খুঁজুন
, ,

রমজানে শয়তান বন্দি, তবু গোনাহ কেন?

হাবিবুল্লাহ রায়হান
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬, ৭:০৯ পূর্বাহ্ণ
রমজানে শয়তান বন্দি, তবু গোনাহ কেন?

রমজান রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, এ মাস শুরু হলে জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজা বন্ধ করা হয় এবং শয়তানদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয় (বোখারি : ১৮৯৯)। তবু বাস্তবতা হলো, রমজানেও মানুষ গোনাহ থেকে পুরোপুরি মুক্ত হতে পারে না। প্রশ্ন জাগে, শয়তান বন্দি থাকলে প্ররোচনা আসে কোথা থেকে?

উত্তর খুঁজতে হলে মানুষের অন্তর্জগৎকে বুঝতে হবে। মানুষের ভেতরে আছে নফস, প্রবৃত্তি, যা ভালো ও মন্দের মাঝখানে দোল খায়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই নফস মানুষকে মন্দের দিকেই আহ্বান করে, তবে সে নয় যার প্রতি আমার রব দয়া করেন।’ (সুরা ইউসুফ : ৫৩)

আবার সুরা কিয়ামাহ (২)-এ নফসে লাওয়ামার শপথ করা হয়েছে, আর সুরা ফজর (২৭)-এ নফসে মুতমাইন্নাহর প্রশান্ত অবস্থার কথা উল্লেখ আছে। অর্থাৎ মন্দের বীজ মানুষের ভেতরেই রোপিত। শয়তান সেই বীজে পানি দেয়, কিন্তু বীজটি আমাদেরই।

অনেক আলেমের ব্যাখ্যায় এসেছে, রমজানে সব শয়তান নয়; বরং প্রধান শয়তানদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়। ফলে কুমন্ত্রণা কমে, কিন্তু মানুষের বহু বছরের গড়ে ওঠা অভ্যাস, আসক্তি ও পরিবেশগত প্রভাব থেকে যায়। এক মাসের জন্য বাইরের প্ররোচনা সীমিত হলেও ভেতরের দুর্বলতা রাতারাতি বদলে যায় না।

যে চোখ দীর্ঘদিন অবাধ্য ছিল, যে জিহ্বা গিবত বা কটু কথায় অভ্যস্ত, সে কি একটি ঘোষণায় থেমে যাবে? পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন সচেতন সাধনা, আত্মসংযমের অনুশীলন।

ইসলাম মানুষকে দায়িত্বশীল সত্তা হিসেবে উপস্থাপন করেছে। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘যে সৎকর্ম করে সে নিজের জন্যই করে, আর যে অসৎকর্ম করে তা তারই বিরুদ্ধে যায়।’ (সুরা জাসিয়া : ১৫)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘বুদ্ধিমান সেই ব্যক্তি, যে নিজের নফসকে নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং মৃত্যুর পরের জীবনের জন্য কাজ করে (তিরমিজি )।’ এই শিক্ষাই স্পষ্ট করে, আসল জিহাদ বাইরের কারও বিরুদ্ধে নয়; নিজের নফসের বিরুদ্ধে।

রমজান মূলত এক মাসের আত্মশুদ্ধির প্রশিক্ষণ। কোরআনে ঘোষণা এসেছে, ‘হে ঈমানদারগণ, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।’ (সুরা বাকারা : ১৮৩)

রোজা শুধু ক্ষুধা ও পিপাসা সহ্য করার নাম নয়। রাসুল (সা.) সতর্ক করেছেন, ‘যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও মিথ্যা কাজ পরিত্যাগ করে না, তার পানাহার ত্যাগে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই। (সহিহ বোখারি)

অতএব রমজান আমাদের শেখায়, আত্মনিয়ন্ত্রণই মুক্তির পথ। এখানে শয়তানের প্রভাব কমিয়ে আমাদের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা হয়, যেন আমরা নিজের ভেতরটাকে চিনতে পারি।

তাই রমজানে গোনাহ হলে শুধু শয়তানকে দোষ দিয়ে দায় সারা যাবে না। নিজের সিদ্ধান্ত, নিজের অভ্যাস, নিজের দুর্বলতার মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে। এ মাস অজুহাতের নয়; আত্মসমালোচনার। ব্যর্থতার নয়; ফিরে আসার।

আসুন, আমরা শয়তানকে নয়, নিজের নফসকে প্রশ্ন করি। প্রতিদিন একটু করে বদলাই। তাহলেই রমজান আমাদের জীবনে কেবল একটি মাস হয়ে থাকবে না; হয়ে উঠবে আত্মশুদ্ধির নতুন সূচনার দরজা।

ফরিদপুরে একদিনে আরও ৩০ জনের হাম শনাক্ত

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে একদিনে আরও ৩০ জনের হাম শনাক্ত

