খুঁজুন
, ,

ট্রাম্প অপশক্তির এক বাস্তব রূপ

তহমিনা মিলি
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৫৮ পূর্বাহ্ণ
ট্রাম্প অপশক্তির এক বাস্তব রূপ

কয়েক সপ্তাহ ধরে আমার মনে নানা ধরনের বিচিত্র ছবি ভেসে উঠছে। কিছু পুরোনো সিনেমার চরিত্র, যা শৈশবে দেখেছিলাম। কিছু সাহিত্য বা বিখ্যাত শিল্পকর্মের অংশ। এগুলোর মধ্যে একটি মিল আছে, সেগুলোয় অতিরঞ্জিত, প্রায় অস্বাভাবিক এক ধরনের অশুভ তৎপরতা দেখা যায়।

এ ছবিগুলো যেন বাস্তবের ভয়াবহ দৃশ্যগুলোকে বোঝার চেষ্টা করছে। গাজায় ধ্বংসস্তূপ থেকে টেনে বের করা মৃতদেহ, ইরানে একটি স্কুলে বোমা হামলায় নিহত শিশুদের ছবি, দক্ষিণ লেবাননে লাখো মানুষের ঘরছাড়া হওয়া। মনে পড়ে যায় এক চলচ্চিত্রের দৃশ্য, যেখানে একজনকে চোখ খোলা রেখে জোর করে সবকিছু দেখানো হচ্ছে, সে চোখ বন্ধ করতে পারছে না।

সবচেয়ে বিভ্রান্তিকর বিষয় হলো, এ নির্মমতা কত সহজে ঘটছে, যেন এটি স্বাভাবিক হয়ে গেছে। এ মৃত্যু ও বিশৃঙ্খলার মাঝে ডোনাল্ড ট্রাম্প যেন এক ধরনের নিয়ন্ত্রণহীন উপস্থিতি। তাকে এমন এক চরিত্রের মতো মনে হয়, যে খেলা শুরু করতে চায়; কিন্তু তার পরিণতি নিয়ে ভাবে না।

ট্রাম্পের আচরণকে কোনো নির্দিষ্ট কৌশল বা পরিকল্পনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা কঠিন। তার সিদ্ধান্তে নিরীহ মানুষের মৃত্যু এবং পুরো সভ্যতাকে হুমকি দেওয়ার মতো বক্তব্য বিশ্বকে বদলে দিচ্ছে। কিন্তু এর পেছনে কোনো সুপরিকল্পিত চিন্তা নেই। তার কাজগুলো অনেক সময় হঠাৎ আবেগ ও ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে আসে।

অনেকে মনে করেন, ট্রাম্পের এই স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গির অভাব তাকে আগের স্বৈরশাসকদের মতো বিপজ্জনক করে তোলে না। কারণ অতীতে যারা ক্ষমতায় ছিল, তারা পরিকল্পিতভাবে কাজ করত। যেমন কেউ কেউ বলেন, কাউকে ফ্যাসিস্ট বলতে হলে তার সেই উদ্দেশ্য থাকতে হবে। তাদের মতে, ট্রাম্প অদক্ষ, অস্থির এবং অনেক সময় বিভ্রান্তিকর, কিন্তু তাকে ফ্যাসিস্ট বলা যায় না।

ট্রাম্প ফ্যাসিবাদের প্রচলিত ধরনও অনুসরণ করেন না। তিনি বড় বড় সমাবেশ করেন না, ইউনিফর্ম পরেন না বা বারান্দা থেকে উত্তেজনামূলক ভাষণ দেন না। তিনি এখনো পুরোপুরি সংবিধান ভেঙে ফেলেননি বা গণতন্ত্র ধ্বংস করেননি। তাকে অনেক সময় এক ধরনের অদ্ভুত, হাস্যকর চরিত্র মনে হয়, যার ভেতরের ভাবনা তার সামাজিক মাধ্যমে রাগী পোস্ট বা এলোমেলো বক্তৃতায় প্রকাশ পায়। তিনি ইরান যুদ্ধ নিয়ে কথা বলেন বিশাল এক ইস্টার খরগোশের পাশে দাঁড়িয়ে, আবার নিজেকে যিশুর মতো দেখিয়ে ছবি পোস্ট করেন। অনেক সময় বলা হয়, তিনি শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে যান। যেন এমন এক চরিত্র, যে প্রথমে তাড়া করে, পরে প্রতিপক্ষ শক্তিশালী হলে সরে যায়।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, মন্দ কি আসলে এমনই নয়? বড় কোনো পরিকল্পনা নয়, বরং ছোট মানসিকতা ও ভয়ের প্রতিফলন। সহিংসতার ফল নয়, বরং তা প্রয়োগ করার মধ্যেই যে সন্তুষ্টি পাওয়া যায় সেটাই এখানে মুখ্য। ট্রাম্পের নিজের প্রশংসা করা, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের প্রতি ক্ষোভ, গণমাধ্যমের সমালোচনায় রাগ, ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি, সবকিছুই যেন এক ধরনের অপমানবোধ ও অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাওয়ার ভয় থেকে মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা।

