খুঁজুন
, ,

ভাইরালে আক্রান্ত লোভী সমাজ, প্রতিরোধের উপায় কী?

ইলিয়াস হোসেন
প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ৮:৩২ পূর্বাহ্ণ
ভাইরালে আক্রান্ত লোভী সমাজ, প্রতিরোধের উপায় কী?

উগ্র শাসক আর অপশক্তির উত্থানে বিশ্বজুড়ে দিন দিন গণমাধ্যমের ঝুঁকি বাড়ছে। যুদ্ধবাজ নেতা, সুযোগসন্ধানী বণিক শ্রেণি ও অপরাধ সংগঠনের হোতাদের নিষ্ঠুর টার্গেট হচ্ছেন সংবাদকর্মীরা। প্যাশন থেকে যুক্ত হওয়া অনিশ্চিত এ পেশায় টিকে থাকা সবসময়ই চ্যালেঞ্জের।

তথ্যপ্রযুক্তির অভূতপূর্ব উন্নতিতে মাধ্যমটি সহজলভ্য হওয়ায় দিন দিন আরও কঠিনের মুখোমুখি হচ্ছে মূলধারার গণমাধ্যম। একসময় দেশের জনপ্রিয় কয়েকটি গণমাধ্যম সভ্য দেশের অনুকরণে বাংলাদেশে ‘সিটিজেন জার্নালিজম’ বা ‘নাগরিক সাংবাদিকতা’ আমদানি করে। সেই উৎসাহ আর সহজলভ্য তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহারে এখন ঘরে ঘরে সাংবাদিক আর হাতে হাতে গণমাধ্যম ঘুরছে।

এদের দৌরাত্ম্যে সাংবাদিককে ‘সাংঘাতিক’ আর গণমাধ্যমকে ‘ঘনমাধ্যম’ বলে ভয় পাচ্ছে ভুক্তভোগীরা। রাজনীতি, রাজনীতিবিদ ও দেশ-জনতার সংকট নিয়ে মনগড়া গল্প ফেঁদে সাংবাদিকতার নামে ডলারে অখাদ্য বিক্রি করছে।

‘অমুককে বোনের স্বীকৃতি দিলেন তমুক’, ‘মানবতার ফেরিওয়ালার একি হাল’, ‘প্রয়াত মন্ত্রীর গোপন প্রেমিকার সন্ধান’ ‘তার সঙ্গে চিপা গলিতে হাঁটলেন তিনি’—এরকম হাজারো বেখবর ঘুরছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সাংবাদিকতার নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জনপ্রিয় ফেসবুককে ‘চটি বই’ বানিয়ে ফেলছে ভিউ শিকারিরা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে অসামাজিক করে তোলায় ভদ্রলোকদের বিব্রত হতে হচ্ছে। ইচ্ছা না থাকলেও সাধারণ মানুষ দেখতে বাধ্য হচ্ছে লগ্নি করা রিলস। নিজ নিজ ইউটিউব চ্যানেল বা ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রতিনিয়ত বিতর্কিত আইটেম তুলছে অতর্কিত ডলার আসার লোভে। অধুনা ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ নামের এ লোকগুলো বেশিরভাগই অশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত, বেপরোয়া ও আনস্মার্ট। ভুল বানান, অশুদ্ধ উচ্চারণ, আপত্তিকর ছবিতে সয়লাব তাদের পরিবেশনা।

ডলারের লোভে স্বামী-স্ত্রী-সন্তান নিয়েও অনেকে নেমেছ এ প্ল্যাটফর্মে। কুকুর-বেড়ালের প্রতি মায়া দেখানো থেকে পিতা-মাতার বিরুদ্ধে নিষ্ঠুরতার নাটকও করে তারা। এমনকি বৃদ্ধা শাশুড়ির একাশিতম জন্মদিন উদযাপনের নামে একসিরা রোগী শ্বশুরকে নিয়ে ‘কাটা লাগা’ গানের সঙ্গে উদ্দাম নৃত্য করে কনটেন্ট ক্রিয়েটর পুত্রবধূ।

