খুঁজুন
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২১ মাঘ, ১৪৩২

ডিম ছোড়া কেন বিশ্ব রাজনীতিতে প্রতিবাদের শক্তিশালী প্রতীক?

জান্নাতুল তানভী
প্রকাশিত: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৫৬ এএম
ডিম ছোড়া কেন বিশ্ব রাজনীতিতে প্রতিবাদের শক্তিশালী প্রতীক?

কোনো ব্যক্তির ওপর ডিম নিক্ষেপ করে ক্ষোভ প্রকাশের বা প্রতিবাদ জানানোর উদাহরণ কেবল বাংলাদেশেই নয়, বরং বিশ্বের বহু দেশেই রয়েছে।

বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার সময় ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী ও এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপের ঘটনা নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে।

ডিম নিক্ষেপের মতো কাজকে অনেকে অশোভন বা অন্যায় আচরণ মনে করলেও এর পেছনে রয়েছে অনেক পুরোনো বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাস।

প্রতিবাদের এই রূপ, যা ‘এগিং’ নামেও পরিচিত, তা কেবল ক্ষোভ প্রকাশ নয়, বরং কখনো কখনো রাজনীতিতে বার্তা পৌঁছে দিতেও ব্যবহৃত হয়।

ভিন্নমত প্রদর্শন এবং কাউকে অপমান, অবমাননা, অশ্রদ্ধা, অসম্মান করার হাতিয়ার হিসেবেও ডিম নিক্ষেপের মতো পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

রাজপরিবারের সদস্য থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতা, মন্ত্রী বা মন্ত্রী হতে যাচ্ছেন, এমন ব্যক্তিদের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করতেও ডিম ছোঁড়ার ইতিহাস রয়েছে।

আর কেবল ডিমই নয়, বরং পচনশীল খাদ্যদ্রব্য ছোঁড়ার প্রচলনও মধ্যযুগ থেকেই।

প্রতিবাদ করতে কোনো ব্যক্তির মুখে বা গায়ে ডিম ছাড়াও শালগম বা টমেটোর মতো সবজি, কেক বা চকলেটও ছুঁড়ে মারার ইতিহাস রয়েছে।

ডিম ছোঁড়া ঠিক কবে থেকে প্রতিবাদের অংশ?

প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে ডিম বা যে কোনো সবজি বা পচনশীল বস্তু ছুঁড়ে মারার যে ইতিহাস পাওয়া যায় সেটা বেশ পুরোনো।

প্রাচীন যুগে শাসকদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করা হতো বা প্রতিবাদ জানানো হতো বিভিন্ন খাবার ছুঁড়ে।

রোমান শাসক ভেসপাসিয়ানের কঠোর নীতির কারণে ৬৩ খ্রিস্টাব্দে ক্ষুব্ধ জনগণ তার ওপর শালগম ছুঁড়ে মেরেছিল বলে ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মধ্যযুগে ঘৃণা ও শাস্তির অংশ হিসেবে কারাবন্দিদের ওপর ডিম ছুঁড়ে মারার নজির রয়েছে। বন্দিদের একটি নির্দিষ্ট কাঠের ফ্রেমে বেঁধে রাখা হতো এবং বিক্ষুব্ধ জনগণ তাদের ওপর ডিম ছুঁড়ে মারতো।

ক্ষোভ, ঘৃণা বা প্রতিবাদের এই রীতি একপর্যায়ে থিয়েটার জগতেও ছড়িয়ে পড়ে। এলিজাবেথীয় যুগে থিয়েটারে অভিনেতাদের অভিনয়ে সন্তুষ্ট না হলে বা খারাপ অভিনয়ের প্রতিবাদে তাদের ওপর পঁচা ডিম ছুঁড়তো দর্শকরা।

ইংরেজ লেখিকা জর্জ এলিয়ট ১৮৩০ এর দশকের পটভূমিতে লেখা উপন্যাস ‘মিডলমার্চ’ এও ডিম ছোঁড়ার ঘটনা রয়েছে।

