খুঁজুন
বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

যাদের জন্য রোজা রাখা বাধ্যতামূলক নয়—জানুন সেই ৬ শ্রেণি

আবু সাঈদ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:৩২ পূর্বাহ্ণ
যাদের জন্য রোজা রাখা বাধ্যতামূলক নয়—জানুন সেই ৬ শ্রেণি

আসছে রমজান মাস। এ মাসে রোজা রাখেন মুসলিমরা। প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থমস্তিস্কের সবার জন্য রোজা রাখা ফরজ। তবে অল্প কিছু মুসলিমের জন্য রয়েছে বিশেষ ছাড়। সফরের গ্লানি কিংবা ব্যক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের এই সুযোগ দেওয়া হয়।

অবশ্য এই ছাড়পত্রেও রয়েছে বৈচিত্র। কারো পরে রোজা কাজা করতে হয়। কেউ ফিদিয়া দিয়ে দায়িত্ব মুক্ত হন। আবার কারো দায়মুক্তির জন্য রোজার কাজাও করা লাগে না। চলুন জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত।

মুসাফিরের রোজা

মুসাফির ব্যক্তির জন্য সফর অবস্থায় রোজা রাখা জরুরি নয়। সফর অবস্থায় রোজা না রেখে পরে রাখারও সুযোগ রয়েছে। তবে বেশি কষ্ট না হলে মুসাফিরের জন্য সফর অবস্থায়ও রোজা রাখা উত্তম।

আসেম (রহ.) জানান, হজরত আনাসকে (রা.) সফরের হালতে রোজা রাখার বিধান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, মুসাফিরের জন্য রোজা না রাখার অনুমতি আছে। তবে রোজা রাখা উত্তম। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হাদিস : ৯০৬৭)

সফর অবস্থায় যদিও রোজা না রাখার সুযোগ রয়েছে, তথাপি কেউ রোজা রাখলে বিনা ওজরে তা ভাঙা জায়েজ নয়। সফর অবস্থায় কেউ রোজা রেখে ভেঙে ফেললে গোনাহগার হবে। তবে এ কারণে কাফফারা আসবে না। শুধু কাজা করতে হবে। (রদ্দুল মুহতার : ২/৪৩১)

সফরের কারণে রোজা না রাখার সুযোগ তখনই প্রযোজ্য হবে, যখন কেউ দিনের শুরু তথা সুবহে সাদিকের সময় মুসাফির থাকবে। অতএব, সুবহে সাদিকের সময় নিজ এলাকায় বা অন্য কোথাও মুকিম থাকলে সেক্ষেত্রে দিনের বেলা সফর করার পূর্ণ ইচ্ছা থাকলেও সফরের অযুহাতে রোজা না রাখার সুযোগ নেই। এমনিভাবে মুকিম অবস্থায় রোজা রেখে সুবহে সাদিকের পর সফর করলে শরয়ী কোনো ওজর ছাড়া রোজা ভেঙে ফেলা জায়েজ নেই।

মুসাফির ব্যক্তি যদি সফরের কারণে রোজা না রাখে; কিন্তু দিন শেষ হওয়ার আগেই সে মুকিম হয়ে যায়, তাহলে সে দিনের অবশিষ্ট সময় রমযানের মর্যাদা রক্ষার্থে আহার ও পানীয় গ্রহণ থেকে বিরত থাকবে। আর পরবর্তী সময়ে এ রোজার কাজা করে নেবে।

হাসান বসরি (রহ.) বলেন, যে মুসাফির রমজানের দিনে (সফরের হালতে) খাবার খেয়েছে, সে মুকিম হয়ে গেলে দিনের বাকি অংশ পানাহার থেকে বিরত থাকবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা : হাদিস ৯৪৩৬, ফাতাওয়া তাতারখানিয়া : ৩/৪২৮)

হায়েজ ও নেফাসগ্রস্ত মহিলার রোজা

রমজানের দিনে হায়েজ ও নেফাসগ্রস্ত মহিলা রোজা থেকে বিরত থাকবে এবং পরবর্তীতে ওই দিনগুলোর রোজা কাজা করে নেবে।