এসব নিয়ন্ত্রণের কথা বললে তারা মূলধারার গণমাধ্যমের ভুল ধরে। সরকারের তোষামোদ, রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি ও মালিকদের স্বার্থসিদ্ধির অভিযোগে জাতীয় গণমাধ্যমগুলোও প্রশ্নবিদ্ধ। প্রথম শ্রেণির টিভি টকশোতে জ্ঞানগর্ভ, মার্জিত আলোচনায় ভিউ হচ্ছে না। ঘাড়ের রগ ফুলিয়ে অসংযত ভাষায় কিলিয়ে দিতে পারলে শো ভাইরাল হয়। তাতে ডলার আসে। কাজেই ঘোমটার আড়ালে ক্ষ্যামটা নাচে নাম লেখাচ্ছে প্রায় সবাই। জনরুচি তৈরির ঝুঁকি না নিয়ে গণস্রোতে গা ভাসাচ্ছে।

ভাইরাস থেকে ভাইরাল শব্দটি এসেছে। উইকিপিডিয়া বলছে, ভাইরাল (Viral) বলতে সাধারণত এমন সংক্রমণ বা তথ্যকে বোঝায়, যা খুব দ্রুত এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তি বা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। এটি কোনো ভাইরাসজনিত রোগ

(যেমন—ফ্লু, কভিড-১৯) বা ইন্টারনেটে জনপ্রিয় হওয়া কোনো কনটেন্ট (ভিডিও, পোস্ট) হতে পারে। ভাইরাল রোগ সাধারণত হাঁচি-কাশি, সরাসরি স্পর্শ, বা দূষিত খাবার বা পানির মাধ্যমে ছড়ায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো ভিডিও, ছবি বা পোস্ট যখন অল্প সময়ে প্রচুর মানুষ শেয়ার করে এবং মুহূর্তের মধ্যে তা হাজারো-লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, তখন তাকে ভাইরাল বলা হয়।

ভাইরাল রোগ সংক্রমণ প্রতিরোধে নিয়মিত সাবানপানি দিয়ে হাত ধোয়া, হাঁচি-কাশি দেওয়ার সময় মুখ ঢেকে রাখা, অসুস্থ ব্যক্তি থেকে দূরত্ব বজায় রাখা ও জনাকীর্ণ স্থানে মাস্ক ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভাইরাল রোগের ঠিক উল্টো হচ্ছে ভাইরাল ভোগ। রোগে যা বর্জনীয়, ভোগে তাই অর্জনীয়।

সম্প্রতি এক কর্মশালায় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ‘আজকের তরুণ প্রজন্ম; এমনকি যারা ইউনিফর্ম পরে, তারাও তাদের শিক্ষক কিংবা মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে যে কোনো ধরনের অশালীন মন্তব্য করতে দ্বিধা করে না।’ সেইসঙ্গে শিক্ষার্থীরা ভাইরাল হতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। সত্য প্রকাশের বদলে একটি চক্র সোশ্যাল মিডিয়াকে তাদের চাঁদাবাজি, মানুষের চরিত্রহনন, মিথ্যাচার, হিংস্রতা প্রচারের বড় কেন্দ্রে পরিণত করছে।

মিথ্যা ও ভিত্তিহীন গুজব ছড়িয়ে কেউ কেউ রাষ্ট্র ও সরকারকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে। অনেকটাই যেন প্যারালাল সরকার হয়ে উঠছে এরা! যখন যাকে খুশি অপরাধী বানিয়ে দিচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণের আগেই তাদের গ্রেপ্তার করতে বাধ্য করা হচ্ছে। বিচারকও ‘ভিউ ব্যবসায়ীদের’ কুৎসিত নোংরা আক্রমণের ভয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিতে হিমশিম খাচ্ছেন। সরকারের ভালো কাজও ট্রল করা হচ্ছে।