এই উপন্যাসের চরিত্র মি. ব্রুক নির্বাচনী ভাষণের সময় ‘অপমানকর’ এই ঘটনার শিকার হন।

“অপ্রত্যাশিতভাবে একটি ডিম এসে মি. ব্রুকের কাঁধে ভাঙলো…. এরপর যেন ডিমের শিলাবৃষ্টি নামলো। মূলত তার ছবিকে লক্ষ্য করেই ছোঁড়া হচ্ছিলো। কিন্তু মাঝে মাঝে অনেকটা কাকতালীয়ভাবে যেন আসল ব্যক্তিকেও আঘাত করা হচ্ছিলো,” মি. ব্রুককে ডিম নিক্ষেপ করে কীভাবে অপমান করা হয়েছিলো তা মিজ এলিয়টের বইয়ে ঠিক এভাবেই বর্ণনা করা হয়েছে।

রাজা থেকে রাজনৈতিক কর্মী, বাদ নেই কেউ

ব্রিটেনে প্রতিবাদ জানাতে ডিম ছুঁড়ে মারার ইতিহাস দীর্ঘ।

ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লস এবং কুইন কনসর্ট ক্যামিলা ২০২২ সালের নয়ই নভেম্বর ইয়র্কের মিকলগেট বারে এক রাজ সফরের সময় ডিম ছুঁড়ে মারার মতো ক্ষোভের মুখে পড়েন।

প্যাট্রিক থেলওয়েল নামে ২৩ বছর বয়সী এক যুবক রাজাকে লক্ষ্য করে পাঁচটি ডিম ছুঁড়ে মারেন। সেসময় তিনি ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

তবে একটি ডিমও রাজার গায়ে লাগেনি। সবগুলো ডিমই তার আশেপাশে পড়েছিলো অর্থাৎ লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছিলো।

পরে ইয়র্কের এক ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে মি. থেলওয়েলের বিচার হয়।

রাজার দিকে ডিম ছুঁড়ে মারার কথা স্বীকার করে তিনি দাবি করেছিলেন, এটা ছিল “লফুল ভায়োলেন্স বা আইনি সহিংসতা”।

পরে জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন মি. থেলওয়েল।

যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার ১৯৯০ সালের নির্বাচনে এবং তার আগে ছাত্র আন্দোলনের সময় ডিম হামলার শিকার হয়েছিলেন।

যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জন মেজর ১৯৯২ সালের মে মাসে সাউদাম্পটনে একটি নির্বাচনী প্রচারণার সময় এমন ঘটনার শিকার হন।

ক্ষুব্ধ একজন ব্যক্তির ছোঁড়া ডিম সরাসরি তার মুখে এসে লাগে।

২০০১ সালে নর্থ ওয়েলসে ব্রিটেনের তৎকালীন ডেপুটি প্রাইম মিনিস্টার জন প্রেসকটকে লক্ষ্য করে ডিম ছোঁড়েন একজন খামার শ্রমিক।

একেবারেই নিখুঁত ছিল ওই শ্রমিকের নিশানা। এই ঘটনায় মি. প্রেসকটও সরাসরি ওই শ্রমিকের মুখে ঘুষি মারেন।

ব্রিটিশ ন্যাশনাল পার্টির নেতা নিক গ্রিফিন ২০০৯ সালের নয়ই জুন সংসদের বাইরে এক সংবাদ সম্মেলন করার সময় ডিম হামলার শিকার হন। পরে ওই সংবাদ সম্মেলনটি আর করেননি তিনি।

২০১০ সালের ২১শে এপ্রিল বিবিসি নিউজে প্রকাশিত এক খবরে দেখা যায়, কনজারভেটিভ নেতা ডেভিড ক্যামেরনও ডিম হামলার শিকার হয়েছিলেন।

সেসময় একজন কিশোর নির্মাণ শ্রমিকের ছোঁড়া ডিম তার কাঁধে লেগেছিলো।

ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ এবং লেবার পার্টির নেতা এড মিলিব্যান্ডও এমন ক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন।২০১৩ সালে সাউথ লন্ডনের ওয়ালওয়ার্থ মার্কেটে হাঁটার সময় ডিম হামলার শিকার হয়েছিলেন।

