খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬, ২০ ফাল্গুন, ১৪৩২

রমজানে শয়তান বন্দি, তবু গোনাহ কেন?

হাবিবুল্লাহ রায়হান
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬, ৭:০৯ এএম
রমজানে শয়তান বন্দি, তবু গোনাহ কেন?

রমজান রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, এ মাস শুরু হলে জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজা বন্ধ করা হয় এবং শয়তানদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয় (বোখারি : ১৮৯৯)। তবু বাস্তবতা হলো, রমজানেও মানুষ গোনাহ থেকে পুরোপুরি মুক্ত হতে পারে না। প্রশ্ন জাগে, শয়তান বন্দি থাকলে প্ররোচনা আসে কোথা থেকে?

উত্তর খুঁজতে হলে মানুষের অন্তর্জগৎকে বুঝতে হবে। মানুষের ভেতরে আছে নফস, প্রবৃত্তি, যা ভালো ও মন্দের মাঝখানে দোল খায়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই নফস মানুষকে মন্দের দিকেই আহ্বান করে, তবে সে নয় যার প্রতি আমার রব দয়া করেন।’ (সুরা ইউসুফ : ৫৩)

আবার সুরা কিয়ামাহ (২)-এ নফসে লাওয়ামার শপথ করা হয়েছে, আর সুরা ফজর (২৭)-এ নফসে মুতমাইন্নাহর প্রশান্ত অবস্থার কথা উল্লেখ আছে। অর্থাৎ মন্দের বীজ মানুষের ভেতরেই রোপিত। শয়তান সেই বীজে পানি দেয়, কিন্তু বীজটি আমাদেরই।

অনেক আলেমের ব্যাখ্যায় এসেছে, রমজানে সব শয়তান নয়; বরং প্রধান শয়তানদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়। ফলে কুমন্ত্রণা কমে, কিন্তু মানুষের বহু বছরের গড়ে ওঠা অভ্যাস, আসক্তি ও পরিবেশগত প্রভাব থেকে যায়। এক মাসের জন্য বাইরের প্ররোচনা সীমিত হলেও ভেতরের দুর্বলতা রাতারাতি বদলে যায় না।

যে চোখ দীর্ঘদিন অবাধ্য ছিল, যে জিহ্বা গিবত বা কটু কথায় অভ্যস্ত, সে কি একটি ঘোষণায় থেমে যাবে? পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন সচেতন সাধনা, আত্মসংযমের অনুশীলন।

ইসলাম মানুষকে দায়িত্বশীল সত্তা হিসেবে উপস্থাপন করেছে। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘যে সৎকর্ম করে সে নিজের জন্যই করে, আর যে অসৎকর্ম করে তা তারই বিরুদ্ধে যায়।’ (সুরা জাসিয়া : ১৫)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘বুদ্ধিমান সেই ব্যক্তি, যে নিজের নফসকে নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং মৃত্যুর পরের জীবনের জন্য কাজ করে (তিরমিজি )।’ এই শিক্ষাই স্পষ্ট করে, আসল জিহাদ বাইরের কারও বিরুদ্ধে নয়; নিজের নফসের বিরুদ্ধে।

রমজান মূলত এক মাসের আত্মশুদ্ধির প্রশিক্ষণ। কোরআনে ঘোষণা এসেছে, ‘হে ঈমানদারগণ, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।’ (সুরা বাকারা : ১৮৩)

রোজা শুধু ক্ষুধা ও পিপাসা সহ্য করার নাম নয়। রাসুল (সা.) সতর্ক করেছেন, ‘যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও মিথ্যা কাজ পরিত্যাগ করে না, তার পানাহার ত্যাগে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই। (সহিহ বোখারি)

অতএব রমজান আমাদের শেখায়, আত্মনিয়ন্ত্রণই মুক্তির পথ। এখানে শয়তানের প্রভাব কমিয়ে আমাদের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা হয়, যেন আমরা নিজের ভেতরটাকে চিনতে পারি।

তাই রমজানে গোনাহ হলে শুধু শয়তানকে দোষ দিয়ে দায় সারা যাবে না। নিজের সিদ্ধান্ত, নিজের অভ্যাস, নিজের দুর্বলতার মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে। এ মাস অজুহাতের নয়; আত্মসমালোচনার। ব্যর্থতার নয়; ফিরে আসার।

আসুন, আমরা শয়তানকে নয়, নিজের নফসকে প্রশ্ন করি। প্রতিদিন একটু করে বদলাই। তাহলেই রমজান আমাদের জীবনে কেবল একটি মাস হয়ে থাকবে না; হয়ে উঠবে আত্মশুদ্ধির নতুন সূচনার দরজা।