এই গুজব ভাইরাল বাহিনী যেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। আইন ও বিচারের ঊর্ধ্বে! আরও ভয়ের ব্যাপার হচ্ছে, মানুষ বুঝে না বুঝে ভুয়া ফটোকার্ডসহ নানা রকম গুজব শেয়ার করে দিচ্ছে। এতে করে সাধারণ মানুষ নিজের অজান্তেই ভাইরাল বাহিনীর রাজনীতি ও বাণিজ্যে সহযোগিতা করছে। ‘শেষে মজা আছে’, ‘চোখের পানি ধরে রাখতে পারবেন না’, ‘জীবনে এমন দৃশ্য দেখিনি’—এ রকম চটকদার ও ইঙ্গিতপূর্ণ ক্যাপশন দিয়ে মানুষকে প্রতিনিয়ত বিভ্রান্ত করছে।

বাংলাদেশে এটা এখন নিয়ন্ত্রণহীন মহামারির আকার ধারণ করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য সন্ত্রাস প্রতিরোধ করতে হলে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশ্বব্যাপী এ অপতথ্য বন্ধে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তাদের দায়িত্বজ্ঞানহীন বেপরোয়া কাজকর্মের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হচ্ছে। ইউটিউব দাবি করে, তাদের সাইটে কোনো আপত্তিকর কনটেন্ট তারা থাকতে দেয় না।

কিন্তু বাংলাদেশের মতো দেশগুলোয় ফেসবুক বা ইউটিউবের এ নজরদারি অনেক কম। এ রকম হাজারো কনটেন্ট আছে, যেগুলো হিংসাত্মক, ভুয়া। তবু ফেসবুক বা ইউটিউব সেগুলো বন্ধ করেনি। কোম্পানিগুলোকে বিচারের আওতায় আনার জন্য অনেক দেশ এখন আইন করেছে। সম্প্রতি ব্রিটিশ সরকার নিয়ম ভঙ্গকারী সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের জরিমানা থেকে শুরু করে তাদের সেবা পুরোপুরি বন্ধ বা ব্লক করে দেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে।

জার্মানিতে ২০১৮ সালের শুরু থেকে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যাপারে এক নতুন আইন কার্যকর হয়। যেসব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের ২০ লাখের বেশি ব্যবহারকারী আছে, তারা সবাই এ আইনের আওতায় পড়বে। কোনো কনটেন্ট সম্পর্কে অভিযোগ আসার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা তদন্ত ও পর্যালোচনা করতে হবে। আইনবিরোধী কোনো কনটেন্ট শেয়ার করলে ৫০ লাখ ইউরো পর্যন্ত জরিমানা করা যাবে। আর ওই কোম্পানিকে জরিমানা করা যাবে ৫ কোটি ইউরো পর্যন্ত।

এ আইনের ফলে সেখানে সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ও উসকানিমূলক পোস্ট উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন সোশ্যাল মিডিয়ায় আপত্তিকর কনটেন্টের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বিবেচনা করছে। বিশেষ করে জঙ্গিবাদে উৎসাহ জোগায় এমন ভিডিও দিলেই ব্যবস্থা। ইউরোপীয় ইউনিয়নে জেনারেল ডাটা প্রোটেকশন রেগুলেশন (জিডিপিআর) নামে এক নতুন আইন ২০১৮ সালেই কার্যকর হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ায় এক কঠোর আইন চালু করা হয়েছে। যাতে সহিংস ও জঘন্য কোনো কিছু অনলাইনে শেয়ার করা না যায়। এ আইন লঙ্ঘন করলে সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ এনে জেল-জরিমানার বিধানও রাখা হয়েছে। জরিমানার অঙ্কটি বেশ বড়। অর্থাৎ, ওই কোম্পানির গ্লোবাল টার্নওভারের ১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করা যাবে।