যুক্তরাজ্যের ইনডিপেনডেন্স পার্টির নেতা নাইজেল ফারাজ নটিংহামে নির্বাচনী এক সমাবেশে ২০১৪ সালে এমন ডিম হামলার শিকার হন।

যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের নজির

অন্যান্য দেশেও ডিম ছুড়ে প্রতিবাদের নজির আছে অনেক।

যুক্তরাষ্ট্রে হলিউড তারকা থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার ২০০৩ সালে এমন প্রতিবাদের শিকার হন। ক্যালিফোর্নিয়ায় গভর্নর পদে নির্বাচনের প্রচারণার সময় এক জনসভায় এক ব্যক্তি তার ওপর ডিম ছুঁড়ে মারেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণার সময় ২০০৪ সালে ভিক্টর ইয়ানুকোভিচ এমন আক্রমণের শিকার হয়েছিলেন। প্রথমে অনেকেই ইট ছোঁড়া হয়েছে ভেবে তাকে আঘাত পাওয়ার সাথে সাথে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো। কিন্তু পরে দেখা যায় সেটা ডিম ছিল।

অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ নির্বাচনের আগে প্রচারণা চলাকালীন সময়ে ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনকে লক্ষ্য করে ডিম ছুঁড়েছিলেন এক ব্যক্তি। ডিমটি মি. মরিসনের মাথায় লাগলেও সেটি ভাঙেনি।

বিবিসির সেসময়ের এক খবরে দেখা যাচ্ছে, পুলিশ ২৫ বছর বয়সী এক নারীকে এ ঘটনায় গ্রেফতার করেছিলো।

২০২২ সালে উত্তর ফ্রান্সে প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনী প্রচারণার সময় ক্ষোভের মুখে পড়েন অতি ডানপন্থি দল ন্যাশনাল র‍্যালির নেতা মেরিন লে পেন। ডিমটি মিজ পেনের গায়ে পড়ার আগেই দেহরক্ষী তা ধরে ফেলেন।

হুদাকে ঢাকায় তার বাসা থেকে ধরে নিয়ে হেনস্তা করে একদল লোক।

ওই সময় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, নানাভাবে হেনস্তাসহ কেউ কেউ নূরুল হুদার দিকে ডিম ছুড়ে মারছে। পরে মি. হুদাকে পুলিশের হাতেও তুলে দেওয়া হয়েছিল।

এই প্রতিবাদের অর্থ কী?

লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ জানান, বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদ বা ক্ষোভ প্রকাশের এই ভাষা দেহে বা শারীরিকভাবে আঘাতের উদ্দেশ্যে নয়, বরং সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য করা হয়।

এটা মূলত অহিংস প্রতিবাদ বলে উল্লেখ করেন মি. আহমদ।

“যার ওপর ডিম ছুঁড়ে মারা হয় এটাকে একটা অপমান হিসেবে দেখা হয়। এখানে ব্যাপারটা দেহে আঘাত পাওয়ার চাইতে ইজ্জতে আঘাত পাওয়াটা বেশি প্রমিনেন্ট হয়। তাকে সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে করা হয়,” বলেন মি. আহমদ।

মি. আহমদ বলছিলেন, একটা সময় ক্ষোভ প্রকাশ করতে বাংলাদেশে পঁচা ডিম ছুঁড়ে মারা হতো। এখন আর সেটা শোনা যায় না।

এসবই এই প্রতিবাদের ভাষার প্রতীকী তাৎপর্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মি. আহমদ বলেন, “সবসময় যে রাজনৈতিক প্রতিবাদের অংশ হিসেবে ডিম ছোঁড়া হয় বিষয়টি এমন নয়। অনেক সময় মানুষ কেবল অপরের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করতেই এটা করে।”

সূত্র : বিবিসি বাংলা

পবিত্র শবে বরাতের রাতেও আল্লাহ যাদের ক্ষমা করেন নি?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:৩৪ এএম
পবিত্র শবে বরাতের রাতেও আল্লাহ যাদের ক্ষমা করেন নি?

