খুঁজুন
, ,

ট্রাম্প অপশক্তির এক বাস্তব রূপ

তহমিনা মিলি
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৫৮ পূর্বাহ্ণ
ট্রাম্প অপশক্তির এক বাস্তব রূপ

কয়েক সপ্তাহ ধরে আমার মনে নানা ধরনের বিচিত্র ছবি ভেসে উঠছে। কিছু পুরোনো সিনেমার চরিত্র, যা শৈশবে দেখেছিলাম। কিছু সাহিত্য বা বিখ্যাত শিল্পকর্মের অংশ। এগুলোর মধ্যে একটি মিল আছে, সেগুলোয় অতিরঞ্জিত, প্রায় অস্বাভাবিক এক ধরনের অশুভ তৎপরতা দেখা যায়।

এ ছবিগুলো যেন বাস্তবের ভয়াবহ দৃশ্যগুলোকে বোঝার চেষ্টা করছে। গাজায় ধ্বংসস্তূপ থেকে টেনে বের করা মৃতদেহ, ইরানে একটি স্কুলে বোমা হামলায় নিহত শিশুদের ছবি, দক্ষিণ লেবাননে লাখো মানুষের ঘরছাড়া হওয়া। মনে পড়ে যায় এক চলচ্চিত্রের দৃশ্য, যেখানে একজনকে চোখ খোলা রেখে জোর করে সবকিছু দেখানো হচ্ছে, সে চোখ বন্ধ করতে পারছে না।

সবচেয়ে বিভ্রান্তিকর বিষয় হলো, এ নির্মমতা কত সহজে ঘটছে, যেন এটি স্বাভাবিক হয়ে গেছে। এ মৃত্যু ও বিশৃঙ্খলার মাঝে ডোনাল্ড ট্রাম্প যেন এক ধরনের নিয়ন্ত্রণহীন উপস্থিতি। তাকে এমন এক চরিত্রের মতো মনে হয়, যে খেলা শুরু করতে চায়; কিন্তু তার পরিণতি নিয়ে ভাবে না।

ট্রাম্পের আচরণকে কোনো নির্দিষ্ট কৌশল বা পরিকল্পনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা কঠিন। তার সিদ্ধান্তে নিরীহ মানুষের মৃত্যু এবং পুরো সভ্যতাকে হুমকি দেওয়ার মতো বক্তব্য বিশ্বকে বদলে দিচ্ছে। কিন্তু এর পেছনে কোনো সুপরিকল্পিত চিন্তা নেই। তার কাজগুলো অনেক সময় হঠাৎ আবেগ ও ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে আসে।

অনেকে মনে করেন, ট্রাম্পের এই স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গির অভাব তাকে আগের স্বৈরশাসকদের মতো বিপজ্জনক করে তোলে না। কারণ অতীতে যারা ক্ষমতায় ছিল, তারা পরিকল্পিতভাবে কাজ করত। যেমন কেউ কেউ বলেন, কাউকে ফ্যাসিস্ট বলতে হলে তার সেই উদ্দেশ্য থাকতে হবে। তাদের মতে, ট্রাম্প অদক্ষ, অস্থির এবং অনেক সময় বিভ্রান্তিকর, কিন্তু তাকে ফ্যাসিস্ট বলা যায় না।

ট্রাম্প ফ্যাসিবাদের প্রচলিত ধরনও অনুসরণ করেন না। তিনি বড় বড় সমাবেশ করেন না, ইউনিফর্ম পরেন না বা বারান্দা থেকে উত্তেজনামূলক ভাষণ দেন না। তিনি এখনো পুরোপুরি সংবিধান ভেঙে ফেলেননি বা গণতন্ত্র ধ্বংস করেননি। তাকে অনেক সময় এক ধরনের অদ্ভুত, হাস্যকর চরিত্র মনে হয়, যার ভেতরের ভাবনা তার সামাজিক মাধ্যমে রাগী পোস্ট বা এলোমেলো বক্তৃতায় প্রকাশ পায়। তিনি ইরান যুদ্ধ নিয়ে কথা বলেন বিশাল এক ইস্টার খরগোশের পাশে দাঁড়িয়ে, আবার নিজেকে যিশুর মতো দেখিয়ে ছবি পোস্ট করেন। অনেক সময় বলা হয়, তিনি শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে যান। যেন এমন এক চরিত্র, যে প্রথমে তাড়া করে, পরে প্রতিপক্ষ শক্তিশালী হলে সরে যায়।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, মন্দ কি আসলে এমনই নয়? বড় কোনো পরিকল্পনা নয়, বরং ছোট মানসিকতা ও ভয়ের প্রতিফলন। সহিংসতার ফল নয়, বরং তা প্রয়োগ করার মধ্যেই যে সন্তুষ্টি পাওয়া যায় সেটাই এখানে মুখ্য। ট্রাম্পের নিজের প্রশংসা করা, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের প্রতি ক্ষোভ, গণমাধ্যমের সমালোচনায় রাগ, ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি, সবকিছুই যেন এক ধরনের অপমানবোধ ও অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাওয়ার ভয় থেকে মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা।