এ ছোট মানসিকতার মধ্যেই এক ধরনের সীমাহীন অশুভ উদ্দেশ্য লুকিয়ে থাকে। ১৯৩১ সালে, অ্যাডলফ হিটলারের নাৎসি পার্টি জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর এক মার্কিন সাংবাদিক তার সাক্ষাৎকার নেন। তিনি পরে লেখেন, প্রথমে মনে হয়েছিল তিনি জার্মানির ভবিষ্যৎ স্বৈরশাসকের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন। কিন্তু খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তার মনে হয়, এ মানুষটি আসলে খুবই তুচ্ছ এবং গুরুত্বহীন।

আরেক সাংবাদিক বেনিতো মুসোলিনিকে বর্ণনা করতে গিয়ে লিখেছিলেন, তার ভঙ্গিমা, অঙ্গভঙ্গি এবং ভাষণ অনেক সময় হাস্যকর মনে হতো। কিন্তু এই হাস্যকর দিকটি তাকে কম বিপজ্জনক করে তোলে না। কারণ কোনো কিছু মজার বা অদ্ভুত মনে হলেও, সেটি যে বিপজ্জনক নয়, এমনটা ভাবা ভুল।

আমরা সাধারণত ইতিহাসের ঘটনাগুলোকে অনেক বেশি গুরুতর ও সুসংগঠিত হিসেবে দেখি, যা বর্তমান সময়ের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে পারি না। এর কারণ হলো, মানুষের পক্ষে হাস্যকর বা অদ্ভুত রূপে প্রকাশ পাওয়া মন্দকে চিনতে কঠিন লাগে। এভাবেই তা ধীরে ধীরে আমাদের সামনে আসে। তাই আমরা পরে অবাক হয়ে ভাবি, অতীতে এত বড় অপরাধ কীভাবে ঘটতে পারল। আসলে মন্দ খুব কমই স্পষ্ট খলনায়কের রূপ নিয়ে আসে। এটি আসে ভাঙা মানুষের রূপে, যাদের শক্তি থাকে নিজেদের পূর্ণ করার এক অদম্য ইচ্ছায়, পরিণতি যাই হোক না কেন। ট্রাম্পের অদ্ভুত আচরণের পাশাপাশি এ বাস্তবতাও আছে যে, তার হাতে রয়েছে পারমাণবিক ধ্বংসের ক্ষমতা এবং সংঘাত বাড়ানোর প্রবল প্রবণতা।

মন্দের ভেতরে থাকে হালকাভাব, উদাসীনতা এবং ভঙ্গুরতা, আবার একই সঙ্গে থাকে নির্মমতা ও বিরামহীন আগ্রাসন। মনে পড়ে একটি সিনেমার কথা। সেখানে দেখানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রে এমন একটি আইন করা হয়েছে, যেখানে বছরে এক দিন সব অপরাধ বৈধ। এর উদ্দেশ্য মানুষের ভেতরের ক্ষোভ ও অন্ধকার বের করে দেওয়া, যাতে বছরের বাকি সময় শান্ত থাকে। কিন্তু সেখানে মানুষ শুধু অপরাধ করেই থেমে থাকে না। তারা নানা পোশাক পরে, মুখোশ ব্যবহার করে, গান বাজায় এবং যেন এক ধরনের উৎসবের মতো করে এই সহিংসতা উপভোগ করে।

এই গল্পটি দেখায়, অপরাধ শুধু কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, এর সঙ্গে থাকে এক ধরনের প্রদর্শন। মানুষ যখন বড় অপরাধ করে, তখন সেটিকে তুচ্ছভাবে উপস্থাপন করার মধ্যেই তারা এক ধরনের শক্তি অনুভব করে। কাজটি যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে সেই স্বাধীনতা বা অনুমতি। শুধু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কঠোর পদক্ষেপ নয়, সেটিকে উদযাপনের মতো করে উপস্থাপন করাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এ ধরনের উল্লসিত নিষ্ঠুরতার সামনে কাউকে খুশি করার চেষ্টা বা মজা নেওয়া কোনো সমাধান নয়। এটিকে ছোট করে দেখা বা বলা যে, এতে কোনো আদর্শ বা কৌশল নেই, তাই এটি নিয়ন্ত্রণ করা সহজ, এমন ধারণাও ভুল। দেশের ভেতরে ও বাইরে যে নির্মমতা ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ছে, তা থামাতে হলে শক্তভাবে এবং দ্রুত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। নইলে এটি সবকিছু গ্রাস করে ফেলবে।

লেখক: দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকার কলামিস্ট। গার্ডিয়ানে প্রকাশিত নিবন্ধটি ভাষান্তর করেছেন তহমিনা মিলি

গণরায় নিয়ে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে: জামায়াত আমীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:০৫ অপরাহ্ণ
গণরায় নিয়ে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে: জামায়াত আমীর