রাশিয়ায় ২০১৫ সালের ডাটা আইন অনুযায়ী, সব সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিকেই রুশ নাগরিকদের সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য রাশিয়াতেই কোনো সার্ভারে সংরক্ষণ করতে হয়। টুইটার, গুগল বা হোয়াটসঅ্যাপ চীনে নিষিদ্ধ। তবে সেখানে একই ধরনের কিছু চীনা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম আছে। যেমন—ওয়াইবো, বাইডু, উইচ্যাট। চীনে কিছু ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক আছে। কিন্তু চীনা কর্তৃপক্ষ সেগুলোর ব্যবহারও সীমিত করে দিতে সক্ষম হয়েছে।

তবে, বাংলাদেশের অনেক আইনপ্রণেতা, বুদ্ধিজীবী, সৃষ্টিশীল ব্যক্তি এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও ভাইরাল বাণিজ্যে জড়িত। এমনকি, সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার সময়ও কেউ কেউ ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে লাইভে ছিলেন। নিজেদের পোস্টে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে নিজস্ব বৈষয়িক এবং পারিবারিক বিষয় তুলে দেন।

তাদের অনুসারীরা হাজার হাজার শেয়ার দিয়ে লাখ লাখ সম্মতি উৎপাদন করে। হুজুগে জাতি তা দেখে আনন্দে কাঁদে, ক্ষোভে হিংসা ছড়ায় এবং তর্কে মেতে ওঠে। দিন শেষে অ্যাকাউন্টওয়ালা ডলার গোনে। ভুয়া স্ট্যাটাস, ফটোকার্ড দেখে সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনাও ঘটছে। রাজনীতিতে অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।

ভাইরাল প্রবণতা দিন দিন অবক্ষয়ের নতুন অস্ত্র হিসেবে সমাজে আঘাত হানছে। অধিক রিচ অর্জনে কাউকেই ছাড় দিচ্ছে না তারা। সর্বজন শ্রদ্ধেয় মৃত ব্যক্তিও রেহাই পাচ্ছে না নাদান ভিউ শিকারির হাত থেকে। ইতিহাসে প্রতিষ্ঠিত বিষয়কেও বিতর্কিত করছে ভিউ লোভে। অসংখ্য স্বঘোষিত বুদ্ধিজীবী ও বিশ্লেষক দেশপ্রেমিক মুখোশের আড়ালে মেরে কেটে খাচ্ছে। নিজেদের রক্ষায় এ ব্যাপারে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে দায়িত্বশীলদের। কেননা, দায়িত্বে থাকার সময় এবং ছাড়ার পরও ভাইরাল আইটেম তারা।

লেখক: হেড অব নিউজ, আরটিভি

 

ফরিদপুরের নগরকান্দায় কালী মন্দিরের তালা ভেঙে দুই পিতলের মূর্তি চুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৫৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের নগরকান্দায় কালী মন্দিরের তালা ভেঙে দুই পিতলের মূর্তি চুরি

ফরিদপুরের নগরকান্দা বাজারে অবস্থিত কেন্দ্রীয় কালী মন্দিরের তালা ভেঙে দুটি পিতলের মূর্তি চুরির অভিযোগ উঠেছে। চুরি হওয়া মূর্তি দুটির আনুমানিক ওজন ২২ কেজি বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগের পর তদন্তে নেমেছে নগরকান্দা থানা পুলিশ।

সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে মন্দিরে পূজা দিতে গিয়ে মূর্তি চুরির বিষয়টি দেখতে পান মন্দিরের সেবায়েত রমা চক্রবর্তী (৩০)। পরে মন্দির কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে তিনি নগরকান্দা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রোববার (১৬ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে মন্দিরের দরজায় তালা লাগিয়ে পাশের বাসায় চলে যান সেবায়েত রমা চক্রবর্তী। রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিনি মন্দিরটি একবার পরিদর্শন করে পুনরায় বাসায় ফিরে যান।