সালথায় হাইব্রিড পেঁয়াজের দানায় ভাগ্য বদল, হাইস্কুল শিক্ষক এখন সফল উদ্যোক্তা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬, ১০:৫১ এএম
সালথায় হাইব্রিড পেঁয়াজের দানায় ভাগ্য বদল, হাইস্কুল শিক্ষক এখন সফল উদ্যোক্তা

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের দরগা গট্টি গ্রামে হাইব্রিড পেঁয়াজের দানা (বীজ) চাষ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এক স্কুলশিক্ষক। তিনি গট্টি ইউনিয়নের দরগা গট্টি গ্রামের বাসিন্দা এবং গট্টি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। পাঠদানের পাশাপাশি কৃষিকাজে সম্পৃক্ত হয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন—ইচ্ছা ও উদ্যোগ থাকলে বিকল্প আয়ের পথ তৈরি করা সম্ভব।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে নিজস্ব প্রায় দুই বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে হাইব্রিড পেঁয়াজের দানা চাষ শুরু করেন তিনি। শুরুতে নানা প্রতিকূলতা থাকলেও সঠিক পরিচর্যা, সময়মতো সেচ ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তিনি ভালো ফলন পান। বাজারে পেঁয়াজের বীজের চাহিদা বেশি থাকায় উৎপাদিত দানা বিক্রি করে তিনি উল্লেখযোগ্য লাভের মুখ দেখবেন-এমনটাই আশা করছেন ওই এলাকার চাষিরা।

এ ব্যাপারে শিক্ষক জীবন কুমার বিশ্বাস ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে জানান, “শুধু চাকরির আয়ের ওপর নির্ভর না করে কৃষিকে আধুনিক পদ্ধতিতে করলে বাড়তি আয় সম্ভব। হাইব্রিড পেঁয়াজের দানা চাষ তুলনামূলকভাবে লাভজনক। ভবিষ্যতে আবাদ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।”

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, এ অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া হাইব্রিড পেঁয়াজের দানা উৎপাদনের জন্য উপযোগী।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুদর্শন শিকদার ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে জানান, “অনেকেই শুধু পেঁয়াজ চাষ করেন, কিন্তু বীজ উৎপাদনে আগ্রহ কম। এই শিক্ষক উদ্যোগ নিয়ে সফল হওয়ায় অন্য কৃষকরাও উৎসাহিত হবেন। আমরা প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছি।”

তিনি বলেন, এ উপজেলায় মোট ৪০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের দানা চাষ করছেন চাষিরা। যেটা বিঘা অনুপাতে প্রায় ২০০ বিঘা।

স্থানীয় কৃষকরাও তার সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। কেউ কেউ ইতোমধ্যে আগামী মৌসুমে পেঁয়াজের দানা চাষের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, মানসম্মত বীজ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হলে কৃষকরা সহজেই তা সংগ্রহ করতে পারবেন এবং বাইরের এলাকার ওপর নির্ভরতা কমবে।

শিক্ষকতার পাশাপাশি কৃষিকাজে এই সাফল্য প্রমাণ করে—শিক্ষিত যুবসমাজ চাইলে আধুনিক কৃষিতে যুক্ত হয়ে স্বাবলম্বী হতে পারে। সালথার দরগা গট্টি গ্রামের এই উদ্যোগ এখন অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার গল্প।

তারাবিতে ভুলে তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে গেলে করণীয় কী?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬, ৭:১৭ এএম
তারাবিতে ভুলে তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে গেলে করণীয় কী?

রমজানে বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা ব্যাপকভাবে যেসব ইবাদত করে থাকেন, তার একটি হলো তারাবি নামাজ। এই নামাজের বিশেষ ফজিলত রয়েছে।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে তারাবি পড়ার প্রতি উৎসাহিত করেছেন। এক হাদিসে তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও পরকালের আশায় রমজানের রাতে তারাবির সালাত আদায় করবে, তার অতীতের পাপ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। (নাসায়ি : ২২০৫)

তারাবি নামাজ সুন্নতে মুয়াক্কাদা। অপারগতা ছাড়া তা পরিত্যাগকারী গোনাহগার হবে। রমজানে প্রতিদিন এশার ফরজ নামাজ পড়ার পরে বিতিরের আগে তারাবি নামাজ পড়তে হয়।