জামায়াতে ইসলামী ও ১১-দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চের ৭ দফা দাবিতে আয়োজিত পথসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “গণরায় নিয়ে সরকার জনগণের সঙ্গে চরম প্রতারণা করেছে। জনগণের সেই রায় ও অধিকার বাস্তবায়নের জন্যই আজ আমরা রাজপথে নেমেছি।”

​তিনি আরও বলেন, “আমরা জনগণের চূড়ান্ত মুক্তির জন্য মাঠে নেমেছি। বর্তমানে সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। আমরা একটি বৈষম্যহীন ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে চাই। এ লড়াই মূলত আমাদের অধিকার ও মুক্তির লড়াই।”

​শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌরসভার সামনে লংমার্চের অংশ হিসেবে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

​এর আগে সকালে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ ফটক থেকে সংক্ষিপ্ত উদ্বোধনী সমাবেশের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী ও ১১-দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ে ঢাকা থেকে খুলনা-কুষ্টিয়া অভিমুখে এই রোডমার্চ কর্মসূচির সূচনা হয়।

​সংক্ষিপ্ত সভা শেষে শতাধিক গাড়ির বহর নিয়ে লংমার্চটি ঢাকা থেকে মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে এবং মাদারীপুর-শরীয়তপুর সীমানা অতিক্রম করে ভাঙ্গায় এসে পৌঁছায়। সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষে গাড়িবহরটি খুলনা বিভাগের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

​লংমার্চের আয়োজকরা জানান, দিনব্যাপী এ কর্মসূচির যাত্রাপথে মাওয়ার নাওডোবা, বাগেরহাটের কাটাখালী, খুলনার বাবরী চত্বর ও স্বাধীনতা চত্বরে ধারাবাহিক পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তীতে লংমার্চের বহরটি যশোরের মুড়লি মোড় এবং ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আয়োজিত পথসভায় মিলিত হবে।

​লংমার্চের শেষ পর্যায়ে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে এক বিশাল সমাপনী মহাসমাবেশের মধ্য দিয়ে এই দূরপাল্লার কর্মসূচি শেষ হবে।

​এদিকে লংমার্চকে কেন্দ্র করে যাত্রাপথে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানা গেছে।

ফরিদপুরে কৌশিক সাহা জিতু হত্যার বিচারের দাবি

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে কৌশিক সাহা জিতু হত্যার বিচারের দাবি

ফরিদপুর শহরের সিংপাড়া নিবাসী কৌশিক সাহা জিতু হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করে বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ ফরিদপুর জেলা, সদর উপজেলা ও পৌর শাখা।

​ফরিদপুর পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সহ-সভাপতি তাপস কুমার সাহার সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিধান কুমার সাহা, সহ-সভাপতি ননী গোপাল বিশ্বাস ও সুকেশ কুমার সাহা, দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট তুষার কুমার দত্ত, সদর উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি সিতাংশু মিত্র কিংকর, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট চিরঞ্জীব রায়, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিশ্বনাথ সরকার স্বাধীন এবং চন্দ্রা দেবনাথ।

​এ সময় পৌর পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি রাম দত্ত, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের জেলা কমিটির সদস্যসচিব সুব্রত রবিদাসসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

​মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কৌশিক সাহা জিতুর অকাল মৃত্যুতে তাঁর পরিবার অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পুরো ফরিদপুরজুড়ে তীব্র শোক, ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

​বক্তারা অবিলম্বে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং আইনানুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের জন্য জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

ফরিদপুরে হামে আক্রান্ত ৭ হাজার ছাড়াল, মৃত্যু ২২

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে হামে আক্রান্ত ৭ হাজার ছাড়াল, মৃত্যু ২২

ফরিদপুরে হামের সংক্রমণ থামছেই না। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ৪২ জনের শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় সন্দেহভাজন হামের মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৩২৩ জনে এবং মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২ জনে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

​শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

​প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ১৪ জন এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৮ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে দুই হাসপাতালে মোট ১১৮ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে জেনারেল হাসপাতালে ৪০ জন এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭৮ জন রোগী ভর্তি আছেন।

​গত ২৪ ঘণ্টায় দুই হাসপাতাল থেকে ৪৭ জন রোগী সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ৭ হাজার ৫২ জন রোগী ছাড়পত্র পেয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

​উপজেলাভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় বোয়ালমারীতে ২৮, ভাঙ্গায় ১২, চরভদ্রাসনে ১৭, নগরকান্দায় ২, মধুখালীতে ৬, সদরপুরে ১৪, সালথায় ২৩ এবং ফরিদপুর সদরে ৫ জনের হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে।

​এদিকে, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৯২৬ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন এবং হামে আক্রান্ত হয়ে ২২ জনের মৃত্যুর তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, জেনারেল হাসপাতালে শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ২৬৫ জন।

​স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন শনাক্ত হওয়া ৪২ জনের মধ্যে ফরিদপুর জেলার স্থায়ী বাসিন্দা ৩০ জন এবং অন্যান্য জেলার ১২ জন রয়েছেন।