পবিত্র শবেবরাত বা লাইলাতুল বরাত মুসলমানদের জন্য এক মহিমান্বিত রজনী। হিজরি শাবান মাসের ১৪ ও ১৫ তারিখের মধ্যবর্তী এই রাতে আল্লাহ তাআলা বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমতের দৃষ্টি দেন। শবেবরাত উপলক্ষে সারা বিশ্বের মুসলমানগণ নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়ায় মশগুল থাকেন। তবে শুধু একটি রাত ইবাদত করলেই সব গুনাহ মাফ হয়ে যাবে এমন ধারণা সঠিক নয়।

শাবানের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতের শুরু থেকেই আল্লাহ তাআলা বান্দাদের প্রতি মনোযোগী হন এবং ঘোষণা করতে থাকেন; কে আছে ক্ষমাপ্রার্থী, আমি তাকে ক্ষমা করব; কে আছে রিযিকপ্রার্থী, আমি তাকে রিজিক দেব; কে আছে বিপদগ্রস্ত, আমি তাকে মুক্ত করব ইত্যাদি ইত্যাদি। তাই আমাদের উচিত এই রাতে নিজের জন্য এবং পরিবারের জন্য দোয়া করা।

তবে এই মহিমান্বিত রাতেও দুই শ্রেণির মানুষ আল্লাহর ক্ষমা থেকে বঞ্চিত থাকবে। এক. মুশরিক (যার জীবনে শিরক রয়েছে)। দুই. মুশাহিন (হিংসা ও বিদ্বেষ পোষণকারী)।

বিখ্যাত সাহাবি মুয়াজ বিন জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আছে, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মহান আল্লাহ অর্ধ-শাবানের রাতে অর্থাৎ শাবানের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে তার সৃষ্টির দিকে রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন। (সহিহ ইবনে হিব্বান : ৫৬৬৫)

ইসলামে শিরক সবচেয়ে বড় গুনাহ। আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে উপাস্য মনে করা বা আল্লাহর ক্ষমতা ও কর্তৃত্বে অংশীদার করা মারাত্মক অপরাধ। একইভাবে হিংসা-বিদ্বেষ মানুষের নেক আমল ধ্বংস করে দেয়।

এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, হিংসা থেকে দূরে থাকো। কেননা হিংসা নেক আমলকে এমনভাবে খেয়ে ফেলে, যেমন আগুন লাকড়িকে ভস্ম করে দেয়। (সুনানে আবু দাউদ)

শবে বরাত কোনো ভাগ্যরজনী নয়। ভাগ্য নির্ধারণের রাত হলো লাইলাতুল কদর। শবে বরাত হলো আল্লাহর বিশেষ রহমতের রাত; যা ধারাবাহিক ইবাদতকারীদের জন্য এক ধরনের বোনাস। তবে যারা আন্তরিকভাবে তওবা করে নতুনভাবে আল্লাহর পথে ফিরে আসে, তারাও এ রাতে সৌভাগ্যবান হতে পারে।

সূত্র : কালবেলা

আঙুল ফোটানো ভালো না খারাপ—বিজ্ঞান কী বলে?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:১১ এএম
আঙুল ফোটানো ভালো না খারাপ—বিজ্ঞান কী বলে?

অতিরিক্ত টেনশন বা কাজের চাপের কারণে অনেকেই নিজের অজান্তে আঙুল ফুটিয়ে থাকেন। আঙুল ফোটানো অনেকের কাছে স্বস্তিদ্বায়ক, আবার অনেকের কাছে অভ্যাস। অনেকের ধারণা, আঙুল ফোটানো, আঙুলের হাড়ের জন্য ক্ষতিকর। আবার অনেকের ধারণা, নিয়মিত আঙুল ফোটালে নাকি আঙুলের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হয়। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান কী বলছে এ বিষয়ে? সম্প্রতি হেলথলাইনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে আসে এসব তথ্য।