এ নামাজ সাধারণত দুই রাকাত করে পড়া হয়। দুই রাকাত পড়ে বৈঠক ও সালাম ফেরানোর মাধ্যমে তারাবি নামাজ শেষ হয়। এরপর আবার নতুন করে দুই রাকাত তারাবি পড়া হয়। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, অনেকে দ্বিতীয় রাকাতে না বসে ভুলে তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে যখন ভুলের কথা মনে পড়ে, তখন তারা দ্বিধায় পড়ে যান যে কী করবেন।

চলুন তাহলে জেনে নিই, তারাবিতে ভুলে তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে গেলে করণীয় কী

ইসলামি গবেষণা পত্রিকা মাসিক আল কাউসারে বলা হয়েছে, তারাবির নামাজে প্রত্যেক দুই রাকাত শেষে বৈঠক করা ফরজ। ভুলবশত কেউ দুই রাকাতের পর বৈঠক না করে তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে গেলে নিয়ম হলো, তৃতীয় রাকাতের সিজদা করার আগে আগে ভুলটি বুঝতে পারলে বৈঠকে ফিরে আসা এবং নামাজ শেষে সাহু সিজদা করা। কিন্তু এক্ষেত্রে তৃতীয় রাকাতের সিজদা করে নিলে এরপর আর বৈঠকে ফিরে আসার সুযোগ থাকে না এবং ফরজ বৈঠক ছাড়ার কারণে পূর্বের দুই রাকাত বাতিল হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে তৃতীয় রাকাতের সাথে যদি আরও এক রাকাত মিলিয়ে চার রাকাত পড়ে নেয় এবং নামাজ শেষে সাহু সিজদা করে, তাহলে পরবর্তী দুই রাকাত সহিহ বলে ধর্তব্য হয়।

তাই এমন ক্ষেত্রে তৃতীয় রাকাতের পর আরও এক রাকাত পড়ে নিলে পরবর্তী দুই রাকাত তারাবি নামাজ হিসেবে গণ্য হবে এবং এক্ষেত্রে পূর্বের দুই রাকাত বাতিল গণ্য হবে। (আলমাবসূত, সারাখসী : ২/১৪৭, আলমুহীতুল বুরহানী : ২/২৬৩, ফাতাওয়া খানিয়া : ১/২৩৯, ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/১১৮)

সূত্র : মাসিক আল কাউসার

শুরু হচ্ছে জাতীয় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা, অংশ নিতে পারবেন যারা?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬, ৭:০২ এএম
শুরু হচ্ছে জাতীয় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা, অংশ নিতে পারবেন যারা?

দেশব্যাপী জাতীয় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে যাচ্ছে ইসলামিক ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ (ইফা)। কোমলমতি শিশু-কিশোরদের পবিত্র কোরআন মুখস্থকরণে উৎসাহিত করা এবং ইসলামি সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চায় অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্যে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।

মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) ইফার জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রতিযোগিতাটি ধাপে ধাপে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় অতিক্রম করে জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত পর্বে গড়াবে। উপজেলা পর্যায়ে বিজয়ীরা জেলা পর্যায়ে, জেলা পর্যায়ে বিজয়ীরা বিভাগীয় পর্যায়ে এবং বিভাগীয় পর্যায়ে বিজয়ীরা জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।

অংশ নিতে পারবেন যারা

ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, তিনটি গ্রুপে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। ‘ক’ গ্রুপে তাজবিদসহ পূর্ণ ৩০ পারা হিফজ (অনূর্ধ্ব ১৮ বছর), ‘খ’ গ্রুপে তাজবিদসহ ২০ পারা হিফজ (অনূর্ধ্ব ১৫ বছর) এবং ‘গ’ গ্রুপে তাজবিদসহ ১০ পারা হিফজ (অনূর্ধ্ব ১২ বছর) অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

পুরস্কারে যা থাকছে

জাতীয় পর্যায়ে প্রতিটি গ্রুপে প্রথম পুরস্কার ২ লাখ টাকা, দ্বিতীয় পুরস্কার ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং তৃতীয় পুরস্কার ১ লাখ টাকা প্রদান করা হবে। এছাড়া বিজয়ীদের ক্রেস্ট ও সনদপত্র দেওয়া হবে।

আবেদন যেভাবে

প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে আগ্রহীদের ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, জন্মনিবন্ধন সনদ বা জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপিসহ সাদা কাগজে লিখিত আবেদন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্ট জেলা বা উপজেলা কার্যালয়ে জমা দিয়ে নাম নিবন্ধন করতে হবে।

নাম নিবন্ধনের শেষ তারিখ ৩১ মার্চ। আগামী ০১ এপ্রিল থেকে উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শুরু হবে। একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিটি গ্রুপে সর্বোচ্চ পাঁচজন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করতে পারবে।