খুঁজুন
শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

“আপনারা পারবেন না”—শুধু এক বাবার কথা নয়, পুরো জাতির হতাশা

এহসানুল হক মিঞা
প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ৬:৩৫ পূর্বাহ্ণ
“আপনারা পারবেন না”—শুধু এক বাবার কথা নয়, পুরো জাতির হতাশা

ঢাকার পল্লবীতে ছোট্ট শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও নির্মম হত্যার পর যখন তার বাবা কাঁদতে কাঁদতে বললেন—“বিচার চাই না। আপনারা বিচার করতে পারবেন না। পারার রেকর্ড নাই।” তখন সেটি শুধু একজন অসহায় পিতার আর্তনাদ ছিল না; এটি ছিল পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের গভীর অনাস্থার নগ্ন প্রকাশ।

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সংকট সম্ভবত অর্থনীতি, রাজনীতি কিংবা আইনশৃঙ্খলা নয়—সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সংকট হলো মানুষের বিশ্বাস হারিয়ে ফেলা। মানুষ আর মনে করে না যে অপরাধের বিচার হবে। বরং তারা ধরে নেয়, কিছুদিন আলোচনা হবে, সামাজিক মাধ্যমে ঝড় উঠবে, টেলিভিশনে টকশো হবে, তারপর সব থেমে যাবে। নতুন কোনো ঘটনা পুরোনো ক্ষতকে চাপা দিয়ে দেবে।

এই ভয়াবহ বাস্তবতা একদিনে তৈরি হয়নি। বছরের পর বছর ধরে বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তার পেছনে শুধু রাজনীতি বা প্রশাসন নয়—মিডিয়ারও বড় দায় রয়েছে।

কারণ মিডিয়া কেবল সংবাদ পরিবেশন করে না; মিডিয়া সমাজের চিন্তা, ক্ষোভ ও নৈতিক অবস্থানও নির্ধারণ করে। কোন ঘটনা নিয়ে মানুষ উত্তেজিত হবে, কতদিন ক্ষুব্ধ থাকবে, কোন প্রশ্নগুলো সামনে আসবে—এসবের বড় অংশই নির্ভর করে মিডিয়ার উপস্থাপনার ওপর। অথচ বাস্তবে দেখা যায়, অধিকাংশ গণমাধ্যম ভয়াবহ অপরাধকে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক সংকট হিসেবে না দেখে “সংবাদ-ইভেন্ট” হিসেবে ব্যবহার করে।

একটি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়, নির্মমভাবে খুন হয়। কয়েকদিন ধরে শিরোনাম হয়, কান্নাভেজা ভিডিও ছড়ায়, ফাঁসির দাবি ওঠে, মানববন্ধন হয়। তারপর?
তারপর ক্যামেরা সরে যায়। আলো নিভে যায়। কিন্তু যে সমাজ, রাজনীতি ও প্রশাসনিক দুর্বলতা এমন দানব তৈরি করেছে, সেটি আগের মতোই বহাল থাকে।

সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো—মিডিয়ার বড় একটি অংশ এখন আর পুরোপুরি জনগণের কণ্ঠস্বর নয়; বরং রাজনৈতিক ও করপোরেট স্বার্থের সম্প্রসারণে পরিণত হয়েছে। ক্ষমতাসীনদের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার ক্ষেত্রে অনেকেই নরম, আবার রাজনৈতিক সুবিধা পেলে একই মিডিয়া উচ্চকণ্ঠ হয়ে ওঠে। ফলে বিচারহীনতার বিরুদ্ধে একটি নিরপেক্ষ, ধারাবাহিক ও নৈতিক অবস্থান কখনোই গড়ে ওঠে না।

এ কারণেই “সোহেল রানা”রা হঠাৎ জন্ম নেয় না। তারা তৈরি হয় দীর্ঘদিনের দায়মুক্তি, রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়া, সামাজিক অবক্ষয় ও দুর্বল বিচারব্যবস্থার ভিতরে। ছোট অপরাধ করে পার পেতে পেতেই একসময় তারা ভয় হারিয়ে ফেলে। আর সমাজ হারিয়ে ফেলে প্রতিরোধের শক্তি।

বাংলাদেশে বহু আলোচিত হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনায় প্রথমদিকে ব্যাপক আলোচনা হলেও সময়ের সঙ্গে সেগুলোর বিচার প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায় কিংবা মানুষের মনোযোগের বাইরে চলে যায়। অনেক ঘটনায় বছরের পর বছর কেটে গেলেও রায় কার্যকর হয় না। এতে সাধারণ মানুষের মনে একটি স্থায়ী ধারণা জন্মেছে—“এই দেশে ক্ষমতা থাকলে বিচার এড়ানো সম্ভব।”