চলুন জেনে নেওয়া যাক-

আঙুল ফোটানোর পেছনের কারণ

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৫৪ শতাংশ মানুষ নিয়মিত বা মাঝেমধ্যে আঙুল ফুটিয়ে থাকেন। কেউ এই শব্দ শুনে আনন্দ পান, কেউ আবার মনে করেন এতে মানসিক চাপ কমে। অনেকেই আবার একে স্ট্রেস থেকে মুক্তির একটি উপায় হিসেবে দেখেন। কেউ কেউ চিন্তা বা উদ্বেগের সময় চুল পাকান, কেউ আবার নখ কামড়ান। তারাও অনিচ্ছাকৃতভাবে আঙুল ফোটাতে শুরু করেন। একবার এই অভ্যাস তৈরি হলে, তা ছেড়ে দেওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।

আঙুল ফোটালে যে শব্দ হয়, তার উৎস

অনেকেই ভাবেন, হাড় ঘষা লেগেই বুঝি শব্দটি হয়। তবে বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন ভিন্ন কথা। ২০১৫ সালের এক গবেষণায় এমআরআইতে দেখা গেছে, আঙুল ফোটানোর সময় জোড়া টান দিলে অস্থিসন্ধির তরলের মধ্যে একটি ছোট ‘ক্যাভিটি’ বা ফাঁপা জায়গা তৈরি হয়, যেটির সৃষ্টিই শব্দের কারণ। আর ২০১৮ সালের আরেক গবেষণায় বলা হয়, শব্দটি আসলে ওই ফাঁপা অংশটি আংশিক ভেঙে পড়ার সময় তৈরি হয়। আর একই আঙুল কিছুক্ষণ পর আবার ফোটানো যায়। কারণ ওই ফাঁপা জায়গাটি আবার পূর্ণ হতে প্রায় ২০ মিনিট সময় লাগে।

আঙুল ফোটানো কি ক্ষতিকর

অনেক অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, মাঝেমধ্যে আঙুল ফোটানো ক্ষতিকর নয়। তবে কেউ যদি এটি নিয়মিত বা দিনে বারবার করতে থাকেন, তাহলে সমস্যা হতে পারে। এতে অস্থিসন্ধির ভেতরের তরল (সাইনুভিয়াল ফ্লুইড) কমে যেতে পারে। ফলে হাড়ে হাড়ে ঘষা লাগে এবং দীর্ঘমেয়াদে আর্থ্রাইটিসের ঝুঁকি বাড়ে।

তবে একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত আঙুল ফোটানো সরাসরি বাত বা হাড় ক্ষয়ের কারণ নয়। এক চিকিৎসক টানা ৫০ বছর ধরে শুধু এক হাতের আঙুল ফোটান। পরে তিনি দেখেন, ফোটানো হাত ও না ফোটানো হাতের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এতে প্রমাণিত হয়, আঙুল ফোটানো সব সময় ক্ষতিকর নয়।

যখন সাবধান হওয়া জরুরি

যদি আঙুল ফোটানোর সময় বা পরে ব্যথা হয়, আঙুল ফুলে যায় বা নড়াতে সমস্যা হয়, তাহলে এটি শুধু অভ্যাস নয়। এটি শরীরের কোনো সমস্যা বা রোগের লক্ষণ হতে পারে, যা গাউট, আর্থ্রাইটিস বা জয়েন্ট ইনজুরি হতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, কিছু উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। উপসর্গগুলো হলো—

১. আঙুলে ব্যথা

২. ফুলে যাওয়া

৩. জয়েন্ট শক্ত হয়ে যাওয়া

৪. নড়াচড়া করতে কষ্ট হওয়া

চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, মাঝেমধ্যে আঙুল ফোটানো ক্ষতিকর নয়। তবে যদি কেউ নিয়মিতভাবে এটি করেন, তাহলে কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। তাই সতর্ক থাকা ভালো। আর যদি আঙুলে ব্যথা, ফোলাভাব বা অস্বস্তি হয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সূত্র : হেলথ লাইন

কে এই আলোচিত নীলা ইসরাফিল? জানুন তার পরিচয়

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:৫৩ এএম
কে এই আলোচিত নীলা ইসরাফিল? জানুন তার পরিচয়