এরপর সোমবার ভোর ৬টার দিকে পূজা দিতে মন্দিরে গিয়ে তিনি দেখতে পান, ভেতরে রাখা দুটি পিতলের মূর্তি নেই। পরে মন্দিরের তালা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান তিনি।

সেবায়েতের ধারণা, রাত সাড়ে ১২টা থেকে ভোর ৬টার মধ্যে কোনো এক সময় অজ্ঞাতনামা চোর বা চোরেরা মন্দিরের তালা ভেঙে মূর্তি দুটি চুরি করে নিয়ে যায়।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের নগরকান্দা উপজেলা সভাপতি শ্রী রণদা প্রসাদ সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ মুঠোফোনে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। অভিযোগটি তদন্ত করে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করা হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিদিন টক দই খেলে মিলতে পারে যে ১০ উপকার?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৩১ পূর্বাহ্ণ
প্রতিদিন টক দই খেলে মিলতে পারে যে ১০ উপকার?

সুস্থ থাকতে সুষম খাবারের বিকল্প নেই। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এমন খাবার রাখা জরুরি, যাতে শরীর প্রয়োজনীয় প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান পায়। এ ক্ষেত্রে টক দই হতে পারে একটি ভালো খাবার।

দুধ থেকে তৈরি হলেও টক দই অনেকের কাছে তুলনামূলক সহজপাচ্য। দুধে থাকা ল্যাকটোজ ব্যাকটেরিয়ার গাঁজন প্রক্রিয়ায় আংশিকভাবে ভেঙে যায়। ফলে যাঁদের দুধ খেলে অস্বস্তি হয়, তাঁদের কেউ কেউ টক দই তুলনামূলক ভালোভাবে সহ্য করতে পারেন। তবে ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা থাকলে সবার ক্ষেত্রে একই প্রতিক্রিয়া হবে, এমন নয়।

টক দইয়ে থাকে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, রাইবোফ্লাভিন, ভিটামিন বি৬ ও বি১২সহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান। পাশাপাশি এতে থাকা জীবন্ত উপকারী ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্যও সহায়ক হতে পারে।

তাহলে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় টক দই রাখার সম্ভাব্য উপকারগুলো কী?

১. দুধের বিকল্প হতে পারে

অনেকেরই দুধ খেলে পেট ফাঁপা, অস্বস্তি বা হজমের সমস্যা হয়। বিশেষ করে ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতার ক্ষেত্রে দুধের পরিবর্তে টক দই অনেকের জন্য তুলনামূলক সহনীয় হতে পারে। কারণ দই তৈরির সময় ব্যাকটেরিয়ার গাঁজন প্রক্রিয়ায় দুধের কিছু ল্যাকটোজ ভেঙে যায়।

তবে কারও ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা বেশি হলে দই খাওয়ার আগেও চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

২. হজমে সহায়তা করতে পারে

টক দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিক বা উপকারী ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের স্বাভাবিক জীবাণুসমষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। এর ফলে কিছু মানুষের হজমের সমস্যা, পেটের অস্বস্তি বা অনিয়মিত মলত্যাগের ক্ষেত্রে উপকার মিলতে পারে।

তবে দই কোনো হজমের রোগের চিকিৎসা নয়। দীর্ঘদিনের গ্যাস, অম্বল বা পেটের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

৩. রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সহায়তা করতে পারে

টক দইয়ে থাকা পুষ্টি উপাদান এবং প্রোবায়োটিক শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সমর্থন করতে পারে। অন্ত্রের সুস্থতা শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের সঙ্গেও সম্পর্কিত।

তবে টক দই খেলেই সর্দি-জ্বর বা অন্য কোনো রোগ থেকে পুরোপুরি সুরক্ষা পাওয়া যায়, এমন দাবি করার সুযোগ নেই।

