খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

এ বছর কোন দেশে কত ঘণ্টা রোজা? এক নজরে দেখে নিন

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:০৪ এএম
এ বছর কোন দেশে কত ঘণ্টা রোজা? এক নজরে দেখে নিন

প্রতিবারের মতো এবারও দরজায় কড়া নাড়ছে মহিমান্বিত রমজান। পবিত্র এই মাসে মুসলিম ধর্মের অনুসারীরা দিনব্যাপী পানাহার থেকে বিরত থেকে আত্মশুদ্ধির আমল করে থাকেন। জ্যোতির্বিদ্যার হিসাব অনুযায়ী, এ বছর রমজান শুরু হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ ১৯ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার)।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আসন্ন রমজানে অধিকাংশ আরব ও মুসলিমপ্রধান দেশে প্রতিদিন রোজার সময় হবে প্রায় ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে অন্যতম ‘মাঝারি’ রমজান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

কেন এবার রোজার সময় তুলনামূলক কম?

রমজান ২০২৬ পড়ছে উত্তর গোলার্ধে শীতের শেষ ও বসন্তের শুরুতে। এ সময় দিনের দৈর্ঘ্য তুলনামূলক কম থাকে। ফলে মাসের শুরুতে রোজার সময় কিছুটা কম হলেও ধীরে ধীরে দিন বড় হওয়ায় শেষের দিকে রোজার সময় সামান্য বাড়বে।

দেশভেদে রোজার সময় কেন ভিন্ন হয়?

রোজার সময় মূলত নির্ভর করে ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর। যারা বিষুবরেখার কাছাকাছি দেশগুলোতে বসবাস করেন, সেখানে সারা বছর দিন-রাতের পার্থক্য খুব বেশি হয় না। আর উত্তর বা দক্ষিণে যত দূরে যাওয়া যায়, ঋতুভেদে দিনের দৈর্ঘ্যের পার্থক্য তত বেশি হয়।

যেহেতু ২০২৬ সালের রমজান বসন্ত বিষুবের আগেই শুরু হচ্ছে, তাই মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার বেশিভাগ দেশে মাসের শুরুতে দিন ছোট থাকবে এবং ধীরে ধীরে রোজার সময় বাড়বে।

আরব বিশ্ব ও মধ্যপ্রাচ্য

মিসরের রাজধানী কায়রোতে রোজার সময় শুরুতে হবে প্রায় ১২ ঘণ্টা ৪০ মিনিট, যা মাসের শেষে গিয়ে ১৩ ঘণ্টার কাছাকাছি পৌঁছাবে। শীতল আবহাওয়াও রোজা পালনে স্বস্তি এনে দেবে।

একই ধরনের চিত্র দেখা যাবে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও ওমানে। এসব দেশে শহরভেদে সামান্য পার্থক্য থাকলেও মোটামুটি ১২-১৩ ঘণ্টার মধ্যেই রোজার সময় সীমাবদ্ধ থাকবে।

লেভান্ত অঞ্চল ও উত্তর আফ্রিকা

লেবানন, সিরিয়া, জর্ডান ও ইরাকেও রোজার সময় প্রায় একই ধারায় চলবে। উত্তর আফ্রিকার দেশগুলো মরক্কো, আলজেরিয়া ও তিউনিসিয়ায়-দ্রাঘিমা ও সূর্যাস্তের সময়ের কারণে সামান্য তারতম্য দেখা গেলেও রোজার সময় মোটামুটি একই পরিসরের মধ্যেই থাকবে।

ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে রোজার সময় শুরুতে হবে প্রায় ১২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট, যা মার্চের শুরুতে গিয়ে ১৩ ঘণ্টা বা তার সামান্য বেশি হতে পারে।

ইউরোপের দেশগুলো বিশেষ করে যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও স্ক্যান্ডিনেভিয়ার অঞ্চলগুলোতে ভৌগোলিকভাবে উত্তর দিকে অবস্থান করার কারণে রোজার সময় মধ্যপ্রাচ্যের তুলনায় কিছুটা বেশি হবে। যদিও ২০২৬ সালে এই সময় খুব চরম পর্যায়ে যাবে না, তবুও তা লক্ষণীয়ভাবে দীর্ঘ হবে।

চরম উত্তরের দেশগুলোর বাস্তবতা

পূর্ববর্তী কিছু রমজানে উত্তর রাশিয়া, গ্রিনল্যান্ড ও আইসল্যান্ডে বসবাসরত মুসলমানদের জন্য রোজার সময় ১৬ ঘণ্টারও বেশি হয়েছে, এমনকি কোথাও কোথাও সূর্য প্রায় অস্তই যায় না বা খুব অল্প সময়ের জন্য অস্ত যায়। এসব ক্ষেত্রে অনেক মুসলমান আলেমদের পরামর্শ অনুযায়ী নিকটবর্তী মধ্যম দেশের সময়সূচি বা মক্কার সময় অনুসরণ করেন।

সূত্র গালফ নিউজ

ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৭:১১ এএম
ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

পবিত্র ঈদুল ফিতর মানেই আনন্দ, ভালোবাসা আর পারস্পরিক সম্পর্কের বন্ধনকে নতুন করে দৃঢ় করার এক মহিমান্বিত উপলক্ষ। এদিন ছোটদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং আপনজনদের সঙ্গে হৃদ্যতার সম্পর্ক আরও গভীর করতে আমাদের সমাজে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়ার একটি সুন্দর প্রচলন রয়েছে।

তবে এই প্রথার ধর্মীয় অবস্থান কী, এটি কি ইবাদত, নাকি কেবল সামাজিক রীতি? শরিয়তের দৃষ্টিতে বিষয়টি বোঝা জরুরি, যেন আমরা আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি ইসলামের সঠিক নির্দেশনাও মেনে চলতে পারি।

রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালামের ফতোয়া বিভাগীয় প্রধান মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী বলেন, ইসলামের মূলনীতি হলো, যে কোনো কাজ ততক্ষণ বৈধ, যতক্ষণ না তা শরিয়তের কোনো স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়ে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে ঈদের দিনে কাউকে খুশি করার উদ্দেশে অর্থ বা উপহার দেওয়া নিঃসন্দেহে বৈধ। বরং হাদিসে উপহার আদান-প্রদানের মাধ্যমে ভালোবাসা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। তাই ছোটদের আনন্দ দেওয়া, আত্মীয়তার সম্পর্ক দৃঢ় করা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাড়ানোর নিয়তে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া একটি সুন্দর ও প্রশংসনীয় আমল হতে পারে।

তবে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে মনে রাখতে হবে, ঈদ সালামি কোনো ইবাদত নয় এবং এটি ইসলামের নির্ধারিত কোনো বিধানও নয়। এটি একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রথা মাত্র। সুতরাং একে বাধ্যতামূলক মনে করা বা না দিলে দোষারোপ করা ঠিক নয়।

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ তার ইউটিউব চ্যানেলে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ইসলামে সালামের পরিভাষা রয়েছে। কোরআনে আছে, ‘তোমাদেরকে কেউ যদি কোনো অভিবাদন জানায় বা সালাম পেশ করে, তাহলে সে যে ভাষায় তোমাকে সালাম দিয়েছে, সে ভাষায় তুমি জবাব দাও। অথবা এর চেয়ে উত্তম শব্দ ব্যবহার করে সালাম দাও।’ হজরত মুহাম্মদ (সা.) আমাদেরকে সালাম দিতে নির্দেশ করেছেন। মুখ দিয়ে উচ্চারণ করে পরস্পরের শান্তি কামনা করা হলো সালাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের সালামি পেতে বাচ্চারা বড়দের সালাম দিলে তারা সালামের উত্তর দেবেন। সালামের জবাব দিয়ে তাদের কিছু হাদিয়া দেবেন, এটা আমাদের দেশের সংস্কৃতি। এতে কোনো অসুবিধা নেই। কোরআন-হাদিসের সঙ্গে এর কোনো সংঘর্ষ নেই। পা ছুঁয়ে সালাম করলে সালামি দিতে হবে, এটা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। সে সালাম দিলে জবাব দিয়ে তাকে সালামি দিয়ে দেওয়া উচিত। পা ছুঁয়ে সালাম করতে তাকে বাধ্য করা উচিত নয়।’

সূত্র : কালবেলা

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।