গোপালগঞ্জ জেলার মেয়ে নীলা ইসরাফিল বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনীতিতে এক আলোচিত ও বিতর্কিত নাম। ব্যক্তিগত জীবন, রাজনৈতিক অবস্থান ও সামাজিকমাধ্যমে সক্রিয় উপস্থিতির কারণে তিনি নিয়মিতই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রয়াত উপদেষ্টা হাসান আরিফের ছেলে মুয়াজ আরিফের সাবেক স্ত্রী হিসেবে পরিচিতি পেলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নীলা নিজ পরিচয়েই আলোচনায় উঠে এসেছেন।

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজপথে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাজনৈতিক অঙ্গনে নীলার দৃশ্যমান উপস্থিতি শুরু হয়। বিভিন্ন কর্মসূচি ও আন্দোলনে তাকে সরব ভূমিকায় দেখা যায়। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী ছাত্রদের গড়া নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেন তিনি। দলটির বিভিন্ন সভা, সমাবেশ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নীলার উপস্থিতি সামাজিকমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

তবে রাজনৈতিক যাত্রা খুব দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। দলের অভ্যন্তরীণ নানা বিষয় নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে নীলা একপর্যায়ে নিজের সাবেক শ্বশুর প্রয়াত উপদেষ্টা হাসান আরিফ এবং এনসিপির নেতা সারোয়ার তুষারের বিরুদ্ধে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন, যা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি করে। শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের ২৮ জুলাই জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে পদত্যাগ করেন নীলা ইসরাফিল। পদত্যাগের পরও তিনি সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে নিজের মতামত প্রকাশ করে যাচ্ছেন, যা তাকে আলোচনায় রাখছে।

রাজনীতির বাইরে নীলা ইসরাফিল একজন পরিচিত মডেল ও অভিনেত্রী। শোবিজ অঙ্গনে তার পথচলা শুরু হয় বিজ্ঞাপনচিত্রের মাধ্যমে। রায়হানের নির্দেশনায় একটি প্রতিষ্ঠানের মশার কয়েলের বিজ্ঞাপনে প্রথম মডেল হিসেবে কাজ করেন তিনি। এরপর ধীরে ধীরে দেশীয় বিজ্ঞাপন জগতে নিজের অবস্থান শক্ত করেন নীলা। এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০টির বেশি বিজ্ঞাপনে কাজ করেছেন তিনি। এর মধ্যে মেজবাউর রহমান সুমনের নির্দেশনায় ‘বিকাশ’ এবং পলকের নির্দেশনায় ‘জিপি’র বিজ্ঞাপন উল্লেখযোগ্য।

অভিনয় জগতে নীলার অভিষেক হয় অনিমেষ আইচ পরিচালিত নাটক ‘কুয়া’র মাধ্যমে। এরপর তিনি ‘ঘর সংষার’, ‘টিরিগিরি টক্কা’, ‘ফুল এইচডি’সহ বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় ধারাবাহিকে অভিনয় করেন। গেল ঈদে সকাল আহমেদ পরিচালিত ‘কে খুনী’ ও ‘ব্রেক আপ ইন’ নাটক দুটি প্রচারিত হয়, যা ইউটিউবে দর্শকদের ভালো সাড়া পায়।

চলচ্চিত্রেও নীলা কাজ করেছেন। তার অভিনীত মুক্তিপ্রাপ্ত একমাত্র সিনেমা আবীর খান পরিচালিত ‘পোস্টমাস্টার ৭১’। এ ছাড়া ধ্রুব’র পরিচালনায় আরও একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন তিনি, যা এখনো মুক্তির অপেক্ষায়।

রাজনীতি ও বিনোদন—দুই অঙ্গনেই সক্রিয় নীলা ইসরাফিলকে ঘিরে আলোচনা থামছে না। সমর্থক ও সমালোচক—দুই পক্ষের নজরেই থাকা এই তরুণী ভবিষ্যতে কোন পথে এগোবেন, তা নিয়েই কৌতূহল রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে।