খুঁজুন
বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

হরমুজ প্রণালি কীভাবে ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্রে পরিণত হয়েছে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৪৭ পূর্বাহ্ণ
হরমুজ প্রণালি কীভাবে ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্রে পরিণত হয়েছে?

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ৪০ দিনের সংঘর্ষের পর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার হয়েছে। সেটি হলো, ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়তো তার পারমাণবিক সক্ষমতা নয়, বরং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করার ক্ষমতা।

সংঘাতের শুরুর সময় থেকে অনেকেই এই যুদ্ধকে ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টা হিসেবে দেখেছিলেন, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও নেতাদের লক্ষ্য করে ব্যাপক বোমা হামলা চালানো হয়।

এর জবাবে ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় মিত্রদের লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। তবে সংঘাত বাড়তে থাকলে ইরান তাদের কৌশল বদলে ফেলে।

তারা হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার দিকে মনোযোগ দেয়। হরমুজ প্রণালি হলো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংকীর্ণ জলপথ, যা পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করে।

বিশ্বের বড় একটি অংশের তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়েই আন্তর্জাতিক বাজারে যায়। তাই এই প্রণালির ওপর দিয়ে জাহাজ চলাচল বাধাপ্রাপ্ত হলে বিশ্ব অর্থনীতি ও রাজনীতিতে বড় প্রভাব পড়ে।

ইরানের নতুন এই কৌশলের কারণে দ্রুতই যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়।

কারণ তাদের অর্থনীতি নির্ভর করে এই প্রণালি দিয়ে অব্যাহতভাবে তেল ও গ্যাস পরিবহনের ওপর।

ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কর্মকর্তারা বুঝেছেন যে, এই গুরুত্বপূর্ণ সংকীর্ণ পথটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে প্রচলিত সামরিক সংঘাতের চেয়ে বেশি কৌশলগত সুবিধা পাওয়া যাবে।

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহকে হুমকির মুখে ফেলে ওয়াশিংটনকে তাদের কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করেছে ইরান।

শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি আলোচনার শর্ত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে এই জলপথ পুনরায় খুলে দেওয়া ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর অগ্রাধিকার দিতে হয়েছে।

ইরান নিয়মিতভাবে হুমকি দিয়ে এসেছে যে, তাদের ওপর আক্রমণ হলে তারা এই প্রণালি বন্ধ করে দেবে। তবে এর আগে কখনোই এটি পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি।

এমনকি ১৯৮০ থেকে ১৯৮৮ সালের ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময়, যখন তেলবাহী জাহাজে হামলা হয়েছিল, তখনও এই প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি।

বর্তমানে ইরানের কিছু সামরিক কমান্ডার ও কর্মকর্তারা এই প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে ভবিষ্যতে কীভাবে ব্যবহার করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করছেন।

ইরানের পার্লামেন্ট বিশেষ করে ন্যাশনাল সিকিউরিটি কমিশন ইতোমধ্যে এই প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের একটি খসড়া প্রস্তাব দিয়েছে।

ইরানের এক পার্লামেন্ট সদস্য প্রস্তাব করেছেন, প্রতি তিন ব্যারেল তেলের জন্য এক ডলার করে চার্জ আরোপ করা যেতে পারে।

বিজয়ের চিত্র

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম যুদ্ধবিরতির পর বিজয়ের একটি চিত্র তুলে ধরে।

কুয়েতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস থেকে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলী খামেনিকে নিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। যার শিরোনাম ছিলো, “যখন আল্লাহর সাহায্যে সফলতা ও বিজয় অর্জিত হয়”।

এটি ইরানের ভেতরে প্রচারিত সেই বার্তাকেই তুলে ধরে, যেখানে বলা হচ্ছে যে, দেশটি বিদেশি চাপকে সফলভাবে প্রতিরোধ করতে পেরেছে।

আইআরজিসি’র ঘনিষ্ঠ ফার্স নিউজ বলেছে, ইরানের যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনায় নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দেওয়া, আর মার্কিন সেনা প্রত্যাহার কথা বলা আছে।

ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারাও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্টের মতে এই যুদ্ধবিরতি “খামেনির মতবাদের” বিজয়। এর মাধ্যমে মূলত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিকে বোঝানো হয়েছে, যিনি যুদ্ধের শুরুর দিকে নিহত হন।