৪. হাড় ও দাঁতের জন্য উপকারী

ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস হাড় ও দাঁতের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। টক দইয়ে এই দুই ধরনের খনিজ পাওয়া যায়। নিয়মিত সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে টক দই খেলে শরীরের ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণে এটি ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষ করে শিশু, কিশোর-কিশোরী এবং বয়স্কদের খাদ্যতালিকায় ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

৫. ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে

ওজন কমানোর ক্ষেত্রে টক দই একা কোনো ম্যাজিক খাবার নয়। তবে চিনি ছাড়া বা কম চিনি দেওয়া টক দই প্রোটিনসমৃদ্ধ একটি খাবার হওয়ায় পেট ভরা রাখতে সহায়তা করতে পারে। ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কিছুটা কমতে পারে।

ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য টক দইয়ের পাশাপাশি মোট ক্যালরি গ্রহণ, শারীরিক পরিশ্রম ও খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।

৬. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে

টক দইয়ে পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান থাকে। পটাশিয়াম শরীরে সোডিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই কম লবণযুক্ত সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে টক দই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে।

তবে উচ্চ রক্তচাপ থাকলে শুধু দই খেয়ে তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা উচিত নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ও নির্ধারিত চিকিৎসা মেনে চলতে হবে।

৭. হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী খাদ্যাভ্যাসের অংশ

কম চর্বিযুক্ত টক দই সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। এতে থাকা প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে।

তবে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে শুধু একটি খাবারের ওপর নির্ভর না করে শাকসবজি, ফল, পূর্ণ শস্য ও স্বাস্থ্যকর প্রোটিনের পাশাপাশি অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও অস্বাস্থ্যকর চর্বি কমানো জরুরি।

৮. মানসিক চাপ কমাতে পরোক্ষভাবে সহায়তা করতে পারে

অন্ত্রের স্বাস্থ্য ও মস্তিষ্কের কার্যক্রমের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা চলছে। প্রোবায়োটিকসমৃদ্ধ খাবার যেমন টক দই অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হওয়ায় সামগ্রিক সুস্থতায় ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে টক দই সরাসরি স্ট্রেস বা উদ্বেগের চিকিৎসা করে, এমন বৈজ্ঞানিক দাবি করা ঠিক নয়। অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা উদ্বেগ থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৯. শরীরে প্রয়োজনীয় প্রোটিন জোগাতে পারে

টক দইয়ে ভালো মানের প্রোটিন থাকে। শরীরের পেশি, কোষ ও বিভিন্ন টিস্যুর স্বাভাবিক গঠন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রোটিন প্রয়োজন। তাই সুষম খাদ্যতালিকায় টক দই প্রোটিনের একটি উৎস হিসেবে রাখা যেতে পারে।

১০. ত্বকের যত্নেও ব্যবহার করা হয়

টক দই ত্বকের যত্নে ঘরোয়া উপাদান হিসেবে অনেকেই ব্যবহার করেন। তবে মুখে দই, লেবুর রস বা অন্য উপাদান মিশিয়ে লাগানোর আগে সতর্ক থাকা দরকার। লেবুর রস বিশেষ করে সংবেদনশীল ত্বকে জ্বালা বা অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।

ত্বকের কোনো নির্দিষ্ট সমস্যা থাকলে ঘরোয়া ফেসপ্যাকের পরিবর্তে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

কীভাবে খাবেন টক দই?