আর এই ভয়ঙ্কর মানসিকতা সমাজের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। কারণ মানুষ যখন বিচারব্যবস্থার ওপর আস্থা হারায়, তখন আইন নয়—ক্ষোভ, প্রতিশোধ ও হতাশা সমাজকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে।

মিডিয়ার আরেকটি বড় সংকট হলো ভুক্তভোগীর কান্নাকে পণ্যে পরিণত করা। অনেক ক্ষেত্রে সংবেদনশীলতার বদলে প্রতিযোগিতা চলে—কার ভিডিও বেশি ভাইরাল হবে, কার শিরোনাম বেশি আবেগ তৈরি করবে। অথচ অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মূল কাজ হওয়া উচিত ছিল—অপরাধের সামাজিক ও রাজনৈতিক শেকড় খুঁজে বের করা, বিচার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা এবং ক্ষমতার দায় তুলে ধরা।

শুধু “ফাঁসি চাই” শিরোনাম দিয়ে সমাজ বদলায় না। সমাজ বদলাতে হলে প্রয়োজন ধারাবাহিক জবাবদিহি, শক্তিশালী তদন্ত, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং দায়িত্বশীল গণমাধ্যম।

আজ সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—একজন বাবা কেন রাষ্ট্রকে সামনে দাঁড়িয়ে বলতে বাধ্য হন,
“আপনারা পারবেন না”?

এই প্রশ্নের উত্তর শুধু আদালত বা পুলিশের কাছে নেই; উত্তর খুঁজতে হবে রাজনীতি, প্রশাসন, সমাজ এবং মিডিয়ার ভেতরেও।

কারণ একটি সভ্য রাষ্ট্রে সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা অস্ত্র নয়, আইন নয়—মানুষের বিশ্বাস। আর বাংলাদেশে সেই বিশ্বাসটাই আজ সবচেয়ে বেশি।

লেখক: সাংবাদিক ও শিক্ষক, ফরিদপুর

গরমে শরীর ঠান্ডা রাখার প্রাকৃতিক উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ৭:১৯ পূর্বাহ্ণ
গরমে শরীর ঠান্ডা রাখার প্রাকৃতিক উপায়

গ্রীষ্মের তাপদাহে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। গরমে টিকতে না পেরে অনেকেই বাধ্য হয়ে এসি কিনছেন। কেউ বা কুলার ব্যবহার করছেন। কিন্তু সবার পক্ষে এসি বা কুলার ব্যবহার সম্ভব নয়। এদিকে গরমে ঘুমানোই দায়। এ পরিস্থিতিতে শরীরে ঠান্ডা রাখতে প্রাকৃতিক কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন। যেমন-

গ্রীষ্মের দাবদাহ থেকে বাঁচতে জানলা বা দরজায় খসখসের পর্দা ঝোলানোর প্রচলন অনেক আগে থেকেই চলে আসছে। পর্দায় সামান্য পানি ছিটিয়ে দিলে সারা ঘরে এক সুগন্ধি ও স্নিগ্ধ পরিবেশ তৈরি হয়। প্রাকৃতিকভাবে ঘরের তাপমাত্রা কমাতে এই পদ্ধতি বেশ কার্যকর।

বাইরে থেকে ফিরে ফ্রিজের ঠান্ডা পানি নয়, বরং মাটির কলসি বা মটকার পানি পান করার শান্তিই আলাদা। এতে প্রাণ জুড়িয়ে যায়। বাষ্পীভবন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মাটির পাত্র প্রাকৃতিকভাবে পানিকে ঠান্ডা রাখে। পরিবেশবান্ধব এই প্রাচীন উপায়টি আজও গ্রামাঞ্চলে বেশ জনপ্রিয়।

গরমে অনেকেরই ত্বকের জ্বালাভাব ও অস্বস্তি হয়। এ ধরনের সমস্যা দূর করতে চন্দন বাটা ব্যবহার করতে পারেন। কপালে বা ত্বকে চন্দনের প্রলেপ দিলে তা নিমেষেই শরীরকে শীতল করে। প্রাচীন কাল থেকে এ পদ্ধতিটি বেশ জনপ্রিয়।

শরীরকে ভিতর থেকে ঠান্ডা রাখতে প্রতিদিনের ডায়েটে এক গ্লাস ঘোল বা বাটারমিল্ক রাখতে পারেন। এতে প্রচুর পরিমাণে প্রোবায়োটিক ও ইলেকট্রোলাইট থাকায় হজমশক্তি বাড়ায়। ডিহাইড্রেশন ও হিট স্ট্রোকের হাত থেকে বাঁচতে এই পানীয় বেশ উপকারী।