ফরিদপুরে হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত রয়েছে। জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৩০ জনের দেহে হাম শনাক্ত হয়েছে। তবে এই সময়ে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

​বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া হালনাগাদ তথ্য থেকে এসব কথা জানা গেছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় মোট হাম আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৭২৩ জনে। এই সময়ে প্রাণঘাতী এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মোট ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

​জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৬ জন এবং ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ১৪ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে এই দুটি হাসপাতালে মোট ৭৩ জন রোগী চিকিৎসাধীন। যার মধ্যে জেনারেল হাসপাতালে ২২ জন এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫১ জন ভর্তি রয়েছেন।

​অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে দুই হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫০ জন রোগী। এ নিয়ে জেলাটিতে মোট ৫ হাজার ৪৯৭ জন আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

​উপজেলাভিত্তিক হাম আক্রান্তের তালিকায় আলফাডাঙ্গায় ২৮, বোয়ালমারীতে ২৫, সালথায় ২৩, চরভদ্রাসনে ১৭, সদরপুরে ১৪, ভাঙ্গায় ১২, মধুখালীতে ৬, ফরিদপুর সদরে ৫ এবং নগরকান্দায় ২ জন নথিভুক্ত রয়েছেন।

​প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে আসা সন্দেহভাজন রোগীদের মধ্যে ২৩ জন ফরিদপুর জেলার এবং বাকি ৭ জন পার্শ্ববর্তী অন্যান্য জেলার বাসিন্দা।

ফরিদপুরে স্বামী হত্যায় স্ত্রীসহ ৪ জনের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে স্বামী হত্যায় স্ত্রীসহ ৪ জনের যাবজ্জীবন

ফরিদপুরে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হাসান শেখ (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার মামলায় স্ত্রীসহ চারজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আসামিদের ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

​এছাড়া লাশ গুম করার অভিযোগে তাদের প্রত্যেককে আরও সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অনাদায়ে ভোগ করতে হবে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড। তবে বিচারকের নির্দেশ অনুযায়ী উভয় সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে এবং আসামিদের পূর্বের হাজতবাস সাজার মেয়াদ থেকে বাদ যাবে।

​বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুরের বিশেষ জজ (জেলা ও দায়রা জজ) আদালতের বিচারক মো. শরীফ উদ্দীন এ রায় ঘোষণা করেন।

​দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—নিহতের স্ত্রী ফরিদা বেগম (৩৮), ঝাউখোলা গ্রামের শাহজাহান মাতুব্বর (৪৪), ফারুক বিশ্বাস (৪৩) ও চান্দু শেখ (৩০)। রায় ঘোষণার সময় আসামি ফরিদা বেগম পলাতক ছিলেন। বাকি তিন আসামি আদালতে উপস্থিত থাকায় রায় শেষে তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

​মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৯ মে রাতে শাহজাহান মাতুব্বরের ফোন পেয়ে ফরিদপুর সদরের কানাইপুর ইউনিয়নের ঝাউখোলা গ্রামের বাড়ি থেকে বের হন হাসান শেখ। তিনি কৃষিকাজের পাশাপাশি ফরিদপুর শিশু পার্কে অস্থায়ী চাকরি করতেন। রাতে আর বাড়ি না ফেরায় তিনি নিখোঁজ থাকেন।

​নিখোঁজের চার দিন পর ১৩ মে বিকেলে স্থানীয় এক ব্যক্তির আখখেত থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় হাসানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ১৪ মে নিহতের বাবা ইমান উদ্দিন শেখ বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।

​তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিরাজুর রহমান।

​মামলার সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এস এম আজিজুর রহমান বিকু জানান, পারিবারিক বিরোধ ও স্ত্রীর আয়সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে হাসানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছিল। সাক্ষ্য-প্রমাণে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দেন।

ফরিদপুরে বাথরুমের ছাদ ধসে রাজমিস্ত্রির মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বাথরুমের ছাদ ধসে রাজমিস্ত্রির মৃত্যু

ফরিদপুর সদর উপজেলায় নির্মাণাধীন বাথরুমের সেন্টারিং খুলতে গিয়ে ছাদ ধসে মো. শাওন (১৭) নামে এক রাজমিস্ত্রির মৃত্যু হয়েছে।

​বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের বাখুন্ডা গ্রামের মঙ্গলকোট বাজারসংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

​নিহত শাওন ওই গ্রামের রুহুল মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাখুন্ডা গ্রামের কাওছার মিয়ার বাড়িতে দুই দিন আগে বাথরুমের একটি নতুন ট্যাংকি নির্মাণ করা হয়। বুধবার সকালে শাওন ট্যাংকির ভেতরে ঢুকে সেন্টারিং ও বাঁশ খোলার কাজ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ ওপরের পাকা ছাদ ধসে তার ওপর পড়ে। এতে তিনি মারাত্মক আহত হন।

​পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।