রমজানের দিনে হায়েজ-নেফাস থেকে পবিত্র হলে অবশিষ্ট দিন রমযানের মর্যাদা রক্ষার্থে পানাহার থেকে বিরত থাকা আবশ্যক এবং পরবর্তী সময়ে এ দিনের রোজারও কাজা করতে হবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা : ৬/২২১, হাদিস ৯৪৩২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া : ৩/৪২৮)

অসুস্থ ব্যক্তির রোজা

অসুস্থ ব্যক্তি যদি রোজা রাখলে রোগ বৃদ্ধি বা আরোগ্য-লাভে বিলম্ব হওয়ার প্রবল আশঙ্কা হয়, তাহলে এ অবস্থায় তার রোজা না রাখার সুযোগ রয়েছে। সুস্থ হওয়ার পরে সে রোজাগুলোর কাজা করে নেবে। তবে হালকা বা সাধারণ অসুস্থতার অজুহাতে রোজা না রাখা বা রেখে ভেঙে ফেলার সুযোগ নেই। সেজন্য এসব ক্ষেত্রে কোনো বিজ্ঞ আলেমের পরামর্শ মোতাবেক আমল করাই নিরাপদ। (আলমুহিতুল বুরহানি : ৩/৩৫৯; আদ্দুররুল মুখতার : ২/৪২২)

গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মহিলার রোজা

গর্ভবতী মহিলা রোজা রাখলে যদি তার বা সন্তানের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে, অনুরূপভাবে স্তন্যদানকারী মা রোজা রাখলে দুগ্ধজাত সন্তানের কষ্ট হওয়ার আশঙ্কা হয়, তাহলে এ অবস্থায় তাদের রোজা না রাখার অনুমতি আছে। তবে পরে ওই রোজা কাজা করে নেবে। (আলমুহিতুল বুরহানি : ৩/৩৫৯)

হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে,

إِن اللهَ وَضَعَ عَنِ الْمُسَافِرِ الصَّوْمَ وَشَطْرَ الصَّلَاةِ وَعَنِ الْحَامِلِ وَالْمُرْضِعِ الصَّوْمَ.

আল্লাহ তাআলা মুসাফিরের জন্য রোজার হুকুম শিথিল করেছেন এবং আংশিক নামায কমিয়ে দিয়েছেন। আর গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারীর জন্যও রোজার হুকুম শিথিল করেছেন। (জামে তিরমিজি, হাদিস ৭১৫; রদ্দুল মুহতার ২/৪২২)

দুর্বল বৃদ্ধ ব্যক্তির রোজা

বার্ধক্য বা জটিল কোনো রোগের কারণে যার রোজা রাখার সামর্থ্য নেই এবং পরবর্তীতে কাজা করার সামর্থ্য ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনাও নেই, এমন ব্যক্তির রোজা রাখার প্রয়োজন নেই। রোজার পরিবর্তে সে ফিদিয়া প্রদান করবে।

নাবালেগ বাচ্চাদের রোজা

নাবালেগ বাচ্চাদের ওপর যদিও রোজা রাখা জরুরি নয়; তথাপি বাচ্চারা যখন শারীরিকভাবে রোজা রাখতে সক্ষম হয়, তখন থেকে তাদেরকে দুয়েকটি করে রোজা রাখতে উৎসাহিত করবে। আর বালেগ হওয়ার পরই যেহেতু রোজা রাখা আবশ্যক হয়ে যায়, তাই সে বিষয়টি লক্ষ রেখে বালেগ হওয়ার কাছাকাছি বয়সে ছেলে-মেয়েদেরকে রোজার প্রতি অভ্যস্ত করে তুলবে।

সাহাবায়ে কেরাম (রা.) তাঁদের সন্তানদেরকে রোজা রাখার ব্যাপারে উৎসাহিত করতেন। রুবায়্যি’ বিনতে মুআওয়াজ রা. বলেন, আমরা নিজেরা আশুরার রোজা রাখতাম এবং আমাদের বাচ্চাদেরকেও রোজা রাখাতাম। তাদের জন্য পশমের তৈরি খেলনা রাখতাম। যখন বাচ্চাদের কেউ খাবারের জন্য কাঁদত, তখন তাকে খেলনা দিতাম, এভাবে ইফতারের সময় হয়ে যেত। (সহিহ রোখারি, হাদিস ১৯৬০)

ফরিদপুরে চুরি করতে গিয়ে ধরা, খুঁটিতে বেঁধে ন্যাড়া করে চোরকে রাস্তায় ঘোরালো গ্রামবাসী

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৯:১৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে চুরি করতে গিয়ে ধরা, খুঁটিতে বেঁধে ন্যাড়া করে চোরকে রাস্তায় ঘোরালো গ্রামবাসী

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় প্রবাসীর বাড়িতে পানির মটর চুরি করতে গিয়ে গ্রামবাসীর হাতে আটক হয়েছেন এক যুবক। পরে তাকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে মাথা ন্যাড়া করে এলাকায় ঘোরানো হয়।

মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের খামিনারবাগ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত যুবকের নাম ফয়েজ শিকদার (৩০)। তিনি ওই গ্রামের হাবি শিকদারের ছেলে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে সাইপ্রাস প্রবাসী রিপন মোল্লার বাড়িতে থাকা পানির মটর চুরির চেষ্টা করেন ফয়েজ। এসময় বাড়ির লোকজনের চিৎকারে আশপাশের মানুষ ছুটে এসে তাকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে উত্তেজিত গ্রামবাসী তাকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে রাখে। একপর্যায়ে তার মাথা ন্যাড়া করে গ্রামের বিভিন্ন সড়কে ঘুরানো হয়।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের এলাকা থেকে উৎসুক মানুষ সেখানে ভিড় জমায়। অনেকেই মোবাইল ফোনে ঘটনার ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন।

গ্রামবাসীর দাবি, ফয়েজ শিকদার দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চুরির সঙ্গে জড়িত। এর আগেও একাধিকবার বিভিন্ন বাড়িতে চুরি করতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়েছিলেন। বিশেষ করে গভীর রাতে বাড়িঘরে ঢুকে পানির মটর, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য মালামাল চুরির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, “ঘটনার বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ভ্যানচালককে মারধরের জেরে সালথায় দু’পক্ষের সংঘর্ষ: আহত ১০, বাড়িঘর ভাংচুর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৬:১৫ অপরাহ্ণ
ভ্যানচালককে মারধরের জেরে সালথায় দু’পক্ষের সংঘর্ষ: আহত ১০, বাড়িঘর ভাংচুর

ফরিদপুরের সালথায় ভ্যানচালককে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের ১০ থেকে ১৫টি বাড়িঘর ভাংচুর করা হয়। এছাড়া একটি খড়ির গাদা ও একটি ট্রলিতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেলে উপজেলার সিংহপ্রতাপ গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, উপজেলার সিংহপ্রতাপ এলাকার বাসিন্দা ও ভ্যানচালক বাবু তালুকদারকে (২২) কাউলিকান্দা স্ট্যান্ড এলাকায় গেলে তাকে মারধর করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাউলিকান্দা এলাকার হাবিবুর রহমানের পক্ষের সঙ্গে ইব্রাহিম মোল্যা ও রফিক মাতুব্বর সমর্থিত গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এসময় বেশ কয়েকটি বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর চালানো হয়। এসময় একটি খড়ির গাদা ও একটি ট্রলিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হলে এলাকায় ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা চালান।

আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ফরিদপুরের বিভিন্ন ক্লিনিকে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। ভ্যানচালক বাবু তালুকদারকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেই বিরোধ নতুন করে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, “সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।”

তিনি আরও জানান, ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

‘যেখানে পাখির গান থামে না, ছায়া দেয় শত বছরের বটগাছ’

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৪:০৮ অপরাহ্ণ
‘যেখানে পাখির গান থামে না, ছায়া দেয় শত বছরের বটগাছ’