গ্রীষ্মকালের অত্যন্ত রিফ্রেশিং ও জনপ্রিয় পানীয় আম পান্না। কাঁচা আম পুড়িয়ে এটি তৈরি করা হয়। আম পান্না শরীরে লবণের ঘাটতি মেটায় এবং হিটস্ট্রোকের হাত থেকে রক্ষা করে। তীব্র গরমে শরীর ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি শক্তিফিরিয়ে আনতেও এই পানীয় বেশ উপকারী।

কড়া রোদের হাত থেকে ছাদ বাঁচাতে অনেকেই চুনের সাদা প্রলেপ ব্যবহার করেন। সাদা রঙ সূর্যের তাপকে প্রতিফলিত করে, এর ফলে ঘরের ভিতরের তাপমাত্রা অনেকটাই কমে যায়। আধুনিক কালেও ঘর ঠান্ডা রাখার জন্য এ পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন।

সূত্র : সমকাল

“ধীরে বৎস ধীরে” — নাসিরুদ্দীনকে কটাক্ষ করে বাবুলের ফেসবুক পোস্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ৬:৫৮ পূর্বাহ্ণ
“ধীরে বৎস ধীরে” — নাসিরুদ্দীনকে কটাক্ষ করে বাবুলের ফেসবুক পোস্ট

কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক ও ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা সৃষ্টি করেছেন।

শনিবার (২২ মে) রাতে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি ‘নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী’কে উদ্দেশ্য করে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, “দেখেন কত বড় হ্যাডোমওয়ালা পাটোয়ারী। দিনভর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে গালিগালাজ করে অবশেষে পুলিশের কাছেই আশ্রয় চায়। আল্লাহ সহায় পুলিশ আশ্রয় না দিলে বিক্ষুব্ধ হাজার হাজার জনতা না জানি তাকে পেলে কি করতো।”

তিনি আরও লেখেন, “সেজন্য বলি- ধীরে বৎস ধীরে! রাজনীতি করতে আসছ, হিরো হইতে আসছ- ভালো কথা, কিন্তু একটু সভ্যতা ভব্যতা তো শিখতে হবে বাবা। না হলে পদে পদে তো গণবিক্ষোভের মুখে পড়তে হবে তোমাকে।”

পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, “রাজনীতিতে শর্টকার্ট কোনো পথ নেই বাছা। যত তাড়াতাড়ি উঠবা, তত তাড়াতাড়িই পড়বা। আমরা কি হুদাই ৪০ বছর ঘাস কাটছি?”

পোস্টটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের নেতাকর্মী ও সাধারণ ব্যবহারকারীরা পোস্টটি শেয়ার ও মন্তব্য করতে থাকেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ‘পাটোয়ারী’র কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

রামিসা হত্যার প্রতিবাদে ফরিদপুরে বিভিন্ন সংগঠনের মানববন্ধন

হাসানউজ্জামান, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ১০:০৭ অপরাহ্ণ
রামিসা হত্যার প্রতিবাদে ফরিদপুরে বিভিন্ন সংগঠনের মানববন্ধন

শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে জেলার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও নাগরিক সংগঠনের উদ্যোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় অংশ নেয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে বন্ধুসভার উদ্যোগে ও সন্ধায়  হলিডে মার্কেটের উদ্যোগে ব্রাহ্ম সমাজ সড়কে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে নারী-পুরুষ, শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন।

বক্তারা শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডকে “পাশবিক ও নৃশংস” আখ্যা দিয়ে বলেন, এ ধরনের ঘটনা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য চরম উদ্বেগজনক।

বিকেলে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে “শিশু ও নারীর নিরাপত্তা চাই, ধর্ষক-নিপীড়কের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই” স্লোগানে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে প্রথম আলো বন্ধুসভা। এতে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি শিপ্রা রায়, নাট্য ব্যক্তিত্ব বিপ্লব বালা, সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব মফিজ ইমাম মিলন,  জেলা মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হোসনে আরা খানম, সিপিবির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রফিকুজ্জামান লায়েকসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা। ব্রাহ্ম সমাজ সড়কের  মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ডা. সালমা শাহনেওয়াজ পারভিন, তাহসিন জেবা ও লূবাবাতুল জান্নাত।

বক্তারা বলেন, দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। কিন্তু অধিকাংশ ঘটনায় দৃশ্যমান বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

বক্তারা বলেন, বর্তমানে শিশু ও নারীরা ঘর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল এমনকি জনপরিসরেও নিরাপদ নয়। ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মতো ঘটনা সমাজকে গভীর সংকটে ফেলছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত বিচার নিশ্চিত এবং কঠোর আইন প্রয়োগ জরুরি।