একই সময়ে, সাবেক আইআরজিসি প্রধান ও ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ি সতর্ক করে বলেন, ইরানি বাহিনী এখনো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছে এবং তাদের “আঙুল ট্রিগারে রয়েছে”। অর্থাৎ ইরানের সেনারা যেকোনো মুহূর্তে হামলার জন্য প্রস্তুত।

তবে বিজয়ের এই বয়ানের আড়ালে প্রকৃত বাস্তবতা অনেক বেশি ভঙ্গুর।

ইরানের সামরিক বাহিনী উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়েছে, এবং দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন নিষেধাজ্ঞার চাপে থাকায় দেশটির অর্থনীতি আরও খারাপ অবস্থায় পৌঁছেছে।

সংঘাত চলাকালে অন্তত ১৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যাদের অনেকের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ ছিল এবং বেশ কয়েকজনকে জানুয়ারির দেশব্যাপী বিক্ষোভ থেকে আটক হয়েছিলো।

এই পদক্ষেপগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, দেশের ভেতরে ভিন্নমত নিয়ে সরকার গভীর উদ্বেগে রয়েছে, তাই তারা আবার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।

শান্তি আলোচনার আগে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া ছিল যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রধান দাবি। কিন্তু এটি বাস্তবায়ন সহজ ছিল না বলেই মনে হচ্ছে।

বুধবার ইরান সতর্ক করে যে, রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের অনুমতি ছাড়া প্রণালি দিয়ে যেসব জাহাজ চলাচল করবে, সেগুলোকে “লক্ষ্যবস্তু করা হবে এবং ধ্বংস করা হবে”।

পরে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই “অগ্রহণযোগ্য” প্রতিবেদনের বিষয়ে জেনেছেন, তবে তিনি বলেন, গোপনে বা ব্যক্তিগতভাবে যা বলা হয়েছে, তার সঙ্গে এসব কথা মিলছে না।

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ খাতিবজাদেহ বৃহস্পতিবার বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেন সবাই নিরাপদে চলাচল করতে পারে সেই “নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে” ইরান।

তিনি বলেন, এই প্রণালি হাজার বছর ধরে উন্মুক্ত ছিল, যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হয়।

তবে তিনি বলেন, এই প্রণালি পুনরায় তখনই খুলে দেওয়া হবে, “যখন যুক্তরাষ্ট্র প্রকৃতপক্ষে এই আগ্রাসন বন্ধ করবে,” যা সম্ভবত লেবাননে ইসরায়েলের হামলার দিকে ইঙ্গিত করে।

খাতিবজাদে আরো বলেন, ইরান “আন্তর্জাতিক নীতি ও আন্তর্জাতিক আইন” মেনে চলবে, তবে তার মতে, এই প্রণালি আন্তর্জাতিক জলসীমার অন্তর্ভুক্ত নয় এবং নিরাপদ চলাচল “ইরান ও ওমানের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করে”।

প্রণালিটি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন এবং জাতিসংঘের সমুদ্র আইন সনদ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, যার লক্ষ্য বেসামরিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

বিপজ্জনক নজির

তাহলে ইরান এখন পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে কী করতে পারে?

ইরানের পার্লামেন্টে প্রণালি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যে প্রস্তাবটি তোলা হয়েছে, তাতে মোট নয়টি ধারা রয়েছে।

এর একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারায় বলা হয়েছে, “শত্রুপক্ষের জাহাজগুলোকে এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে দেওয়া হবে না”।

বিকল্প হিসেবে, ইরান নিজেই জাহাজ চলাচলের সব সেবা দেওয়ার কথা জানিয়েছে।

ইরান বলেছে, এই পথে জাহাজ চালাতে হলে কোম্পানিগুলোকে সেই বাবদ অর্থ ইরানের মুদ্রায় পরিশোধ করতে হবে, ইরানের কোনো একটি ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট রাখতে হবে, আর জাহাজগুলো কী ধরণের মালামাল বহন করছে তা জানাতে হবে।

এটি একটি অত্যন্ত জটিল প্রস্তাব এবং এখনো এ বিষয়ে ভোটগ্রহণ হয়নি।

যদি ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর শুল্ক আরোপ করে, তাহলে মূল প্রশ্ন হবে, যুক্তরাষ্ট্র এবং তার পশ্চিমা ও আঞ্চলিক মিত্ররা এই পদক্ষেপ মেনে নেবে কি না।

সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়া বোঝা যাচ্ছে, এর বিরুদ্ধে অনেক বিরোধিতা থাকবে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্ররা মনে করে সমুদ্রে স্বাধীনভাবে চলাচল করা তাদের একটি মৌলিক নীতি।

তাই এমন কোনো শুল্ক আরোপ হলে সেটা একটা বিপজ্জনক নজির স্থাপন করবে বলে মনে করা হবে।

যদি ইরান এতে সফল হয়, তাহলে একে একটি বড় কৌশলগত এবং প্রতীকী বিজয় হিসেবে দেখা হবে, যা প্রমাণ করবে যে তারা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম।

তবে এখানেও অনেক বড় ঝুঁকিও আছে। এ ধরনের পদক্ষেপ উল্টো ফল দিতে পারে।

এতে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ, নেটোর সদস্য দেশ এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলো একজোট হয়ে ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারে এবং তারা ইরানের বিরুদ্ধে সমন্বিত হয়ে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক, এমনকি সামরিক পদক্ষেপও নিতে পারে।

সূত্র : বিবিসি

ফরিদপুরে চুরি করতে গিয়ে ধরা, খুঁটিতে বেঁধে ন্যাড়া করে চোরকে রাস্তায় ঘোরালো গ্রামবাসী

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৯:১৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে চুরি করতে গিয়ে ধরা, খুঁটিতে বেঁধে ন্যাড়া করে চোরকে রাস্তায় ঘোরালো গ্রামবাসী

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় প্রবাসীর বাড়িতে পানির মটর চুরি করতে গিয়ে গ্রামবাসীর হাতে আটক হয়েছেন এক যুবক। পরে তাকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে মাথা ন্যাড়া করে এলাকায় ঘোরানো হয়।

মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের খামিনারবাগ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত যুবকের নাম ফয়েজ শিকদার (৩০)। তিনি ওই গ্রামের হাবি শিকদারের ছেলে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে সাইপ্রাস প্রবাসী রিপন মোল্লার বাড়িতে থাকা পানির মটর চুরির চেষ্টা করেন ফয়েজ। এসময় বাড়ির লোকজনের চিৎকারে আশপাশের মানুষ ছুটে এসে তাকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে উত্তেজিত গ্রামবাসী তাকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে রাখে। একপর্যায়ে তার মাথা ন্যাড়া করে গ্রামের বিভিন্ন সড়কে ঘুরানো হয়।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের এলাকা থেকে উৎসুক মানুষ সেখানে ভিড় জমায়। অনেকেই মোবাইল ফোনে ঘটনার ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন।

গ্রামবাসীর দাবি, ফয়েজ শিকদার দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চুরির সঙ্গে জড়িত। এর আগেও একাধিকবার বিভিন্ন বাড়িতে চুরি করতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়েছিলেন। বিশেষ করে গভীর রাতে বাড়িঘরে ঢুকে পানির মটর, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য মালামাল চুরির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, “ঘটনার বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ভ্যানচালককে মারধরের জেরে সালথায় দু’পক্ষের সংঘর্ষ: আহত ১০, বাড়িঘর ভাংচুর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৬:১৫ অপরাহ্ণ
ভ্যানচালককে মারধরের জেরে সালথায় দু’পক্ষের সংঘর্ষ: আহত ১০, বাড়িঘর ভাংচুর

ফরিদপুরের সালথায় ভ্যানচালককে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের ১০ থেকে ১৫টি বাড়িঘর ভাংচুর করা হয়। এছাড়া একটি খড়ির গাদা ও একটি ট্রলিতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেলে উপজেলার সিংহপ্রতাপ গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, উপজেলার সিংহপ্রতাপ এলাকার বাসিন্দা ও ভ্যানচালক বাবু তালুকদারকে (২২) কাউলিকান্দা স্ট্যান্ড এলাকায় গেলে তাকে মারধর করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাউলিকান্দা এলাকার হাবিবুর রহমানের পক্ষের সঙ্গে ইব্রাহিম মোল্যা ও রফিক মাতুব্বর সমর্থিত গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এসময় বেশ কয়েকটি বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর চালানো হয়। এসময় একটি খড়ির গাদা ও একটি ট্রলিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হলে এলাকায় ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা চালান।

আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ফরিদপুরের বিভিন্ন ক্লিনিকে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। ভ্যানচালক বাবু তালুকদারকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেই বিরোধ নতুন করে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, “সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।”

তিনি আরও জানান, ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

‘যেখানে পাখির গান থামে না, ছায়া দেয় শত বছরের বটগাছ’

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৪:০৮ অপরাহ্ণ
‘যেখানে পাখির গান থামে না, ছায়া দেয় শত বছরের বটগাছ’

ফরিদপুরের সালথা উপজেলা-এর আটঘর ইউনিয়নের নিভৃত এক জনপদ খোয়াড় গ্রাম। ব্যস্ত শহরের কোলাহল থেকে অনেক দূরে, সবুজে ঘেরা এই গ্রাম যেন প্রকৃতির এক শান্ত আশ্রয়স্থল। গ্রামের প্রবেশমুখেই চোখে পড়ে শতবর্ষী এক বিশাল বটগাছ, যা শুধু একটি গাছ নয়—এলাকার মানুষের ইতিহাস, ঐতিহ্য আর আবেগের জীবন্ত সাক্ষী। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে দাঁড়িয়ে থাকা এই বটগাছ যেন সময়ের নীরব গল্পকথক হয়ে আজও মাথা উঁচু করে আছে।

বটগাছটির বিশাল ডালপালা চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে ছাতার মতো। ঝুলে থাকা অসংখ্য শিকড় মাটির সঙ্গে মিশে তৈরি করেছে এক অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, প্রকৃতি নিজের হাতে যেন একটি জীবন্ত ভাস্কর্য তৈরি করেছে। গাছটির নিচে দাঁড়ালেই মন ভরে যায় শীতল ছায়া আর নির্মল বাতাসে। দিনের প্রখর রোদেও এখানে পাওয়া যায় এক অন্যরকম প্রশান্তি।

ভোর হতেই বটগাছের চারপাশ মুখর হয়ে ওঠে পাখির কলকাকলিতে। শালিক, দোয়েল, কোকিল আর নানা নাম না জানা পাখির ডাকে গ্রামের সকাল যেন আরও জীবন্ত হয়ে ওঠে। গাছের ডালে ডালে পাখিদের ছোটাছুটি আর কিচিরমিচির শব্দ প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক অপার মুগ্ধতা তৈরি করে। সন্ধ্যা নামলে আবার পাখিরা ফিরে আসে তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে। তখন পুরো পরিবেশজুড়ে তৈরি হয় এক অন্যরকম আবেগঘন দৃশ্য।

এই বটগাছ শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন জীবনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মাঠে কাজ করতে যাওয়া কৃষকরা দুপুরের ক্লান্ত সময়ে এসে বসেন গাছটির ছায়ায়। কেউ বিশ্রাম নেন, কেউ গল্পে মেতে ওঠেন, আবার কেউ একটু জিরিয়ে নিয়ে নতুন উদ্যমে কাজে ফিরে যান। গ্রামের প্রবীণদের কাছেও এটি স্মৃতির এক অমূল্য জায়গা। অনেকে বলেন, ছোটবেলায় তারা এই গাছের নিচেই খেলাধুলা করেছেন, আড্ডা দিয়েছেন, এমনকি গ্রামের নানা সামাজিক বিচার-আচারও একসময় এই গাছতলাতেই বসত।

বর্ষাকালে বটগাছটির চারপাশ আরও মনোমুগ্ধকর হয়ে ওঠে। বৃষ্টিতে ধুয়ে যাওয়া সবুজ পাতাগুলো তখন আরও সতেজ দেখায়। শীতের কুয়াশামাখা সকালেও গাছটি যেন রহস্যময় সৌন্দর্যে দাঁড়িয়ে থাকে গ্রামের বুকজুড়ে। প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের যে নিবিড় সম্পর্ক, এই বটগাছ তারই এক উজ্জ্বল প্রতীক।

স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই শতবর্ষী বটগাছ খোয়াড় গ্রামের ঐতিহ্য ও পরিচয়ের অংশ হয়ে গেছে। তাই গাছটিকে ঘিরে রয়েছে মানুষের গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা। আধুনিকতার ছোঁয়ায় যখন গ্রামবাংলার অনেক পুরোনো নিদর্শন হারিয়ে যাচ্ছে, তখনও খোয়াড় গ্রামের এই বটগাছ অতীত ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রেখে নতুন প্রজন্মকে শেকড়ের গল্প শোনাচ্ছে নীরবে।

লেখক: সংবাদকর্মী, ফরিদপুর।