এ ছোট মানসিকতার মধ্যেই এক ধরনের সীমাহীন অশুভ উদ্দেশ্য লুকিয়ে থাকে। ১৯৩১ সালে, অ্যাডলফ হিটলারের নাৎসি পার্টি জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর এক মার্কিন সাংবাদিক তার সাক্ষাৎকার নেন। তিনি পরে লেখেন, প্রথমে মনে হয়েছিল তিনি জার্মানির ভবিষ্যৎ স্বৈরশাসকের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন। কিন্তু খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তার মনে হয়, এ মানুষটি আসলে খুবই তুচ্ছ এবং গুরুত্বহীন।

আরেক সাংবাদিক বেনিতো মুসোলিনিকে বর্ণনা করতে গিয়ে লিখেছিলেন, তার ভঙ্গিমা, অঙ্গভঙ্গি এবং ভাষণ অনেক সময় হাস্যকর মনে হতো। কিন্তু এই হাস্যকর দিকটি তাকে কম বিপজ্জনক করে তোলে না। কারণ কোনো কিছু মজার বা অদ্ভুত মনে হলেও, সেটি যে বিপজ্জনক নয়, এমনটা ভাবা ভুল।

আমরা সাধারণত ইতিহাসের ঘটনাগুলোকে অনেক বেশি গুরুতর ও সুসংগঠিত হিসেবে দেখি, যা বর্তমান সময়ের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে পারি না। এর কারণ হলো, মানুষের পক্ষে হাস্যকর বা অদ্ভুত রূপে প্রকাশ পাওয়া মন্দকে চিনতে কঠিন লাগে। এভাবেই তা ধীরে ধীরে আমাদের সামনে আসে। তাই আমরা পরে অবাক হয়ে ভাবি, অতীতে এত বড় অপরাধ কীভাবে ঘটতে পারল। আসলে মন্দ খুব কমই স্পষ্ট খলনায়কের রূপ নিয়ে আসে। এটি আসে ভাঙা মানুষের রূপে, যাদের শক্তি থাকে নিজেদের পূর্ণ করার এক অদম্য ইচ্ছায়, পরিণতি যাই হোক না কেন। ট্রাম্পের অদ্ভুত আচরণের পাশাপাশি এ বাস্তবতাও আছে যে, তার হাতে রয়েছে পারমাণবিক ধ্বংসের ক্ষমতা এবং সংঘাত বাড়ানোর প্রবল প্রবণতা।

মন্দের ভেতরে থাকে হালকাভাব, উদাসীনতা এবং ভঙ্গুরতা, আবার একই সঙ্গে থাকে নির্মমতা ও বিরামহীন আগ্রাসন। মনে পড়ে একটি সিনেমার কথা। সেখানে দেখানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রে এমন একটি আইন করা হয়েছে, যেখানে বছরে এক দিন সব অপরাধ বৈধ। এর উদ্দেশ্য মানুষের ভেতরের ক্ষোভ ও অন্ধকার বের করে দেওয়া, যাতে বছরের বাকি সময় শান্ত থাকে। কিন্তু সেখানে মানুষ শুধু অপরাধ করেই থেমে থাকে না। তারা নানা পোশাক পরে, মুখোশ ব্যবহার করে, গান বাজায় এবং যেন এক ধরনের উৎসবের মতো করে এই সহিংসতা উপভোগ করে।

এই গল্পটি দেখায়, অপরাধ শুধু কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, এর সঙ্গে থাকে এক ধরনের প্রদর্শন। মানুষ যখন বড় অপরাধ করে, তখন সেটিকে তুচ্ছভাবে উপস্থাপন করার মধ্যেই তারা এক ধরনের শক্তি অনুভব করে। কাজটি যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে সেই স্বাধীনতা বা অনুমতি। শুধু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কঠোর পদক্ষেপ নয়, সেটিকে উদযাপনের মতো করে উপস্থাপন করাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এ ধরনের উল্লসিত নিষ্ঠুরতার সামনে কাউকে খুশি করার চেষ্টা বা মজা নেওয়া কোনো সমাধান নয়। এটিকে ছোট করে দেখা বা বলা যে, এতে কোনো আদর্শ বা কৌশল নেই, তাই এটি নিয়ন্ত্রণ করা সহজ, এমন ধারণাও ভুল। দেশের ভেতরে ও বাইরে যে নির্মমতা ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ছে, তা থামাতে হলে শক্তভাবে এবং দ্রুত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। নইলে এটি সবকিছু গ্রাস করে ফেলবে।

লেখক: দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকার কলামিস্ট। গার্ডিয়ানে প্রকাশিত নিবন্ধটি ভাষান্তর করেছেন তহমিনা মিলি

ফরিদপুরে চা দোকানিকে কুপিয়ে হত্যায় মামলা, আসামি ৪৩

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৪ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে চা দোকানিকে কুপিয়ে হত্যায় মামলা, আসামি ৪৩

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় চা দোকানি রবিউল ইসলাম শেখ রবি (৫৬) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

​বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল সারোয়ার মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

​এর আগে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে নিহত রবিউলের ভাতিজা নাজমুল শেখ বাদী হয়ে আলফাডাঙ্গা থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

​থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বড়বাগ গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য কুদ্দুস শেখের ছেলে মো. হোসাইন শেখকে এই হত্যাকাণ্ডের মূল নির্দেশদাতা (হুকুমের আসামি) করা হয়েছে। অভিযুক্ত অন্য আসামিরাও একই এলাকার বাসিন্দা।

​মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে কাশিয়ানী-আলফাডাঙ্গা সড়কের মালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত রবিউল বড়ভাগ গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন এবং পার্শ্ববর্তী গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলা সদর বাজারে চা বিক্রি করতেন। ঘটনার রাতে দোকান বন্ধ করে নিজ গ্রামের কয়েকজনের সঙ্গে বাড়ি ফেরার পথে হোসাইন শেখের নেতৃত্বে একদল হামলাকারী দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই রবিউলের মৃত্যু হয় এবং সঙ্গে থাকা তিনজন গুরুতর আহত হন।

​আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল সারোয়ার জানান, নিহতের ভাতিজার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।

​উল্লেখ্য, বড়ভাগ গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের জেরে গত ২৬ জুন সুমন শেখ (৩০) নামে এক যুবক খুন হন। নিহত রবিউল ছিলেন সুমনের চাচা। ওই সুমন হত্যা মামলারও প্রধান হুকুমের আসামি ছিলেন হোসাইন শেখ। পূর্বের মামলায় আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে এলাকায় আসার পরই এ নতুন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

অবশেষে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন পদে মঞ্জুর এ এলাহীর পদায়ন বাতিল

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫০ পূর্বাহ্ণ
অবশেষে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন পদে মঞ্জুর এ এলাহীর পদায়ন বাতিল

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে ডা. এস এম মঞ্জুর এ এলাহীর বদলি ও পদায়নের আদেশ বাতিল করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাঁর পদায়নের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অংশ বাতিল করা হয়।

স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের পার-২ শাখার যুগ্মসচিব সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ৮ সেপ্টেম্বর জারি করা স্মারকমূলে ডা. এস এম মঞ্জুর এ এলাহীকে ওএসডি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মহাখালী, ঢাকা থেকে সিভিল সার্জন (চলতি দায়িত্ব), ফরিদপুর হিসেবে বদলি/পদায়নের ক্ষেত্রে তাঁর জন্য প্রযোজ্য অংশ নির্দেশক্রমে বাতিল করা হলো।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এর আগে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ডা. মঞ্জুর এ এলাহীর ফরিদপুরের সিভিল সার্জন হিসেবে পদায়ন বাতিলের দাবিতে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রধান ফটক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন সাধারণ শিক্ষার্থী ও সচেতন ছাত্র সমাজ। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত এক ঘণ্টা কার্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে কর্মসূচি পালন করা হয়।

বিক্ষোভকারীরা ডা. মঞ্জুর এ এলাহীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সুবিধাভোগী ও বিতর্কিত ভূমিকার অভিযোগ তুলে তাঁর নিয়োগ বাতিলের দাবি জানান। একই সঙ্গে তাঁকে স্বাস্থ্য খাতের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে না রাখার দাবি করেন তাঁরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ওই সময় নবনিযুক্ত সিভিল সার্জনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, দাবি বাস্তবায়ন না হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। কর্মসূচি চলাকালে পুলিশের উপস্থিতিও দেখা যায়। পরে আপাতত অবরোধ স্থগিত করে আন্দোলনকারীরা পরবর্তী কর্মসূচির বিষয়ে সতর্ক করেন।

এর দুই দিন পরই স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের প্রজ্ঞাপনে ডা. মঞ্জুর এ এলাহীর ফরিদপুরের সিভিল সার্জন (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে বদলি/পদায়নের আদেশ বাতিলের কথা জানানো হলো।

প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য), ফরিদপুরের সিভিল সার্জন/সহকারী পরিচালক এবং জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

