক্রেতা

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলা সদরে ভেজাল কালোজিরা বিক্রির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। কেনাবেচার সময় সন্দেহ হলে পরীক্ষা চালিয়ে ভেজালের প্রাথমিক প্রমাণ পান স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দেওয়া হলে আনুমানিক চার মণ কালোজিরা ফেলেই সটকে পড়েন কথিত এক বিক্রেতা।

​বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মধুখালী বাজারের চার রাস্তার মোড় সংলগ্ন মন্দির প্রাঙ্গণে সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে ওই কালোজিরাগুলো বিনষ্ট করেন ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা। এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আকু বিশ্বাস, মনিরুল বিশ্বাস, ইমামুল বিশ্বাস ইমাম, ইমরান হোসেন ও তৌফিক বিশ্বাসসহ বাজার কমিটির অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

​ব্যবসায়ীরা জানান, গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) হাটের দিনে কয়েকজন কথিত কৃষক কালোজিরা বিক্রি করতে মধুখালী বাজারে আসেন। তারা মধুখালী বাজার ব্যবসায়ী পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম লটাই বিশ্বাসের ভূষিমালের দোকানে এগুলো বিক্রি করতে নিয়ে যান। মান পরীক্ষা করতে গিয়ে এতে ভেজাল উপাদান মেলানোর সন্দেহ হয় লটাই বিশ্বাসের।

​তিনি কৌশলে ওই বিক্রেতাকে দোকানে বসিয়ে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি জানান। তবে পুলিশ আসার সুযোগ পেয়ে প্রায় চার মণ কালোজিরা রেখে চতুর বিক্রেতা সেখান থেকে পালিয়ে যান।

​পরবর্তীতে ভেজাল কালোজিরা বিনষ্ট করার সময় খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন মধুখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মাহবুব এলাহী এবং মধুখালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. কামরুজ্জামান।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহবুব এলাহী জানান, দৃশ্যমান পরীক্ষা-নিরীক্ষায় কালোজিরায় ভেজাল উপাদান মেশানোর প্রমাণ মিলেছে। তবে পুরোপুরি নিশ্চিত হতে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সংগৃহীত নমুনা মসলা গবেষণা কেন্দ্রে পাঠানো হবে এবং ল্যাব টেস্টের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফরিদপুরে পুত্রবধূকে ধর্ষণের দায়ে শ্বশুরের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:১৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে পুত্রবধূকে ধর্ষণের দায়ে শ্বশুরের যাবজ্জীবন

ফরিদপুরের মধুখালীতে পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে হাফিজার শেখ (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

​মামলার বিবরণ অনুযায়ী, বিয়ের পর থেকেই পুত্রবধূকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন হাফিজার শেখ। ২০২২ সালের ২৫ আগস্ট সকালে কৌশলে নিজ ঘরে ডেকে নিয়ে তিনি প্রথমবার ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের ফলে ভুক্তভোগী গর্ভবতী হয়ে পড়লে জোরপূর্বক তার গর্ভপাত করানো হয়। বিষয়টি স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির স্বজনদের জানালেও তারা কোনো সুরাহা না করায় বাধ্য হয়ে বাবার বাড়ি চলে যান ভুক্তভোগী।

​পরবর্তীতে ওই বছরের ১০ সেপ্টেম্বর মধুখালী থানায় মামলা দায়ের করেন তিনি। তদন্ত শেষে মধুখালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সৈয়দ তোফাজ্জল হোসেন আসামি হাফিজার শেখের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। দীর্ঘ সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত আজ এই রায় দেন।

​রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক এই সাজা দিয়েছেন। আদালতের এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে।