খুঁজুন
, ,

পরকালে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন?

নিজামুল ইসলাম
প্রকাশিত: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৪ পূর্বাহ্ণ
পরকালে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন?

মানুষ দুনিয়ার জীবনে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধনসম্পদ, পদমর্যাদা, চাকরি-বাকরি কিংবা প্রিয়জনকে হারিয়ে মানুষ সাময়িক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। মানুষের এসব ক্ষতি চিরস্থায়ী নয়, সাময়িক। মানুষের স্থায়ী ক্ষতি হচ্ছে পরকালীন ক্ষতি। পরকালীন জীবনে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিভিন্ন স্তর রয়েছে। কেউ তার ক্ষতির পরিণাম ফল ভোগ করে নির্দিষ্ট সময়কাল পরে শান্তি পাবে; জান্নাতে যেতে পারবে। কিন্তু কেউ কেউ তার ক্ষতির পরিণাম ফল ভোগ করবে অনন্তকাল।

পরকালীন ক্ষতি ও ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সম্পর্কে কোরআনের অনেক আয়াত নাজিল হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, এক. ‘ধ্বংস প্রত্যেক মিথ্যাবাদী পাপাচারীর জন্য।’ (সুরা জাসিয়াহ : ৭)। দুই. ‘ধ্বংস তার জন্য, যে মানুষের পেছনে অপবাদ রটায় এবং মানুষকে অপমানিত করে।’ (সুরা হুমাযাহ : ১)। তিন. ‘ধ্বংস তার জন্য, যে (জাকাত দেওয়া ব্যতীত) সম্পদ জমা করে এবং তা গণনা করতে থাকে।’ (সুরা হুমাযা : ২)। চার. ‘ধ্বংস সে সব নামাজির, যারা তাদের নামাজ সম্পর্কে উদাসীন থাকে।’ (সুরা মাউন : ৪)। পাঁচ. ‘ধ্বংস তাদের জন্য, যারা ক্রয়-বিক্রয়ের সময়ে ওজনে কম দেয়।’ (সুরা মুতাফফিফিন : ১)। ছয়. ‘ধ্বংস ওইসব মিথ্যারোপকারীর জন্য, যারা কেয়ামত দিবসকে অস্বীকার করে।’ (সুরা মুতাফফিফিন : ১০-১১)। সাত. ‘ধ্বংস তাদের জন্য, যারা নিজ হাতে (আসমানি) কিতাব রচনা করে এবং সামান্য মূল্য লাভের জন্য বলেÑ এটা আল্লাহর নিকট হতে অবতীর্ণ।’ (সুরা বাকারা : ৭৯)। আট. ‘ধ্বংস ও কঠিন শাস্তি ওইসব কাফেরের জন্য, যারা পরকালের তুলনায় দুনিয়াকে অগ্রাধিকার দেয় এবং আল্লাহর পথ হতে লোকদের বাধা প্রদান করে।’ (সুরা ইবরাহিম : ২-৩)। নয়. ‘ধ্বংস তাদের জন্য, যারা মহান দিবসের উপস্থিতিকে অস্বীকার করে।’ (সুরা মারইয়াম : ৩৮)। দশ. ‘ধ্বংস ওইসব লোকের, যারা আল্লাহ সম্পর্কে অযথা মিথ্যা কথা বানায়।’ (সুরা আম্বিয়া : ১৮)। এগারো. ‘ধ্বংস ওইসব কাফেরের জন্য, যারা ধারণা করে আসমান, জমিন ও এর মাঝে যা কিছু আছে আল্লাহ সেগুলো অনর্থক সৃষ্টি করেছেন।’ (সুরা সোয়াদ : ২৭)। বারো. ‘ধ্বংস তাদের জন্য, যাদের অন্তর আল্লাহর স্মরণ থেকে কঠোর হয়ে গেছে।’ (সুরা যুমার : ২২)। তেরো. ‘ধ্বংস তাদের জন্য, যারা আল্লাহর সঙ্গে শরিক করে।’ (সুরা হামিম সাজদা : ৬)