ফরিদপুরের সালথা উপজেলা-এর আটঘর ইউনিয়নের নিভৃত এক জনপদ খোয়াড় গ্রাম। ব্যস্ত শহরের কোলাহল থেকে অনেক দূরে, সবুজে ঘেরা এই গ্রাম যেন প্রকৃতির এক শান্ত আশ্রয়স্থল। গ্রামের প্রবেশমুখেই চোখে পড়ে শতবর্ষী এক বিশাল বটগাছ, যা শুধু একটি গাছ নয়—এলাকার মানুষের ইতিহাস, ঐতিহ্য আর আবেগের জীবন্ত সাক্ষী। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে দাঁড়িয়ে থাকা এই বটগাছ যেন সময়ের নীরব গল্পকথক হয়ে আজও মাথা উঁচু করে আছে।

বটগাছটির বিশাল ডালপালা চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে ছাতার মতো। ঝুলে থাকা অসংখ্য শিকড় মাটির সঙ্গে মিশে তৈরি করেছে এক অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, প্রকৃতি নিজের হাতে যেন একটি জীবন্ত ভাস্কর্য তৈরি করেছে। গাছটির নিচে দাঁড়ালেই মন ভরে যায় শীতল ছায়া আর নির্মল বাতাসে। দিনের প্রখর রোদেও এখানে পাওয়া যায় এক অন্যরকম প্রশান্তি।

ভোর হতেই বটগাছের চারপাশ মুখর হয়ে ওঠে পাখির কলকাকলিতে। শালিক, দোয়েল, কোকিল আর নানা নাম না জানা পাখির ডাকে গ্রামের সকাল যেন আরও জীবন্ত হয়ে ওঠে। গাছের ডালে ডালে পাখিদের ছোটাছুটি আর কিচিরমিচির শব্দ প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক অপার মুগ্ধতা তৈরি করে। সন্ধ্যা নামলে আবার পাখিরা ফিরে আসে তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে। তখন পুরো পরিবেশজুড়ে তৈরি হয় এক অন্যরকম আবেগঘন দৃশ্য।

এই বটগাছ শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন জীবনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মাঠে কাজ করতে যাওয়া কৃষকরা দুপুরের ক্লান্ত সময়ে এসে বসেন গাছটির ছায়ায়। কেউ বিশ্রাম নেন, কেউ গল্পে মেতে ওঠেন, আবার কেউ একটু জিরিয়ে নিয়ে নতুন উদ্যমে কাজে ফিরে যান। গ্রামের প্রবীণদের কাছেও এটি স্মৃতির এক অমূল্য জায়গা। অনেকে বলেন, ছোটবেলায় তারা এই গাছের নিচেই খেলাধুলা করেছেন, আড্ডা দিয়েছেন, এমনকি গ্রামের নানা সামাজিক বিচার-আচারও একসময় এই গাছতলাতেই বসত।

বর্ষাকালে বটগাছটির চারপাশ আরও মনোমুগ্ধকর হয়ে ওঠে। বৃষ্টিতে ধুয়ে যাওয়া সবুজ পাতাগুলো তখন আরও সতেজ দেখায়। শীতের কুয়াশামাখা সকালেও গাছটি যেন রহস্যময় সৌন্দর্যে দাঁড়িয়ে থাকে গ্রামের বুকজুড়ে। প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের যে নিবিড় সম্পর্ক, এই বটগাছ তারই এক উজ্জ্বল প্রতীক।

স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই শতবর্ষী বটগাছ খোয়াড় গ্রামের ঐতিহ্য ও পরিচয়ের অংশ হয়ে গেছে। তাই গাছটিকে ঘিরে রয়েছে মানুষের গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা। আধুনিকতার ছোঁয়ায় যখন গ্রামবাংলার অনেক পুরোনো নিদর্শন হারিয়ে যাচ্ছে, তখনও খোয়াড় গ্রামের এই বটগাছ অতীত ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রেখে নতুন প্রজন্মকে শেকড়ের গল্প শোনাচ্ছে নীরবে।

লেখক: সংবাদকর্মী, ফরিদপুর।