টক দই খাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো পছন্দ হতে পারে চিনি ছাড়া বা কম চিনি দেওয়া দই। সকালের নাশতা, দুপুরের খাবারের সঙ্গে কিংবা বিকেলের হালকা খাবার হিসেবে এটি খাওয়া যায়। ফল, ওটস বা বাদামের সঙ্গে টক দই মিশিয়েও খাওয়া যেতে পারে।

তবে বাজারের অনেক ফ্লেভারড বা মিষ্টি দইয়ে অতিরিক্ত চিনি থাকতে পারে। তাই নিয়মিত খাওয়ার জন্য দই কেনার সময় পুষ্টি উপাদানের লেবেল দেখে নেওয়া ভালো।

সব মিলিয়ে টক দই পুষ্টিকর একটি দুগ্ধজাত খাবার। এতে থাকা প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রোবায়োটিক শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে কোনো একটি খাবারই সুস্থ থাকার নিশ্চয়তা দেয় না। নিয়মিত সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম ও শারীরিক পরিশ্রমের সঙ্গে খাদ্যতালিকায় পরিমিত টক দই রাখলেই মিলতে পারে সবচেয়ে ভালো ফল।

সূত্র : কালবেলা

ফরিদপুরে ২৪ ঘণ্টা মানবিক সেবায় আনুষ্ঠানিক ভাবে যাত্রা শুরু করলো “টীম ফরিদপুর”

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪২ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে ২৪ ঘণ্টা মানবিক সেবায় আনুষ্ঠানিক ভাবে যাত্রা শুরু করলো “টীম ফরিদপুর”

প্রবাসে কিংবা দূরে থাকা সন্তানদের বয়স্ক বাবা-মা, অসুস্থ এবং সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও প্রয়োজনগ্রস্ত মানুষের কাছে বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও জরুরি নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দিতে আনুষ্ঠানিকভাবে সেবা কার্যক্রম শুরু করেছে একটি স্বেচ্ছাসেবী টিম।

​রোববার (১৬ আগস্ট) ফরিদপুর থেকে মানবিক সেবার এই নতুন উদ্যোগটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।

​সংগঠকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দূর-দূরান্তে থাকা সন্তানদের পরিবারের কাছে প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি সমাজের অসহায় ও জরুরি প্রয়োজনে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়ানোই এই উদ্যোগটির প্রধান লক্ষ্য। ‘মানুষের প্রয়োজনে আমরা থাকব মানুষের পাশে’—এই অঙ্গীকার নিয়ে মানবিক সেবা পৌঁছে দিতে কাজ করবেন তারা।

​উদ্যোগটির টিম লিডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন খাইরুল ইসলাম রোমান। এতে উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন জাহিদুজ্জামান জাহিদ এবং সদস্য হিসেবে আছেন নীলয় চৌধুরীর রেজা।

​টিমের অন্যান্য সক্রিয় সদস্যরা হলেন— মো. ইয়াসিন, মাহমুদুল হাসান ওয়ালিদ, সাইদুল ইসলাম সাঈদ, মো. মনির খান, মো. আবু সাঈম (অমি), তাসলিম হুসাইন নাহিদ, তরিকুল ইসলাম মাহফুজ, সাইফুল ইসলাম সাইফ, রবিউল ইসলাম, মো. আকিবুল ইসলাম, মোফাসসিল হোসাইন, সৌরভ বারুই, মো. লিমন তালুকদার, মো. আলামিন, সাঈদ আব্দুল বাপ্পি, সাব্বির মোল্লা, এস এম রাকিবুল ইসলাম, সিয়াম আহমেদ সালমান, বাহারুল ইসলাম রবিন, কামরুজ্জামান (জসিম), শাহরিয়ার রাব্বি, ইঞ্জিনিয়ার রিয়াদ মিয়া, আশরাফুল ইসলাম রাজু, এস এম সালমান, রিফাত আহমেদ ও আবির বনিক।

​স্বেচ্ছাসেবী এই দলের প্রতিনিধিরা জানান, মানবতার সেবায় নিবেদিত এ উদ্যোগে তারা সকলের আন্তরিক সহযোগিতা ও দোয়া প্রত্যাশা করছেন, যেন নিরবচ্ছিন্নভাবে অসহায় মানুষের সেবা দিয়ে যেতে পারেন।