সালথার ক্রীড়াঙ্গনে নতুন স্বপ্ন, নির্মাণ হবে মিনি স্টেডিয়াম

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১০ পূর্বাহ্ণ
সালথার ক্রীড়াঙ্গনে নতুন স্বপ্ন, নির্মাণ হবে মিনি স্টেডিয়াম

ফরিদপুরের সালথায় এবার ক্রীড়াঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে যাচ্ছে। উপজেলা পর্যায়ে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। এরই মধ্যে স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য প্রস্তাবিত জমি অধিগ্রহণের সংশোধিত প্রস্তাব জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। এখন অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে প্রকল্পটি।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ‘উপজেলা পর্যায়ে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ (২য় পর্যায়)’ প্রকল্পের আওতায় সালথায় এ মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ভূমি-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে সংশোধিত অধিগ্রহণ প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পাঠানো সংশোধিত প্রস্তাবে প্রস্তাবিত জমির মৌজা ম্যাপ, ভূমির বাজারমূল্য, রেকর্ডীয় মালিকানার তথ্য, ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে কি না—সে সংক্রান্ত প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন কাগজপত্র সংযুক্ত করা হয়েছে।

একই সঙ্গে প্রস্তাবিত জমি এক ফসলি, দুই ফসলি না তিন ফসলি, জমিটি নদী-খাল-পাহাড় বা টিলা শ্রেণির কি না এবং খাস বা অর্পিত সম্পত্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না—এসব তথ্যও যাচাই করা হয়েছে।
চিঠিতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ১০ ডিসেম্বর ২০২৪ সালের স্মারকের পাশাপাশি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার ৭ এপ্রিল ২০২৫ সালের সংশ্লিষ্ট স্মারকের উল্লেখ রয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সালথায় দীর্ঘদিন ধরে আধুনিক ও পর্যাপ্ত ক্রীড়া অবকাঠামোর অভাব রয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ থাকলেও সেগুলো নিয়মিত খেলাধুলা, বড় টুর্নামেন্ট কিংবা প্রশিক্ষণের জন্য সবসময় ব্যবহার করা সম্ভব হয় না। মিনি স্টেডিয়াম নির্মিত হলে সেই সংকট অনেকটাই কাটবে বলে মনে করছেন তারা।

তবে তারা অভিযোগ করে বলেন, আশেপাশের অধিকাংশ উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ কাজ শেষ হলেও অদৃশ্য কারণে এ উপজেলাটিতে এখনও স্টেডিয়াম নির্মাণ শুরু হয়নি। তাইতো ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনার দাবি তাদের।।

সালথার স্কুলছাত্র রুমান শেখ বলেন, ‘আমরা মাঠে খেলতে চাই। কিন্তু ভালো ও নির্দিষ্ট মাঠের অভাব রয়েছে। মিনি স্টেডিয়াম হলে নিয়মিত ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাধুলার সুযোগ পাব। আমাদের জন্য এটি অনেক আনন্দের খবর।’

স্কুলশিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের শুধু বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে পূর্ণাঙ্গ বিকাশ সম্ভব নয়। খেলাধুলা তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মিনি স্টেডিয়াম হলে সালথার শিক্ষার্থীরা আরও বেশি খেলাধুলায় যুক্ত হবে।’

কৃষক জমির খাঁ বলেন, ‘আমাদের ছেলেমেয়েদের জন্য ভালো একটা খেলার জায়গা দরকার। মাঠ থাকলে তরুণরা খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকবে। এতে তারা নানা ধরনের খারাপ অভ্যাস থেকেও দূরে থাকবে।’

সালথা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘মিনি স্টেডিয়াম হলে সালথার তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে। স্থানীয় খেলোয়াড়রা অনুশীলন করতে পারবেন এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতা আয়োজন করা সম্ভব হবে। দ্রুত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা দরকার।’

সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খন্দকার খায়রুল বাসার আজাদ বলেন, ‘সালথায় অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় রয়েছে। কিন্তু উপযুক্ত অবকাঠামোর অভাবে তাদের অনেকেই সামনে এগোতে পারে না। মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ হলে স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি হবে।’

সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. ওহিদুজ্জামান ওহিদ বলেন, ‘মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ সালথার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। এটি বাস্তবায়িত হলে শুধু খেলাধুলা নয়, বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় ক্রীড়া আয়োজনের সুযোগও তৈরি হবে। তরুণ প্রজন্মের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ।’

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে বলেন, ‘সালথায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণের সংশোধিত প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্যাদি সংযুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও পরবর্তী সরকারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাবে।’

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের কাজ শুরু হবে। তাদের মতে, একটি আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে উঠলে সালথার মাঠে নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড় তৈরি হবে, বাড়বে ক্রীড়া চর্চা এবং তরুণদের সুস্থ বিনোদনের সুযোগ।