এই শ্রেণির লোকজন ধ্বংসপ্রাপ্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত। এদের মধ্যে মুনাফেকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ, তারা বাহ্যিকভাবে মুসলমানদের সঙ্গে মিশে নামাজ-রোজা করলেও জাহান্নামের সবচেয়ে নিচের স্তরে থাকবে তারা। এসব ব্যক্তি চিরকালের জন্য জাহান্নামি হবে। আরেক শ্রেণির লোক আছে, যারা আল্লাহর ক্ষমা ও দয়া এবং অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত। ওই সব লোক হলো—যারা বিভিন্ন অন্যায়-অপরাধের মধ্যে ডুবে থাকে, অন্যের প্রতি জুলুম-অত্যাচার করে, আর ভাবে, অপরাধী ও জালেমদের যে ভয়াবহ পরিণতির কথা কোরআন ও হাদিসে বর্ণনা করা হয়েছে, তা কোথায়? আমরা তো অনেক অন্যায়-অপরাধ ও জুলুম-অত্যাচার করে বেড়াচ্ছি, কিন্তু আমাদের তো কিছুই হচ্ছে না! এ শ্রেণির লোকদের সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তারা কি আল্লাহর পাকড়াওয়ের ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হয়ে গেছে? বস্তুত আল্লাহর পাকড়াও থেকে তারাই নিশ্চিন্ত হয়, যাদের ধ্বংস ঘনিয়ে আসে।’ (সুরা আরাফ : ৯৯)

আরেক শ্রেণির ক্ষতিগ্রস্ত লোক আছে, যারা ইমান এনেছে বলে দাবি করে, সেইসঙ্গে তারা ইবাদত-বন্দেগিও করে। কিন্তু তারা দ্বিধাদ্বন্দ্বের সঙ্গে ইবাদত-বন্দেগি করে, যদি তাদের কোনো কল্যাণ অর্জিত হয়, তাহলে তারা ইবাদত-বন্দেগি করে, আর যদি তাদের কোনো বিপদ আক্রান্ত করে, তাহলে তারা দ্বীন ইসলামের সত্যতার ব্যাপারে সন্দিহান হয়ে পড়ে। তারা ভাবে, দ্বীন ইসলাম যদি সত্য হয়; তাহলে আমরা কেন এসব বিপদাপদে আক্রান্ত হচ্ছি? তাদের সম্পর্কে কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘মানুষের মধ্যে কেউ কেউ দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগি করে। যদি তার কোনো কল্যাণ লাভ হয়, তাহলে সে ইবাদত-বন্দেগির ওপর কায়েম থাকে। আর যদি তাকে কোনো বিপদ আক্রান্ত করে, তাহলে সে পূর্বাবস্থায় কুফরির দিকে ফিরে যায়। সে ইহকালে ও পরকালে ক্ষতিগ্রস্ত। এটাই প্রকাশ্য ক্ষতি।’ (সুরা হজ : ১১)

লেখক: মাদ্রাসা শিক্ষক

রাশিয়ায় চাকরির প্রলোভনে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠাত মানবপাচার চক্র, নিহত ২০ বাংলাদেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৬ অপরাহ্ণ
রাশিয়ায় চাকরির প্রলোভনে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠাত মানবপাচার চক্র, নিহত ২০ বাংলাদেশি

উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় পাঠিয়ে জোরপূর্বক যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠাত মানবপাচারকারী একটি চক্র। চক্রটির খপ্পরে পড়ে অন্তত ২০ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। এ চক্রের প্রধান দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।

​একই সঙ্গে পৃথক এক অভিযানে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে ৩০ লাখ টাকা মূল্যের ৪৬৩ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধারসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার এবং তাদের ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

​বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে এসআরবি-১০-এর অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহা. আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

​সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চক্রটি ভিকটিম রাজন হোসেনকে কনস্ট্রাকশন কাজের কথা বলে ৮ লাখ ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে রাশিয়ায় পাঠায়। তবে গত ৭ মে রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর রাজনসহ প্রায় ৩০ জন বাংলাদেশিকে জোর করে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়। পরে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের সম্মুখসারিতে ড্রোন হামলায় গুরুতর আহত হন রাজন। চিকিৎসা শেষে কোনোমতে পালিয়ে গত ২৩ আগস্ট তিনি দেশে ফেরেন।

​পরবর্তীতে ক্ষতিপূরণ চাইলে অভিযুক্তরা রাজনের পরিবারকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এ ঘটনায় ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানায় মামলা করা হলে, গত ১৩ অক্টোবর রাতে ফরিদপুরের নগরকান্দা থেকে চক্রের মূলহোতা মিজানুর রহমান (৫৫) এবং ঝিনাইদহ থেকে মো. আবু তাহের লেন্টুকে (৫০) গ্রেফতার করে এসআরবি।

​প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, চক্রটি প্রায় ৩০ জন বাংলাদেশিকে রাশিয়ায় পাচার করে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠায়। তাদের মধ্যে প্রায় ২০ জন ইতিপূর্বে মারা গেছেন এবং মাত্র ২ জন আহত অবস্থায় দেশে ফিরতে পেরেছেন।

​এদিকে, পৃথক এক অভিযানে ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ধলেশ্বরী টোলপ্লাজা এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে একটি মাইক্রোবাসে তল্লাশি চালায় এসআরবি-১০। সেখান থেকে ৪৬৩ বোতল ফেনসিডিলসহ মো. রুহুল আমীন (২৬) ও মো. লিয়াকত (৪৩) নামের দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার করা হয় মাদক বহনের কাজে ব্যবহৃত মাইক্রোবাস, দু’টি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা।

​আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এসআরবি এ ধরনের মানবপাচার ও মাদক কারবারের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখবে বলে জানানো হয়।

‘ড. ইউনূসকে অপমানে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে’: রিজভী

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২৩ অপরাহ্ণ
‘ড. ইউনূসকে অপমানে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে’: রিজভী

জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারকে ঝামেলায় ফেলতে এবং দেশকে অস্থিতিশীল করতে পতিত দোসররা নানাভাবে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ও ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এসব কর্মকাণ্ডের বিষয়ে দেশের মানুষকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

​বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে গাজীরটেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে মোঃ লকাই বিশ্বাসের জন্য নির্মিত বাড়ির চাবি হস্তান্তর, চিকিৎসা সহায়তা ও কর্মসংস্থান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

​রিজভী বলেন, “ভারত থেকে পতিত সরকারের দোসররা ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করে চক্রান্ত শুরু করেছে। গত কয়েকদিন আগে বিদেশের মাটিতে নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নেক্কারজনকভাবে অপমান করা হয়েছে। এতে দেশের ভাবমূর্তি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়—আপনারা একটি বার ভেবে দেখুন।”

​ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ।

​এ সময় অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছা ও সাধারণ সম্পাদক এ কে এম কিবরিয়া স্বপনসহ দলটির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

​বক্তব্য শেষে রুহুল কবির রিজভী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে মো. লকাই বিশ্বাসের হাতে নতুন নির্মিত বাড়ির চাবি হস্তান্তর করেন। পাশাপাশি চিকিৎসা সহায়তা ও কর্মসংস্থানের জন্য সেলাই মেশিন বিতরণ করেন তিনি।

‘স্বচ্ছতা ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে’: এলজিইডি প্রতিমন্ত্রী

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৮ অপরাহ্ণ
‘স্বচ্ছতা ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে’: এলজিইডি প্রতিমন্ত্রী

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলম বলেছেন, স্থানীয় সরকারের প্রতিটি উন্নয়নমূলক কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ও স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে হবে। উন্নয়নের সুফল যেন প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছায়, সেদিকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

​বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে ফরিদপুর জেলা এলজিইডি কার্যালয় পরিদর্শনের সময় আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

​এর আগে সকালে প্রতিমন্ত্রী ফরিদপুর জেলা এলজিইডি কার্যালয়ে পৌঁছালে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। পরে তিনি কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় দলীয় নেতাদের সঙ্গে এক সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সভা শেষে তিনি কার্যালয় প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

​এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম, পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী, জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এ এফ এম কাইয়ুম জঙ্গি, জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক জুলফিকার হোসেন জুয়েল, মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব গোলাম মোস্তফা মিরাজসহ এলজিইডির বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

​মতবিনিময় সভায় প্রতিমন্ত্রী জেলার চলমান ও আগত উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।